শেয়ারFacebookWhatsApp

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার।

উত্তর: ভূমিকা: মাদকাসক্তি আমাদের সমাজের ভয়াবহ একটি সমস্যা। অবশ্য সমস্যা না বলে এক সংকট বলাই শ্রেয়; কারণ কিছু কিছু পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একজন মানুষ নিজেকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে। আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তবে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ করা যায়। একটি জাতির উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করে তরুণ সমাজ। কিন্তু মাদক তরুণ সমাজের সেই অদম্য কর্মপ্রেরণাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে সে নিজেকে যেমন ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়, তেমনি দেশকেও মহাবিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দেয়। এই তরুণরাই তখন হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে বিপথগামী সম্প্রদায়। মাদকের আদি উৎস: মাদক ও এর নেশার ইতিহাস বেশ প্রাচীন হলেও তার একটা সীমারেখা ছিল। মদ, গাঁজা, আফিম, চরস বা তামাকের কথা বহু' আগে থেকেই মানবসমাজে প্রচলিত ছিল। উনিশ শতকের মধ্যভাগে বেদনানাশক ওষুধ হিসেবে মাদকের ব্যবহার শুরু হয়- যাকে ইংরেজিতে ড্রাগ বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে সৈনিকদের ব্যথার উপশম হিসেবে ড্রাগের ব্যবহার হলেও হতাশা কাটাতেও তারা ড্রাগ ব্যবহার করত। এরপর থেকেই কলম্বিয়া, বলিভিয়া, ব্রাজিল,, ইকুয়েডর ইত্যাদি দেশে নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ড্রাগের ব্যবহার শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মাদকদ্রব্যের প্রকারভেদ: বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। প্রাচীনকালের মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি আধুনিক সময়ে নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের উদ্ভাবন ও ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। হেরোইন, প্যাথেডিন, এলএসডি, মারিজুয়ানা, কোকেন, হাশিশ, প্রভৃতি আধুনিককালের মাদকদ্রব্য; তবে এর মধ্যে হেরোইন ও কোকেন বেশ দামি। আমাদের দেশের যুব সমাজ সচরাচর যে মাদকদ্রব্যগুলো ব্যবহার করে সেগুলো হলো- সিডাকসিন, ইনকটিন, প্যাথেডিন, ফেনসিডিল, ডেক্সপোটেন, গাঁজা ইত্যাদি। তবে এ সবকিছুর ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে অত্যাধুনিক এক মাদক- 'ইয়াবা'। মাদক চোরাচালান: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাভাবে মাদক চোরাচালান হয়। সীমান্তে স্থল বা জলপথে এবং আকাশপথে বিশ্বব্যাপী এক বৃহৎ চোরাচালান নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে যার পেছনে রয়েছে বিরাট এক সিন্ডিকেট। কিছুকাল আগেও মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম নিয়ে গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের 'স্বর্ণভূমি' বা 'গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল'। তবে ভিয়েতনামে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই নেটওয়ার্ক ভেঙে যায়। এর কিছুদিন পরেই চোরাচালানকারীরা ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে গড়ে তোলে ড্রাগ পাচারের নতুন ভিত্তিভূমি 'গোল্ডেন ক্রিসেন্ট'। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার: মানুষ নিজেকে অপ্রকৃতিস্থ করতে মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে। মাদকের ব্যবহার করে সে কল্পনার এক জগতে কিছুসময়ের জন্য বিচরণ করে। এক্ষেত্রে মাদক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের 'পদ্ধতি অনুসরণ করে যেমন ধুমপান, ইনহেল বা শ্বাসের মাধ্যমে, জিহ্বার নিচে গ্রহণের মাধ্যমে, সরাসরি সেবনের মাধ্যমে, স্কিন পপিং ও মেইন লাইনিং-এর মাধ্যমে। তবে যেভাবেই গ্রহণ করুক না কেন তাদের উদ্দেশ্য একটাই- নেশায় উন্মত্ত হওয়া। প্রথমে কৌতূহলের বশে অনেকেই নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে। কিন্তু আস্তে আস্তে তাতে অভ্যস্থ হয়ে ভয়াবহ এক সর্বনাশের পথে এগিয়ে যায়। মাদকাসক্তির কারণ: মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ ব্যক্তিজীবনের হতাশা। মানুষ যখন জীবন সম্পর্কে অনেক বেশি হতাশ হয়ে পড়ে, তখন সে মাদকদ্রব্যের আশ্রয় নেয়। হতাশা সাধারণ তরুণদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়, তাই তাদের মাদক গ্রহণের হারও অনেক বেশি। তাছাড়া অসৎ সঙ্গে লিপ্ত হয়েও অনেকেই মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। যেসব পরিবারে পারিবারিক অশান্তি অনেক বেশি সে পরিবারের ছেলেমেয়েদের জীবন বিশৃঙ্খল হতে থাকে। তারা এই বিশৃঙ্খলা থেকে ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পরিণামে অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটায়। আমরা প্রতিদিনের পত্র-পত্রিকায় এ ধরনের অনেক ঘটনাই লক্ষ করি। বেশির ভাগ ঘটনায় হয় বন্ধু-বান্ধব বা সহপাঠী কিংবা পারিবারিক অশান্তিই মূল কারণ হিসেবে দেখা যায়। বাংলাদেশে মাদকের আগ্রাসন: আমাদের দেশে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা এই মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে অবাধে এ দেশে প্রবেশ করছে ইয়াবা-যাতে আক্রান্ত হয়েছে বহু তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী। দর্শনার 'কেরু অ্যান্ড কোম্পানি', এদেশের একমাত্র লাইসেন্সধারী মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তার বাইরে বহু বিদেশি কোম্পানির মদ অবৈধভাবে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাঁজা ও আফিমের মতো মাদকদ্রব্য, প্রায় উন্মুক্ত ভাবে দেশের সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে এবং মাদকসেবীরা তা অবাধে ক্রয়ও করছে। মাদকাসক্তির ভয়াবহতা: মাদকের রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ ও আগ্রাসী। একে অনেকটা অপ্রতিরোধ্য রোগ এইডসের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির মতোই মাদকাসক্তি মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। ইয়াবা ও হেরোইনের মতো মাদকদ্রব্য মানুষের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। এর আসক্তিতে মানুষ এক অস্বাভাবিক জীবনযাপন করে। নেশায় আক্রান্ত 'ব্যক্তির সুস্থ জীবনে ফিরে আসাও খুব সহজ হয় না। মাদক বন্ধ করা মাত্রই 'উইথড্রয়াল সিম্পটম' শুরু হয়। তখন মাদক না পেলে শুরু হয় 'টার্কি পিরিয়ড'; হাত-পা কাঁপতে থাকে; অসম্ভব শারীরিক যন্ত্রণা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হৃদপিন্ডে আঘাত করে। এই সময় সুচিকিৎসা না পেলে খুব অল্প সময়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। মাদকাসক্তির প্রতিকার: পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সচেতনতার মাধ্যমে একজন মানুষকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব। পারিবারিকভাবে একজন নারী বা পুরুষের জীবন যদি সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে তাহলে তার মাদকের সংস্পর্শে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে তারা নানাভাবে মাদকদ্রব্যবিরোধী প্রচারণা চালাতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও এর সঙ্গে নিয়োজিত চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সার্বিকভাবে একজন মানুষকে যদি তার নিকটাত্মীয়রা খুব ভালোভাবে পরিচর্যা করে এবং রাষ্ট্র যদি তাকে সুস্থভাবে বাঁচার পরিবেশ করে দেয় তবে খুব সহজেই মাদকাসক্তির প্রতিকার করা সম্ভব। উপসংহার: একটি দেশের গতিশীলতাকে অব্যাহত রাখে তরুণ সমাজ। তারাই যদি মাদকের কবলে পড়ে নিজেদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয় তবে দেশের সার্বিক অগ্রগতি চরমভাবে বিনষ্ট হবে। তাই তরুণ সমাজকে মাদক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং এর কারবারিদের বয়কট করতে হবে। তাদের ঐক্য ও সুস্থ জীবনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার।

