শেয়ারFacebookWhatsApp

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর: ভূমিকা: সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। লাল-সবুজে সাজানো এই দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের লীলাভূমি হিসেবে আখ্যায়িত, যা মানবসৃষ্ট কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তা-ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মাত্রা অত্যন্ত বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরন: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশ করে। কখনো দেখা যায় ঘূর্ণিঝড় বা বন্যা, কখনো অনাবৃষ্টি বা খরা। বন্যা, নদীভাঙন প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশে অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না গেলেও ভূমিকম্প মাঝে মাঝেই অনুভূত হয়। এছাড়া লবণাক্ততা, শিলাবৃষ্টি, আর্সেনিক সমস্যা প্রভৃতিও বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব দুর্যোগের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া অসংখ্য মানুষ ও পশুপাখি প্রাণ হারায়। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হলো- ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় অন্যতম। এই দুর্যোগ প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। এর ফলে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। প্রায় প্রতিবছরই এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে ছোটো-বড়ো বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা পরিলক্ষিত হয়। এগুলোর মধ্যে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রতীরবর্তী দ্বীপসমূহ। ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতায় প্রায় পাঁচ লক্ষ লোকের মৃত্যু ঘটে। ১৯৯১ সালের প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং 'জলোচ্ছ্বাসে মারা গিয়েছিল প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। সেইসঙ্গে ধ্বংস হয়েছিল অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও জমির ফসল; ভেসে গিয়েছিল অসংখ্য গবাদি পশু। ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছিল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় 'সিডর'। প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডরের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কি.মি.। সিডরের ফলে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরা, যশোর প্রভৃতি অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত, জোয়ারের তাণ্ডব আর সেইসঙ্গে প্রবল বর্ষণে পুরো এলাকায় নেমে আসে মহাবিপর্যয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরাসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে। সর্বশেষ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশে আঘাত হানে। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাপক সচেতনতার জন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। কালবৈশাখী: গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে আঘাত হানা একধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম কালবৈশাখী। বাংলাদেশে সাধারণত বৈশাখ (এপ্রিল-মে) মাস জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে তীব্র বায়ুপ্রবাহ, বজ্রঝড় ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। স্থানীয়ভাবে এ ঝড়কে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়। কোনো স্থানে ভূপৃষ্ঠ অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বায়ুমণ্ডলের ভূমিসংলগ্ন বায়ুও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে এবং ওইস্থানে বায়ুশূন্য অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী ঠান্ডা ও ভারী বায়ু ওই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য প্রবল বেগে ধাবিত হয়। ফলে সেখানে প্রবল ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এই ঘূর্ণি নিম্ন আকাশে ঘন কালো মেঘ সৃষ্টি করে। ফলে ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। কখনো কখনো শিলাবৃষ্টিও হতে দেখা যায়। কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোনো কোনো সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে যায়। কালবৈশাখী একটি ক্ষণস্থায়ী ঝড়। অর্থাৎ এর স্থায়িত্বকাল অল্প। তবে কখনো কখনো এ ঝড় এক ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয়। কালবৈশাখী একটি আকস্মিক ও প্রলয়ংকারী দুর্যোগ হওয়ায় জনজীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। এ ঝড় মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়; বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলের খেত প্রভৃতির ক্ষতিসাধন করে। বন্যা: বন্যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্লাবন বা বর্ষণের ভয়াল রূপ হলো বন্যা। প্রতিবছর বন্যার করালগ্রাসে মানুষের স্বাভাবিকজীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালের বন্যার কারণে সারাদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। এ দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৮৮ সালে। এ বন্যায় বহু প্রাণহানি ঘটে। খেতের ফসল, ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি না ঘটলেও ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীভাঙন: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের বুকের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদী। কিন্তু এই নদীগুলোই কখনো কখনো জনজীবনে প্রবল সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় প্রতিবছরই প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। নদীভাঙনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ে। তাদেরকে অনেকটা উদ্বাস্তুর ন্যায় জীবনযাপন করতে হয়। ভূমিকম্প: ভূমিকম্প বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতিবছরই এদেশে মাঝারি বা ছোটো আকারের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে। ফলে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, মহেশখালী, সিলেট, রাজশাহী প্রভৃতি এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। লবণাক্ততা: সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে লবণাক্ততা। লোনা পানির প্রভাবে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে সঠিকভাবে ফসল ফলে না। এতে প্রচুর ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো গাছ কাটা, নদী ভরাট করা ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে মানবসৃষ্ট কারণ। 'এছাড়া তীব্র তাপমাত্রার ফলে হিমালয়ের বরফ গলে যায়, ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার কখনো কখনো তীব্র খরার ফলে মাঠঘাট ফেটে যায়, গাছপালা - মরে যায়। ফলে প্রকৃতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিকারের উপায়: প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবেই প্রাকৃতিক। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। নিম্নে সেগুলো দেওয়া হলো- বনায়নের পরিমাণ বাড়াতে হবে। জনগণকে পূর্বাভাস দিতে হবে এবং সতর্ক করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ধ্বংসযজ্ঞ থেকে উদ্ধারের জন্য দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। জনগণকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা: দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে জাতিসংঘের। জাতিসংঘ ১৯৯২ সালে বিপর্যয় মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য একটি মানবিক বিপর্যয় সংক্রান্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি ত্রাণ বিতরণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়া খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানও দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে সাহায্য করে থাকে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ: বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা বলতে সাধারণত সরকারি প্রচেষ্টাকেই বোঝায়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় সাধন, তথ্য প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস ও প্রশমন করার জন্য ১৯৯৩ সালে গঠিত হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো। এছাড়া ১৯৯৫ সালে জাতীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যপরিকল্পনা (NEMAP) গৃহীত হয়েছে। উপসংহার: বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এসব দুর্যোগ কমাতে হলে প্রকৃতির সঙ্গে তৈরি করতে হবে মিত্রতার সম্পর্ক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে সচেতনতা। তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Dinajpur · 2020

উত্তর

বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস বর্বরতার মুখে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শুরু হয় বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম। দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি ও পূর্ণতা আসে সে বছরেরই ১৬ই ডিসেম্বর। এ দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলে মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয় একটি স্বাধীন দেশ- বাংলাদেশ। ১৯৭১-এর ২৫শে মার্চ রাতে বাংলার ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালি সৈন্য থেকে শুরু করে অগনতি নিরীহ, অসহায় মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ট্যাংক, কামানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে বাঙালি নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছিল তারা। বাংলার সবুজ-শ্যামল মাটি সিক্ত হয়েছিল নিরস্ত্র বাঙালির লাল রক্তে। যত্রতত্র অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে ধ্বংসপুরীতে পরিণত করতে চেয়েছিল তারা এ জনপদকে। এ হিংস্রতা, বর্বরতা ও অন্যায় আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করেনি বাংলার মানুষ। যার যা আছে তাই নিয়েই প্রতিরোধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিনিয়ে এনেছিল কাঙ্ক্ষিত বিজয়। মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। ১৯৪৭-এর পর থেকে একের পর এক আন্দোলনের সিঁড়ি ডিঙিয়ে চূড়ান্ত ফসল হিসেবে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়। '৫২-র ভাষা আন্দোলন, '৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, '৬২-র