শেয়ারFacebookWhatsApp

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

উত্তর: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক একটি বদ্বীপ অঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে প্রায়ই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, নদীভাঙন, শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস প্রভৃতি দুর্যোগ এদেশের মানুষের জন্য বড়ো হুমকি। এসব দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ ক্ষতির সৃষ্টি করে। কালবৈশাখি: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই কালবৈশাখি ঝড় হয়। ফলে এদেশের বহু এলাকা বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের তান্ডবলীলায় গাছপালা, ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। মারা যায় হাজার হাজার গরু-বাছুর, পাখপাখালি। মানুষ হয় অসহায়। অনেকসময় মানুষেরও প্রাণহানি ঘটে। বৈশাখ মাসে কালবৈশাখি আঘাত হানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। বন্যা: বন্যা বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের রূপ নিয়ে দেখা দেয়। ছোটখাটো প্লাবনকে আমরা বলি বর্ষা। সেই প্লাবন যখন বিশাল আকার ধারণ করে তখন তাকে বন্যা বলা হয়। দেশের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে ভেসে যায়। কোনো কোনো বছর তা ভয়ংকর রূপ নেয়। ধ্বংস হয় শত শত গ্রাম। মারা যায় গরু, বাছুর, মানুষ। নষ্ট হয় হাজার হাজার একর জমির ফসল। ১৯৭৪, ১৯৮৭ সালের বন্যায় আমাদের দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল বাংলাদেশের স্মরণ কালের ভয়াবহতম বন্যা, যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন ছিল। সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস: সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় বছরই জলোচ্ছ্বাস হয়। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিগত ১৮৫ বছরে বাংলাদেশে ৫১ বার সাইক্লোন সংঘটিত হয়েছে। ১৯৭০ সালের সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস সবাইকে হতবাক করে দেয়। সেই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল আড়াইশ কিলোমিটার। ১৯৮৫ সালেও বাংলাদেশের দক্ষিণের দ্বীপাঞ্চলে হানা দেয় সর্বনাশা সাইক্লোন। সাইক্লোনের প্রচন্ড আঘাতে উড়ির চর এলাকা বিধ্বস্ত হয়। সেই সময়ে প্রায় দেড় লাখের মতো লোক প্রাণ হারায় এবং ধ্বংস হয় জমির ফসল ও অসংখ্য ঘরবাড়ি। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে সংঘটিত হয় স্মরণকালের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। উপকূলের ১৬টি জেলার প্রায় ৪৭টি খানা বিধ্বস্ত হয়। ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে এই ঝড় হ্যারিকেনের রূপ নিয়ে ২০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। ওই প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসে চার লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। টর্নেডো: বাংলাদেশে প্রায় বছরই টর্নেডো বা আকস্মিক ঘূর্ণিবায়ু। মারাত্মক ভাবে আঘাত হানে। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে স্মরণকালের ইতিহাসে ভয়াবহতম টর্নেডো আঘাত হানে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলা ও তার আশেপাশের জেলাগুলোতে। এতে বহু প্রাণহানি ঘটে। ধ্বংস হয় অসংখ্য ঘরবাড়ি। মারা যায় হাজার হাজার গবাদিপশু। শিলাবৃষ্টি: শিলাবৃষ্টি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ গুলোর একটি। প্রায় বছরই ব্যাপক শিলারষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন প্রকার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে ইরি ধানের মৌসুমে শিলাবৃষ্টি হলে কৃষকের দুঃখ-দুর্দশার সীমা থাকে না। চারা অবস্থায় শিলাবৃষ্টি হলে ধানের ফলন অনেক কম হয়। ধান বের হওয়ার পর শিলাবৃষ্টি হলে ধান চিটা হয় এবং ঝরে যায়। ভূমিকম্প: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিবছর ভূমিকম্প হয়। এতে কিছু পরিমাণ জনজীবন বিপর্যন্ত হয় এবং দালানকোঠা, ঘরবাড়ি ধসে যায়। অনেক সময় ধসে যাওয়া ঘরবাড়ির নিচে চাপা পড়ে মানুষ ও গরু-ছাগল প্রাণ হারায়। নদীভাঙন: নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দেশের অনেক এলাকা নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন-পদ্মার তীরে বসবাসকারী লোকেরা নদীভাঙনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। যমুনা নদীর ভাঙনেও অনেক পরিবার সর্বহারা হচ্ছে। খরা: বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশে প্রায় বছরই খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। যে বছরে খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়, সেই বছর প্রায় সব রকম ফসলেরই ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। খরা বা অনাবৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অতিবৃষ্টি: কৃষিপ্রধান দেশে অতিবৃষ্টির ক্ষতিকর দিক কম নয়। বাংলাদেশে প্রায় বছরই অতিবৃষ্টির প্রকোপ দেখা দেয়। অতিবৃষ্টির ফলে ফসলের জমি পানিতে ডুবে যায়, কিংবা জমি থেকে পানি নিষ্কাশন দেরিতে হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলার উপায়: বাংলাদেশে বিভিন্ন উপায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায়। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান উপায়গুলো নিম্নরূপ: ১. দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীবাহিনী গঠন করা। ২. দুর্যোগ মোকাবিলা করার সময়োপযোগি নীতিমালা, পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করা। ৩. দুর্যোগ ঘটার পর দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও চাহিদা নিরূপণের ব্যবস্থা করা। 4. দুর্যোগ ব্যবস্থার জন্য তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থাকে উন্নত করা। 5 ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে রক্ষার জন্য মজবুত বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। উপসংহার: দুর্যোগ সব সময়ই প্রাণিজগতের জন্য বিপদ ডেকে আনে। চাই যেকোনো দুর্যোগের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়া মানবতার কাজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার মনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফলে আমরা ভবিষ্যতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সময়োপযোগী দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণে সক্ষম হতে পারব।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Sylhet · 2026

উত্তর

ভাষা আন্দোলন ভূমিকা: মানুষ ভাবের বিনিময় করে ভাষার মাধ্যমে। এ ভাষার গুণেই পৃথিবীর সকল প্রাণী থেকে মানুষ স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী। মানুষ তার হাসি-আনন্দ, দুঃখ-বেদনা সবকিছুই প্রকাশ করে ভাষার মাধ্যমে। মাতৃভাষা ছাড়া তৃপ্তি মিটিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করা যায় না। মাতৃভাষার এ গুরুত্বের কথা ভেবেই পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মাতৃভাষার মাধ্যমে। মাতৃভাষার ভেতর দিয়েই শিশুর মনে স্বদেশপ্রেমের সূত্রপাত ঘটে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। বিদেশি শাসকরা এ ভাষাকে যুগে যুগে পদানত করতে চেয়েছে। তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এদেশের মানুষ। করেছে ভাষা আন্দোলন। ঝরেছে অনেক রক্ত। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে অকাতরে জীবন দিয়ে, তার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃত। ভাষা আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত যে আন্দোলন হয়েছে, তাকে ভাষা আন্দোলন বলা হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল। সেখানে গণপরিষদের ভাষা হিসেবে গৃহীত হয় উর্দু এবং ইংরেজি। বাংলাকেও গণপরিষদের ভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের নেতারা এর বিরোধিতা করেন। ফলে ২ মার্চ ঢাকায় ফজলুল হক মুসলিম হলে এক সভায় বাংলা ভাষার পক্ষে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। এই পরিষদ ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে এবং ছাত্ররা শোভাযাত্রা নিয়ে রাজপথে নামে। শোভাযাত্রায় পুলিশ, নির্বিচারে গুলি ও লাঠিচার্জ করলে অনেক ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত হয়। এর প্রতিবাদে ১৩ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন এবং ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম ঢাকায় আসেন। তিনি ২১ মার্চ (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভায় ঘোষণা করলেন, "Urdu and only Urdu shall be the State Language of Pakistan." এর প্রতিবাদে ২৬ মার্চ ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকায় গঠিত হয় 'রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ'। ১৯৫০ সালে গণপরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে জিন্নাহকে অনুসরণ করে লিয়াকত আলী খান বললেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" এর প্রতিবাদে ঢাকার রাজপথ গরম হয়ে ওঠে এবং ৩০ জানুয়ারি পালিত হয় ধর্মঘট। ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এক সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস পালন ও হরতালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকার জনরোষের ভয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র ধর্মঘট, জনসভা, শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেয়। কিন্তু ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামলে পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে শহিদ হন রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত এবং নাম না-জানা আরও অনেকে। শহিদদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় মর্যাদায় পালন করা হয় 'শহিদ দিবস' হিসেবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি: ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাঙালি জাতির জন্য এ এক বিরাট গৌরব। একদিকে সারা বিশ্বের মানুষ জানতে পারবে বাংলাদেশ নামের একটি দেশের কথা, বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার কথা, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশের ভাষাগুলো মর্যাদা লাভের পথ খুঁজে পাবে। বলা যায়, ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' এক বিরাট ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন: ২০০০ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। বাংলা ভাষাকে জাতীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ছুটে যায় শহিদ মিনারে। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি উদযাপন করে। তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিনটি অব্যয় ও অক্ষয় হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও বাংলাদেশের গুরুত্ব: আজ আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি, আমরাই প্রথম জাতি, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত দিয়েছি, অকাতরে জীবন দিয়েছি। মাতৃভাষার জন্য রক্ত ও জীবন দেওয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে আর নেই। সেই রক্ত বৃথা যায়নি। বিশ্ববাসী স্বীকৃতি দিয়েছে আমাদের মাতৃভাষাকে। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বও বৃদ্ধি পেল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। সেই সঙ্গে বাংলা ভাষা হলো গৌরবের ভাষা। আমাদের মাতৃভাষাকে নিয়ে গবেষণা এবং পৃথিবীর সকল মাতৃভাষাকে রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার একটি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা গবেষণা কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করেছে। গোটা বিশ্বের তিন-চার হাজার মাতৃভাষার কোনোটিই যেন হারিয়ে না যায়, এ কেন্দ্রে সেই বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে। বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এ কেন্দ্র একদিন বিশ্বের সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণে সহায়ক হবে। উপসংহার: আমরা একুশ শতকে পদার্পণ করেছি। আমাদের জাতীয় জীবনে গত শতক ছিল আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম, যুদ্ধে টালমাটাল। ইতিহাস থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি লাখ লাখ জীবনের বিনিময়ে। এদেশের মানুষ মাটির গন্ধ বড়ো বেশি ভালোবাসে। তাই তারা ভালোবাসে মাটির মাকে, আর মায়ের মুখের ভাষাকে। বাংলা মায়ের সন্তানেরা বিশ্বের বুকে নতুন শতকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য আজ দৃঢ়প্রত্যয়ী। সেই জন্য আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাতৃভাষার প্রচলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উত্তর

কৃষিকাজে বিজ্ঞান ভূমিকা: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এবং জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের প্রায় ৪০.৬% জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত (BBS, 2023)। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমির স্বল্পতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঐতিহ্যগত কৃষিপদ্ধতি আজ আর যথেষ্ট নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান যেমন- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Al), রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কৃষি এখন আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে। আধুনিক বীজ প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিজ্ঞানভিত্তিক ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (BINA) ও বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI) মিলিতভাবে উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী ১৩২টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলে কৃষকরা একই জমিতে অধিক ফলন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, B: বেগুন চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% হ্রাস করতে পেরেছেন এবং ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫১% পর্যন্ত। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও উৎপাদন ব্যয় কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে এখন কৃষি কাজ আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হয়েছে। SMARD প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে গাছের রোগ চিহ্নিতকরণে ৯৭.৩% নির্ভুলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে IPAGE (Intelligent Precision Agriculture System) এআই-ভিত্তিক কৃষি তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের পরিচর্যা, বাজারমূল্যসহ সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে ১২% এবং সার ব্যবহারে ৪০% হ্রাস পেয়েছে (ITC, 2024)। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও অভিযোজন প্রযুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম বড়ো হুমকি। ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয় (Reuters, 2024)। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় BRRI স্যালাইন, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান এবং গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার তথ্য পেয়ে সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারছেন। টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি: সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি যেমন Integrated Floating Cage Aquageoponics System (IFCAS)-এর মাধ্যমে একসঙ্গে মাছ, সবজি ও ধান চাষ করা সম্ভব, যা বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে Precision Agriculture-এ স্যাটেলাইট, সেন্সর ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। এতে পানি ব্যবহার ২০-৩০% কমেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৩০-৪০% (The Business Standard, 2024)। কৃষি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) কৃষি প্রযুক্তির গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি BAU উচ্চফলনশীল ও অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন মিষ্টি আলু, সরিষা ও ডাল জাতীয় শস্য উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া IFAD-এর মাধ্যমে পরিচালিত NATP-11 প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলায় প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ সেবা প্রদান করা হচ্ছে (IFAD, 2024)। চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা: বিজ্ঞানের অবদান কৃষিক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিপ্লব এনেছে। তবে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও যুক্ত হয়েছে, যা বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। ক. সুবিধাসমূহ (Merits): ১. উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা: উচ্চ ফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিতে উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Bt বেগুন চাষে ফলন ৫১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% কমেছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য উপকারী। ২. পরিশ্রম ও সময় সাশ্রয় আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পাওয়ার টিলার, হ্যারো, সিড ড্রিল ইত্যাদির ব্যবহারে কৃষিকাজের গতি বেড়েছে এবং শ্রম ব্যয় কমেছে (BARI Annual Report, 2023) 1 ৩. জলবায়ু অভিযোজন বিজ্ঞানভিত্তিক জাত যেমন- খরা- সহনশীল ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকরা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা করতে পারছেন (BRRI, 2024)। ৪. দূরবর্তী পরামর্শ ও বাজার সংযোগ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার দর জানতে পারছেন (ITC, 2024)। খ. অসুবিধাসমূহ (Demerits): ১. প্রযুক্তির উচ্চমূল্য ও প্রবেশাধিকারে বৈষম্য: উন্নত যন্ত্রপাতি, ড্রোন বা সেন্সর প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রযুক্তির সুবিধা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। ২. দক্ষতার ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের অভাব: অনেক কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না, ফলে ভুল প্রয়োগে ফসল নস্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। ৩. ই-ওয়েস্ট ও প্রযুক্তি-নির্ভরতা: অধিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (c-waste) বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর (UNEP Report, 2023) ৪. পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ৫. আঞ্চলিক বৈষম্য: প্রযুক্তি প্রধানত উন্নত অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক কৃষকেরা পিছিয়ে পড়ছেন, যার ফলে আয় ও উৎপাদনে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে (BBS, 2023) | সতর্কতা ও সুপারিশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের উচিত- ১. কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যয় হ্রাসে ভর্তুকি প্রদান। ২. কৃষি প্রযুক্তির পরিবেশবান্দবরূপে ব্যবহার নিশ্চিত করা। ৩. ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রচলন করা। 8. প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হলেই কৃষিতে টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়ন সম্ভব। উপসংহার: বাংলাদেশের কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণমান বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টেকসইতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইলে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও কৃষকের মধ্যে সমন্বয়, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশের কৃষি আগামী দশকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

উত্তর

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক একটি বদ্বীপ অঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে প্রায়ই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, নদীভাঙন, শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস প্রভৃতি দুর্যোগ এদেশের মানুষের জন্য বড়ো হুমকি। এসব দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ ক্ষতির সৃষ্টি করে। কালবৈশাখি: বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছরই কালবৈশাখি ঝড় হয়। ফলে এদেশের বহু এলাকা বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ের তান্ডবলীলায় গাছপালা, ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। মারা যায় হাজার হাজার গরু-বাছুর, পাখপাখালি। মানুষ হয় অসহায়। অনেকসময় মানুষেরও প্রাণহানি ঘটে। বৈশাখ মাসে কালবৈশাখি আঘাত হানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। বন্যা: বন্যা বাংলাদেশে প্রায় প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের রূপ নিয়ে দেখা দেয়। ছোটখাটো প্লাবনকে আমরা বলি বর্ষা। সেই প্লাবন যখন বিশাল আকার ধারণ করে তখন তাকে বন্যা বলা হয়। দেশের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে ভেসে যায়। কোনো কোনো বছর তা ভয়ংকর রূপ নেয়। ধ্বংস হয় শত শত গ্রাম। মারা যায় গরু, বাছুর, মানুষ। নষ্ট হয় হাজার হাজার একর জমির ফসল। ১৯৭৪, ১৯৮৭ সালের বন্যায় আমাদের দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল বাংলাদেশের স্মরণ কালের ভয়াবহতম বন্যা, যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন ছিল। সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস: সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় বছরই জলোচ্ছ্বাস হয়। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিগত ১৮৫ বছরে বাংলাদেশে ৫১ বার সাইক্লোন সংঘটিত হয়েছে। ১৯৭০ সালের সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস সবাইকে হতবাক করে দেয়। সেই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল আড়াইশ কিলোমিটার। ১৯৮৫ সালেও বাংলাদেশের দক্ষিণের দ্বীপাঞ্চলে হানা দেয় সর্বনাশা সাইক্লোন। সাইক্লোনের প্রচন্ড আঘাতে উড়ির চর এলাকা বিধ্বস্ত হয়। সেই সময়ে প্রায় দেড় লাখের মতো লোক প্রাণ হারায় এবং ধ্বংস হয় জমির ফসল ও অসংখ্য ঘরবাড়ি। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে সংঘটিত হয় স্মরণকালের এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। উপকূলের ১৬টি জেলার প্রায় ৪৭টি খানা বিধ্বস্ত হয়। ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে এই ঝড় হ্যারিকেনের রূপ নিয়ে ২০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। ওই প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসে চার লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। টর্নেডো: বাংলাদেশে প্রায় বছরই টর্নেডো বা আকস্মিক ঘূর্ণিবায়ু। মারাত্মক ভাবে আঘাত হানে। ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে স্মরণকালের ইতিহাসে ভয়াবহতম টর্নেডো আঘাত হানে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলা ও তার আশেপাশের জেলাগুলোতে। এতে বহু প্রাণহানি ঘটে। ধ্বংস হয় অসংখ্য ঘরবাড়ি। মারা যায় হাজার হাজার গবাদিপশু। শিলাবৃষ্টি: শিলাবৃষ্টি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ গুলোর একটি। প্রায় বছরই ব্যাপক শিলারষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন প্রকার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে ইরি ধানের মৌসুমে শিলাবৃষ্টি হলে কৃষকের দুঃখ-দুর্দশার সীমা থাকে না। চারা অবস্থায় শিলাবৃষ্টি হলে ধানের ফলন অনেক কম হয়। ধান বের হওয়ার পর শিলাবৃষ্টি হলে ধান চিটা হয় এবং ঝরে যায়। ভূমিকম্প: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিবছর ভূমিকম্প হয়। এতে কিছু পরিমাণ জনজীবন বিপর্যন্ত হয় এবং দালানকোঠা, ঘরবাড়ি ধসে যায়। অনেক সময় ধসে যাওয়া ঘরবাড়ির নিচে চাপা পড়ে মানুষ ও গরু-ছাগল প্রাণ হারায়। নদীভাঙন: নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। দেশের অনেক এলাকা নদীভাঙনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন-পদ্মার তীরে বসবাসকারী লোকেরা নদীভাঙনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। যমুনা নদীর ভাঙনেও অনেক পরিবার সর্বহারা হচ্ছে। খরা: বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশে প্রায় বছরই খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। যে বছরে খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দেয়, সেই বছর প্রায় সব রকম ফসলেরই ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। খরা বা অনাবৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য একটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অতিবৃষ্টি: কৃষিপ্রধান দেশে অতিবৃষ্টির ক্ষতিকর দিক কম নয়। বাংলাদেশে প্রায় বছরই অতিবৃষ্টির প্রকোপ দেখা দেয়। অতিবৃষ্টির ফলে ফসলের জমি পানিতে ডুবে যায়, কিংবা জমি থেকে পানি নিষ্কাশন দেরিতে হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলার উপায়: বাংলাদেশে বিভিন্ন উপায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায়। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান উপায়গুলো নিম্নরূপ: ১. দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীবাহিনী গঠন করা। ২. দুর্যোগ মোকাবিলা করার সময়োপযোগি নীতিমালা, পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করা। ৩. দুর্যোগ ঘটার পর দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও চাহিদা নিরূপণের ব্যবস্থা করা। 4. দুর্যোগ ব্যবস্থার জন্য তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থাকে উন্নত করা। 5 ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা থেকে রক্ষার জন্য মজবুত বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার ও উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। উপসংহার: দুর্যোগ সব সময়ই প্রাণিজগতের জন্য বিপদ ডেকে আনে। চাই যেকোনো দুর্যোগের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়া মানবতার কাজ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকার মনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফলে আমরা ভবিষ্যতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সময়োপযোগী দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণে সক্ষম হতে পারব।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।