ফারাহর উপলব্ধিতে কোন ইবাদতের শিক্ষা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ফারাহর উপলব্ধিতে সাওমের শিক্ষা ফুটে উঠেছে। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিয়তের সাথে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নাম সাওম। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর ওপর রমজানের একমাস রোযা রাখা ফরজ। ফারাহর মধ্যে এ ইবাদতের শিক্ষার প্রভাব পড়েছে। ফারাহ মাসব্যাপী একটি ইবাদত থেকে শিক্ষা নিয়েছে যে, ক্ষুধা দূরীকরণে কাজ করতে হবে। রমজানে এক মাস রোজা রাখার ফলেই মানুষের মধ্যে এ অনুভূতি জাগ্রত হয়। সিয়াম সাধনার ফলে সমাজের লোকদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। রোযাদার ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকার ফলে অন্য অনাহারীর ক্ষুধার জ্বালা সহজে বুঝতে পারে। ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণা যে কীরূপ পীড়াদায়ক হতে পারে তা সে উপলব্ধি করতে পারে। এতে অসহায়-নিরন্ন মানুষের প্রতি মমতাবোধ জাগ্রত হয়। মহানবি (স) বলেছেন, “এ মাস সহানুভূতির মাস।” রমজান মাসের অনুভূতি মানুষকে অসহায় ও দরিদ্রদেরকে দান করতে উৎসাহিত করে। তাদের ক্ষুধা ও অসহায়ত্ব মোচনে উদ্বুদ্ধ করে। এ কারণে বলা যায়, ফারাহর মধ্যে সাওমের শিক্ষার প্রভাব পড়েছে।
SSC ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা অধ্যায়-৩ : ইবাদত CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা · অধ্যায়-৩ : ইবাদত · সৃজনশীল
ফারাহর উপলব্ধিতে কোন ইবাদতের শিক্ষা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপক
Rajshahi · 2020
উত্তর
উত্তর
"আমাদের ধনীরা মিলে বছরান্তে পরিকল্পিতভাবে কিছু কাজ করতে পারলে ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য দূর হয়ে যাবে" ইসলামের অর্থনৈতিক ইবাদত যাকাত-এর বিধানের আলোকে সম্পূর্ণ সঠিক ও বাস্তবসম্মত।
বিশ্লেষণ: ১. যাকাতের বিধান ও সময়কাল: ইসলামি শরিয়তে ধনীদের জন্য বছরান্তে তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ (২.৫০%) অর্থ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করা ফরজ করা হয়েছে। জেরিন তার বক্তব্যে "বছরান্তে" হিসাব করে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর কথা বলে মূলত যাকাতের এই বার্ষিক চক্রের কথাই নির্দেশ করেছে।
২. দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূরীকরণ: যাকাতের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করা এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনা। ইসলামের সুষম অর্থব্যবস্থায় যাকাত হলো ধনীক শ্রেণির সম্পদ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে তা গরিবদের মধ্যে বণ্টন করার কার্যকর হাতিয়ার।
৩. পরিকল্পিত উদ্যোগ: জেরিন যেমন পরিকল্পিতভাবে ধনীরা মিলে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রিয় বা সামাজিকভাবে যাকাত বোর্ড গঠন করে সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত উপায়ে যাকাত আদায় ও বিতরণ করলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে দূর করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, জেরিনের এই উপলব্ধি অত্যন্ত সঠিক এবং তা ইসলামের যাকাত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।