শেয়ারFacebookWhatsApp

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর: ভূমিকা: বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানীদের নানা আবিষ্কারের সূত্র ধরে জন্ম নিয়েছে আধুনিক যুগ। মানুষ তার যুগযুগান্তরের স্বপ্ন ও সাধনার অনবদ্য ফসল দিয়ে সভ্যতার এ বিশাল ইমারত গড়ে তুলেছে। তিল তিল প্রাণশক্তি এবং বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে মানুষ রচনা করেছে সভ্যতার এ তিলোত্তমা-মূর্তি। যে সভ্যতার বেদিমূলে রয়েছে বাহুর শক্তি, মস্তিষ্কের বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি এবং হৃদয়ের ভালোবাসা। বিজ্ঞান মানুষের অতন্দ্র সাধনার ফসল। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, সভ্যতার পদক্ষেপকে করেছে দ্রুততর। পৃথিবীকে করেছে ছোট। মানুষকে দিয়েছে অনিঃশেষ শক্তির অপরিমেয় অহমিকা। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার: প্রাচীন যুগের সেই অসহায় মানুষ আজ অসীম শক্তিধর। হিংস্র পশুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য পাথর আর গাছের ডাল ব্যবহার করতে করতে একসময় বল্লম, তীর, ধনুক, ঢাল, তলোয়ারের ব্যবহার করতে শিখেছে তারা। আধুনিক বিজ্ঞান সময় ও দূরত্বকে জয় করেছে। জেমস ওয়াট স্টিম ইঞ্জিন ও জর্জ স্টিভেনস্স্ন রেলগাড়ি আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানের বলে মানুষ জল, স্থল ও অন্তরিক্ষ জয় করেছে। বিজ্ঞান মানুষের সংকট নিবারণের ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের বহু অভাবনীয় কৌশল আবিষ্কার করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতিতে আজ অধিকাংশ দুরারোগ্য ব্যাধি হয়েছে চিকিৎসাযোগ্য। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: বিজ্ঞানের ঐন্দ্রজালিক, শক্তিবলে মানুষ উদ্দাম, উচ্ছৃঙ্খল নদীর গ্রোতকে বশীভূত করে ঊষর মরু-প্রান্তরকে করেছে জলসিক্ত, ভূগর্ভের সঞ্চিত শস্য সম্ভাবনাকে করে তুলেছে উজ্জ্বল। পাষাণী ধরিত্রীর সর্বদেহে সঞ্চারিত করে দিয়েছে অপূর্ব প্রাণ-স্পন্দন। বিজ্ঞান আজ উর্বরতা দিয়ে ক্ষয়িষ্ণু বসুধাকে শস্যবতী করে তুলেছে, শিল্পশৈলীর নব নব প্রবর্তনে উৎপাদন-জগতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রাগৈতিহাসিক মানবের অগ্নি-প্রজ্বলন কৌশল আয়ত্ত করার দিন থেকে আধুনিক পাথফাইন্ডার মহাকাশযানের যুগ পর্যন্ত মানুষের অতন্দ্র সাধনা বিজ্ঞানকে করেছে সমৃদ্ধ, সভ্যতাকে করেছে জাম। বাষ্পীয় শক্তিকে করেছে বিজ্ঞান আজ বশীভূত, আকাশের বিদ্যুৎকে করেছে করায়ত্ত; মুঠিতে পুরে নিয়েছে আণবিক ও পারমাণবিক শক্তিকে। দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান: বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে বিস্তৃতি দিয়েছে।সুদূরকে করেছে নিকট। ঘুচিয়ে দিয়েছে স্থানিক এবং মানসিক সংকীর্ণতা। প্রতিদিন প্রভাত কলরবের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্র আমাদের ঘরে পৌঁছে দেয় বিশ্বের অসংখ্য সংবাদ কণিকা। বেতারে ধ্বনিত হয় বিশ্ববার্তা। দূরদর্শনের পর্দায় ভেসে ওঠে পৃথিবীর দূরদূরান্তের ছবি, নিখিল মানুষের চলমান স্রোত। ঘুম থেকে উঠে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞান শক্তির অকৃপণ দাক্ষিণ্য লাভ করতে করতে চলেছি আমরা। আমাদের দিনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে বিজ্ঞান। অভ্যস্ত জীবনধারায় কোনো 'ছন্দপতন ঘটলেই আমরা উপলব্ধি করি, প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা কতখানি ব্যাপক ও গভীর। হঠাৎ যখন বিদ্যুতের অভাবে আলোকোজ্জ্বল রাত্রি গভীর অন্ধকারে ডুবে যায়, তখনই বুঝতে পারি বিজ্ঞান আমাদের কতটা দিয়েছে। পরিধেয় বস্ত্র থেকে ঘরবাড়ি, পথঘাট, ওষুধপত্র, কৃষিজ, খনিজ, ভোগ্যপণ্য সবই তো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার ফসল। বস্তুত আমাদের বর্তমান জীবনটাই বিজ্ঞান-নিয়ন্ত্রিত। চিকিৎসা