শেয়ারFacebookWhatsApp

বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা।

উত্তর: ভূমিকা: শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানের আলো দান করে, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বাড়ায় এবং সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে করে সমৃদ্ধ। তাই শিক্ষাকে হওয়া চাই জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষাই কর্মমুখী শিক্ষা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- "আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে জীবনের কোনো সংযোগ নেই।" বাস্তবিকই প্রচলিত শিক্ষা আমাদের জীবনকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে না। আজ পৃথিবী দ্রুতবেগে এগিয়ে যাচ্ছে কর্মময় শিক্ষার দিকে। আমাদের জীবনের জন্যও তাই সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষা অতীব প্রয়োজনীয়। কর্মমুখী শিক্ষা কী: যে শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কোনো একটা বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষালাভ করে জীবিকার্জনের যোগ্যতা অর্জন করে, তা-ই কর্মমুখী শিক্ষা। অর্থাৎ বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষার অর্থ হচ্ছে একজন ব্যক্তিকে বিশেষ বৃত্তি বা কর্মে প্রশিক্ষিত করে তোলা। শিক্ষা হতে হবে আত্মপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক। অন্যথায় সে শিক্ষা হবে নিরর্থক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের মতে, 'Vocational education is important and essential for our development which must be evaluated sooner or later.' বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের দেশে বেকার সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না। তাই দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করা অতীব প্রয়োজন। কর্মমুখী শিক্ষার প্রকারভেদ: কর্মমুখী শিক্ষা দ্বিবিধ। একটি হলো-ডাক্তার, প্রকৌশলী এবং কৃষিবিদ; যাঁরা বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা ইচ্ছেমতো স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। চাকরির আশায় তাদেরকে বসে থাকতে হয় না। অন্যটি হলো সাধারণ কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। সাধারণত প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক শিক্ষাই যথেষ্ট। এ শিক্ষায় শিক্ষিত হলে কাউকেই খাওয়া-পরার ব্যাপারে ভাবতে হয় না। এ জাতীয় শিক্ষার মধ্যে-ধাত্রী বিদ্যা, সেলাই কাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, দর্জির কাজ, ছাপাখানার কাজ, বই বাঁধাই, বিদ্যুতের কাজ, টেলিভিশন-রেডিও-মোটরযান মেরামতের কাজ, ওয়েল্ডিং-এর কাজ, কারখানায় শ্রমিকের কাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা: আধুনিক দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য নানা কলাকৌশল আবিষ্কৃত হয়েছে। অথচ ব্যাবসা-বাণিজ্যে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে, জীবন-যাত্রায় আমরা ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো পরাধীন যুগের। এখনো ব্রিটিশদের কেরানি বানানোর। শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রচলিত। কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ এখনো হয়নি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার, সংস্কারের কথা ওঠে ঠিকই, কমিশনও গঠিত হয়, এর রিপোর্টও প্রকাশিত হয়, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করা হয় না। অবশ্য শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে দেশে মাধ্যমিক স্তরে 'এসবিএ' চালু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের ৪৮ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু। এর লক্ষ্য - বাস্তবতার আলোকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাদান। এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাব্রতীদের অধিক সচেতন হতে হবে। কিন্তু আমাদের মনমানসিকতা সেই পুরোনো আমলের। একগুঁয়ে অহংকারের আভিজাত্য ত্যাগ করতে পারছে না। ফলে অনেক শিক্ষিত যুবক অভিশপ্ত বেকার জীবনযাপন করছে। গতানুগতিক গ্রন্থগত শিক্ষাব্যবস্থা ডিগ্রিধারী শিক্ষিত ব্যক্তি তৈরি করছে বটে, কিন্তু তা কর্মভিত্তিক না হওয়ায় ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না। ফলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থমকে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তন অত্যাবশ্যক। কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব: কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বহুবিধ। এ শিক্ষা গ্রহণের পর একজন শিক্ষার্থীকে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে জীবনক্ষয় করতে হয় না। এ শিক্ষা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দারিদ্র্য মোচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এ-শিক্ষা বুজি-রোজগারের পথ খুলে দেয় এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়। কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তিকে আমরা বিদেশে পাঠিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। তাই কর্মমুখী শিক্ষা আরও ব্যাপক ও বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ একটি দরিদ্র দেশ। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে শিল্প, বিজ্ঞান, কারিগরি উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনের উপযোগী করে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার সমস্যার সমাধান হবে। কর্মমুখী শিক্ষার ওপর যত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, তত সুদৃঢ় হবে। তাই আমাদের উচিত এ শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা। প্রচলিত কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা: আমাদের দেশে বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা প্রচলিত। তার সঙ্গে কারিগরি, প্রকৌশলী, ডাক্তারি, ভোকেশনাল ইত্যাদি কর্মমুখী পদ্ধতি প্রচলিত আছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার: দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অধিকসংখ্যক কর্মমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষিকার্যে সহায়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ওপর অধিক জোর দিতে হবে। স্বল্পমেয়াদি কোর্সে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আমাদের তরুণ বেকারদের সুদক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন কুটিরশিল্প, বয়ন শিল্প, ডেইরি শিল্পের ওপর কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাটকল, চিনিকল, ইস্পাত শিল্প, জাহাজ শিল্প ইত্যাদিতে দক্ষ কারিগর হিসেবে কাজ করতে পারে- এমন সহায়ক কর্মমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ওপরও জোর দিতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুগোপযোগী নতুন নতুন বিষয়ে কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তন করতে হবে। উপসংহার: বর্তমান যুগে কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র কর্মমুখী শিক্ষাই দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। সাধারণ শিক্ষার দ্বারা মানসিক বিকাশ ঘটলেও কর্ম ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকে না। কর্মমুখী শিক্ষা সেই নিশ্চয়তা বিধান করে জীবনকে হতাশামুক্ত করে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা।

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Mymensingh · 2020

উত্তর

ভূমিকা: পৃথিবা নামক গ্রহাটকে যে আলো-বাতাস-পানি-গাছপালা ঘিরে রয়েছে তাই তার প্রকৃতি। এ প্রকৃতির সবচেয়ে সুবিধাভোগী হলো মানুষ। বলা হয়ে থাকে, মানুষ পরিবেশের সৃষ্টি। মানুষ তার প্রতিভা, পরিশ্রম আর দক্ষতা দিয়ে আবিষ্কার করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন অনুষঙ্গে। । অধিগত করেছে জীবন-বিকাশের নানা উপকরণ। তাই দিয়ে সে তার নিজের প্রয়োজন ও রুচি অনুযায়ী তৈরি করেছে তার পরিবেশ। এ পরিবেশের মধ্যেই তার বিকাশ, তার বিনাশের ইঙ্গিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানের বিজয়গৌরবে মোহাল্ব মানুষ পৃথিবীর পরিবেশকে বিষাক্ত করেছে। চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে ক্ষতিকর সব আবর্জনা। তার ফল হয়েছে বিষময়। পরিবেশ দূষিত হয়েছে। আর দূষিত পরিবেশ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিরুস্ট করছে। তাই গোটা জীবজগতের অস্তিত্বই আজ বিপন্ন। পরিবেশ দূষণের কারণ: জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ- জল-মাটি-বায়ুর ওপর পড়েছে প্রচণ্ড চাহিদার চাপ। শুরু হয়েছে বনসম্পদ বিনষ্টের অমিত উল্লাস। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উদ্ভিদজগৎ ও প্রাণিজগৎ। অক্সিজেনের প্রধান উৎস গাছপালা। যে জায়গায় গাছপালা নেই, সে জায়গায় জনপ্রাণীও নেই। বর্তমানে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য এসে পৌঁছেছে এক সংকটজনক অবস্থায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান হারে শক্তি উৎপাদনের চাহিদা। শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে নির্গত হয় মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ-দূষক নানা উপজাত দ্রব্য। এতে বায়ু, জল, খাদ্যদ্রব্য মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এসব উপজাত দ্রব্যই নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যাধির দ্রুত প্রসারণের কারণ। পরিবেশ দূষণের শ্রেণি: আমাদের পরিবেশ দূষণকারী অপদ্রব্যগুলো মোটামুটি দু ভাগে বিভক্ত। ১. প্রাকৃতিক ও ২. কৃত্রিম। প্রাকৃতিক দূষণের মধ্যে রয়েছে সীসা, পারদ, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি। এর মধ্যে কতকগুলো আবার আমাদের মল-মূত্র ও শরীরের পচন থেকে উৎপন্ন। তার ওপর আছে কৃত্রিম-দূষকের সমস্যা। কৃত্রিম-দূষকের অন্তর্গত হলো নানা কীটনাশক, গুঁড়ো সাবান, ওষুধপত্র ও প্রসাধন সামগ্রী, এমনকি প্লাস্টিকও। এসব যৌগের কয়েকটি আমাদের পরিবেশে বহুদিন ধরে টিকে থাকে। রোদ, জল, বাতাস, জীবাণু এদের কোনো ক্ষতিই করতে পারে না। এ ধরনের যৌগ নিয়েই পরিবেশ-বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তা বেশি। কেননা, কিছুদিন আগেও পৃথিবীর বুকে এ ধরনের যৌগের অস্তিত্ব ছিল না। বায়ুদূষণ ও নানা প্রতিক্রিয়া: দূষণের প্রকৃতি ও পদ্ধতির মধ্যেও রয়েছে বিভিন্নতা। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম সম্ভার হলো বায়ু। সেই বায়ু দূষণ আজ বিশ্বজুড়ে। মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষেও এ এক গুরুতর সমস্যা। ঝুল জাতীয় কার্বন কণা থেকে শুরু করে ভারী ধাতু, জটিল জৈব যৌগ নিউক্লীয় আবর্জনা, জীবাশ্ম জ্বালানি অর্থাৎ তেল, কয়লা ইত্যাদি পুড়িয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া ক্লোরোফ্লুরোমিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, রাসায়নিক ধোঁয়া ইত্যাদি সবই হলো বায়ু দূষণকারী দ্রব্য। বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ত বাড়ছে। এর ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। অকাল-বর্ষণ, খরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, কুয়াশা এরই ফলে। এরকম আবহাওয়ায় চাষবাস হয় অনিশ্চিত। কুয়াশা আর তেল, কয়লা দহনের ফলে নির্গত গ্যাসের মিশ্রণে ধোঁয়াশার সৃষ্টি। এর ক্ষতিকারক ক্ষমতা মারাত্মক। মাথাধরা, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস, ফুসফুস-ক্যানসার এ জাতীয় দূষণের ফল। বিভিন্ন যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এসে তৈরি করে আলোক রাসায়নিক ধোঁয়া। অক্সাইড ও হাইড্রো কার্বনের বিক্রিয়ায় আরও কিছু বায়ু দূষকের সৃষ্টি হয়। ওজোন গ্যাস ও পারক্সি-অ্যাসিটালনাইট্রেট তাদের মধ্যে অন্যতম। এতে তরিতরকারি ও শস্যের ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক। এছাড়া আরও এক ধরনের বায়ুদূষক আবহাওয়ায় ছড়িয়ে থাকে। ওগুলো হলো বাতাসে ভেসে বেড়ানো জীবাণু। অ্যালার্জিজনিত রোগে ওইসব জীবাণুর ভূমিকা অনেক। পানি দূষণ: পানিদূষণ আধুনিক সভ্যতার আর এক অভিশাপ। পৃথিবীর সমুদ্র, নদনদী, পুকুর, খালবিল ইত্যাদির পানি নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। ভারী ধাতু, হ্যালোজেন নিষিক্ত হাইড্রোকার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, পেট্রোলিয়াম, কৃত্রিম তেজস্ক্রিয় পদার্থ, সর্বোপরি সংলগ্ন শহরের নির্গমন নালা বেয়ে আসা দূষিত তরল আবর্জনা- এগুলোই পানি দূষণের প্রধান উপকরণ। তাছাড়া পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তনেও সমুদ্রের দূষণ হচ্ছে। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ঘন বসতিপূর্ণ জনপদ, শহর। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক চটকল, কাপড় কল, কয়লা ধোলাই কল, চিনি কল, কাগজের কল, ভেষজ তেল তৈরির কারখানা, চামড়া পাকা করার কারখানা ইত্যাদি। এসব কল-কারখানার আবর্জনা প্রতিনিয়ত নদ-নদীকে দূষিত করছে। পুকুর, খালবিল দূষণের জন্য নালা-নর্দমা, ঘর-বাড়ির আবর্জনা ইত্যাদি দায়ী। এর থেকেই দূষিত হয় মাটি, দূষিত হয় পানীয়জল। সমুদ্র, নদী, খাল-বিল, পুকুরের মাছেও নানারূপ দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিস্তার লাভ করছে নানারকমের সংক্রামক রোগ। মাঝে মাঝে তা মহামারির আকার ধারণ করে। মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কত জীবন। এমনি করেই দিনের পর দিন জনস্বাস্থ্য বিনষ্ট হচ্ছে। শব্দদূষণ: শব্দদূষণ এ যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শহরে শব্দদূষণের মাত্রা সর্বাধিক। প্রতিনিয়তই এখানে মোটর গাড়ির হর্ন, কল-কারখানার বিকট আওয়াজ, বাজি-পটকার শব্দ, রেডিও-টেলিভিশনের শব্দ, লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি, উৎসবের মত্ততা, মাইকে চড়া সুর, সব মিলে-মিশে অপম্বর সৃষ্টির এক মহাযজ্ঞ চলছে। শব্দ দূষণের পরিণাম ভয়াবহ। এর ফলে মানুষের শ্রবণ-ক্ষমতার বিলোপ ঘটে। মানসিক বিপর্যয় দেখা যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। অনিদ্রা রোগের উদ্ভব হয়। হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি ও স্নায়বিক অস্থিরতাও শব্দ দূষণের পরিণাম। শব্দের ২০ থেকে ৪০ ডেসিবেল পর্যন্ত মাত্রা হলো স্বাভাবিক। ঢাকায় এখন শব্দের পরিমাণ ৬০ থেকে ৬৫ ডেসিবেল, কোথাও কোথাও ৮০ ডেসিবেল। তেজস্ক্রিয় দূষণ: আয়নকারী বিকিরণ শক্তির এক ক্ষমতাশালী উৎস। সায়ানাইড বা অন্যান্য বিকারকের তুলনায় এর তাপশক্তি দশ কোটি গণ তীব্র। পারমাণবিক যুদ্ধ, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে তেজস্ক্রিয় দূষণের বিপদ সবচেয়ে বেশি নিহিত। ১৯৬৩-তে একটি মার্কিন নিউক্লীয় সাবমেরিন আটলান্টিক সাগরে হারিয়ে যায়। তা থেকে প্রচুর পরিমাণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে। নিউক্লীয় জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রের আবর্জনা তার ক্ষতিকারক ক্ষমতা নিয়ে ৬০০ বছর টিকে থাকতে পারে। প্লুটোনিয়ামের অর্ধ আয়ু ২৪,৩৬০ বছর এবং তার ক্ষতি করার ক্ষমতা ওই অর্ধ আয়ুর কয়েক গুণ সময়। পর্যন্ত বজায় থাকে। দূষণের প্রতিকার: দূষণের ভয়াবহ পরিণামের কথা ভেবে বিশ্বের সভ্যমানুষ আজ আতঙ্কিত। কী উপায়ে এ ভয়ংকর সমস্যার মোকাবিলা সম্ভব তা নিয়ে ভাবনা, পরিকল্পনার শেষ নেই। বায়ু দূষণের প্রতিকারের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে কল-কারখানার দহন-প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্গত দূষকের পরিমাণ কমানোর ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট এলাকায় যাতে দূষণের প্রভাব ঘনীভূত না হয় তার জন্য দূষকগুলোকে আরও বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, দহনে উৎপন্ন গ্যাসে অতিরিক্ত কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেওয়ার, যাতে নির্গত হওয়ার আগেই কোনো কোনো দূষক অপসারিত হতে পারে। তাছাড়া গ্রহণ করা হয়েছে বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা। দূষণ-প্রতিরোধী উদ্ভিদের সংখ্যা বাড়ানো খুবই জরুরি। সমুদ্র দূষণের প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন উপদ্বীপ ও উপকূল অঞ্চলে সমুদ্র দূষণের পরিমাণ নিয়মিত পরিমাপ করা, প্রয়োজন সেসব এলাকায় দূষণবিরোধী বিধি-নিষেধ কার্যকর করা। দূষিত পানিকে পানযোগ্য করে তুলতে হলে উপযুক্ত পরিগ্রাবণ, দরকার। শব্দদূষণের কুপ্রভাব কমানোর প্রধান উপায় হলো, কানে তুলো ব্যবহার কিংবা শব্দ-বিরোধী কক্ষের ব্যবহার। প্রযুক্তিবিদ্যার সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে এমন কতকগুলো পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়েছে, যাতে পরমাণু চুল্লির আবর্জনা-নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে হয়তো নিউক্লীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপজাত দ্রব্যে কোনো তেজস্ক্রিয়তা থাকবে না। উপসংহার: পরিবেশ দূষণ সমস্যা নিয়ে আজ সকল দেশই চিন্তিত। মানবসভ্যতার অস্তিত্বই আজ সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। তাই ১৯৭২ সালে 'মানুষের পরিবেশ' নিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের অধিবেশন হয় স্টকহোম-এ। