শেয়ারFacebookWhatsApp

বাংলাদেশের ফুটবল

উত্তর: বাংলাদেশের ফুটবল ভূমিকা : ফুটবল বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে, গঞ্জে, শহরে সর্বত্র সুনামের সঙ্গে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। অতীতের তুলনায় বাংলাদেশি ফুটবলের মান অপ্রত্যাশিত, সহায়তার অভাব এবং দরিদ্র বিনিয়োগের কারণে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রতি মানুষের আগ্রহের মাত্রা বোঝা যায় বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ক্রমে এই খেলার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করেছে। ফুটবলের ইতিহাস: ফুটবলের নিজস্ব কোনো ধ্রুপদি ইতিহাস নেই। বিশ্বজুড়ে খেলা অন্যান্য বল খেলার সঙ্গে মিল থাকা সত্ত্বেও ফিফা বলেছে যে ইউরোপের বাইরে প্রাচীনকালে অনুষ্ঠিত কোনো খেলার সঙ্গে ঐতিহাসিক সংযোগ নেই বর্তমান ফুটবলের। ফুটবলের আধুনিক নিয়মগুলো উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলে খেলা বিভিন্ন ধরনের খেলার মানসম্মত করার প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইংল্যান্ডে ফুটবলের ইতিহাস অন্তত অষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু হয়। প্রতি দলে এগারোজন করে দুটি দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলতে হয়। একটি বায়ুপূর্ণ চামড়ার বলকে হাত ও বাহু ছাড়া শরীরের যেকোনো অংশ দিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের মধ্যে প্রবেশ করাতে হয়। পৃথিবীতে ফুটবল ধরনের বেশ কয়েকটি খেলা প্রচলিত আছে। যেমন- রাগবি অনেকটা ফুটবল খেলার মতো। তবে এখন ফুটবলের যে রূপটি দেখা যায়, তা ১৮৬৩ সালে প্রবর্তিত। মূলত এ সময়ে ইংল্যান্ডে ফুটবল অ্যাসোসিয়েসন গঠিত হয় এবং তারা ফুটবল খেলার কতকগুলো নিয়ম জারি করে। এই নতুন নিয়মের ফুটবল খেলা দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য ইংল্যান্ডকে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয়। বাংলাদেশ ফুটবলের অগ্রযাত্রা: ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন হয়। বাংলাদেশে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ফুটবল জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৪৮ সাল থেকে সমগ্র পাকিস্তানে ফুটবলের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় 'ঢাকা লিগ'। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরিতে এ ফুটবল দল বিশেষ ভূমিকা রাখে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের আগে লিগ ফুটবলের জাতীয় ফুটবলে উন্মাদনা দেখা যায়, বিশেষ করে ঢাকা লিগে। ঢাকা লিগের অনেক দল এশীয় মহাদেশে ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে সবচেয়ে সফল দলগুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রধান ক্লাব হলো- মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ওয়ারী ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে ঢাকা লিগে যুক্ত হয়েছে- বসন্ধুরা কিংস প্রভতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে): বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা জাতীয় দল গঠন ও নিয়ন্ত্রণ তথা ফুটবলের যাবতীয় উন্নয়নে কাজ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বাফুফে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল ও বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলকে তত্ত্বাবধান করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ফুটবল: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ১৯৭৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাফুফে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এএফসি (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন), ১৯৭৬ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনালে ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) ও ১৯৯৭ সালে সাফ (সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন) বাংলাদেশকে সদস্য করে ১৯৮০ সালে 'এএফসি' এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে এবং ১৯৮৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেয়। ফুটবলে বাংলাদেশের গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয় ২০০৩ সালে। ওই বছরই বাংলাদেশ প্রথম সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন গোল্ডকাপ-এ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল: বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য। ২৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে দলটি সর্বপ্রথম নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রবেশ করে। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শিরোপা হিসেবে ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। একনজরে বাংলাদেশ ফুটবলের অর্জন: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন আপ (২): ১৯৯৯, ২০০৫ (১): ২০০৩, ২. রানার্স- দক্ষিণ এশীয় গেমস ১. স্বর্ণপদক (২): ১৯৯৯, ২০১০, ২. রৌপ্য পদক (৪): ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ৩. ব্রোঞ্জ পদক (৩): ১৯৯১, ২০১৬, ২০১৯ প্রেসিডেন্ট'স গোল্ড কাপ: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৮৯ চার দেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৯৫ মিয়ানমার এ্যান্ড রয়্যাল কাপ: ১, রানার্স-আপ (১): ২০০৫ সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন: ২০২২ স্টেডিয়াম: বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উন্নতমানের ফুটবল মাঠ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, যশোরের স্টেডিয়াম, রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম, ফেনীর স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রাজধানীর পূর্বাচল ও কক্সবাজারে আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তুতি চলছে। উপসংহার: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিয়ে আসতে পারেনি। একসময় ঘরোয়া ফুটবল সারা বাংলাদেশে যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে পারত, তাও এখন আবেদন হারিয়েছে। ফুটবলে গৌরব ফিরিয়ে আনতে দরকার কার্যকর নীতিমালা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা। সম্ভাবনাময় এই খেলার গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশকে আরও উঁচু করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বাংলাদেশের ফুটবল