জগতে বিজ্ঞান: চিকিৎসা জগতে বিজ্ঞান আজ যুগান্তর এনেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফলে দুরারোগ্য ব্যাধিতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। স্টেপটোমাইসিন, পেনিসিলিন, এক্স-রে প্রভৃতি মৃত্যুপথযাত্রীকে দান করেছে নিশ্চিত বিশ্বাস ও আশা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ফলে মানবদেহের অভ্যন্তরস্থ ফুসফুস, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, বৃক্ক, ধমনি, শিরা ইত্যাদির নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়। অতিকম্পনশীল প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানকে নিয়ে এসেছে সর্বাধুনিক পর্যায়ে। শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞান: শিল্প-কারখানায় মানুষের হাতের কাজকে বিজ্ঞান অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। ইতোপূর্বে শিল্প-কারখানায় সমস্ত কাজই হাতে করা হতো। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে এখন সময় কম ব্যয় হচ্ছে, খরচ কম পড়ছে এবং উৎপাদন হচ্ছে অধিক। কৃষিক্ষেত্রে: বিজ্ঞানের ছোঁয়া কৃষিক্ষেত্রেও বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রাচীন ভোঁতা লাঙলের পরিবর্তে আজ ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নতমানের কলের লাঙল ও ট্রাক্টর। পঁচা আবর্জনা ও গোবরের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক রাসায়নিক সার। গবেষণার মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে উন্নতমানের বীজ। সুতরাং বলা যায়, কৃষিক্ষেত্রেও বিজ্ঞান মহাবিপ্লব এনেছে। জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি: মুদ্রণযন্ত্র ও কম্পিউটারের আবিষ্কার মানুষের জ্ঞানচর্চাকে করেছে সহজতর। মানুষের চিন্তাচেতনা খুব সহজে মুদ্রণযন্ত্রের সাহায্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, ফটোস্ট্যাস্ট মেশিনের সাহায্যে অতি অল্প সময়ে শত শত পাতার ফটোকপি করা সম্ভব হচ্ছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আনন্দদানের পাশাপাশি শিক্ষাদানও চলছে। উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা ও জাতীয় চেতনাকে উজ্জীবিত করার জন্য চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, আজ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাব্যবস্থাসহ সকল ক্ষেত্রে যুগান্তরকারী পরিবর্তন এনেছে কম্পিউটার। বিজ্ঞানের সর্বধ্বংসী অকল্যাণমূর্তি: যে বিজ্ঞান সভ্যতার শরীরে জীবন প্রতিষ্ঠা করেছে, আজ তার বিনাশেও সে মেতে উঠেছে। বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত দুটি মহাযুদ্ধের ভায়াবহ ধ্বংসলীলা বিজ্ঞানের দানবীয় শক্তি সম্বন্ধে মানুষের মনে এনেছে এক ঘোরতর আতঙ্ক। পারমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, ডিনামাইট, বোমারু বিমান, ট্যাঙ্ক, সাবমেরিন ইত্যাদি আবিষ্কারের ফলে মানবজীবনে বিজ্ঞান অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানকালে বিজ্ঞান কী চায়? জীবন না মৃত্যু? আজ পৃথিবীর মানুষের মনে জেগেছে এ অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু বিজ্ঞানের এ বিধ্বংসীরূপের জন্য বিজ্ঞান দায়ী নয়। বরং যারা একে নিজেদের সার্থে ব্যবহার করছে তারাই দায়ী। উপসংহার: অসীম সম্ভাবনাময় বিজ্ঞান বিশ্বের মুষ্টিমেয় স্বার্থপর নরঘাতকের জন্য আজ সমাজের সার্বিক দুঃখ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান যদি সর্বধ্বংসী মারণাস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত হয়ে কেবল মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবেই মানুষের দুঃখ রজনীর অবসান হবে। হিংস্রতার রক্ত বিপ্লবের হাত থেকে রক্ষা পাবে ধরিত্রী।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Dhaka · 2019

উত্তর