সামরিক আইন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী আন্দোলন, '৬৬-র ছয় দফার আন্দোলন, '৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানেরই চূড়ান্ত পরিণতি '৭১-এর মুক্তিসংগ্রাম। অমর 'একুশে ফেব্রুয়ারির' পথ বেয়েই এসেছিল ১৬ই ডিসেম্বর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সাধারণ জনগণকে নিয়ে গাঠত হয়েছিল মুক্তিবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যেসব বাঙালি সৈন্য ছিল তারা এবং আধাসামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যরাও তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তিবাহিনীর সাথে সংহতি প্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। রাস্তায় যাকেই দেখতে পায় তাকেই গুলি করে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ বহু আবাসিক এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়, অসংখ্য মানুষ হত্যা করে ও লুটপাট চালায়। মধ্যরাতের পর হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রেফতারের পূর্বেই অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর চট্টগ্রামের 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে ২৬ ও ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। ঘোষণার পরপরই সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে স্বতঃস্ফূর্ত মুক্তিযুদ্ধ। ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননের নামকরণ হয় মুজিবনগর। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধ চালানোর সুবিধার্থে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। তাঁর তত্ত্বাবধানে সমগ্র দেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়। বাঙালিদের সংগ্রামের প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সরকারের সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং অত্যাচারিত বাঙালিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর দেশের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিক, ইপিআর, পুলিশ, আনসার, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী সকল পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকাও ছিল গৌরবোজ্জ্বল। এছাড়া সংবাদপত্র, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও প্রবাসী বাঙালিরাও নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান ছিল প্রশংসনীয়। জীবনের মায়া ত্যাগ করে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়েছে লাখো শহিদের রক্ত, অগণিত মানুষের চোখের জল আর কোটি মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। এ যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং দুই লক্ষ বাঙালি নারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। বাংলাদেশের একশ্রেণির লোক পাকিস্তানিদের এ নৃশংসতাকে সমর্থন ও মদদ দিয়েছে। এ শ্রেণির সহায়তায় নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে বাঙালি শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিল্পী, রাজনীতিক ও চিন্তাবিদ। এভাবেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড পরিকল্পিত ও নীলনকশা অনুযায়ী সংঘটিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ চলে। ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ রূপ নেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাসের প্রতিটি ক্ষণ ছিল চরম আতঙ্ক আর অপরিসীম আশায় উদ্বেলিত। বাঙালি জাতি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস আর গভীর দেশপ্রেমের চেতনায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের, মিথ্যার বিরুদ্ধে শাশ্বত সত্যের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রামের মূর্ত চিত্র। মুক্তিযুদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় বাঙালির শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের অভ্যুদয় তাই এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

উত্তর

ভূমিকা: 'একবার না পারিলে দেখ শতবার পারিব না বলে মুখ করিও না ভার।'- কালী প্রসন্ন ঘোষ। 'অধ্যবসায়' শব্দের আভিধানিক অর্থ অবিরাম সাধনা বা ক্রমাগত চেষ্টা। যেকোনো কাজে সাফল্য লাভের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য। কোনো কাজ একবার করে ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে আবার চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় মানুষের মানবীয় গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীতে যে ব্যক্তি অধ্যবসায়ী তার জীবনে সাফল্য অনিবার্যভাবে ধরা দেয়। পক্ষান্তরে, অধ্যবসায়হীন ব্যক্তি ব্যর্থতা ও হতাশার সাগরে ডুবে থাকে। অধ্যবসায়ের ফলেই মানুষ পৃথিবীকে উৎকর্ষের চরম শিখরে পৌছে নিতে পারছে। অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা: অধ্যবসায় মানবজীবনের সংগ্রামের মূল প্রেরণা। সংগ্রামে জয় আছে, আছে পরাজয়। কিন্তু পরাজয়ই শেষ কথা নয়, পরাজয় হচ্ছে নতুনতর জয়েরই পথিকৃৎ। অতএব 'ধৈর্য ধরো, ধৈর্য ধরো, বাঁধো বাঁধো বুক।' বার বার চেষ্টার ফলেই মানুষের ভাগ্যাকাশে ওঠে সাফল্যের ধ্রুবতারা। ব্যর্থতাই সাফল্যের সোপান- 'Failure is the pillar of success′,success^{\prime}, অধ্যবসায়ের