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হয় বারো দিনব্যাপী ধরিত্রী সম্মেলন। আমাদের দেশেও প্রতিবছর ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসরূপে পালিত হচ্ছে। ২০০১ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলন। ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলন ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর ২০১৪ সালে পেরুর লিমায় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। আজ পরিবেশ দূষণ মানবসভ্যতার এক ভয়ংকর বিপদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে কোনো মূল্যে পরিবেশ দূষণ রোধ করার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই- 'এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ পীঠ চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'

উত্তর

সূচনা: মা, মাতৃভূমি আর মাতৃভাষা মানব অস্তিত্বের প্রধান তিনটি অবলম্বন। মানুষের পরিচয়ের সেরা কষ্টিপাথর মাতৃভাষা, দেশের ভাষা ও জাতির ভাষা। মাতৃভাষার অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকারসমূহের মধ্যে অন্যতম। এ অধিকার নিজের মতো করে কথা বলার অধিকার, স্বতঃস্ফূর্ত চেতনায় উদ্ভাসিত স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার। বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছিলেন বরকত, সালাম, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ আরও অনেকে। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত একুশে ফেব্রুয়ারি এখন বিশ্বজনীন 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রয়েছে একটি গৌরবদীপ্ত ঐতিহাসিক পটভূমি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে পূর্ববাংলার জনগণ বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিল। বাঙালির সেই ঐতিহাসিক 'শহিদ দিবস' ২১শে ফেব্রুয়ারি আজ সারাবিশ্বের 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'। ১৪ আগস্ট, ১৯৪৭-এর পাকিস্তান সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই বাঙালি জাতির চেতনায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের তরঙ্গ প্রবাহিত হয়েছিল। তদানীন্তন পাকিস্তান রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন ঘটে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা, কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলা ভাষাকে পাশ কাটিয়ে গোপনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও উর্দু ছিল মাত্র ৪ শতাংশ লোকের মাতৃভাষা। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাকিস্তানি শাসকদের এ অপচেষ্টা বাঙালিকে বিদ্রোহী করে তোলে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস করা হলে পূর্ব পাকিস্তানের জাগ্রত ছাত্রসমাজ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল প্রচণ্ড ক্ষোভের সাথে। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যতই বাংলা ভাষার বিরোধিতা করতে থাকে, ততই বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। সমগ্র পূর্ববাংলা একই অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হয়। বাঙালি ঘোষণা করেছিল, উর্দুর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাকে দিতে হবে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার এ দাবি না মেনে ঘোষণা করে, 'উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'। এ অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের ফলে সরকার ও পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজের মধ্যে তুমুল লড়াই বাধে। এরই জের হিসেবে বায়ান্নর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আন্দোলনরত নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। অনেক প্রাণের তাজা রক্তে সেদিন রঞ্জিত হয় রাজপথ। এ নৃশংসতা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে; গর্জে ওঠে সারা বাংলা। আতঙ্কিত সরকার বাধ্য হয়ে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। সময়ের দাবিতে ভাষা আন্দোলন পরিণত হয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে। একুশের চেতনাই বাঙালিকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার শক্তি জুগিয়েছে। মাতৃভাষার জন্য বাঙালির সেদিনের আত্মত্যাগ বিফলে যায়নি। একুশ এখন