বাংলাদেশের ফুটবল
উত্তর: বাংলাদেশের ফুটবল ভূমিকা : ফুটবল বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে, গঞ্জে, শহরে সর্বত্র সুনামের সঙ্গে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। অতীতের তুলনায় বাংলাদেশি ফুটবলের মান অপ্রত্যাশিত, সহায়তার অভাব এবং দরিদ্র বিনিয়োগের কারণে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রতি মানুষের আগ্রহের মাত্রা বোঝা যায় বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ক্রমে এই খেলার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করেছে। ফুটবলের ইতিহাস: ফুটবলের নিজস্ব কোনো ধ্রুপদি ইতিহাস নেই। বিশ্বজুড়ে খেলা অন্যান্য বল খেলার সঙ্গে মিল থাকা সত্ত্বেও ফিফা বলেছে যে ইউরোপের বাইরে প্রাচীনকালে অনুষ্ঠিত কোনো খেলার সঙ্গে ঐতিহাসিক সংযোগ নেই বর্তমান ফুটবলের। ফুটবলের আধুনিক নিয়মগুলো উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলে খেলা বিভিন্ন ধরনের খেলার মানসম্মত করার প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইংল্যান্ডে ফুটবলের ইতিহাস অন্তত অষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু হয়। প্রতি দলে এগারোজন করে দুটি দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলতে হয়। একটি বায়ুপূর্ণ চামড়ার বলকে হাত ও বাহু ছাড়া শরীরের যেকোনো অংশ দিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের মধ্যে প্রবেশ করাতে হয়। পৃথিবীতে ফুটবল ধরনের বেশ কয়েকটি খেলা প্রচলিত আছে। যেমন- রাগবি অনেকটা ফুটবল খেলার মতো। তবে এখন ফুটবলের যে রূপটি দেখা যায়, তা ১৮৬৩ সালে প্রবর্তিত। মূলত এ সময়ে ইংল্যান্ডে ফুটবল অ্যাসোসিয়েসন গঠিত হয় এবং তারা ফুটবল খেলার কতকগুলো নিয়ম জারি করে। এই নতুন নিয়মের ফুটবল খেলা দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য ইংল্যান্ডকে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয়। বাংলাদেশ ফুটবলের অগ্রযাত্রা: ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন হয়। বাংলাদেশে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ফুটবল জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৪৮ সাল থেকে সমগ্র পাকিস্তানে ফুটবলের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় 'ঢাকা লিগ'। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরিতে এ ফুটবল দল বিশেষ ভূমিকা রাখে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের আগে লিগ ফুটবলের জাতীয় ফুটবলে উন্মাদনা দেখা যায়, বিশেষ করে ঢাকা লিগে। ঢাকা লিগের অনেক দল এশীয় মহাদেশে ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে সবচেয়ে সফল দলগুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রধান ক্লাব হলো- মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ওয়ারী ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে ঢাকা লিগে যুক্ত হয়েছে- বসন্ধুরা কিংস প্রভতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে): বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা জাতীয় দল গঠন ও নিয়ন্ত্রণ তথা ফুটবলের যাবতীয় উন্নয়নে কাজ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বাফুফে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল ও বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলকে তত্ত্বাবধান করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ফুটবল: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ১৯৭৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাফুফে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এএফসি (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন), ১৯৭৬ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনালে ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) ও ১৯৯৭ সালে সাফ (সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন) বাংলাদেশকে সদস্য করে ১৯৮০ সালে 'এএফসি' এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে এবং ১৯৮৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেয়। ফুটবলে বাংলাদেশের গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয় ২০০৩ সালে। ওই বছরই বাংলাদেশ প্রথম সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন গোল্ডকাপ-এ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল: বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য। ২৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে দলটি সর্বপ্রথম নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রবেশ করে। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শিরোপা হিসেবে ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। একনজরে বাংলাদেশ ফুটবলের অর্জন: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন আপ (২): ১৯৯৯, ২০০৫ (১): ২০০৩, ২. রানার্স- দক্ষিণ এশীয় গেমস ১. স্বর্ণপদক (২): ১৯৯৯, ২০১০, ২. রৌপ্য পদক (৪): ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ৩. ব্রোঞ্জ পদক (৩): ১৯৯১, ২০১৬, ২০১৯ প্রেসিডেন্ট'স গোল্ড কাপ: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৮৯ চার দেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৯৫ মিয়ানমার এ্যান্ড রয়্যাল কাপ: ১, রানার্স-আপ (১): ২০০৫ সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন: ২০২২ স্টেডিয়াম: বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উন্নতমানের ফুটবল মাঠ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, যশোরের স্টেডিয়াম, রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম, ফেনীর স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রাজধানীর পূর্বাচল ও কক্সবাজারে আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তুতি চলছে। উপসংহার: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিয়ে আসতে পারেনি। একসময় ঘরোয়া ফুটবল সারা বাংলাদেশে যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে পারত, তাও এখন আবেদন হারিয়েছে। ফুটবলে গৌরব ফিরিয়ে আনতে দরকার কার্যকর নীতিমালা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা। সম্ভাবনাময় এই খেলার গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশকে আরও উঁচু করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল
বাংলাদেশের ফুটবল
উদ্দীপক
Dinajpur · 2026
উত্তর
উত্তর
উত্তর