ভূমিকা: "যখন ঈশ্বর ভক্তি এবং সর্বলোকে প্রীতি এক, তখন বলা যাইতে পারে যে, ঈশ্বর ভক্তি ভিন্ন দেশপ্রীতি সর্বাপেক্ষা গুরুতর ধর্ম।"- বঙ্কিমচন্দ্র স্বদেশ মানুষের কাছে পরম সাধনার ধন, নিশ্চিন্ত নিবাস। স্বদেশের মানুষ, স্বদেশের রূপ-প্রকৃতি, তার পশুপাখি এমনকি তার প্রতিটি ধূলিকণাও তার নিকট প্রিয় ও পবিত্র। যে দেশ আলো দিল, বাতাস দিল, অন্ন-পানি দিল, বস্ত্র দিল, তার প্রতি যদি সেই শ্যামল স্নেহে প্রতিপালিত সন্তানদের মমতামণ্ডিত আনুগত্যবোধ না থাকে, তবে তারা অকৃতজ্ঞ। স্বদেশপ্রেম: যে ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যে মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং বেড়ে ওঠে, সে পরিবেশের প্রতি, সেখানকার মানুষের প্রতি তার একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ গড়ে ওঠে। দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি এ আজন্ম আকর্ষণই স্বদেশপ্রেম। স্বদেশপ্রেম সকলের অন্তরেই থাকে। কখনো এ প্রেম থাকে সুপ্ত অবস্থায়, কখনো আবার তা প্রকাশ পায়। সুখের দিনে স্বদেশপ্রেম থাকে সুপ্তিমগ্ন। কিন্তু দুঃখের দিনে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে স্বদেশপ্রেম উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে। পরাধীনতার দুঃখ-বেদনায়, পরদেশির নির্যাতনে অন্তরের সুপ্ত স্বদেশপ্রেমের ঘুম ভাঙে। কিংবা দেশ যখন শত্রুর আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়, তখন সমগ্র জাতি স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বদেশের ও স্বজাতির মানমর্যাদা রক্ষাকল্পে রণক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার জন্য দলে দলে ছুটে যায়। তখন মনে হয়- "নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই, তার ক্ষয় নাই।" (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) স্বদেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ও উন্মেষ: প্রকৃতপক্ষে, স্বদেশপ্রেমের উদ্ভব আত্মসম্মানবোধ থেকে। যে জাতির আত্মসম্মানবোধ যত প্রখর, সে জাতির 'স্বদেশপ্রেম তত প্রবল। স্বদেশপ্রেম এক প্রকার পরিশুদ্ধ ভাবাবেগ। নিঃস্বার্থ হিংসাহীন দেশপ্রেমই প্রকৃত স্বদেশপ্রেম। ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থের গণ্ডি উপেক্ষা করে বৃহত্তর স্বার্থের দিকে মন যখন পরিচালিত হয়; যখন আত্মকল্যাণ অপেক্ষা বৃহত্তর কল্যাণবোধ সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন জ্বলে ওঠে স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার নিষ্কলুষ প্রদীপ শিখা। স্বদেশপ্রেমিকের দেশ সেবার পথে বাধা অনেক, অত্যাচার সীমাহীন। কিন্তু পথের ঝড়, ঝঞ্ঝা, প্রতিবন্ধকতা তাদের দৃঢ় বলিষ্ঠ পদক্ষেপের নিকট মিথ্যে প্রমাণিত হয়। ইতিহাসের পানে তাকালে এর ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত মেলে। পরদেশি কিংবা স্বৈর-শাসকের রক্তচক্ষু কিংবা উদ্যত অস্ত্র দেশপ্রেমীকদের নিবৃত্ত করতে পারে না। আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসও স্বদেশপ্রেমের গর্বে গর্বিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং সর্বশেষে ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান আমাদের অনন্য স্বদেশপ্রেমের প্রমাণ দেয়। দেশপ্রেম ও রাজনীতি: বস্তুত রাজনীতিবিদদের প্রথম ও প্রধান অবলম্বনই হলো দেশপ্রেম। স্বদেশপ্রেমের পবিত্র বেদিমূলেই রাজনীতির পাঠ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ রাজনীতিবিদ দেশের সদাজাগ্রত প্রহরী। পরাধীন বাংলাদেশের দিকে দিকে যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছিল, তাদের সকলেরই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল পরাধীনতার বন্ধন থেকে দেশজননীর শৃঙ্খল-মোচন। তাদের অবদানেই আজ দেশ স্বাধীন। আজও দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বর্তমান। রাজনীতির রামঞ্চে এখনো কত নতুন দলের আবির্ভাব ও নিষ্ক্রমণ। কিন্তু অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই মহত্তর, বৃহত্তর কল্যাণবোধ থেকে ভ্রষ্ট। ব্যক্তিক এবং দলীয় স্বার্থ চিন্তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রবল। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে মানুষের প্রয়োজনে সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার সাধনা, দেশপ্রেমের অঙ্গীকার এখন প্রায়ই অনুপস্থিত। রাজনীতিসর্বস্ব দেশপ্রেম প্রকৃতপক্ষে ধ্বংস ও সর্বনাশের পথকেই করে প্রশস্ত। স্বদেশপ্রেম ও বিশ্ব ভাবনা: যথার্থ দেশপ্রেমের সঙ্গে বিশ্বপ্রেমের কোনো অমিল নেই, নেই কোনো বিরোধ, বরং স্বদেশপ্রেমের ভেতর দিয়ে বিশ্বপ্রেমের এক মহৎ উপলব্ধিরও জাগরণ ঘটে। স্বদেশ তো বিশ্বেরই অন্তর্ভুক্ত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে মানুষ বিশ্বপ্রেমের এ বাণীকে জাতীয় জীবনে গ্রহণ করলেই সংকীর্ণ অন্ধ জাতীয়তাবোধ থেকে আমাদের মুক্তি সম্ভব। বিশ্বপ্রেমের উজ্জ্বল আলোকে আমাদের স্বদেশপ্রেম হবে উদ্ভাসিত। আমরা স্বদেশকে ভালোবেসে বিশ্বদেবতারই বন্দনা করি। তাই রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা যায়- ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা, তোমাতে বিশ্বময়ী- তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা। আজ যখন বিশ্বের সর্বত্র গণতন্ত্রের প্রবল জোয়ার এসেছে তখন রিশ্ব নাগরিকত্বের চেতনা হবে তাকে যথার্থভাবে গ্রহণ করার। স্বদেশচেতনা তো বিশ্ববোধেরই প্রাথমিক শর্ত। দেশের জল-মাটি-অরণ্য-পশুপাখি-মানুষ-সংস্কৃতিকে ভালোবাসতে পারলে পৃথিবীর মানুষ ও প্রকৃতিকেও ভালোবাসা যায়। অন্ধ স্বদেশপ্রেমের পরিণতি: স্বদেশপ্রেম দেশ ও জাতির গৌরবের বস্তু। কিন্তু অন্ধ স্বদেশপ্রেম ধারণ করে ভয়ংকর রূপ। জাতিতে জাতিতে সংঘাত ও সংঘর্ষ অনিবার্য করে তোলে অন্ধ স্বদেশপ্রেম। আমরা স্বদেশের জয়গান গাইতে গিয়ে যদি অপরের স্বদেশপ্রেমকে আহত করি, তবে সেই স্বদেশপ্রেম বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে ডেকে আনে ভয়াবহ রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব-সংঘাত। হিটলারের ইউরোপ দখল কিংবা মুসোলিনির ইতালি উগ্র-জাতীয়তাবাদের নগ্নরূপ। চলমান বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র কর্তৃক দুর্বল রাষ্ট্রসমূহের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব অন্ধ স্বদেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। অন্ধ স্বদেশ প্রেমাসক্ত নীতি বিশ্বকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, পারে মানবতার বিপর্যয় ঘটাতে। উপসংহার: দেশপ্রেম আমাদের মনের জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। সেই অনলে অন্তরের যত কিছু পাপবোধ, যা কিছু ক্ষুদ্র, গ্লানিময়তার আহূতি দানেই আমাদের জীবন পরিশুদ্ধ হয়। এক মহৎ চেতনার বিভায় মানবজন্ম হয় ভাস্বর। মানুষের জীবনে যদি দেশপ্রেমের চেতনা না থাকে, যদি বৃহত্তর কল্যাণবোধ থাকে অসুন্দরের ছদ্মবেশে আচ্ছন্ন, তাহলে হৃদয়ের কোন ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষ মহৎ হবে? বৃহৎ হবে কোন সম্পদ নিয়ে? কোথায় তাহলে জীবনের মহিমা? কোথায় সেই উন্নত উত্তরাধিকার? দেশপ্রেম তো শুধু কতগুলো প্রাণহীন শব্দসমাহার নয়, নয় কোনো নিছক বিমূর্ত আদর্শ। সুতরাং এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের কবিতার চরণ দুটি প্রণিধানযোগ্য- 'স্বদেশের উপকারে নাই যার মন কে বলে মানুষ তারে পশু সেই জন।' স্বদেশপ্রীতির মধ্যেই রয়েছে মনুষ্যত্বের উদ্বোধন, মহৎজীবনের সংকল্প, বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধন।

উত্তর