আর কেবল বাঙালির 'শহিদ দিবস' নয়; একুশ এখন সারাবিশ্বের। বিশ্বের ১৮৮টি দেশে শহিদদের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয় এ দিনে। বাঙালির 'শহিদ দিবস' এখন বিশ্ববাসীর 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'। এককথায়, একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাজাত প্রয়াসের ফসল 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।' আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি: '৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের গণমানুষের দৃঢ় অঙ্গীকারই বিশ্বসভায় বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসন দিয়েছে। সত্যিকার অর্থে মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি আমাদের হৃদয়ছোঁয়া আবেগই বাংলা ভাষার বিশ্বায়নে সহায়তা করেছে। ২১শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীদের সংগঠন 'Mother Language Lovers of the World′World^{\prime}। এর নেপথ্যে যে দুজন বাঙালির অবদান সবচেয়ে বেশি তাঁরা হলেন- আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম। তাঁরাই ১৯৯৮ সালের ৯ই জানুয়ারি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণার জন্য জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠান। সাতটি ভাষার ১০ জন মানুষ এ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন। কফি আনান ইউনেস্কোর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ জানালে ইউনেস্কোকে একটি আবেদনপত্র পাঠানো হয়। কিন্তু ইউনেস্কোর তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ মিসেস আনা মারিয়া আবেদনের উত্তরে বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে কোনো প্রস্তাব গ্রহণের অপারগতা জানান। তিনি বলেন, সরকারের মাধ্যমে আবেদন করা হলে ইউনেস্কো তা বিবেচনা করে দেখবে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপিত হয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশসহ ২৮টি দেশের সমর্থন নিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ স্বীকৃতি হচ্ছে মাতৃভাষার জন্য বাংলাদেশের অনন্য ত্যাগের স্বীকৃতি প্রদান। এরই আলোকে ২০০০ সালের ২১শে, ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হয় 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'। বাঙালির 'শহিদ দিবস' এখন পালিত হয় ইউনেস্কোর ১৮৮টি সদস্য দেশে এবং ফ্রান্সে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য: যেকোনো দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে সে দেশের মাতৃভাষাতেই। তাই ভাষাই একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। ইউনেস্কোর সম্মেলনে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পালনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলা হয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভাষা হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। মাতৃভাষা দিবস কেবল কোনো দেশ বা জাতির গোষ্ঠী চেতনাকেই সম্মানিত করে না, বরং বিশ্বের প্রতিটি জাতির ভাষার প্রতিই মর্যাদা প্রদর্শন করে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য হলো সব মাতৃভাষাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া, যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া, বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা, দুর্বল বলে কোনো ভাষার প্রতি প্রভুত্ব আরোপের অপচেষ্টা না করা, ছোটো-বড়ো সব জাতির ভাষাকে সমমর্যাদা দান করা। একুশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে কেবল বাঙালির মাতৃভাষার প্রতিই নয়, বিশ্বমানবের আপন ভাষার মর্যাদার দিকটিও এতে শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবস পালনের ফলে বিশ্ব সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মূল্যবোধ সম্পর্কে কৌতূহল সৃষ্টি হচ্ছে। একুশের অনন্য চেতনা বিশ্ববাসীকে নিজ নিজ ভাষাকে ভালোবাসার প্রেরণা জোগাচ্ছে। 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পালনের মাধ্যমে আন্তঃরাষ্ট্রীয় নৈকট্য বাড়ছে। বিশ্ববাসীর পদচারণায় আমাদের ভাষা হচ্ছে শক্তিশালী এবং ক্রমবিকাশমান। ভাষার প্রতি বাঙালির আত্মত্যাগ আর ভালোবাসা বিশ্ববাসীকে শিখিয়ে দিল আপন ভাষা ও আপন সংস্কৃতিকে ভালোবাসার মন্ত্র। 