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Dinajpur · 2026

উত্তর

কৃষিকাজে বিজ্ঞান ভূমিকা: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এবং জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের প্রায় ৪০.৬% জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত (BBS, 2023)। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমির স্বল্পতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঐতিহ্যগত কৃষিপদ্ধতি আজ আর যথেষ্ট নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান যেমন- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Al), রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কৃষি এখন আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে। আধুনিক বীজ প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিজ্ঞানভিত্তিক ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (BINA) ও বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI) মিলিতভাবে উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী ১৩২টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলে কৃষকরা একই জমিতে অধিক ফলন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, B: বেগুন চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% হ্রাস করতে পেরেছেন এবং ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫১% পর্যন্ত। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও উৎপাদন ব্যয় কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে এখন কৃষি কাজ আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হয়েছে। SMARD প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে গাছের রোগ চিহ্নিতকরণে ৯৭.৩% নির্ভুলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে IPAGE (Intelligent Precision Agriculture System) এআই-ভিত্তিক কৃষি তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের পরিচর্যা, বাজারমূল্যসহ সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে ১২% এবং সার ব্যবহারে ৪০% হ্রাস পেয়েছে (ITC, 2024) জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও অভিযোজন প্রযুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম বড়ো হুমকি। ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয় (Reuters, 2024)। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় BRRI স্যালাইন, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান এবং গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার তথ্য পেয়ে সময়োচিত পদক্ষেপ। নিতে পারছেন। টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি: সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি যেমন Integrated Floating Cage Aquageoponics System (IFCAS)-এর মাধ্যমে একসঙ্গে মাছ, সবজি ও ধান চাষ করা সম্ভব, যা বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে Precision Agriculture-এ স্যাটেলাইট, সেন্সর ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। এতে পানি ব্যবহার ২০-৩০% কমেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৩০-৪০% (The Business Standard, 2024)। কৃষি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) কৃষি প্রযুক্তির গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি BAU উচ্চফলনশীল ও অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন মিষ্টি আলু, সরিষা ও ডাল জাতীয় শস্য উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া IFAD-এর মাধ্যমে পরিচালিত NATP-II প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলায় প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ সেবা প্রদান করা হচ্ছে (IFAD, 2024)। চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা: বিজ্ঞানের অবদান কৃষিক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিপ্লব এনেছে। তবে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও যুক্ত হয়েছে, যা বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। ক. সুবিধাসমূহ (Merits): ১. উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা: উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিতে উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Bt বেগুন চাষে ফলন ৫১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% কমেছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য উপকারী। ২. পরিশ্রম ও সময় সাশ্রয় আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পাওয়ার টিলার, হ্যারো, সিড ড্রিল ইত্যাদির ব্যবহারে কৃষিকাজের গতি বেড়েছে এবং শ্রম ব্যয় কমেছে (BARI Annual Report, 2023) 1 ৩. জলবায়ু অভিযোজন বিজ্ঞানভিত্তিক জাত যেমন- খরা-সহনশীল ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকরা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা করতে পারছেন (BRRI, 2024)। ৪. দূরবর্তী পরামর্শ ও বাজার সংযোগ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার দর জানতে পারছেন (ITC, 2024) 1 খ. অসুবিধাসমূহ (Demerits): ১. প্রযুক্তির উচ্চমূল্য ও প্রবেশাধিকারে বৈষম্য উন্নত যন্ত্রপাতি, ড্রোন বা সেন্সর প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রযুক্তির সুবিধা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। ২. দক্ষতার ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের অভাব প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না, নষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক কৃষক আধুনিক ফলে ভুল প্রয়োগে ফসল ৩. ই-ওয়েস্ট ও প্রযুক্তি-নির্ভরতা অধিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-waste) বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর (UNEP Report, 2023) ৪. পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ৫ আঞ্চলিক বৈষম্য প্রযুক্তি প্রধানত উন্নত অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক কৃষকেরা পিছিয়ে পড়ছেন, যার ফলে আয় ও উৎপাদনে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে (BBS, 2023) | সতর্কতা ও সুপারিশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের উচিত- ১. কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যয় হ্রাসে ভর্তুকি প্রদান। ২. কৃষি প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধবরূপে ব্যবহার নিশ্চিত করা। ৩.ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রচলন করা। ৪. প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হলেই কৃষিতে টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়ন সম্ভব। উপসংহার: বাংলাদেশের কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণমান বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টেকসইতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইলে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও কৃষকের মধ্যে সমন্বয়, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশের কৃষি আগামী দশকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