ভূমিকা: ছাত্রজীবন ভবিষ্যতের পল্লবিত মহিরুহের অস্ফুট পটভূমি। ছাত্রজীবনই হলো মানুষের প্রস্তুতিপর্ব। এরই ওপর নির্ভর করে ছাত্রছাত্রীর পরিণত জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা। তাই ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলা অনুশীলনের প্রকৃষ্ট সময়। এ বিশ্ব এক অদৃশ্য দুর্লঙ্ঘ্য নিয়মের সূত্রে বাঁধা; ক্ষুদ্রতম অণু-পরমাণু থেকে বিশাল বিশাল গ্রহ-নক্ষত্র, পর্যন্ত সর্বত্রই এক কঠোর নিয়মের শাসন বিরাজিত। প্রভাতে পূর্ব দিগন্তে সূর্যোদয় এবং দিবাশেষে পশ্চিম দিগন্তে সূর্যাস্ত-সবই এক দুর্লঙ্ঘ্য নিয়মের অধীন। ছাত্রজীবনেও প্রয়োজন সেই নিয়মের শাসন। প্রধান কর্তব্য: সংস্কৃত ভাষায় একটা প্রবাদ আছে- 'ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ।' অর্থাৎ অধ্যয়ন বা লেখাপড়া করাই হচ্ছে ছাত্রজীবনের প্রধান কর্তব্য। সব রকমের ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে একাগ্রতার সঙ্গে নানা বিষয়ে জ্ঞানার্জন করে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য উপযুক্ত হওয়াই এ সময়ের অন্যতম কাজ। শুধু লেখাপড়া নয়, এর সাথে সাথে অনেক কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন: মাতা-পিতা ও গুরুজনের আদেশ মান্য করা, তাদের কথামতো চলা ও তাদের সেবা-যত্ন করে তাদের থেকে দোয়া ও শুভেচ্ছা পেতে চেষ্টা করা। কথায় বলে- 'স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।' ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যরক্ষার প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। স্বাস্থ্যরক্ষার বিধি বা নিয়মগুলো মেনে চলতে হয়। জ্ঞান আহরণের জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেকের মাঝেই অপার সম্ভাবনার বীজ নিহিত থাকে। অধ্যবসায় ও সাধনার দ্বারা সে সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে হয়। পৃথিবীতে যারা অবিনশ্বর কীর্তি রেখে গিয়ে অমর হয়েছেন, তাঁরা প্রধানত কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই তা করেছেন। কঠোর শ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সহজাত প্রবৃত্তিকে শানিত করে ছাত্রছাত্রীদের - সফলতার পথে এগিয়ে যেতে হবে। জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। জ্ঞানার্জনের সাধনা কেবল পাঠ্যপুস্তকের সীমিত পৃষ্ঠাগুলোতে *সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রচিত ভালো ভালো বই পড়ে জীবনের জন্য কল্যাণকর পাথেয় সঞ্চয় করতে হবে। গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। শিষ্টাচার, বিনয়, কর্তব্যনিষ্ঠা, আনুগত্য, সৃষ্টিশীলতা অর্থাৎ সমাজের উন্নতির জন্য যা কল্যাণকর, তাই অর্জন করতে হবে। চরিত্র গঠন: মানবজীবনের প্রধান সম্পদ হলো চরিত্র। আর এ চরিত্র গঠন করতে হয় ছাত্রজীবনেই। কথায় বলে 'চরিত্রহীন মানুষ পশুর সমান।' শিক্ষিত হলে কী হবে, সৎ চরিত্রের অধিকারী না হলে জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তাই ছাত্রজীবনেই সৎ চরিত্র তথা সাধুতা, সত্যবাদিতা, আত্মসংযম, দেশপ্রেম, ধৈর্য প্রভৃতি গুণ আয়ত্ত করে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দেশের সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হতে হবে। সর্বদা সত্য কথা বলা, সৎ সঙ্গে চলা ও ভালো বই পড়ার মাধ্যমে এটা সম্ভব হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ইংরেজি প্রবাদটি প্রণিধানযোগ্য- "When money is lost, nothing is lost When health is lost, Something is lost, But When Character is lost, everything is lost." ছাত্রজীবনে শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ: সৌজন্য ও শিষ্টাচারের ছোঁয়াতেই ছাত্র হয় বিনীত ও ভদ্র। নতুন প্রাণস্পন্দনে হয় গৌরবান্বিত। ছাত্রজীবনে গুরুজনদের যে শ্রদ্ধা করতে শিখল না, যার উদ্ধত অবিনীত ব্যবহারে শিক্ষক বিরক্ত, যার রূঢ় অমার্জিত আচরণে বন্ধুরা ক্ষুব্ধ-বেদনাহত, পরবর্তী জীবনেও তার একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তখন সে হয় অশুভ শক্তি, অকল্যাণের মূর্ত প্রতীক। ছাত্রজীবনই মানুষের সুপ্ত