ক্রিকেটে বাংলাদেশ;
উত্তর: ক্রিকেটে বাংলাদেশ; ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অগ্রগতি আসছে, আনন্দ আর উল্লাসেতে দেশের মানুষ হাসছে। ভূমিকা: বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। ক্রিকেটের মতো একটি রাজকীয় খেলায় বাংলাদেশের প্রবেশ, উত্থান ও অগ্রযাত্রা বিস্ময়কর না হলেও আনন্দের। এ খেলার জন্ম হয়েছে ইংল্যান্ডে আজ থেকে প্রায় সাতশ বছর আগে। বর্তমানে অনেক দেশে ক্রিকেট খেলা প্রচলিত। ক্রিকেট সম্বন্ধে Tony Greig বলেন, "Cricket is more exciting than football." আসলে ক্রিকেট সারাবিশ্বে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা, দেশবাসীর সহযোগিতা এবং সর্বোপরি খেলোয়াড়দের অদম্য অগ্রহের কারণে বাংলাদেশ আজ ক্রিকেট বিশ্বে একটি পরিচিত নাম। এই পরিচয়কে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ক্রিকেটের প্রতি সব সময় আমাদের আন্তরিকতা থাকতে হবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের পূর্ব ইতিহাসঃবাংলাদেশে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতা পূর্বকালে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর। বৈষম্য নীতির কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তেমন কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। পৃষ্ঠপোষকতা না পেলেও বাংলাদেশের লোকেরা বসে থাকেনি। বাঙালিরা সব সময় স্বাধীন স্পৃহায় অদম্য ছিল। এদেশের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে তারা পদানত হতে দেয়নি। তারই ফলস্বরূপ বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ক্রিকেট পরিবারের সদস্য পদ এবং ক্রিকেটের অভিজাত পরিবারের মর্যাদা টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করেছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সফলতা: বাংলাদেশ স্বাধীনতাপূর্ব কাল থেকে ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করলেও তেমন একটা সফলতা পায়নি। - স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন খেলার সাথে ক্রিকেটের মানোন্নয়নের ব্যাপারে তৎপর হয়। গঠিত হয় 'বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড'। ১৯৭৬ সালের ২৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসি-র সহযোগী সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমবারের মতো ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম আইসিসি'তে অংশগ্রহণ করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ তার আগমন বার্তা জানিয়ে দেয়। ১৯৯৭ সালে আইসিসি'র ষষ্ঠ আসর বসে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। ২৪ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আইসিসি ট্রফি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ার কিলাত ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় শক্তিশালী কেনিয়াকে ২ উইকেটে পরাজিত করে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব লাভ করে এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেট আসরে স্থান করে নেয়। ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশঃ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত খেলায় আইসিসি ট্রফি জয়লাভের পর বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাসের জন্য বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক আইসিসি'র কাছে জোর দাবি জানায়। আইসিসি'র কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিয়ে ভাবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রদান করা হয়। বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ: আইসিসি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মূলপর্বে অংশগ্রহণ করে ১৯৯৯ সালে। সপ্তম বিশ্বকাপ আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে পরাজিত করে। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত নবম বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সুপার এইটে স্থান করে নেয়। দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথম রাউন্ডে ছয়টি খেলার মধ্যে আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে তিনটি খেলা থেকে ছয় পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে ১৯ মার্চ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের সঙ্গে হেরে গেলে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়। ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ সাতটি ম্যাচ খেলে তিনটিতে জয়লাভ করে, একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যাক্ত হয়। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান: [চিত্র] বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তসমূহ: ১. ১৯৯৯: পাকিস্তানকে ৬২ রানে পরাজিত করে বিশ্ব ক্রিকেটে চমক সৃষ্টি করে। ২. ২০০৭: ভারতকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে সুপার এইটে পৌঁছে। ৩. ২০১৫: ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে। ৪. ২০১৯: শাকিব আল হাসান ৬০৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স: বাংলাদেশ ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয়লাভ করে এবং সাতটিতে পরাজিত হয়। দলটি টেবিলের নবম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে এবং ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারী: ১. শাকিব আল হাসান: ৩৬ ম্যাচে ১,৩৩২ রান ও ৪৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারি। ২. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: ২১ ম্যাচে ৮১৪ রান, যার মধ্যে ৩টি শতরান রয়েছে। ৩. মুশফিকুর রহিম: ৩৪ ম্যাচে ১,০৪২ রান, সর্বোচ্চ স্কোর ১০২*। টেস্ট ক্রিকেট ও বাংলাদেশঃ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস-এর জন্য আইসিসি'র কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু আইসিসি প্রথম দিকে বাংলাদেশের এ দাবিকে গুরুত্বের সাথে দেখেনি। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দুটো দেশকে পরাজিত করে দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। ফলে বিশ্বকাপ পরবর্তী আইসিসির সভায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের দাবিটি বেশ গুরুত্ব পায়। সব দিক বিবেচনা করে আইসিসি ২০০০ সালের ২৬ জুনের সভায় সবগুলো টেস্ট প্লেয়িং দেশের সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রদান করে। এখন পর্যন্ত ১৫৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর মধ্যে ২৫টিতে বাংলাদেশ জয়লাভকরে। ১৯টি ম্যাচ ড্র করে। ১১২টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করে। উপসংহার: ক্রিকেট বাংলাদেশের জাতীয় আবেগের প্রতীক। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আরও অনেক পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন, খেলার জন্য মাঠ প্রয়োজন এবং সারা দেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন নতুন ক্রিকেট প্রতিভা খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে একাদশ বিশ্বকাপের সাফল্যকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে অগ্রসর হলে একদিন বিশ্বকাপ জয় করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল
ক্রিকেটে বাংলাদেশ;
উত্তর
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তসমূহ:
১. ১৯৯৯: পাকিস্তানকে ৬২ রানে পরাজিত করে বিশ্ব ক্রিকেটে চমক সৃষ্টি করে।
২. ২০০৭: ভারতকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে সুপার এইটে পৌঁছে।
৩. ২০১৫: ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে।
৪. ২০১৯: শাকিব আল হাসান ৬০৬ রান ও ১১ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স: বাংলাদেশ ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয়লাভ করে এবং সাতটিতে পরাজিত হয়। দলটি টেবিলের নবম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে এবং ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারী:
১. শাকিব আল হাসান: ৩৬ ম্যাচে ১,৩৩২ রান ও ৪৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও উইকেট শিকারি।
২. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: ২১ ম্যাচে ৮১৪ রান, যার মধ্যে ৩টি শতরান রয়েছে।
৩. মুশফিকুর রহিম: ৩৪ ম্যাচে ১,০৪২ রান, সর্বোচ্চ স্কোর ১০২*।
টেস্ট ক্রিকেট ও বাংলাদেশঃ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস-এর জন্য আইসিসি'র কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু আইসিসি প্রথম দিকে বাংলাদেশের এ দাবিকে গুরুত্বের সাথে দেখেনি। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দুটো দেশকে পরাজিত করে দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। ফলে বিশ্বকাপ পরবর্তী আইসিসির সভায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের দাবিটি বেশ গুরুত্ব পায়। সব দিক বিবেচনা করে আইসিসি ২০০০ সালের ২৬ জুনের সভায় সবগুলো টেস্ট প্লেয়িং দেশের সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রদান করে। এখন পর্যন্ত ১৫৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এর মধ্যে ২৫টিতে বাংলাদেশ জয়লাভকরে। ১৯টি ম্যাচ ড্র করে। ১১২টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করে।
উপসংহার: ক্রিকেট বাংলাদেশের জাতীয় আবেগের প্রতীক। ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আরও অনেক পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন, খেলার জন্য মাঠ প্রয়োজন এবং সারা দেশে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন নতুন ক্রিকেট প্রতিভা খুঁজে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে একাদশ বিশ্বকাপের সাফল্যকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে অগ্রসর হলে একদিন বিশ্বকাপ জয় করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।