শেয়ারFacebookWhatsApp

বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন।

উত্তর: ভূমিকা: মানবসভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিবিড় বৃক্ষ-শোভিত অরণ্যের শ্যাম-স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার। আদিম যুগে মানুষ ছিল সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতি-নির্ভর। মানুষের সার্বিক চাহিদা পূরণের একমাত্র উৎস ছিল'প্রকৃতির সুপরিসর অঙ্গন। আদিকাল থেকে মাটি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক অতি নিবিড়। তাই প্রাচীন কাল থেকেই অরণ্যের বিভিন্ন গাছপালার সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকার একটা অবিচ্ছেদ্য সংযোগ গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে বনের অবস্থা: যেকোনো দেশের জন্য মূল ভূখণ্ডেরকমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের মাত্র শতকরা ১৭ ভাগ। বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় দু-তৃতীয়াংশ হলেও তা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগের অভাব প্রকট। অহরহ আমরা কারণে-অকারণে আমাদের আশপাশ থেকে নির্বিচারে বৃক্ষরাজি নিধন করে চলেছি। এতে করে আমরা ক্রমশ একটা অনিবার্য করুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছি। নির্বিচারে বনভূমি বা বৃক্ষরাজি নিধনের ফলে সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ পরিবেশ দূষণের শিকারে পরিণত হচ্ছে। ষড়ঋতুর লীলা-নিকেতন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পক্ষান্তরে, আকস্মিক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ হচ্ছে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। জলবায়ু ক্রমশ এগিয়ে চলেছে চরমভাবাপন্ন পরিণতির দিকে। এভাবে বৃক্ষ নিধন চলতে থাকলে হয়তো নিকট ভবিষ্যতেই একদিন বাংলাদেশ ঊষর মরুতে পরিণত হবে। বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা: মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বৃক্ষ মানুষ তথা প্রাণী মাত্রেরই খাদ্যের একমাত্র উৎস। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষ পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে এবং তার অনিষ্টকর প্রভাব থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করে। মানবজীবনে বৃদ্ধ এবং তার উপযোগিতার কথা অনস্বীকার্য। বৃক্ষের বিভিন্নমুখী অবদানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তন বা উত্তরণের কথা কল্পনাই করা যায় না। বৃক্ষ খাদ্যের উৎস, শক্তির উৎস। বৃক্ষ মানুষকে অক্সিজেন দান করে মানুষের ত্যাগকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সমগ্র জীবকুলকে রক্ষা করে চলেছে। মহান স্রষ্টার সৃষ্ট গাছপালা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। তাই মানবজীবনে বৃক্ষের চাহিদা সর্বাধিক। বৃক্ষ মানুষের খাদ্য সরবরাহ করে, বস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের জোগান দেয়। বাসস্থান তৈরির অন্যতম উপকরণও বৃক্ষ। রোগ নিবারণকারী এবং স্বাস্থ্য গঠন ও রক্ষাকারী মূল উপাদান আসে বৃক্ষ থেকে। জীবনের জন্য অন্যতম উপাদান অক্সিজেন তৈরি এবং সরবরাহ করে বৃক্ষ। কাজেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে: বৃক্ষ পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে। বৃক্ষকে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক বলা যায়। গাছপালা অধিক বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে, নদীভাঙন থেকে ভূ-ভাগকে রক্ষা করে। অতএব আমাদের পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং খাদ্য ঘাটতির হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বনাঞ্চল সৃষ্টি ও বন সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। বৃক্ষরোপণ অভিযান: বৃক্ষ নিধনজনিত অনিবার্য মারাত্মক পরিণতির হাত থেকে রেহাই পেতে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। সাধারণত এ অভিযানে মেহগনি, সেগুন, ইউক্যালিপটাস, ইপিল-ইপিল, আম, জাম, পেয়ারা, জামবুল প্রভৃতি নানা জাতের বৃক্ষের চারা সরকারি নার্সারি থেকে রোপণের জন্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় অধিকাংশ চারাগাছ লাগাবার কিছুদিন পরই মারা যায়। আমাদের উচিত একটি বৃক্ষ নিধনের আগে তার বদলে কমপক্ষে চারটি করে চারা রোপণ করা এবং সযত্নে সেগুলোকে লালন করা। কেননা, বৃক্ষ আছে বলেই বিশ্বের বুকে মানবসমাজ আজও টিকে আছে। গাছের চারা সংগ্রহ ও রোপণ: আমাদের দেশে বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বর্তমানে সরকারের বন বিভাগ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বন বিভাগ চারা উৎপাদন করে জনগণের কাছে সহজে পৌছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চারা বিতরণ কেন্দ্র ও বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে জনগণ তা রোপণ করতে পারে। এ ছাড়া এ অভিযানকে জনপ্রিয় করার জন্য প্রতিবছর বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলা থেকে জনগণ বিভিন্ন গাছের সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং চারা সংগ্রহ করতে পারছে। এছাড়া সরকার প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে চারা রোপণের পদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে পারে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার উপায়: বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুন গাছের চারা রোপণ করতে হবে এবং পুরাতন গাছ কাটা থেকে, বিরত থাকতে হবে। বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে সকলকে সচেতন করে তাদেরকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহী করতে হবে। যদি বিশেষ প্রয়োজনে গাছ কাটতে হয়, তাহলে গাছ কাটার আগে অন্ততপক্ষে আরেকটি গাছ লাগিয়ে নিতে হবে। সরকারি পর্যায় থেকে বিভিন্ন জাতের বীজ ও চারা সংগ্রহ করে তা জনগণের কাছে পৌছে দিতে হবে। এসব পদক্ষেপ বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির বাস্তবায়ন তরান্বিত করবে। বৃক্ষ সংরক্ষণ: গাছ লাগালেই গাছ হয় না। তার যত্ন, পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে অকালমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তাছাড়া পুরোনো অরণ্যরাজিরও যত্ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে 'বন বিভাগ' নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ দপ্তরের সক্রিয় প্রচেষ্টায় অরণ্য সম্প্রসারণ ও অরণ্য সংরক্ষণের যাবতীয় কাজকর্মও চলছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বৃক্ষ সংরক্ষণে পালনীয় ব্যবস্থাদি: আর্থিক ব্যয় বরাদ্দ করলেই অরণ্য সম্প্রসারণ, অরণ্য সংরক্ষণের লক্ষ ও উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারিভাবে আন্তরিক প্রয়াস ও প্রচেষ্টা। একদিকে যেমন দরকার বনভূমি সৃজনের, অপরদিকে তেমনি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন অরণ্য উচ্ছেদের অপপ্রয়াস। অরণ্য সম্পদ আমাদের জন্য অপরিহার্য, নইলে বহু শিল্পের অপমৃত্যু অবধারিত। সুতরাং বনভূমি সংরক্ষণার্থে কয়েকটি পালনীয় ব্যবস্থার কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়। যেমন- ক. অরণ্যের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ বন্ধ করা। খ. নতুন চারাগাছ লাগানো এবং তার প্রয়োজনীয় পরিচর্যা। গ. কেবল পরিণত বৃক্ষচ্ছেদন; অপরিণত বৃক্ষনিধন যাতে না হয় আইন করে তা নিষিদ্ধ করা। ঘ. নতুন বনভূমিতে পশুচারণ নিষিদ্ধ করা। ৫. বৃক্ষকে কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। চ. অরণ্য-গবেষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। উপসংহার: বৃক্ষরাজি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথি। কাজেই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সাজাতে হবে সবুজ-শ্যামলিমায়। নতুন প্রাণের স্পন্দনে মাতিয়ে তুলতে হবে প্রকৃতিকে। বৃক্ষ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং রক্ষক। ঘরের আঙিনায়, আশপাশে, চলার পথের ধারে, পার্কে, হাটে-বাজারের উপকণ্ঠে মানুষ যদি আদিম বন্ধু উদ্ভিদকে রোপণ করে, সস্নেহ পরিচর্যায় পত্রপুষ্পে সুশোভিত হতে দেয়, ঐ বন্ধুই কৃত্রিমতার অভিশাপকে মুছে দিয়ে আমাদের তুলে নেবে শ্যামলতার কোমল ক্রোড়ে দিবে সঞ্জীবনী প্রাণদ বায়ু, আর্থিক সমৃদ্ধি।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন।

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Rajshahi · 2020

