শেয়ারFacebookWhatsApp

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাজেশ

উত্তর: ভূমিকা: বর্তমানে বিশ্ব ক্রিড়াঙ্গনে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হিসেবে ক্রিকেট তার স্থান দখল করে নিয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই খেলায় সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই সফলতা সত্যিই গর্বের বিষয়। সৌন্দর্য ও বিচক্ষণতা খেলাটিকে দিয়েছে রাজকীয় মর্যাদা। আর অনিশ্চয়তা এই খেলাটিকে দিয়েছে উত্তেজনা, উদ্দীপনা ও জনপ্রিয়তা। বাংলাদেশ এই খেলার মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে ব্যাপক সুনাম ও পরিচিতি পেয়েছে। তাই এ দেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট খেলা অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। ক্রিকেটের জন্ম ও আদিকথা: ক্রিকেটের জন্ম ব্রিটেনে। ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত এই খেলার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত রাজা প্রথম এডওয়ার্ডের আমলের একটি গ্রন্থে। একটা সময় ছিল যখন ব্রিটিশরাই শুধু খেলত এই খেলা। কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্রমবিস্তারের সাথে সাথে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই খেলা ছড়িয়ে পড়ে। ক্রিকেটে প্রথম আইন তৈরি হয় ১৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। এ আইন তৈরি করে লন্ডন ক্রিকেট ক্লাব। ১৭৮৭ সালে এম. সি. সি (মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব) প্রতিষ্ঠার পর ঐ আইন আরও সংশোধিত ও পরিমার্জিত হয়। ১৮৭৭সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১২টি দেশ ক্রিকেটের টেস্ট খেলুড়ে দেশ। প্রথম বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রতি ৪ বছর পরপর একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর ক্রিকেটের সর্বশেষ সংস্করণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। উপমহাদেশে ক্রিকেট: অবিভক্ত বাংলায় ১৭১৯ সালে ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অন্যতম মাইলফলক। বাংলাদেশ অর্থাৎ প্রাক্তন পূর্ব বাংলায় ক্রিকেট খেলার প্রচলন করে ব্রিটিশরাই। তখন অবশ্য কেবল এই খেলা অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পাকিস্তান আমলেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। প্রকৃতপক্ষে, পরিপূর্ণভাবে ক্রিকেটের বিকাশ ঘটে সত্তরের দশকের শেষার্ধে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বিশ্বক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এরপর সময়ের সাথে সাথে পরিপক্বতা লাভ করে এ পর্যায়ে এসে পৌছেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেট যাত্রা: উপমহাদেশে ভারত পাকিস্তানের পরপরই বাংলাদেশের ক্রিকেট-যাত্রা শুরু হয়। পাশ্ববর্তী এই দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাই স্বাধীনতা লাভের অল্প দিনের মধ্যেই ১৯৭৩ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড যা বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি নামে পরিচিত। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম ICC ট্রফিতে অংশ নেয়। সেবার মালয়েশিয়া ও ফিজির বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এভাবেই সময়ের পালাবদলের সাথে সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসতে থাকে। আইসিসিতে বাংলাদেশ: ১৯৭৯ সালে প্রথম বাংলাদেশ আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। প্রথম টুর্নামেন্ট থেকে ৬ষ্ঠ আইসিসি টুনার্মেন্ট '৯৭পর্যন্ত বাংলাদেশ সবকটি খেলায় অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টের ৪টি খেলায় বাংলাদেশ ২টিতে জয় লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ২য় টুর্নামেন্টে ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৪টি ম্যাচ জিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কাড়ে। এভাবে ধারাবাহিক খেলার মধ্য দিয়ে ৬ষ্ঠ আইসিসি-তে ৫ম বিশ্বকাপের তিন দল আরব আমিরাত, কেনিয়া ও 'হল্যান্ডকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ করে। ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশ: ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জেতার পর বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছে ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভের জন্য জোর দাবি জানায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ধারাবাহিক সাফল্য ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আইসিসি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রদান করে। টেস্ট স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশ: টেস্ট খেলা হচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড়ো ফরম্যাটের খেলা। ওয়ানডের পর বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করে। বিশ্বকাপ পরবর্তী সভায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে আইসিসি পর্যবেক্ষণ করে। অবশেষে ২০০০ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ বহুল কাঙ্ক্ষিত টেস্ট খেলার মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে ১২টি দেশ এই অভিজাত শ্রেণির সদস্য। বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০-১৪ নভেম্বর প্রথম টেস্ট খেলে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ: ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রথম ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে। আইসিসি বিশ্বকাপ ১৯৯৯: ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয়। সে সময় বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। '৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক ঘটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (১৭মে, ১৯৯৯ গেমস ফোর্ড) তৃতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। ঐ আসরে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে সকলের দৃষ্টি কাড়ে বাংলাদেশ। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০০৩: খালেদ মাসুদের নেতৃত্বে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার দঃ আফ্রিকা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। এ আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে যায়। এমনকি দুর্বল কানাডার কাছেও পরাজিত হয় বাংলাদেশ। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০০৭: ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে শচীন, সৌরভের শক্তিশালী ভারতকে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে হারিয়ে সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং সুপার এইটে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১১: প্রথমবারের মতো ভারত ও শ্রীলংকার সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের আয়োজন করে। এ বিশ্বকাপের উদ্বোধন হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ডকে পরাজিত করে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে লজ্জাজনক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে হয় টাইগারদের। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫: ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে ও স্কটল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। শ্রীলংকার কাছে হারলেও পঞ্চম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে যায়। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯: সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২০১৯ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে এ আসরে বাংলাদেশ ৯টি ম্যাচের ৩টিতে জয় লাভ করে। [তথ্যসূত্র: আইসিসি ওয়েব সাইট। কিন্তু এ আসরেও বাংলাদেশ সেমি ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়। এ আসরে সাকিব আল হাসান ১১ উইকেটের পাশাপাশি ৬০২ রান করেন, যা সমগ্র টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য দিনদিন বেড়েই চলছে। এর সাথে বাড়ছে প্রত্যাশা। ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথম . কোনো বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি পান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২০১৯ বিশ্বকাপে নজরকাড়া ৬০২ রানের পাশাপাশি ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। বোলিংয়ে ২০টি উইকেট নিয়ে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তাই আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ একদিন ক্রিকেট পরাশান্তিতে পরিণত হবে এবং জয় করবে বিশ্বকাপ। উপসংহার: বাংলাদেশের খেলাধুলার মধ্যে ক্রিকেটের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। এ দেশের মানুষ দলের জয়-পরাজয়ে পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে এ খেলা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্য ঈর্ষনীয়। বস্তুত, সে দিন খুব বেশি দূরে নয়, যে দিন বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফির মতো বিশ্বকাপ ট্রফিও জয় করবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৮ : সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৮ : সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন · সৃজনশীল

