শেয়ারFacebookWhatsApp

কৃষিকাজে বিজ্ঞান

উত্তর: কৃষিকাজে বিজ্ঞান ভূমিকা: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এবং জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের প্রায় ৪০.৬% জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত (BBS, 2023)। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমির স্বল্পতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঐতিহ্যগত কৃষিপদ্ধতি আজ আর যথেষ্ট নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান যেমন- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Al), রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কৃষি এখন আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে। আধুনিক বীজ প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিজ্ঞানভিত্তিক ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (BINA) ও বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI) মিলিতভাবে উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী ১৩২টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলে কৃষকরা একই জমিতে অধিক ফলন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, B: বেগুন চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% হ্রাস করতে পেরেছেন এবং ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫১% পর্যন্ত। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও উৎপাদন ব্যয় কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে এখন কৃষি কাজ আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হয়েছে। SMARD প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে গাছের রোগ চিহ্নিতকরণে ৯৭.৩% নির্ভুলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে IPAGE (Intelligent Precision Agriculture System) এআই-ভিত্তিক কৃষি তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের পরিচর্যা, বাজারমূল্যসহ সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে ১২% এবং সার ব্যবহারে ৪০% হ্রাস পেয়েছে (ITC, 2024) জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও অভিযোজন প্রযুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম বড়ো হুমকি। ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয় (Reuters, 2024)। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় BRRI স্যালাইন, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান এবং গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার তথ্য পেয়ে সময়োচিত পদক্ষেপ। নিতে পারছেন। টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি: সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি যেমন Integrated Floating Cage Aquageoponics System (IFCAS)-এর মাধ্যমে একসঙ্গে মাছ, সবজি ও ধান চাষ করা সম্ভব, যা বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে Precision Agriculture-এ স্যাটেলাইট, সেন্সর ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। এতে পানি ব্যবহার ২০-৩০% কমেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৩০-৪০% (The Business Standard, 2024)। কৃষি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) কৃষি প্রযুক্তির গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি BAU উচ্চফলনশীল ও অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন মিষ্টি আলু, সরিষা ও ডাল জাতীয় শস্য উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া IFAD-এর মাধ্যমে পরিচালিত NATP-II প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলায় প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ সেবা প্রদান করা হচ্ছে (IFAD, 2024)। চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা: বিজ্ঞানের অবদান কৃষিক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিপ্লব এনেছে। তবে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও যুক্ত হয়েছে, যা বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। ক. সুবিধাসমূহ (Merits): ১. উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা: উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিতে উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Bt বেগুন চাষে ফলন ৫১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% কমেছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য উপকারী। ২. পরিশ্রম ও সময় সাশ্রয় আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পাওয়ার টিলার, হ্যারো, সিড ড্রিল ইত্যাদির ব্যবহারে কৃষিকাজের গতি বেড়েছে এবং শ্রম ব্যয় কমেছে (BARI Annual Report, 2023) 1 ৩. জলবায়ু অভিযোজন বিজ্ঞানভিত্তিক জাত যেমন- খরা-সহনশীল ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকরা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা করতে পারছেন (BRRI, 2024)। ৪. দূরবর্তী পরামর্শ ও বাজার সংযোগ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার দর জানতে পারছেন (ITC, 2024) 1 খ. অসুবিধাসমূহ (Demerits): ১. প্রযুক্তির উচ্চমূল্য ও প্রবেশাধিকারে বৈষম্য উন্নত যন্ত্রপাতি, ড্রোন বা সেন্সর প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রযুক্তির সুবিধা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। ২. দক্ষতার ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের অভাব প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না, নষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক কৃষক আধুনিক ফলে ভুল প্রয়োগে ফসল ৩. ই-ওয়েস্ট ও প্রযুক্তি-নির্ভরতা অধিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-waste) বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর (UNEP Report, 2023) ৪. পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ৫ আঞ্চলিক বৈষম্য প্রযুক্তি প্রধানত উন্নত অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক কৃষকেরা পিছিয়ে পড়ছেন, যার ফলে আয় ও উৎপাদনে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে (BBS, 2023) | সতর্কতা ও সুপারিশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের উচিত- ১. কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যয় হ্রাসে ভর্তুকি প্রদান। ২. কৃষি প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধবরূপে ব্যবহার নিশ্চিত করা। ৩.ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রচলন করা। ৪. প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হলেই কৃষিতে টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়ন সম্ভব। উপসংহার: বাংলাদেশের কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণমান বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টেকসইতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইলে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও কৃষকের মধ্যে সমন্বয়, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশের কৃষি আগামী দশকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