উত্তর

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার ভূমিকা: বর্তমান সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে নেশার উপকরণ। নেশা সর্বনাশা জেনেও মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়। এর নীল দংশনে দংশিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। ড্রাগ বা মাদকাসক্তি অতি আধুনিক সভ্যতার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিশাপ। নিজের প্রকৃতিকে বাইরের মাদক দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ করার প্রবণতা চিরকালই মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু যেহেতু মানুষ প্রকৃতির দাস নয়, এই আসক্তির বিপরীত সংস্কারও মানুষের মধ্যে আছে। তাই মানুষ অতীতে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়েও বহু ক্ষেত্রে আবার তা পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক হতে পেরেছে। আজও আমাদের এদিক থেকে সচেতন হতে হবে, ড্রাগের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে এদেশের তরুণ সমাজকে। মাদকদ্রব্যসমূহ: মাদকের নেশা খুব দ্রুত মানুষকে আসক্ত করে, আর এই আসক্তির আকর্ষণশক্তি এত তীব্র যে, একবার যাকে স্পর্শ করে তার পক্ষে আবার পূর্বের সহজ জীবনে ফিরে আসা দুষ্কর।। নারকোটিক ড্রাগ একজাতীয় মাদকদ্রব্য। হেরোইন, ব্রাউন সুগার, এল-এস-ডি, স্ম্যাক ইত্যাদি নানা রকম এর নাম। মানুষের নেশার জন্য রয়েছে আরও অনেক ড্রাগ। যেমন: গাঁজা, আফিম, চরস, ভাং, পেথিডিন, মরফিন, হাসিস, কোকেন ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে নানা রকম ঘুমের ট্যাবলেট। অধুনা আকাঁড়া কোকেনের সঙ্গে তামাক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের মাদকদ্রব্য। এ নতুন ড্রাগ 'বাজুকো' নামে ইউরোপের বাজারগুলোতে এখন বেশ জমজমাট। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, গোল্ডেন ওয়েজ হেরোইনের মূল উৎস আফিম। আর আফিম পাওয়া যায় পপি উৎপাদনের মাধ্যমে। সর্বনাশা নেশার উৎসভূমি :মাদকের উৎস বিদেশের নানান দেশে। আমেরিকা মহাদেশের কলম্বিয়া, বলিভিয়া, লাতিন আমেরিকায় নারকোটিক ড্রাগ তৈরির বিশাল বিশাল চক্র আছে। আমাজানের অববাহিকার গভীর জঙ্গলে 'ল্যান্ড অব ট্যাঙ্ককোয়েলিটি' নামক অঞ্চলে নারকোটিক ড্রাগ শিল্পের বেআইনি শহরটির কথা প্রসংগত স্মরণ করা যায়। এশিয়ার তিনটি এলাকায় প্রধানত পপি উৎপাদিত হয়। এলাকা তিনটি হলো- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ। বিভিন্ন ধরনের ড্রাগের কবলে বাংলাদেশ: ড্রাগের উৎপাদন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এবার তো বাজার দরকার। এই বাজারের অন্যতম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশে এই নেশা ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছিল। গাঁজা, চরস, হাসিস, হেরোইন, কোকেন, হেম্প, ব্রাউন সুগার, ওপিয়াম ডেরিভেটিস ইত্যাদি মাদকদ্রব্যে ছেয়ে গেছে দেশ। ১/১৬ গ্রাম হেরোইন বা ব্রাউন সুগার দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তি আর এ নেশা থেকে নিজেকে সহজে মুক্ত করতে পারে না। কৌতূহলের বশবর্তী হয়েও যারা এ নেশার কবলে একবার প্রবেশ করেছে, তারা