উত্তর

ভূমিকা: মানবসভ্যতার সকল সৃষ্টির মূলেই রয়েছে শ্রম। আজকের সভ্যতা যুগ-যুগান্তরের অগণিত মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। জীবনধারণের তাগিদেই মানুষ কর্মব্যস্ত। গুহাবাসী মানুষ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই বর্তমানের এ উন্নত সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। কৃষকের ফসল উৎপাদন, শিল্পীর শিল্পকর্ম, জ্ঞানীর জ্ঞানার্জন, বিজ্ঞানীর নব নব আবিষ্কার সবই শ্রমলব্ধ 'ফসল। মানবজীবনের সবক্ষেত্রেই যা কিছু দৃশ্যমান তার সবই পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। শ্রমের কার্যকারিতা: জন্মগতভাবেই মানুষ কিছু না কিছু সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী। আর এ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই সম্ভব। মানুষ নিজেই তার ভাগ্যনির্মাতা। পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে। ইতিহাসলব্ধ জ্ঞান থেকে আমরা দেখতে পাই, যে সকল মানুষ পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় তাঁদের সাধনাই ছিল পরিশ্রম। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাফল্যেই মানবসভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের উন্নতি পরিশ্রমেরই অবদান। যে জাতি শ্রমকে মূল্য দিতে পেরেছে, সে জাতিই জগতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কঠোর পরিশ্রমই তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মহিমা দিয়েছে। শ্রমের গুরুত্ব: মানবজীবন ও মানবসভ্যতার উন্নতির জন্য শ্রম অপরিহার্য উপাদান। মানুষের জন্ম তার নিজের অধীন নয়, কিন্তু কর্ম নিজের অধীন। কারণ কর্মই পারে মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দিতে। শ্রমের মাধ্যমেই মানুষ জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারে। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে মানুষকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। এসব ক্ষেত্রে পরিশ্রমই তার একমাত্র হাতিয়ার। তাই ব্যক্তিজীবনে এবং সমাজে শ্রমের যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে হবে। সামাজিক প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী প্রতিটি স্তরের শ্রমই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক, মজুর, শিক্ষক, ডাক্তার, শিল্পী, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক প্রত্যেকের যথাযথ পরিশ্রমই সমাজ ও দেশের অগ্রগতি সাধন করে। শ্রমই মানুষকে সৃজনশীল করে। নব নব সৃজনের মাধ্যমে মানুষ নতুন অগ্রগতি সাধন করে। আজকের দিনের মানুষের শ্রমসাধিত কর্ম আগামী দিনের মানুষকে নতুন কর্মে উজ্জীবিত করে। এককথায়, মানুষকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা এবং কাল-থেকে কালান্তরে অমর করে রাখার একমাত্র উপায় শ্রম। শ্রমবিমুখ ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে সাথেই পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায়। অন্যথায় শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ ইতিহাসের পাতায় বেঁচে থাকে চিরদিন। নতুন নতুন আবিষ্কারে শ্রম: বিজ্ঞানীরা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আবিষ্কার করে জীবনকে করেছেন সহজ ও গতিশীল। দুর্গমকে করেছেন সুগম। অজানাকে সবার কাছে করেছেন পরিচিত। অজয়কে করেছেন জয়। আর এগুলোর সবকিছুই শ্রমের ফলাফল। শ্রম ব্যতীত কোনো কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানী নিউটন, আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিংস দিনরাত নিরলস শ্রমের ফলেই এত গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু আবিষ্কার করতে পেরেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই তাঁর সাহিত্যসম্ভারকে জগদ্বিখ্যাত করেছেন। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই। তাই নতুন কিছু আবিষ্কারে শ্রমের বিকল্প নেই। উন্নত জাতি গঠনে শ্রমের গুরুত্ব: পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। ১৯৪৫ সালে জাপানে প্রথম পারমাণবিক বোমা আঘাত হানার পর বিশ্ব মনে করেছিল- জাপান আর বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে জাপান আবার উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছিল। অর্থনীতিতে দ্রুত সক্ষম হতে পেরেছিল, যার বাস্তব উদাহরণ- ৬০-এর দশকে অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হওয়া। আর এমন দেশ হতে পেরেছিল জাপানিদের নিরলস শ্রমের কারণে। পৃথিবীতে অলস জাতি কখনো উন্নত হতে পারেনি। আজ ইউরোপ, আমেরিকা উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে শুধু নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই।' মানসিক ও শারীরিক শ্রম: সকল কাজের সাফল্য প্রাপ্তির জন্য মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানসিক পরিশ্রম মানসিক উন্নতি দান করে এবং নবসৃষ্টির নবচিন্তার জন্ম দেয়। আর মানসিক শ্রম যে কাজের চিন্তা করে, শারীরিক শ্রম তা সম্পাদন করে। কিন্তু কার্যত আমরা দেখি, মানসিক পরিশ্রমের মর্যাদা মানুষ স্বীকার করলেও শারীরিক পরিশ্রমকে অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখে। ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ প্রমুখ পেশাজীবী মানুষের অবস্থান সমাজের উপরতলায়। অন্যদিকে, কুলি-মজুর-কৃষক-শ্রমিক এদের অবস্থান সমাজের নীচুতলায়। অন্নহীন, বস্ত্রহীন, শিক্ষাহীন মানবেতর জীবনই তাদের নিত্যসঙ্গী। যদিও শারীরিক শ্রম সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের উপায়, আত্মসম্মানের পরিপন্থী নয়। প্রতিটি মানুষই দেশ ও জাতির কল্যাণ করার উদ্দেশ্যে নিজ যোগ্যতা অনুসারে মানসিক কিংবা শারীরিক শ্রমকে অবলম্বন করছে। এদের অবদান স্বীকার করে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- 'গাহি তাহাদের গান- ধরণীর হাতে দিল যারা আনি' ফসলের ফরমান। শ্রমকিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে এস্তা ধরণী নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফুলে।' ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব: সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শারীরিক ও মানসিক শ্রমকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। অন্যথায়, জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সমষ্টিগত জীবনকে সুন্দর ও মহিমাময় করতে শ্রমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব আরও গভীর ও ব্যাপক। কেননা, শ্রমবিমুখ ব্যক্তি সাফল্যের ছোঁয়া থেকে চিরকালই বঞ্চিত। ইতিহাসবিখ্যাত ব্যক্তি জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, আলবার্ট আইনস্টাইন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাক্সিম গোর্কি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্যক্তির জীবন থেকেও আমরা একই শিক্ষা গ্রহণ করি। শ্রমবিমুখতা ব্যক্তিকে ব্যর্থতার গ্লানিতে পর্যবসিত করে, তার অগ্রগতির পথকে করে রুদ্ধ। তাই ব্যক্তিজীবনের সাফল্য শ্রমেরই সাফল্য। সভ্যতা বিকাশে শ্রম: মানবসভ্যতার বুনিয়াদ তৈরি করেছে শ্রম। মানুষ যদি নিষ্কর্মা হয়ে ভাগ্যের হাতে আত্মসম্পর্ণ করে বসে থাকত তাহলে আমাদের সামনে এ সমুন্নত সভ্যতার বিকাশ হতো না। শ্রমের শক্তিতেই মানুষ নতুন নতুন সাম্রাজ্যের পত্তন করেছে, করেছে সভ্যতার ক্রমবিস্তার। শ্রম ব্যক্তিজীবনকে সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যশালী করে তারই প্রভাব পড়ে সমাজজীবনের ওপর। তাই শুধু ব্যক্তিজীবনের বিকাশ নয়, সভ্যতার বিকাশেও শ্রমই হাতিয়ার। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, জার্মানি, জাপান প্রভৃতি দেশ শ্রমের প্রক্রিয়াতেই এত বেশি উন্নত। যুগ যুগ ধরে মানুষের কঠোর শ্রমই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছে, সভ্যতাকে করেছে সমৃদ্ধ। একবিংশ শতাব্দীর উন্নত ও প্রগতিশীল সভ্যতাও মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। উপসংহার: পৃথিবী সৃষ্টি থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমের অবদান অপরিসীম। ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য - একমাত্র শ্রমশক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তাই দেশের জন্য, সমাজের জন্য অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী যে পরিশ্রমই করা হোক না কেন তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব শ্রেণির শ্রমকে যদি সমান মর্যাদা দেওয়া হয় তবেই দেশ ও জাতির যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে শ্রমের এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা স্বীকৃত। আমাদের দেশের উন্নতিও এ মূল্যবোধের মাধ্যমে সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা: কোনো দেশ বা জাতির সামগ্রিক উন্নতি ও কল্যাণের জন্য শুধু পুরুষ নয়, সমাজের অর্ধশক্তি নারীকেও পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করতে হবে। তাই একটি দেশের উন্নয়নে নারীর অবদানকে কোনোক্রমেই অস্বীকার করা যায় না। সমাজের উন্নয়নের সব দায়িত্ব পুরুষের কাঁধে চাপিয়ে নারীরা গৃহকোণে বন্দি থাকবে, এটা আধুনিক যুগে কল্পনা করা যায় না। কোনো বিশেষ জাতি বলতে যে জনসমাজ বোঝায়, সেখানে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ বিদ্যমান। প্রাচীনকাল থেকেই সভ্যতা গড়ে ওঠার পেছনে পুরুষকে সব কাজে সহায়তা, প্রেরণা জুগিয়েছে নারী। অনেকে নারীকে ও নারী শিক্ষাকে অবহেলার চোখে দেখে। তারা মনে করে নারীরা দেশের কোনো কাজে লাগে না- তাদের এ ধারণা ভুল। কেননা, নারীরা সংসার ছাড়াও দেশের কাজে পুরুষের সমান দক্ষতায় যেকোনো কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতে সক্ষম। দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য নর ও নারী উভয়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাই তো কাজী নজরুল ইসলাম বলেন- 'বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণক অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।' বর্তমানে নারীর অবস্থা: অতীতে নারীকে অমর্যাদা ও অবহেলার চোখেদেখা হলেও বর্তমানে নারীরা সমাজে বহুলাংশে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে, দর্শনে, শিক্ষা-দীক্ষায় নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমান যোগ্যতায় নিজেদের, প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজ বিশ্বের অনেক দেশেই নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই কবি বলেন- 'সে-যুগ হয়েছে বাসি যে যুগে পুরুষ দাস ছিল নাকো-নারীরা আছিল দাসী।' নতুন যুগের নব নব কাজে নারীর জয়গান ঘোষিত হচ্ছে আজ। এখন আর নারী পুরুষের গলগ্রহ নয়। বর্তমানকালে নারীসমাজের ভূমিকা সুদূরপ্রসারী। ঘরে বাইরে সর্বক্ষেত্রে নারীরা তাদের কাজে দক্ষতা প্রমাণ করেছে। উন্নত দেশে নারী: উন্নত দেশসমূহে নারীর অবস্থান অনেক সূদৃঢ়।কেননা উন্নত দেশের নারীরা আমাদের দেশের তুলনায় শিক্ষাদীক্ষা, ইতিহাস-দর্শন ও রাজনীতি চর্চায় অনেক এগিয়ে। সেসব দেশে কেউ নারী-পুরুষে কোনো বিভেদ কল্পনা করে না। দেশের উন্নয়নে সব কাজে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছে। সব ক্ষেত্রে তারা পারদর্শীও। সমাজের দিক থেকে তারা কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছে না। তারা আজ পুরুষের মুখাপেক্ষী নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরুষকে অতিক্রম করে গেছে। নারীসমাজের গুরুত্ব: যেখানে দেশের অর্ধেক অংশই নারী, সেখানে নারীকে বাদ দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নতির কথা কল্পনাও করা যায় না। একটি জাতি গঠনে নারীর অনেক অবদান রয়েছে। তাই নারীসমাজকে শিক্ষিত করে তুলে তাকে কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে এবং জাতি গঠনে তাদের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে নিতে হবে।' বর্তমান বিশ্বে সেসব দেশই উন্নত, যেসব দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সব কাজে সমানভাবে এগিয়ে এসে দেশের উন্নয়নে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারছে। ব্রিটেন, জার্মানি, শ্রীলংকা, ভারত, বার্মা ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধানের আসন অলংকৃত করছে নারী নেতৃত্ব। জাতি গঠনে নারীর ভূমিকা ও কর্তব্য: নারীসমাজের হাতে যেমনপরিবারের চাবি থাকে, তেমনই জাতীয় জীবন গঠনের মূল চাবিকাঠি হিসেবে নারীকে আখ্যায়িত করলে ভুল হবে না। সচেতন নারীই সমাজকে সুযোগ্য সন্তান উপহার দিয়ে থাকে। শুধু সংসারেই নয়, বিভিন্ন কল-কারখানায়, অফিস-আদালতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রায় সবক্ষেত্রেই পুরুষের পাশে নারী