কৃষিকাজে বিজ্ঞান

উত্তর

কৃষিকাজে বিজ্ঞান ভূমিকা: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এবং জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের প্রায় ৪০.৬% জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত (BBS, 2023)। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমির স্বল্পতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঐতিহ্যগত কৃষিপদ্ধতি আজ আর যথেষ্ট নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান যেমন- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Al), রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কৃষি এখন আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে। আধুনিক বীজ প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিজ্ঞানভিত্তিক ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (BINA) ও বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI) মিলিতভাবে উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী ১৩২টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলে কৃষকরা একই জমিতে অধিক ফলন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, B: বেগুন চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% হ্রাস করতে পেরেছেন এবং ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫১% পর্যন্ত। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও উৎপাদন ব্যয় কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে এখন কৃষি কাজ আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হয়েছে। SMARD প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে গাছের রোগ চিহ্নিতকরণে ৯৭.৩% নির্ভুলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে IPAGE (Intelligent Precision Agriculture System) এআই-ভিত্তিক কৃষি তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের পরিচর্যা, বাজারমূল্যসহ সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে ১২% এবং সার ব্যবহারে ৪০% হ্রাস পেয়েছে (ITC, 2024) জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও অভিযোজন প্রযুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম বড়ো হুমকি। ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয় (Reuters, 2024)। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় BRRI স্যালাইন, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান এবং গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার তথ্য পেয়ে সময়োচিত পদক্ষেপ। নিতে পারছেন। টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি: সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি যেমন Integrated Floating Cage Aquageoponics System (IFCAS)-এর মাধ্যমে একসঙ্গে মাছ, সবজি ও ধান চাষ করা সম্ভব, যা বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে Precision Agriculture-এ স্যাটেলাইট, সেন্সর ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। এতে পানি ব্যবহার ২০-৩০% কমেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৩০-৪০% (The Business Standard, 2024)। কৃষি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) কৃষি প্রযুক্তির গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি BAU উচ্চফলনশীল ও অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন মিষ্টি আলু, সরিষা ও ডাল জাতীয় শস্য উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া IFAD-এর মাধ্যমে পরিচালিত NATP-II প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলায় প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ সেবা প্রদান করা হচ্ছে (IFAD, 2024)। চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা: বিজ্ঞানের অবদান কৃষিক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিপ্লব এনেছে। তবে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও যুক্ত হয়েছে, যা বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। ক. সুবিধাসমূহ (Merits): ১. উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা: উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিতে উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Bt বেগুন চাষে ফলন ৫১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% কমেছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য উপকারী। ২. পরিশ্রম ও সময় সাশ্রয় আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পাওয়ার টিলার, হ্যারো, সিড ড্রিল ইত্যাদির ব্যবহারে কৃষিকাজের গতি বেড়েছে এবং শ্রম ব্যয় কমেছে (BARI Annual Report, 2023) 1 ৩. জলবায়ু অভিযোজন বিজ্ঞানভিত্তিক জাত যেমন- খরা-সহনশীল ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকরা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা করতে পারছেন (BRRI, 2024)। ৪. দূরবর্তী পরামর্শ ও বাজার সংযোগ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার দর জানতে পারছেন (ITC, 2024) 1 খ. অসুবিধাসমূহ (Demerits): ১. প্রযুক্তির উচ্চমূল্য ও প্রবেশাধিকারে বৈষম্য উন্নত যন্ত্রপাতি, ড্রোন বা সেন্সর প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রযুক্তির সুবিধা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। ২. দক্ষতার ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের অভাব প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না, নষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক কৃষক আধুনিক ফলে ভুল প্রয়োগে ফসল ৩. ই-ওয়েস্ট ও প্রযুক্তি-নির্ভরতা অধিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-waste) বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর (UNEP Report, 2023) ৪. পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ৫ আঞ্চলিক বৈষম্য প্রযুক্তি প্রধানত উন্নত অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক কৃষকেরা পিছিয়ে পড়ছেন, যার ফলে আয় ও উৎপাদনে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে (BBS, 2023) | সতর্কতা ও সুপারিশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের উচিত- ১. কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যয় হ্রাসে ভর্তুকি প্রদান। ২. কৃষি প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধবরূপে ব্যবহার নিশ্চিত করা। ৩.ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রচলন করা। ৪. প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হলেই কৃষিতে টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়ন সম্ভব। উপসংহার: বাংলাদেশের কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণমান বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টেকসইতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইলে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও কৃষকের মধ্যে সমন্বয়, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশের কৃষি আগামী দশকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।