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাজেশ

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2020

উত্তর

ভূমিকা: মানবসভ্যতার সকল সৃষ্টির মূলেই রয়েছে শ্রম। আজকের সভ্যতা যুগ-যুগান্তরের অগণিত মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। জীবনধারণের তাগিদেই মানুষ কর্মব্যস্ত। গুহাবাসী মানুষ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই বর্তমানের এ উন্নত সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। কৃষকের ফসল উৎপাদন, শিল্পীর শিল্পকর্ম, জ্ঞানীর জ্ঞানার্জন, বিজ্ঞানীর নব নব আবিষ্কার সবই শ্রমলব্ধ ফসল। মানবজীবনের সবক্ষেত্রেই যা কিছু দৃশ্যমান তার সবই পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। শ্রমের কার্যকারিতা: জন্মগতভাবেই মানুষ কিছু না কিছু সুপ্ত প্রতিভারঅধিকারী। আর এ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই সম্ভব। মানুষ নিজেই তার ভাগ্যনির্মাতা। পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে। ইতিহাসলব্ধ জ্ঞান থেকে আমরা দেখতে পাই, যে সকল মানুষ পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় তাঁদের সাধনাই ছিল পরিশ্রম। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাফল্যেই মানবসভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের উন্নতি পরিশ্রমেরই অবদান। যে জাতি শ্রমকে মূল্য দিতে পেরেছে, সে জাতিই জগতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কঠোর পরিশ্রমই তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মহিমা দিয়েছে। শ্রমের গুরুত্ব: মানবজীবন ও মানবসভ্যতার উন্নতির জন্য শ্রম অপরিহার্য উপাদান। মানুষের জন্ম তার নিজের অধীন নয়, কিন্তু কর্ম নিজের অধীন। কারণ কর্মই পারে মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দিতে। শ্রমের মাধ্যমেই মানুষ জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারে। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে মানুষকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। এসব ক্ষেত্রে পরিশ্রমই তার একমাত্র হাতিয়ার। তাই ব্যক্তিজীবনে এবং সমাজে শ্রমের যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে হবে। সামাজিক প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী প্রতিটি স্তরের শ্রমই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক, মজুর, শিক্ষক, ডাক্তার, শিল্পী, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক প্রত্যেকের যথাযথ পরিশ্রমই সমাজ ও দেশের অগ্রগতি সাধন করে। শ্রমই মানুষকে সৃজনশীল করে। নব নব সৃজনের মাধ্যমে মানুষ নতুন অগ্রগতি সাধন করে। আজকের দিনের মানুষের শ্রমসাধিত কর্ম আগামী দিনের মানুষকে নতুন কর্মে উজ্জীবিত করে। এককথায়, মানুষকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা এবং কাল-থেকে কালান্তরে অমর করে রাখার একমাত্র উপায় শ্রম। শ্রমবিমুখ ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে সাথেই পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায়। অন্যথায় শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ ইতিহাসের পাতায় বেঁচে থাকে চিরদিন। নতুন নতুন আবিষ্কারে শ্রম: বিজ্ঞানীরা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আবিষ্কার করে জীবনকে করেছেন সহজ ও গতিশীল। দুর্গমকে করেছেন সুগম। অজানাকে সবার কাছে করেছেন পরিচিত। অজয়কে করেছেন জয়। আর এগুলোর সবকিছুই শ্রমের ফলাফল। শ্রম ব্যতীত কোনো কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানী নিউটন, আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিংস দিনরাত নিরলস শ্রমের ফলেই এত গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু আবিষ্কার করতে পেরেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই তাঁর সাহিত্যসম্ভারকে জগদ্বিখ্যাত করেছেন। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই। তাই নতুন কিছু আবিষ্কারে শ্রমের বিকল্প নেই। উন্নত জাতি গঠনে শ্রমের গুরুত্ব: পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। ১৯৪৫ সালে জাপানে প্রথম পারমাণবিক বোমা আঘাত হানার পর বিশ্ব মনে করেছিল- জাপান আর বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে জাপান আবার উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছিল। অর্থনীতিতে দ্রুত সক্ষম হতে পেরেছিল, যার বাস্তব উদাহরণ- ৬০-এর দশকে অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হওয়া। আর এমন দেশ হতে পেরেছিল জাপানিদের নিরলস শ্রমের কারণে। পৃথিবীতে অলস জাতি কখনো উন্নত হতে পারেনি। আজ্ব ইউরোপ, আমেরিকা উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে শুধু নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই। মানসিক ও শারীরিক শ্রম: সকল কাজের সাফল্য প্রাপ্তির জন্য মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানসিক পরিশ্রম মানসিক উন্নতি দান করে এবং নবসৃষ্টির নবচিন্তার জন্ম দেয়। আর মানসিক শ্রম যে কাজের চিন্তা করে, শারীরিক শ্রম তা সম্পাদন করে। কিন্তু কার্যত আমরা দেখি, মানসিক পরিশ্রমের মর্যাদা মানুষ স্বীকার করলেও শারীরিক পরিশ্রমকে অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখে। ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ প্রমুখ পেশাজীবী মানুষের অবস্থান সমাজের উপরতলায়। অন্যদিকে, কুলি-মজুর-কৃষক-শ্রমিক এদের অবস্থান সমাজের নীচুতলায়। অন্নহীন, বস্ত্রহীন, শিক্ষাহীন মানবেতর জীবনই তাদের নিত্যসঙ্গী। যদিও শারীরিক শ্রম সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের উপায়, আত্মসম্মানের পরিপন্থী নয়। প্রতিটি মানুষই দেশ ও জাতির কল্যাণ করার উদ্দেশ্যে নিজ যোগ্যতা অনুসারে মানসিক কিংবা শারীরিক শ্রমকে অবলম্বন করছে। এদের অবদান স্বীকার করে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- 'গাহি তাহাদের গান- ধরণীর হাতে দিল যারা আনি' ফসলের ফরমান। শ্রমকিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে এস্তা ধরণী নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফুলে।' ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব: সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শারীরিক ও মানসিক শ্রমকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। অন্যথায়, জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সমষ্টিগত জীবনকে সুন্দর ও মহিমাময় করতে শ্রমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব আরও গভীর ও ব্যাপক। কেননা, শ্রমবিমুখ ব্যক্তি সাফল্যের ছোঁয়া থেকে চিরকালই বঞ্চিত। ইতিহাসবিখ্যাত ব্যক্তি জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, আলবার্ট আইনস্টাইন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাক্সিম গোর্কি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্যক্তির জীবন থেকেও আমরা একই শিক্ষা গ্রহণ করি। শ্রমবিমুখতা ব্যক্তিকে ব্যর্থতার গ্লানিতে পর্যবসিত করে, তার অগ্রগতির পথকে করে রুদ্ধ। তাই ব্যক্তিজীবনের সাফল্য শ্রমেরই সাফল্য। সভ্যতা বিকাশে শ্রম: মানবসভ্যতার বুনিয়াদ তৈরি করেছে শ্রম। মানুষ যদি নিষ্কর্মা হয়ে ভাগ্যের হাতে আত্মসম্পর্ণ করে বসে থাকত তাহলে আমাদের সামনে এ সমুন্নত সভ্যতার বিকাশ হতো না। শ্রমের শক্তিতেই মানুষ নতুন নতুন সাম্রাজ্যের পত্তন করেছে, করেছে সভ্যতার ক্রমবিস্তার। শ্রম ব্যক্তিজীবনকে সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যশালী করে তারই প্রভাব পড়ে সমাজজীবনের ওপর। তাই শুধু ব্যক্তিজীবনের বিকাশ নয়, সভ্যতার বিকাশেও শ্রমই হাতিয়ার। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, জার্মানি, জাপান প্রভৃতি দেশ শ্রমের প্রক্রিয়াতেই এত বেশি উন্নত। যুগ যুগ ধরে মানুষের কঠোর শ্রমই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছে, সভ্যতাকে করেছে সমৃদ্ধ। একবিংশ শতাব্দীর উন্নত ও প্রগতিশীল সভ্যতাও মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। উপসংহার: পৃথিবী সৃষ্টি থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমের অবদান অপরিসীম। ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য একমাত্র শ্রমশক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তাই দেশের জন্য, সমাজের জন্য অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী যে পরিশ্রমই করা হোক না কেন তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব, শ্রেণির শ্রমকে যদি সমান মর্যাদা দেওয়া হয় তবেই দেশ ও জাতির যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে শ্রমের এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা স্বীকৃত। আমাদের দেশের উন্নতিও এ মূল্যবোধের মাধ্যমে সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা: বর্তমানে বিশ্ব ক্রিড়াঙ্গনে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হিসেবে ক্রিকেট তার স্থান দখল করে নিয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই খেলায় সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই সফলতা সত্যিই গর্বের বিষয়। সৌন্দর্য ও বিচক্ষণতা খেলাটিকে দিয়েছে রাজকীয় মর্যাদা। আর অনিশ্চয়তা এই খেলাটিকে দিয়েছে উত্তেজনা, উদ্দীপনা ও জনপ্রিয়তা। বাংলাদেশ এই খেলার মধ্য দিয়ে বিশ্ব দরবারে ব্যাপক সুনাম ও পরিচিতি পেয়েছে। তাই এ দেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট খেলা অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। ক্রিকেটের জন্ম ও আদিকথা: ক্রিকেটের জন্ম ব্রিটেনে। ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত এই খেলার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত রাজা প্রথম এডওয়ার্ডের আমলের একটি গ্রন্থে। একটা সময় ছিল যখন ব্রিটিশরাই শুধু খেলত এই খেলা। কিন্তু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্রমবিস্তারের সাথে সাথে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই খেলা ছড়িয়ে পড়ে। ক্রিকেটে প্রথম আইন তৈরি হয় ১৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। এ আইন তৈরি করে লন্ডন ক্রিকেট ক্লাব। ১৭৮৭ সালে এম. সি. সি (মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব) প্রতিষ্ঠার পর ঐ আইন আরও সংশোধিত ও পরিমার্জিত হয়। ১৮৭৭সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১২টি দেশ ক্রিকেটের টেস্ট খেলুড়ে দেশ। প্রথম বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। প্রতি ৪ বছর পরপর একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর ক্রিকেটের সর্বশেষ সংস্করণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। উপমহাদেশে ক্রিকেট: অবিভক্ত বাংলায় ১৭১৯ সালে ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ভারতীয় উপমহাদেশে ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অন্যতম মাইলফলক। বাংলাদেশ অর্থাৎ প্রাক্তন পূর্ব বাংলায় ক্রিকেট খেলার প্রচলন করে ব্রিটিশরাই। তখন অবশ্য কেবল এই খেলা অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পাকিস্তান আমলেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। প্রকৃতপক্ষে, পরিপূর্ণভাবে ক্রিকেটের বিকাশ ঘটে সত্তরের দশকের শেষার্ধে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বিশ্বক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এরপর সময়ের সাথে সাথে পরিপক্বতা লাভ করে এ পর্যায়ে এসে পৌছেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেট যাত্রা: উপমহাদেশে ভারত পাকিস্তানের পরপরই বাংলাদেশের ক্রিকেট-যাত্রা শুরু হয়। পাশ্ববর্তী এই দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাই স্বাধীনতা লাভের অল্প দিনের মধ্যেই ১৯৭৩ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড যা বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি নামে পরিচিত। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম ICC ট্রফিতে অংশ নেয়। সেবার মালয়েশিয়া ও ফিজির বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এভাবেই সময়ের পালাবদলের সাথে সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসতে থাকে। আইসিসিতে বাংলাদেশ: ১৯৭৯ সালে প্রথম বাংলাদেশ আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। প্রথম টুর্নামেন্ট থেকে ৬ষ্ঠ আইসিসি টুনার্মেন্ট '৯৭পর্যন্ত বাংলাদেশ সবকটি খেলায় অংশগ্রহণ করে। টুর্নামেন্টের ৪টি খেলায় বাংলাদেশ ২টিতে জয় লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ২য় টুর্নামেন্টে ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৪টি ম্যাচ জিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কাড়ে। এভাবে ধারাবাহিক খেলার মধ্য দিয়ে ৬ষ্ঠ আইসিসি-তে ৫ম বিশ্বকাপের তিন দল আরব আমিরাত, কেনিয়া ও 'হল্যান্ডকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ করে। ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশ: ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জেতার পর বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছে ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভের জন্য জোর দাবি জানায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ধারাবাহিক সাফল্য ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আইসিসি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশকে ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রদান করে। টেস্ট স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশ: টেস্ট খেলা হচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড়ো ফরম্যাটের খেলা। ওয়ানডের পর বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করে। বিশ্বকাপ পরবর্তী সভায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে আইসিসি