অসামান্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। নারীরা তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে সর্বক্ষেত্রে। শিশু পালনে নারীর ভূমিকা: নারী মায়ের জাতি। পুরুষের পাশাপাশি সবকাজে সমান অংশীদারী হয়েও মাতৃস্নেহে শিশুকে প্রতিপালন করার অধিকার তারা প্রাকৃতিক নিয়মেই পেয়েছে। তাই কবিদের ভাষায় নারী হচ্ছে 'প্রকৃতি'। প্রকৃতির মাঝে সব জীব যেমন লালিত-পালিত হয়, তেমনই শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের শিক্ষাই প্রধান। আগামী দিনের নাগরিক গঠনের গুরুদায়িত্ব পালন করে নারী। একজন মা হিসেবে সার্থকভাবে শিশুকে মানুষ করতে পারলে জাতির উন্নতির পথ সুগম হয়। মায়ের শিক্ষাদানের ধরনই সন্তানের ভবিষ্যৎ কর্মতৎপর জীবনের সোপান। পরিবারের প্রতি নারীর কর্তব্য: নারীই তার সংসারকে আগলে রাখে।সংসারের ভালো-মন্দ দেখাশোনার ভার নারীর ওপরই অর্পিত হয়। স্বামীকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া ও বিভিন্ন কাজে তাকে সহায়তা করা নারীর কর্তব্য। জাতির উন্নয়ন মানে সমাজের সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন। তাই পরিবারের উন্নয়নেও নারীর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রভাব: জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নারীসমাজকে শিক্ষিতহতে হবে- এ সচেতনতাবোধ নারীদের মধ্যেই জাগ্রত হয়েছে। নারীকে সভ্যতার আলোকবর্তিকা দেখাতে বাঙালি নারী বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেছেন বালিকা বিদ্যালয়। সব কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতার বেড়াজাল ভেঙে নারীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সদা সোচ্চার ছিলেন কবি বেগম সুফিয়া কামাল। শতসহস্র কুসংস্কারের বাঁধ ভেঙে চিকিৎসাসেবায় অবদান রাখলেন অধ্যাপক ডা. জোহরা বেগম কাজী। বিশ্বজুড়েই শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রভাব ও সফলতা মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রভাব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে নেপোলিয়ন বলেন-'আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিব।' সাপ্তানি কাজে নারীর শ্রমদান গৃহস্থালি কাজে নারীর ভূমিকা: গৃহস্থালি কাজে নারীর শ্রমদানঅতুলনীয়। স্বামী, পুত্র, কন্যাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য রান্নাঘর থেকে সার্বিক পরিচর্যায় একজন গৃহিণীকে ১২ ঘণ্টারও অধিক সময় দিতে হয়। অফিসে ৮ ঘণ্টা শ্রম ব্যয় করার পরিবর্তে গৃহস্থালি কাজে অধিকতর সময় ও শ্রমদান করে নারী। সে হিসাবে গৃহস্থালি কাজে নারীর শ্রমের মূল্য পুরুষের আয়ের চাইতে কম নয়। কর্মক্ষেত্রে নারী: শিক্ষিত নারীরা দেশের সেবায় বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিতরয়েছে। প্রাচীনকালে নারীরা পুরুষের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এখন নারীরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে স্বনির্ভর। নারীরা আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, পুলিশ, আনসার, ব্যবসায়ী, বিমানচালক, সেনাবাহিনীর সদস্য এমনকি রাষ্ট্রপরিচালনায়ও অসামান্য অবদান রাখছে, যা জাতির জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। নারী ও পুরুষের সম-অবস্থান: বর্তমান যুগে নারী ও পুরুষের সম-অবস্থান প্রায় নিশ্চিত হয়েছে। জাতির উন্নয়নে নারী-পুরুষ যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে। প্রাচীনকাল থেকেই নারী পুরুষকে সকল কাজে প্রেরণা দিয়ে আসছে, সহযোগিতা করে আসছে। বর্তমানে নারীরা দেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে, শিল্পসাহিত্য, সংস্কৃতিচর্চায়, বিজ্ঞান গবেষণায়, রাজনীতিতে, মহাকাশ অভিযানে, খেলাধুলায় এমনকি সমুদ্রের তলদেশ পরিভ্রমণে পর্বতশৃঙ্গে আরোহণে নারীরা পুরুষের সঙ্গী হচ্ছে। উপসংহার: পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডেই নিহিত একটি জাতির বা দেশের উন্নয়ন। নারীরা পরিবার থেকেই সেই উন্নয়নের কাজে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আজ নারীরা কাজ করছে। সমাজকে সুশৃঙ্খল করে রাখতে, সমাজে উদার মানসিকতা সৃষ্টিতে নারীসমাজের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।