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'র তাৎপর্য উপলব্ধি করে ভাষাবিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন আজাদ বলেন, 'আমি মুগ্ধ, আমি প্রীত, আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে, আমার প্রাণের কথা আমার ভাষায় জানাতে পারব বলে আমার হৃদয়-স্পন্দন বেড়েছে। সত্যিই গর্বিত আমি।' উপসংহার: 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পর বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিশ্বদরবারে লাভ করেছে ব্যাপকতা, পেয়েছে বিশেষ মহত্ত্ব। আন্তর্জাতিকীকরণের মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারি পেয়েছে নতুন মহিমা, নতুন গরিমা, নতুন মর্যাদা। ভাষার এ বৈশ্বিক স্বীকৃতি আমাদের দুর্লভ অর্জন। ভাষার প্রশ্নে তাই আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। তবে আমরা মাতৃভাষাকে ভালোবাসা এবং সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বিশ্বের সব মানুষের মাতৃভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করব- এ চেতনায় অঙ্গীকারবদ্ধ হলেই এ মহান দিবসের সার্থকতা পরিস্ফুট হবে।

উত্তর

ভূমিকা: শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানের আলো দান করে, সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বাড়ায় এবং সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে করে সমৃদ্ধ। তাই শিক্ষাকে হওয়া চাই জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষাই কর্মমুখী শিক্ষা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন- "আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে জীবনের কোনো সংযোগ নেই।" বাস্তবিকই প্রচলিত শিক্ষা আমাদের জীবনকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে না। আজ পৃথিবী দ্রুতবেগে এগিয়ে যাচ্ছে কর্মময় শিক্ষার দিকে। আমাদের জীবনের জন্যও তাই সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষা অতীব প্রয়োজনীয়। কর্মমুখী শিক্ষা কী: যে শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষ কোনো একটা বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষালাভ করে জীবিকার্জনের যোগ্যতা অর্জন করে, তা-ই কর্মমুখী শিক্ষা। অর্থাৎ বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষার অর্থ হচ্ছে একজন ব্যক্তিকে বিশেষ বৃত্তি বা কর্মে প্রশিক্ষিত করে তোলা। শিক্ষা হতে হবে আত্মপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক। অন্যথায় সে শিক্ষা হবে নিরর্থক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনের মতে, 'Vocational education is important and essential for our development which must be evaluated sooner or later.' বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের দেশে বেকার সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না। তাই দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করা অতীব প্রয়োজন। কর্মমুখী শিক্ষার প্রকারভেদ: কর্মমুখী শিক্ষা দ্বিবিধ। একটি হলো-ডাক্তার, প্রকৌশলী এবং কৃষিবিদ; যাঁরা বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁরা ইচ্ছেমতো স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন। চাকরির আশায় তাদেরকে বসে থাকতে হয় না। অন্যটি হলো সাধারণ কর্মমুখী বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। সাধারণত প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক শিক্ষাই যথেষ্ট। এ শিক্ষায় শিক্ষিত হলে কাউকেই খাওয়া-পরার ব্যাপারে ভাবতে হয় না। এ জাতীয় শিক্ষার মধ্যে-ধাত্রী বিদ্যা, সেলাই কাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, দর্জির কাজ, ছাপাখানার কাজ, বই বাঁধাই, বিদ্যুতের কাজ, টেলিভিশন-রেডিও-মোটরযান মেরামতের কাজ, ওয়েল্ডিং-এর কাজ, কারখানায় শ্রমিকের কাজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা: আধুনিক দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য নানা কলাকৌশল আবিষ্কৃত হয়েছে। অথচ ব্যাবসা-বাণিজ্যে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে, জীবন-যাত্রায় আমরা ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি। কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো পরাধীন যুগের। এখনো ব্রিটিশদের কেরানি বানানোর। শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রচলিত। কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ এখনো হয়নি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার, সংস্কারের কথা ওঠে ঠিকই, কমিশনও গঠিত হয়, এর রিপোর্টও প্রকাশিত হয়, কিন্তু বাস্তবে তা প্রয়োগ করা হয় না। অবশ্য শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে দেশে মাধ্যমিক স্তরে 'এসবিএ' চালু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের ৪৮ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু। এর লক্ষ্য - বাস্তবতার আলোকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাদান। এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাব্রতীদের অধিক সচেতন হতে হবে। কিন্তু আমাদের মনমানসিকতা সেই পুরোনো আমলের। একগুঁয়ে অহংকারের আভিজাত্য ত্যাগ করতে পারছে না। ফলে অনেক শিক্ষিত যুবক অভিশপ্ত বেকার জীবনযাপন করছে। গতানুগতিক গ্রন্থগত শিক্ষাব্যবস্থা ডিগ্রিধারী শিক্ষিত ব্যক্তি তৈরি করছে বটে, কিন্তু তা কর্মভিত্তিক না হওয়ায় ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না। ফলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থমকে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তন অত্যাবশ্যক। কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব: কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বহুবিধ। এ শিক্ষা গ্রহণের পর একজন শিক্ষার্থীকে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে জীবনক্ষয় করতে হয় না। এ শিক্ষা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দারিদ্র্য মোচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এ-শিক্ষা বুজি-রোজগারের পথ খুলে দেয় এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়। কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ জনশক্তিকে আমরা বিদেশে পাঠিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। তাই কর্মমুখী শিক্ষা আরও ব্যাপক ও বাস্তবমুখী হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ একটি দরিদ্র দেশ। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে শিল্প, বিজ্ঞান, কারিগরি উন্নয়ন ও অগ্রগতি সাধনের উপযোগী করে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকার সমস্যার সমাধান হবে। কর্মমুখী শিক্ষার ওপর যত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, তত সুদৃঢ় হবে। তাই আমাদের উচিত এ শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা। প্রচলিত কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা: আমাদের দেশে বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা প্রচলিত। তার সঙ্গে কারিগরি, প্রকৌশলী, ডাক্তারি, ভোকেশনাল ইত্যাদি কর্মমুখী পদ্ধতি প্রচলিত আছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার: দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অধিকসংখ্যক কর্মমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষিকার্যে সহায়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ওপর অধিক জোর দিতে হবে। স্বল্পমেয়াদি কোর্সে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আমাদের তরুণ বেকারদের সুদক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন কুটিরশিল্প, বয়ন শিল্প, ডেইরি শিল্পের ওপর কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাটকল, চিনিকল, ইস্পাত শিল্প, জাহাজ শিল্প ইত্যাদিতে দক্ষ কারিগর হিসেবে কাজ করতে পারে- এমন সহায়ক কর্মমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের ওপরও জোর দিতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুগোপযোগী নতুন নতুন বিষয়ে কর্মমুখী শিক্ষা প্রবর্তন করতে হবে। উপসংহার: বর্তমান যুগে কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র কর্মমুখী শিক্ষাই দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। সাধারণ শিক্ষার দ্বারা মানসিক বিকাশ ঘটলেও কর্ম ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকে না। কর্মমুখী শিক্ষা সেই নিশ্চয়তা বিধান করে জীবনকে হতাশামুক্ত করে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।