পর্যবেক্ষণ করে। অবশেষে ২০০০ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ বহুল কাঙ্ক্ষিত টেস্ট খেলার মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে ১২টি দেশ এই অভিজাত শ্রেণির সদস্য। বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০-১৪ নভেম্বর প্রথম টেস্ট খেলে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ: ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রথম ৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেনি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সপ্তম আসরে। আইসিসি বিশ্বকাপ ১৯৯৯: ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয়। সে সময় বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। '৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক ঘটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (১৭মে, ১৯৯৯ গেমস ফোর্ড) তৃতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। ঐ আসরে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে সকলের দৃষ্টি কাড়ে বাংলাদেশ। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০০৩: খালেদ মাসুদের নেতৃত্বে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার দঃ আফ্রিকা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। এ আসরে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হেরে যায়। এমনকি দুর্বল কানাডার কাছেও পরাজিত হয় বাংলাদেশ। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০০৭: ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে শচীন, সৌরভের শক্তিশালী ভারতকে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে হারিয়ে সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে এবং সুপার এইটে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১১: প্রথমবারের মতো ভারত ও শ্রীলংকার সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের আয়োজন করে। এ বিশ্বকাপের উদ্বোধন হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ডকে পরাজিত করে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে লজ্জাজনক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিদায় নিতে হয় টাইগারদের। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫: ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে ও স্কটল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। শ্রীলংকার কাছে হারলেও পঞ্চম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে যায়। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯: সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২০১৯ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে এ আসরে বাংলাদেশ ৯টি ম্যাচের ৩টিতে জয় লাভ করে। [তথ্যসূত্র: আইসিসি ওয়েব সাইট। কিন্তু এ আসরেও বাংলাদেশ সেমি ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়। এ আসরে সাকিব আল হাসান ১১ উইকেটের পাশাপাশি ৬০২ রান করেন, যা সমগ্র টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য দিনদিন বেড়েই চলছে। এর সাথে বাড়ছে প্রত্যাশা। ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথম . কোনো বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি পান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ২০১৯ বিশ্বকাপে নজরকাড়া ৬০২ রানের পাশাপাশি ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। বোলিংয়ে ২০টি উইকেট নিয়ে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তাই আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ একদিন ক্রিকেট পরাশান্তিতে পরিণত হবে এবং জয় করবে বিশ্বকাপ। উপসংহার: বাংলাদেশের খেলাধুলার মধ্যে ক্রিকেটের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। এ দেশের মানুষ দলের জয়-পরাজয়ে পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে এ খেলা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্য ঈর্ষনীয়। বস্তুত, সে দিন খুব বেশি দূরে নয়, যে দিন বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফির মতো বিশ্বকাপ ট্রফিও জয় করবে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৮ : সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.(খ) মনে করো, তুমি ঈশিতা। বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তোমার বিদ্যালয়ের 'সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ' উদ্যাপন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