গুণেই মানুষ বড়ো হয়, অসাধ্য সাধন করতে পারে। জগতে বড়ো বড়ো শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, সেনানায়ক, ধর্মপ্রবর্তক সকলেই ছিলেন অধ্যবসায়ী। মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে অধ্যবসায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ছাত্রজীবনেও সফলতা অর্জনে অধ্যবসায়ের মূল্য অপরিসীম। গভীর আত্মপ্রত্যয় সহকারে অবিরাম অনুশীলন করলে দুরূহ বিষয়ও আয়ত্তে এসে যায়। এরকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবিচল অধ্যবসায় মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দেয়। মানবজীবনে অধ্যবসায়: অধ্যবসায় মানবচরিত্রের এক উৎকৃষ্ট গুণ। মানবসভ্যতার সেই অস্ফুট মুহূর্ত থেকে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, আজও তা শেষ হয়নি। এ সংগ্রামই মানুষের অভিজ্ঞানপত্র। জীবনযুদ্ধে জয়লাভকরতে হলে প্রয়োজন সাহস ও অধ্যবসায়। এ শক্তিই মানুষের এক মহৎ - চারিত্রিক লক্ষণ। দুর্বলচিত্তের মানুষ কখনো অধ্যবসায়ী হতে পারে না। কারণে-অকারণে সামান্য প্রতিকূল আঘাতেই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। যারা দৃঢ়চিত্ত, অধ্যবসায় তাদেরই চরিত্রের এক মহৎ গুণ। শান্তচিত্তে, প্রতিকূলতাকে জয় করার মূলে আছে অধ্যবসায়। অন্যান্য মানবিক সৎগুণের মতোই জীবনে অধ্যবসায়েরও সযত্নে লালন ও পরিচর্যার প্রয়োজন। নিরন্তর অনুশীলনেই এ বৃত্তির বিকাশ সাধন হয়। হাত্রজীবনে অধ্যবসায়: ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন সর্বাধিক। ছাত্ররা সমাজের ভবিষ্যৎ গৌরবকেতন। বিশ্বের কোটি কোটি বঞ্চিত ভাগ্যাহত মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। অধ্যবসায়ী ছাত্র অল্প মেধাশক্তিসম্পন্ন হলেও সাফল্য লাভ করতে পারে। কাজেই অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীর হতাশ না হয়ে পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে অধ্যয়নে মনোনিবেশ করা উচিত। কারণ অধ্যবসায়ই পারে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়ে সাফল্যের পথ দেখাতে। ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে কবি বলে গেছেন- 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, কেন পারিবে না তাহা ভাবো এক বার। পাঁচজনে পারে যাহা, তুমিও পারিবে তাহা, পার কি না পার কর যতন আবার। এক বারে না পারিলে দেখ শত বার।' অধ্যবসায় ও প্রতিভা: অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী না হলে বড় কাজসাধন করা যায় না- এমন ধারণা পোষণ করা মোটেও উচিত নয়। কারণ অধ্যবসায় ও পরিশ্রম ব্যতীত শুধু প্রতিভায় কাজ হয় না। জগতে বহু বিখ্যাত লোক জন্মেছেন, যাঁরা প্রতিভাবান অপেক্ষা অধ্যবসায়ী ছিলেন বেশি। ভলতেয়ার বলেছেন, 'প্রতিভা বলে কিছু নেই। পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও। তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে।' বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অধ্যবসায়ের ভূমিকা: পৃথিবীর প্রতিটি আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল ভূমিকা। মানুষ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে দূর করেছে আঁধার, বিমান আবিষ্কার করে জয় করেছে আকাশ, রকেটের সাহায্যে অর্জন করেছে চন্দ্রবিজয়ের গৌরব। আর এসব সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে মানুষের যুগ-যুগান্তরের সাধনা ও অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত: ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী ব্যক্তিরাই মানবজন্মকে সার্থক করে তোলেন। অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়েই মনীষীরা কর্মের পথে এগিয়ে গেছেন অবিচল নিষ্ঠায়। সবলের রক্তচক্ষু শাসনেও তাঁরা অকুতোভয়, নির্ভীক। ত্যাগে, ধৈর্যে তাঁরা মানুষের কাছে তুলে দিয়েছেন অমৃতের পাত্র। নিজেরা পান করেছেন জীবন মন্থনের গরল। সেই নীলকণ্ঠ মহামানবগণের পুণ্যস্পর্শে সাধারণ মানুষের জীবন ধন্য হয়েছে। রাজার দুলাল গৌতম বুদ্ধও একদিন জীবনের সত্য সন্ধান করতে গিয়ে সুখের স্বর্ণসিংহাসন থেকে নেমে এসেছিলেন পথের ধুলোয়। সেদিনও কি কপিলাবস্তুর রাজপুরীতে কম ঝড় উঠেছিল? নানা প্রতিকূলতাকে তিনি জয় করেছিলেন অসীম ত্যাগ আর তিতিক্ষায়। অধ্যবসায়ই ছিল তাঁর সেদিনের মন্ত্র। এছাড়া সাহিত্য-শিল্প-বিজ্ঞান সাধনায়ও মানুষের অধ্যবসায়ের তুলনা নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ম্যাক্সিম গোর্কি, দস্তয়েভস্কি প্রমুখ সাহিত্যিক জীবনে অনেক কষ্ট স্বীকার করেছেন, হয়েছেন অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন। তবুও অসীম অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে বিনির্মাণ করে গেছেন মানবজীবনের মহাকাব্যিক' আলেখ্য। এভাবে কত বিজ্ঞানীকেও বারবার অধ্যবসায়ের অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও, মাইকেল ফ্যারাডে, লুই পাস্তুর, মাদাম কুরি, নিউটন, আইনস্টাইন প্রমুখের জীবনেও এসেছে প্রতিকূলতার আঘাত। মাইকেল অ্যাঞ্জেলো, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির মতো শিল্পীর জীবনও নানা ঘাত-প্রতিঘাতে হয়েছে সংক্ষুব্ধ। অধ্যবসায়ের প্রদীপ্ত আদর্শই ছিল তাঁদের সৃষ্টির প্রেরণা। যুগে যুগে অভিযাত্রীরাও মৃত্যুর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে আবিষ্কার করেছে নতুন নতুন দেশ। দুর্গম পর্বতশিখরে রেখে এসেছে জয়ের নিশান। অধ্যবসায়ী ছিলেন বলেই সম্রাট নেপোলিয়ান এমন দৃঢ়কণ্ঠে বলতে পেরেছিলেন, 'অসম্ভব' শব্দটি কেবল নির্বোধের অভিধানেই পাওয়া যায়। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ইংরেজদের সঙ্গে পর পর ছয়বার যুদ্ধে পরাজি হয়ে তিনি ভগ্নহৃদয়ে বনে পালিয়ে যান। একদিন এক গুহায় তিনি প্তায় মগ্ন ছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন, একটা মাকড়স' বারবার একটি স্তম্ভের গায়ে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু খানিকটা উঠেই গড়ে যাচ্ছে। ছ-বার চেষ্টার পর সপ্তমবারের মতো সে স্তম্ভের গায়ে উঠতে সমর্থ হলো। সামান্য একটি প্রাণীর এরূপ অদম্য প্রচেষ্টা এবং সাফল্য লাভের দৃশ্য রবার্ট ব্রুসকে অশেষ প্রেরণা জুগিয়েছিল। তিনি পুনরায় সৈন্য সংগ্রহ করে শত্রুর হাত থেকে স্বদেশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উপসংহার: অধ্যবসায়ই মানুষকে পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় করতে পারে। তাই আমাদের হতে হবে অধ্যবসায়ী। মোটকথা, যারা সংকল্পে অটল, জীবন যাদের প্রতিশ্রুতিতে বন্ধ, তাদের কাছে অসাধ্য কিছুই নেই। একমাত্র অধ্যবসায়ের গুণেই আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ নিজের জীবনকে সুষমামণ্ডিত করে দেশ ও জাতির নিকট স্মরণীয়-বরণীয় হতে পারে।

উত্তর

ভূমিকা: সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। লাল-সবুজে সাজানো এই দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের লীলাভূমি হিসেবে আখ্যায়িত, যা মানবসৃষ্ট কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তা-ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মাত্রা অত্যন্ত বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরন: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নিজেকে প্রকাশ করে। কখনো দেখা যায় ঘূর্ণিঝড় বা বন্যা, কখনো অনাবৃষ্টি বা খরা। বন্যা, নদীভাঙন প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশে অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না গেলেও ভূমিকম্প মাঝে মাঝেই অনুভূত হয়। এছাড়া লবণাক্ততা, শিলাবৃষ্টি, আর্সেনিক সমস্যা প্রভৃতিও বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব দুর্যোগের ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া অসংখ্য মানুষ ও পশুপাখি প্রাণ হারায়। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হলো- ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস: বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় অন্যতম। এই দুর্যোগ প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। এর ফলে সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। প্রায় প্রতিবছরই এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে ছোটো-বড়ো বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা পরিলক্ষিত হয়। এগুলোর মধ্যে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্রতীরবর্তী দ্বীপসমূহ। ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতায় প্রায় পাঁচ লক্ষ লোকের মৃত্যু ঘটে। ১৯৯১ সালের প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং 'জলোচ্ছ্বাসে মারা গিয়েছিল প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। সেইসঙ্গে ধ্বংস হয়েছিল অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও জমির ফসল; ভেসে গিয়েছিল অসংখ্য গবাদি পশু। ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছিল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় 'সিডর'। প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডরের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কি.মি.। সিডরের ফলে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরা, যশোর প্রভৃতি অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত, জোয়ারের তাণ্ডব আর সেইসঙ্গে প্রবল বর্ষণে পুরো এলাকায় নেমে আসে মহাবিপর্যয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সিডর, আইলা, মহাসেন, রোয়ানু, মোরাসহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে। সর্বশেষ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশে আঘাত হানে। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাপক সচেতনতার জন্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। কালবৈশাখী: গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে আঘাত হানা একধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম কালবৈশাখী। বাংলাদেশে সাধারণত বৈশাখ (এপ্রিল-মে) মাস জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে তীব্র বায়ুপ্রবাহ, বজ্রঝড় ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। স্থানীয়ভাবে এ ঝড়কে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়। কোনো স্থানে ভূপৃষ্ঠ অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বায়ুমণ্ডলের ভূমিসংলগ্ন বায়ুও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত বায়ু হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে এবং