হয়েছে নরকের কারাগারে বন্দি। মাদকাসক্তির কারণ: বেকারত্ব, হতাশা, বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনায় কৌতূহল মেটাতেও মানুষ দু-একবার মাদক সেবন করতে গিয়ে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি সেই আসক্তি থেকে। কোথাও কোনো মানসিক আঘাত পেলে সাময়িকভাবে ভুলে থাকার জন্যও মানুষ মাদক সেবন করে, কিন্তু পরে তা নেশায় পরিণত হয়। তাছাড়া চিরন্তন নতুনত্বের নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ এবং সাময়িক ভালো লাগার বশবর্তী হয়েও অনেকে আসক্ত হয়। দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থায় কেউ কেউ নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পেরে হতাশায় ভোগে এবং তা থেকে আসক্ত হতে শুরু করে। মাদকাসক্ত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরাও দূর থেকে কাজ করে। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও পরিণতি: মাদকাসক্ত হওয়ার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ড্রাগে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্যে একটা খাপছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। চেহারাও হয়ে যায় রুক্ষ। ক্ষুধা না পাওয়া এবং দ্রুত ওজন হ্রাস এই আসক্তির প্রাথমিক লক্ষণ। দেখা যায়, তারা যখন-তখন নিজের ঘরে ফিরে আসছে। সেই সঙ্গে বইপত্র, খাতা-কলম ও অন্যান্য দ্রব্য হারিয়ে ফেলা, পায়খানা বা বাথরুমে বেশি সময় কাটানো, চোখের তারা ছোটো হয়ে যাওয়া, এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা যায়। এ সময় থেকেই অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এ ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে স্নায়ু অসাড় হয়ে যায়, কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং ক্রমে ক্রমে জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে। প্রতিকার: আমাদের তরুণ সমাজই মাদকাসক্তির কবলে আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এটা থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে না পারলে জাতির জন্য তা অভিশাপ হয়ে থাকবে। এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে বিশ্বজুড়ে তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বের সব দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু মাদকাসক্তির কুফলের কথা প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এই ভয়ংকর ব্যাধির প্রতিকার করা যাবে না। এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনই পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিকার করা আবশ্যক। উপসংহার: মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। প্রধান দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। মাদক ব্যাবসায় লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে সাধারণ মানুষ যদি এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে, যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে এই কদর্য ব্যাধির অপসারণ সম্ভব নয়। তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