(খ) মনে করো, তুমি ঈশিতা। বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তোমার বিদ্যালয়ের 'সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ' উদ্যাপন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ফাহিমা। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার একজন প্রতিনিধি। সাম্প্রতিক ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ফাহিমা। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার একজন প্রতিনিধি। সাম্প্রতিক ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.অথবা, (খ) তোমার দেখা একটি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক একটি সংবাদ প্রতিবেদন লেখো।

অথবা, (খ) তোমার দেখা একটি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক একটি সংবাদ প্রতিবেদন লেখো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি সিলেটের কুমারগাঁও এলাকায় বসবাস করো। তোমার এলাকার রাস্তাঘাটের বেহালদশা সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি সিলেটের কুমারগাঁও এলাকায় বসবাস করো। তোমার এলাকার রাস্তাঘাটের বেহালদশা সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.(খ) মনে করো, তুমি বিজয়/বিপাশা। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি। তোমার এলাকার সড়কের দুরবস্থা সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

(খ) মনে করো, তুমি বিজয়/বিপাশা। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি। তোমার এলাকার সড়কের দুরবস্থা সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ঈশান/ঈশাল। 'দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি। বৃক্ষরোপণ বিষয়ক একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ঈশান/ঈশাল। 'দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকার চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি। বৃক্ষরোপণ বিষয়ক একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.অথবা, (খ) বৃক্ষরোপণ বিষয়ক সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

অথবা, (খ) বৃক্ষরোপণ বিষয়ক সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : (ক) এলাকার সড়কের দুরবস্থা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : (ক) এলাকার সড়কের দুরবস্থা সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.অথবা, (খ) মনে করো, তুমি শ্রাবণ। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার একজন প্রতিবেদক। তোমার এলাকার সড়কের দুরবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

অথবা, (খ) মনে করো, তুমি শ্রাবণ। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার একজন প্রতিবেদক। তোমার এলাকার সড়কের দুরবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি হৈমন্তী। তোমার বিদ্যালয়ে 'শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' উদ্যাপন উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি হৈমন্তী। তোমার বিদ্যালয়ে 'শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' উদ্যাপন উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.অথবা, (খ) 'ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয়' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করো।

অথবা, (খ) 'ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয়' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : (ক) তোমার বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করো।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : (ক) তোমার বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

(খ) মনে করো, তুমি ঈশিতা। বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তোমার বিদ্যালয়েরযেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ফাহিমা। দৈনিক প্রথম আলো অথবা, (খ) তোমার দেখা একটি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক একটি সংবাদ প্রযেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি সিলেটের কুমারগাঁও এলাকায়(খ) মনে করো, তুমি বিজয়/বিপাশা। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি। তোমযেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ঈশান/ঈশাল। 'দৈনিক ইত্তেফঅথবা, (খ) বৃক্ষরোপণ বিষয়ক সংবাদ প্রতিবেদন রচনা করো।যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : (ক) এলাকার সড়কের দুরবস্থা সংক্রান্ত সংবাদঅথবা, (খ) মনে করো, তুমি শ্রাবণ। 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকার একজন প্রতিবেদক। তোমারযেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি হৈমন্তী। তোমার বিদ্যালয়েঅথবা, (খ) 'ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয়' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপযেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো : (ক) তোমার বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্য

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।