সুকুমার বৃত্তি লালনের শুভক্ষণ। শিষ্টাচার, সৌজন্য তো তার মনুষ্যত্ব অর্জনেরই সোপান। এরই মধ্যে আছে নিজেকে সুন্দর ও সার্থকতায় পরিপূর্ণ করে। তোলার মহাশক্তি। শিষ্টাচার ও সৌজন্য প্রকাশের জন্য ছাত্রদের কিছু হারাতে হয় না, কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না, বরং এক মহৎ অঙ্গীকারে তার সমৃদ্ধ জীবন প্রকাশের পথ প্রশস্ত হয়। বিনয়ী, ভদ্র ছাত্র শুধু শিক্ষকের স্নেহই কেড়ে নেয় না, সে পায় শিক্ষকের আশীর্বাদ, পায় তার সাহায্য। সৌজন্য ও শিষ্টাচারের অভাব ছাত্রকে অবিনীত, স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর করে। ছাত্রজীবনে সামাজিক নেতৃত্ব: সমাজের যেকোনো কাজে ছাত্রসমাজ নেতৃত্ব দিতে পারে। মহামারি প্রতিরোধ, বন্যার সময় জনসেবায় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছাত্রছাত্রীরা শুধু অংশগ্রহণ করেই নয়, নেতৃত্বও দিয়ে থাকে। স্বাধীন বাংলাদেশে সমাজসেবায় ছাত্রদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বন্যার্তদের সেবার জন্য ছাত্ররা কেবল কায়িক পরিশ্রমই করে না, তারা বিভিন্নভাবে তহবিলও গঠন করে। এককথায়, ছাত্রজীবনে সমাজসেবার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনস্বীকার্য। নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ থেকে অজ্ঞতা, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার দূর করা ছাত্রদের কর্তব্য। জনসাধারণের খাদ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে সচেতন করে তোলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে ছাত্রছাত্রীরা সমাজের উন্নতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখতে হবে, আত্মস্বার্থে নিমগ্ন মানুষ যথার্থ মানুষ নয়- পরের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত জীবন সার্থক জীবন। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে- "পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি/এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে/আপনার কথা ভুলিয়া যাও।" - (কামিনী রায়) ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলানুশীলনের উপযুক্ত সময়: ছাত্রজীবনই শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতা অনুশীলনের উপযুক্ত সময়। এ সময় সজীব-কোমল মানবভূমিতে শৃঙ্খলাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার বীজ বপন করলে উত্তরকালে তাতে অমৃত ফল ফলে। শৃঙ্খলানুশীলন তাই সর্বকালের সর্বদেশের ছাত্রদের অবশ্য আচরণীয় বিধি। দেশ গঠনের নামে ছাত্রসমাজের উচ্ছৃঙ্খলতা: ছাত্রসমাজ অগ্রযাত্রীর দল। তারা স্বভাবতই অগ্রসর হতে চায়, চায় কর্মব্যস্ততা, কিন্তু আজ তাদের সামনে অগ্রসর হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ। কর্মহীনতার বিশাল অবকাশ তাদের মানসক্ষেত্রে যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশব্যাপী আশাহীনতা তাদের নিক্ষেপ করেছে এক গভীর নৈরাশ্যের অন্ধকারে। সেবাদান মানুষের মনুষ্যত্বের প্রকাশ- এ আদর্শের আলোকে গণমানুষকে যেকোনো বিপদসংকুল পরিবেশে সেবাদান করতে গিয়ে কেউ না কেউ রাজনীতিক বা দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। সেবাদানের এ সময়টুকুতে রাজনীতিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক সময় তাদের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করে। স্বভাবত শৃঙ্খলাবোধ হারিয়ে হিংস্রতার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আশ্রয় নিয়ে ছাত্রসমাজ উচ্ছৃঙ্খলতার কলঙ্কের বোঝা মাথায় বয়ে চলে। উপসংহার: বর্তমানে বাংলাদেশের সুশীলসমাজ ছাত্রসমাজের দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা দাবি করে। ছাত্রসমাজের মনে রাখতে হবে যে, ছাত্রজীবনই হলো দায়িত্ববোধ বিকাশের কাল, সামাজিক কর্তব্যবোধে দীক্ষিত হওয়ার সময়। বর্তমান নৈরাশ্যের অন্ধকার কিংবা রুচি-বিকৃতির কুয়াশা অপসারিত হয়ে শীঘ্রই নতুন আশা ও আদর্শের সূর্যোদয় হবে। এরপর আসবে নতুন দিন, নতুন জীবন। আমাদের ছাত্রসমাজ তাকে বরণ করার জন্য যেন প্রস্তুত থাকে। এজন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে আত্মনিয়োগ করে আদর্শ নাগরিকরূপে গড়ে উঠতে হবে।