ওইস্থানে বায়ুশূন্য অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু পার্শ্ববর্তী ঠান্ডা ও ভারী বায়ু ওই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য প্রবল বেগে ধাবিত হয়। ফলে সেখানে প্রবল ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এই ঘূর্ণি নিম্ন আকাশে ঘন কালো মেঘ সৃষ্টি করে। ফলে ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। কখনো কখনো শিলাবৃষ্টিও হতে দেখা যায়। কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোনো কোনো সময় এই গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে যায়। কালবৈশাখী একটি ক্ষণস্থায়ী ঝড়। অর্থাৎ এর স্থায়িত্বকাল অল্প। তবে কখনো কখনো এ ঝড় এক ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয়। কালবৈশাখী একটি আকস্মিক ও প্রলয়ংকারী দুর্যোগ হওয়ায় জনজীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। এ ঝড় মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়; বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলের খেত প্রভৃতির ক্ষতিসাধন করে। বন্যা: বন্যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্লাবন বা বর্ষণের ভয়াল রূপ হলো বন্যা। প্রতিবছর বন্যার করালগ্রাসে মানুষের স্বাভাবিকজীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালের বন্যার কারণে সারাদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। এ দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৮৮ সালে। এ বন্যায় বহু প্রাণহানি ঘটে। খেতের ফসল, ঘরবাড়ি ও মূল্যবান সম্পদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি না ঘটলেও ফসলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীভাঙন: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের বুকের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য ছোটো-বড়ো নদী। কিন্তু এই নদীগুলোই কখনো কখনো জনজীবনে প্রবল সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় প্রতিবছরই প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে হারিয়ে যায়। নদীভাঙনের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ে। তাদেরকে অনেকটা উদ্বাস্তুর ন্যায় জীবনযাপন করতে হয়। ভূমিকম্প: ভূমিকম্প বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতিবছরই এদেশে মাঝারি বা ছোটো আকারের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে। ফলে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, মহেশখালী, সিলেট, রাজশাহী প্রভৃতি এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। লবণাক্ততা: সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে লবণাক্ততা। লোনা পানির প্রভাবে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে সঠিকভাবে ফসল ফলে না। এতে প্রচুর ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো গাছ কাটা, নদী ভরাট করা ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে মানবসৃষ্ট কারণ। 'এছাড়া তীব্র তাপমাত্রার ফলে হিমালয়ের বরফ গলে যায়, ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার কখনো কখনো তীব্র খরার ফলে মাঠঘাট ফেটে যায়, গাছপালা - মরে যায়। ফলে প্রকৃতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিকারের উপায়: প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবেই প্রাকৃতিক। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। নিম্নে সেগুলো দেওয়া হলো- বনায়নের পরিমাণ বাড়াতে হবে। জনগণকে পূর্বাভাস দিতে হবে এবং সতর্ক করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ধ্বংসযজ্ঞ থেকে উদ্ধারের জন্য দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। জনগণকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাহলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা: দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে জাতিসংঘের। জাতিসংঘ ১৯৯২ সালে বিপর্যয় মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য একটি মানবিক বিপর্যয় সংক্রান্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি ত্রাণ বিতরণ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়া খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানও দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে সাহায্য করে থাকে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ: বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলা বলতে সাধারণত সরকারি প্রচেষ্টাকেই বোঝায়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় সাধন, তথ্য প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস ও প্রশমন করার জন্য ১৯৯৩ সালে গঠিত হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো। এছাড়া ১৯৯৫ সালে জাতীয় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যপরিকল্পনা (NEMAP) গৃহীত হয়েছে। উপসংহার: বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এসব দুর্যোগ কমাতে হলে প্রকৃতির সঙ্গে তৈরি করতে হবে মিত্রতার সম্পর্ক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে সচেতনতা। তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।