উত্তর

ভূমিকা: মানবসভ্যতার ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিবিড় বৃক্ষ-শোভিত অরণ্যের শ্যাম-স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার। আদিম যুগে মানুষ ছিল সম্পূর্ণরূপে প্রকৃতি-নির্ভর। মানুষের সার্বিক চাহিদা পূরণের একমাত্র উৎস ছিল'প্রকৃতির সুপরিসর অঙ্গন। আদিকাল থেকে মাটি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক অতি নিবিড়। তাই প্রাচীন কাল থেকেই অরণ্যের বিভিন্ন গাছপালার সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকার একটা অবিচ্ছেদ্য সংযোগ গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে বনের অবস্থা: যেকোনো দেশের জন্য মূল ভূখণ্ডেরকমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের মাত্র শতকরা ১৭ ভাগ। বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় দু-তৃতীয়াংশ হলেও তা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগের অভাব প্রকট। অহরহ আমরা কারণে-অকারণে আমাদের আশপাশ থেকে নির্বিচারে বৃক্ষরাজি নিধন করে চলেছি। এতে করে আমরা ক্রমশ একটা অনিবার্য করুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছি। নির্বিচারে বনভূমি বা বৃক্ষরাজি নিধনের ফলে সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ পরিবেশ দূষণের শিকারে পরিণত হচ্ছে। ষড়ঋতুর লীলা-নিকেতন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। পক্ষান্তরে, আকস্মিক বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ হচ্ছে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। জলবায়ু ক্রমশ এগিয়ে চলেছে চরমভাবাপন্ন পরিণতির দিকে। এভাবে বৃক্ষ নিধন চলতে থাকলে হয়তো নিকট ভবিষ্যতেই একদিন বাংলাদেশ ঊষর মরুতে পরিণত হবে। বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা: মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বৃক্ষ মানুষ তথা প্রাণী মাত্রেরই খাদ্যের একমাত্র উৎস। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ষ পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে এবং তার অনিষ্টকর প্রভাব থেকে জীবজগৎকে রক্ষা করে। মানবজীবনে বৃদ্ধ এবং তার উপযোগিতার কথা অনস্বীকার্য। বৃক্ষের বিভিন্নমুখী অবদানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তন বা উত্তরণের কথা কল্পনাই করা যায় না। বৃক্ষ খাদ্যের উৎস, শক্তির উৎস। বৃক্ষ মানুষকে অক্সিজেন দান করে মানুষের ত্যাগকৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সমগ্র জীবকুলকে রক্ষা করে চলেছে। মহান স্রষ্টার সৃষ্ট গাছপালা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। তাই মানবজীবনে বৃক্ষের চাহিদা সর্বাধিক। বৃক্ষ মানুষের খাদ্য সরবরাহ করে, বস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের জোগান দেয়। বাসস্থান তৈরির অন্যতম উপকরণও বৃক্ষ। রোগ নিবারণকারী এবং স্বাস্থ্য গঠন ও রক্ষাকারী মূল উপাদান আসে বৃক্ষ থেকে। জীবনের জন্য অন্যতম উপাদান অক্সিজেন তৈরি এবং সরবরাহ করে বৃক্ষ। কাজেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বৃক্ষ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে: বৃক্ষ পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখে। বৃক্ষকে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ন্ত্রক বলা যায়। গাছপালা অধিক বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে, নদীভাঙন থেকে ভূ-ভাগকে রক্ষা করে। অতএব আমাদের পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা এবং খাদ্য ঘাটতির হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য বনাঞ্চল সৃষ্টি ও বন সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। বৃক্ষরোপণ অভিযান: বৃক্ষ নিধনজনিত অনিবার্য মারাত্মক পরিণতির হাত থেকে রেহাই পেতে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। সাধারণত এ অভিযানে মেহগনি, সেগুন, ইউক্যালিপটাস, ইপিল-ইপিল, আম, জাম, পেয়ারা, জামবুল প্রভৃতি নানা জাতের বৃক্ষের চারা সরকারি নার্সারি থেকে রোপণের জন্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় অধিকাংশ চারাগাছ লাগাবার কিছুদিন পরই মারা যায়। আমাদের উচিত