উত্তর

ভূমিকা: বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানীদের নানা আবিষ্কারের সূত্র ধরে জন্ম নিয়েছে আধুনিক যুগ। মানুষ তার যুগযুগান্তরের স্বপ্ন ও সাধনার অনবদ্য ফসল দিয়ে সভ্যতার এ বিশাল ইমারত গড়ে তুলেছে। তিল তিল প্রাণশক্তি এবং বিন্দু বিন্দু রক্ত দিয়ে মানুষ রচনা করেছে সভ্যতার এ তিলোত্তমা-মূর্তি। যে সভ্যতার বেদিমূলে রয়েছে বাহুর শক্তি, মস্তিষ্কের বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি এবং হৃদয়ের ভালোবাসা। বিজ্ঞান মানুষের অতন্দ্র সাধনার ফসল। বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, সভ্যতার পদক্ষেপকে করেছে দ্রুততর। পৃথিবীকে করেছে ছোট। মানুষকে দিয়েছে অনিঃশেষ শক্তির অপরিমেয় অহমিকা। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার: প্রাচীন যুগের সেই অসহায় মানুষ আজ অসীম শক্তিধর। হিংস্র পশুর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য পাথর আর গাছের ডাল ব্যবহার করতে করতে একসময় বল্লম, তীর, ধনুক, ঢাল, তলোয়ারের ব্যবহার করতে শিখেছে তারা। আধুনিক বিজ্ঞান সময় ও দূরত্বকে জয় করেছে। জেমস ওয়াট স্টিম ইঞ্জিন ও জর্জ স্টিভেনস্স্ন রেলগাড়ি আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানের বলে মানুষ জল, স্থল ও অন্তরিক্ষ জয় করেছে। বিজ্ঞান মানুষের সংকট নিবারণের ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিধানের বহু অভাবনীয় কৌশল আবিষ্কার করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতিতে আজ অধিকাংশ দুরারোগ্য ব্যাধি হয়েছে চিকিৎসাযোগ্য। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: বিজ্ঞানের ঐন্দ্রজালিক, শক্তিবলে মানুষ উদ্দাম, উচ্ছৃঙ্খল নদীর গ্রোতকে বশীভূত করে ঊষর মরু-প্রান্তরকে করেছে জলসিক্ত, ভূগর্ভের সঞ্চিত শস্য সম্ভাবনাকে করে তুলেছে উজ্জ্বল। পাষাণী ধরিত্রীর সর্বদেহে সঞ্চারিত করে দিয়েছে অপূর্ব প্রাণ-স্পন্দন। বিজ্ঞান আজ উর্বরতা দিয়ে ক্ষয়িষ্ণু বসুধাকে শস্যবতী করে তুলেছে, শিল্পশৈলীর নব নব প্রবর্তনে উৎপাদন-জগতে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রাগৈতিহাসিক মানবের অগ্নি-প্রজ্বলন কৌশল আয়ত্ত করার দিন থেকে আধুনিক পাথফাইন্ডার মহাকাশযানের যুগ পর্যন্ত মানুষের অতন্দ্র সাধনা বিজ্ঞানকে করেছে সমৃদ্ধ, সভ্যতাকে করেছে জাম। বাষ্পীয় শক্তিকে করেছে বিজ্ঞান আজ বশীভূত, আকাশের বিদ্যুৎকে করেছে করায়ত্ত; মুঠিতে পুরে নিয়েছে আণবিক ও পারমাণবিক শক্তিকে। দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান: বিজ্ঞান আমাদের জীবনকে বিস্তৃতি দিয়েছে।সুদূরকে করেছে নিকট। ঘুচিয়ে দিয়েছে স্থানিক এবং মানসিক সংকীর্ণতা। প্রতিদিন প্রভাত কলরবের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্র আমাদের ঘরে পৌঁছে দেয় বিশ্বের অসংখ্য সংবাদ কণিকা। বেতারে ধ্বনিত হয় বিশ্ববার্তা। দূরদর্শনের পর্দায় ভেসে ওঠে পৃথিবীর দূরদূরান্তের ছবি, নিখিল মানুষের চলমান স্রোত। ঘুম থেকে উঠে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞান শক্তির অকৃপণ দাক্ষিণ্য লাভ করতে করতে চলেছি আমরা। আমাদের দিনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে বিজ্ঞান। অভ্যস্ত জীবনধারায় কোনো 'ছন্দপতন ঘটলেই আমরা উপলব্ধি করি, প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা কতখানি ব্যাপক ও গভীর। হঠাৎ যখন বিদ্যুতের অভাবে আলোকোজ্জ্বল রাত্রি গভীর অন্ধকারে ডুবে যায়, তখনই বুঝতে পারি বিজ্ঞান আমাদের কতটা দিয়েছে। পরিধেয় বস্ত্র থেকে ঘরবাড়ি, পথঘাট, ওষুধপত্র, কৃষিজ, খনিজ, ভোগ্যপণ্য