উত্তর

বাংলাদেশের ফুটবল ভূমিকা : ফুটবল বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে, গঞ্জে, শহরে সর্বত্র সুনামের সঙ্গে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। অতীতের তুলনায় বাংলাদেশি ফুটবলের মান অপ্রত্যাশিত, সহায়তার অভাব এবং দরিদ্র বিনিয়োগের কারণে হ্রাস পেয়েছে। এর প্রতি মানুষের আগ্রহের মাত্রা বোঝা যায় বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হলে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ক্রমে এই খেলার প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করেছে। ফুটবলের ইতিহাস: ফুটবলের নিজস্ব কোনো ধ্রুপদি ইতিহাস নেই। বিশ্বজুড়ে খেলা অন্যান্য বল খেলার সঙ্গে মিল থাকা সত্ত্বেও ফিফা বলেছে যে ইউরোপের বাইরে প্রাচীনকালে অনুষ্ঠিত কোনো খেলার সঙ্গে ঐতিহাসিক সংযোগ নেই বর্তমান ফুটবলের। ফুটবলের আধুনিক নিয়মগুলো উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের পাবলিক স্কুলে খেলা বিভিন্ন ধরনের খেলার মানসম্মত করার প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইংল্যান্ডে ফুটবলের ইতিহাস অন্তত অষ্টম শতাব্দী থেকে শুরু হয়। প্রতি দলে এগারোজন করে দুটি দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলতে হয়। একটি বায়ুপূর্ণ চামড়ার বলকে হাত ও বাহু ছাড়া শরীরের যেকোনো অংশ দিয়ে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের মধ্যে প্রবেশ করাতে হয়। পৃথিবীতে ফুটবল ধরনের বেশ কয়েকটি খেলা প্রচলিত আছে। যেমন- রাগবি অনেকটা ফুটবল খেলার মতো। তবে এখন ফুটবলের যে রূপটি দেখা যায়, তা ১৮৬৩ সালে প্রবর্তিত। মূলত এ সময়ে ইংল্যান্ডে ফুটবল অ্যাসোসিয়েসন গঠিত হয় এবং তারা ফুটবল খেলার কতকগুলো নিয়ম জারি করে। এই নতুন নিয়মের ফুটবল খেলা দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য ইংল্যান্ডকে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয়। বাংলাদেশ ফুটবলের অগ্রযাত্রা: ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন হয়। বাংলাদেশে উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ফুটবল জনপ্রিয় হতে থাকে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৪৮ সাল থেকে সমগ্র পাকিস্তানে ফুটবলের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় 'ঢাকা লিগ'। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরিতে এ ফুটবল দল বিশেষ ভূমিকা রাখে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের আগে লিগ ফুটবলের জাতীয় ফুটবলে উন্মাদনা দেখা যায়, বিশেষ করে ঢাকা লিগে। ঢাকা লিগের অনেক দল এশীয় মহাদেশে ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে সবচেয়ে সফল দলগুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রধান ক্লাব হলো- মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ওয়ারী ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে ঢাকা লিগে যুক্ত হয়েছে- বসন্ধুরা কিংস প্রভতি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে): বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন, খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা জাতীয় দল গঠন ও নিয়ন্ত্রণ তথা ফুটবলের যাবতীয় উন্নয়নে কাজ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। বাফুফে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল ও বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলকে তত্ত্বাবধান করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ফুটবল: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ১৯৭৩ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাফুফে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এএফসি (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন), ১৯৭৬ সালে ফিফা (ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনালে ডি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) ও ১৯৯৭ সালে সাফ (সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন) বাংলাদেশকে সদস্য করে ১৯৮০ সালে 'এএফসি' এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে এবং ১৯৮৬ সালে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেয়। ফুটবলে বাংলাদেশের গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয় ২০০৩ সালে। ওই বছরই বাংলাদেশ প্রথম সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন গোল্ডকাপ-এ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল: বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ফুটবল দল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সদস্য। ২৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে দলটি সর্বপ্রথম নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রবেশ করে। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শিরোপা হিসেবে ২০২২ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২-এ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। একনজরে বাংলাদেশ ফুটবলের অর্জন: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন আপ (২): ১৯৯৯, ২০০৫ (১): ২০০৩, ২. রানার্স- দক্ষিণ এশীয় গেমস ১. স্বর্ণপদক (২): ১৯৯৯, ২০১০, ২. রৌপ্য পদক (৪): ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৯, ১৯৯৫, ৩. ব্রোঞ্জ পদক (৩): ১৯৯১, ২০১৬, ২০১৯ প্রেসিডেন্ট'স গোল্ড কাপ: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৮৯ চার দেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট: ১. চ্যাম্পিয়ন (১): ১৯৯৫ মিয়ানমার এ্যান্ড রয়্যাল কাপ: ১, রানার্স-আপ (১): ২০০৫ সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ: ১. চ্যাম্পিয়ন: ২০২২ স্টেডিয়াম: বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উন্নতমানের ফুটবল মাঠ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, যশোরের স্টেডিয়াম, রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম, ফেনীর স্টেডিয়াম, ময়মনসিংহ জেলার ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও রাজধানীর পূর্বাচল ও কক্সবাজারে আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির প্রস্তুতি চলছে। উপসংহার: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তা বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য নিয়ে আসতে পারেনি। একসময় ঘরোয়া ফুটবল সারা বাংলাদেশে যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে পারত, তাও এখন আবেদন হারিয়েছে। ফুটবলে গৌরব ফিরিয়ে আনতে দরকার কার্যকর নীতিমালা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা। সম্ভাবনাময় এই খেলার গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারলে বাংলাদেশকে আরও উঁচু করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।