একটি বৃক্ষ নিধনের আগে তার বদলে কমপক্ষে চারটি করে চারা রোপণ করা এবং সযত্নে সেগুলোকে লালন করা। কেননা, বৃক্ষ আছে বলেই বিশ্বের বুকে মানবসমাজ আজও টিকে আছে। গাছের চারা সংগ্রহ ও রোপণ: আমাদের দেশে বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে বৃক্ষরোপণ সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। বর্তমানে সরকারের বন বিভাগ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বন বিভাগ চারা উৎপাদন করে জনগণের কাছে সহজে পৌছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চারা বিতরণ কেন্দ্র ও বিভিন্ন নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে জনগণ তা রোপণ করতে পারে। এ ছাড়া এ অভিযানকে জনপ্রিয় করার জন্য প্রতিবছর বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলা থেকে জনগণ বিভিন্ন গাছের সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং চারা সংগ্রহ করতে পারছে। এছাড়া সরকার প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে চারা রোপণের পদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে পারে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার উপায়: বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুন গাছের চারা রোপণ করতে হবে এবং পুরাতন গাছ কাটা থেকে, বিরত থাকতে হবে। বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে সকলকে সচেতন করে তাদেরকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহী করতে হবে। যদি বিশেষ প্রয়োজনে গাছ কাটতে হয়, তাহলে গাছ কাটার আগে অন্ততপক্ষে আরেকটি গাছ লাগিয়ে নিতে হবে। সরকারি পর্যায় থেকে বিভিন্ন জাতের বীজ ও চারা সংগ্রহ করে তা জনগণের কাছে পৌছে দিতে হবে। এসব পদক্ষেপ বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির বাস্তবায়ন তরান্বিত করবে। বৃক্ষ সংরক্ষণ: গাছ লাগালেই গাছ হয় না। তার যত্ন, পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে অকালমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তাছাড়া পুরোনো অরণ্যরাজিরও যত্ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে 'বন বিভাগ' নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ দপ্তরের সক্রিয় প্রচেষ্টায় অরণ্য সম্প্রসারণ ও অরণ্য সংরক্ষণের যাবতীয় কাজকর্মও চলছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বৃক্ষ সংরক্ষণে পালনীয় ব্যবস্থাদি: আর্থিক ব্যয় বরাদ্দ করলেই অরণ্য সম্প্রসারণ, অরণ্য সংরক্ষণের লক্ষ ও উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারিভাবে আন্তরিক প্রয়াস ও প্রচেষ্টা। একদিকে যেমন দরকার বনভূমি সৃজনের, অপরদিকে তেমনি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন অরণ্য উচ্ছেদের অপপ্রয়াস। অরণ্য সম্পদ আমাদের জন্য অপরিহার্য, নইলে বহু শিল্পের অপমৃত্যু অবধারিত। সুতরাং বনভূমি সংরক্ষণার্থে কয়েকটি পালনীয় ব্যবস্থার কথা প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায়। যেমন- ক. অরণ্যের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ বন্ধ করা। খ. নতুন চারাগাছ লাগানো এবং তার প্রয়োজনীয় পরিচর্যা। গ. কেবল পরিণত বৃক্ষচ্ছেদন; অপরিণত বৃক্ষনিধন যাতে না হয় আইন করে তা নিষিদ্ধ করা। ঘ. নতুন বনভূমিতে পশুচারণ নিষিদ্ধ করা। ৫. বৃক্ষকে কীট-পতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। চ. অরণ্য-গবেষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। উপসংহার: বৃক্ষরাজি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথি। কাজেই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সাজাতে হবে সবুজ-শ্যামলিমায়। নতুন প্রাণের স্পন্দনে মাতিয়ে তুলতে হবে প্রকৃতিকে। বৃক্ষ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু এবং রক্ষক। ঘরের আঙিনায়, আশপাশে, চলার পথের ধারে, পার্কে, হাটে-বাজারের উপকণ্ঠে মানুষ যদি আদিম বন্ধু উদ্ভিদকে রোপণ করে, সস্নেহ পরিচর্যায় পত্রপুষ্পে সুশোভিত হতে দেয়, ঐ বন্ধুই কৃত্রিমতার অভিশাপকে মুছে দিয়ে আমাদের তুলে নেবে শ্যামলতার কোমল ক্রোড়ে দিবে সঞ্জীবনী প্রাণদ বায়ু, আর্থিক সমৃদ্ধি।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।