সবই তো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার ফসল। বস্তুত আমাদের বর্তমান জীবনটাই বিজ্ঞান-নিয়ন্ত্রিত। চিকিৎসা জগতে বিজ্ঞান: চিকিৎসা জগতে বিজ্ঞান আজ যুগান্তর এনেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফলে দুরারোগ্য ব্যাধিতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। স্টেপটোমাইসিন, পেনিসিলিন, এক্স-রে প্রভৃতি মৃত্যুপথযাত্রীকে দান করেছে নিশ্চিত বিশ্বাস ও আশা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ফলে মানবদেহের অভ্যন্তরস্থ ফুসফুস, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, বৃক্ক, ধমনি, শিরা ইত্যাদির নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়। অতিকম্পনশীল প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানকে নিয়ে এসেছে সর্বাধুনিক পর্যায়ে। শিল্পক্ষেত্রে বিজ্ঞান: শিল্প-কারখানায় মানুষের হাতের কাজকে বিজ্ঞান অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। ইতোপূর্বে শিল্প-কারখানায় সমস্ত কাজই হাতে করা হতো। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে এখন সময় কম ব্যয় হচ্ছে, খরচ কম পড়ছে এবং উৎপাদন হচ্ছে অধিক। কৃষিক্ষেত্রে: বিজ্ঞানের ছোঁয়া কৃষিক্ষেত্রেও বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তার করেছে। প্রাচীন ভোঁতা লাঙলের পরিবর্তে আজ ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নতমানের কলের লাঙল ও ট্রাক্টর। পঁচা আবর্জনা ও গোবরের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক রাসায়নিক সার। গবেষণার মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে উন্নতমানের বীজ। সুতরাং বলা যায়, কৃষিক্ষেত্রেও বিজ্ঞান মহাবিপ্লব এনেছে। জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি: মুদ্রণযন্ত্র ও কম্পিউটারের আবিষ্কার মানুষের জ্ঞানচর্চাকে করেছে সহজতর। মানুষের চিন্তাচেতনা খুব সহজে মুদ্রণযন্ত্রের সাহায্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, ফটোস্ট্যাস্ট মেশিনের সাহায্যে অতি অল্প সময়ে শত শত পাতার ফটোকপি করা সম্ভব হচ্ছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আনন্দদানের পাশাপাশি শিক্ষাদানও চলছে। উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা ও জাতীয় চেতনাকে উজ্জীবিত করার জন্য চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, আজ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাব্যবস্থাসহ সকল ক্ষেত্রে যুগান্তরকারী পরিবর্তন এনেছে কম্পিউটার। বিজ্ঞানের সর্বধ্বংসী অকল্যাণমূর্তি: যে বিজ্ঞান সভ্যতার শরীরে জীবন প্রতিষ্ঠা করেছে, আজ তার বিনাশেও সে মেতে উঠেছে। বিংশ শতাব্দীতে সংঘটিত দুটি মহাযুদ্ধের ভায়াবহ ধ্বংসলীলা বিজ্ঞানের দানবীয় শক্তি সম্বন্ধে মানুষের মনে এনেছে এক ঘোরতর আতঙ্ক। পারমাণবিক বোমা, হাইড্রোজেন বোমা, ডিনামাইট, বোমারু বিমান, ট্যাঙ্ক, সাবমেরিন ইত্যাদি আবিষ্কারের ফলে মানবজীবনে বিজ্ঞান অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানকালে বিজ্ঞান কী চায়? জীবন না মৃত্যু? আজ পৃথিবীর মানুষের মনে জেগেছে এ অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু বিজ্ঞানের এ বিধ্বংসীরূপের জন্য বিজ্ঞান দায়ী নয়। বরং যারা একে নিজেদের সার্থে ব্যবহার করছে তারাই দায়ী। উপসংহার: অসীম সম্ভাবনাময় বিজ্ঞান বিশ্বের মুষ্টিমেয় স্বার্থপর নরঘাতকের জন্য আজ সমাজের সার্বিক দুঃখ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান যদি সর্বধ্বংসী মারণাস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত হয়ে কেবল মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবেই মানুষের দুঃখ রজনীর অবসান হবে। হিংস্রতার রক্ত বিপ্লবের হাত থেকে রক্ষা পাবে ধরিত্রী।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।