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2020

উত্তর

ভূমিকা: অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বে শিল্পবিপ্লবের ছোঁয়ায় মানুষের জীবনে যন্ত্রের প্রভাব বিস্ময়করভাবে পরিলক্ষিত হয়। এই বিস্ময় আরও তীব্র হয়েছে বিংশ শতাব্দীতে মানুষের পৃথিবী ছেড়ে চাঁদে গমন করার অনন্য সাফল্যে। আর এই সাফল্যের পেছনে যে যন্ত্রটি অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে তা হলো 'কম্পিউটার'। মানুষের মানসিক শ্রম লাঘব করার অসম্ভব দায়িত্ব পালন করছে কম্পিউটার। কম্পিউটার আবিষ্কারের ফলে মানুষ যন্ত্রশক্তির মাধ্যমে দুর্বার শক্তির অধিকারী হয়েছে।। কম্পিউটারের ধারণা: ল্যাটিন শব্দ 'কম্পিউট' (Compute) থেকে কম্পিউটার কথার উদ্ভব। কম্পিউটারকে এক অর্থে যন্ত্র মস্তিষ্কও বলা যায়। এটি এমন একটি যন্ত্র যা অগনতি উপাত্ত ও তথ্য গ্রহণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে পারে। মানুষ যেমনভাবে তার স্মৃতিতে তথ্য ধরে রাখে, তেমনি কম্পিউটারও তার স্মৃতি বা মেমরিতে তথ্য ধরে রাখে। কম্পিউটারে রয়েছে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ ১. সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট, ২. ইনপুট ও ৩. আউটপুট। কম্পিউটার যেসব তথ্য নিয়ে কাজ করে তাকে ডেটা বলে; আর যে ক্রমবিন্যাস পদ্ধতিতে কাজ করে তাকে বলে প্রোগ্রাম। কম্পিউটারের নির্ভুলভাবে কাজ করার পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু পদ্ধতি- অত্যন্ত দ্রুত গণনা করার ক্ষমতা; বিপুল পরিমাণ উপাত্তকে স্মৃতিতে ধরে রাখার ক্ষমতা; তথ্য বিশ্লেষণের নির্ভুল ক্ষমতা; প্রোগ্রাম অনুসারে কাজ করার ক্ষমতা। ইতিহাস ও বিবর্তন: গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ (১৭৯২-১৮৭১)-কে কম্পিউটার সৃষ্টির জনক বলা হয়। ১৮৩৩ সালে ব্যাবেজ 'অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন' নামক গণনা যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন। ব্যাবেজ যে পাঁচটি ভাগে (স্টোর, মিল, কন্ট্রোল, ইনপুট, আউটপুট) - কম্পিউটার তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন তার ওপর ভিত্তি করেই ১৯৬৪ সালে 'ইনিয়াক' নামক প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয়। বাংলাদেশে কম্পিউটার: পূর্ব পাকিস্তানে (১৯৭১ পূর্ববর্তী বাংলাদেশ) ১৯৬৪ সালে আণবিক শক্তিকেন্দ্রে IBM 1620 সিরিজের একটি কম্পিউটার আনার মাধ্যমে এ দেশে কম্পিউটারের পদচারণা শুরু হয়। কিন্তু আশির দশকের আগে এ দেশে কম্পিউটার শিক্ষার কোনো প্রসার হয়নি। নব্বইয়ের দশক থেকেই মূলত এদেশে কম্পিউটার শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা শুরু হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে কম্পিউটার মানুষের প্রায় হাতে হাতে পৌছে গেছে। দেশেই তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের সফটওয়্যার। দিন দিন বাংলাদেশের আইটি (ইনফরমেশন টেকনোলজি) কম্পিউটারকে ভিত্তি করে বিশ্বদরবারে শক্তিশালী জায়গা করে নিচ্ছে। আধুনিক জীবন ও কম্পিউটার: বর্তমান সময়ে কম্পিউটার আধুনিক মানুষের সবচেয়ে বড়ো বন্ধু। বহু বহু অঙ্কের হিসেব খুব সহজেই কম্পিউটার করে দিতে পারে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান সব স্থানেই কাজের সুবিধার্থে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার ফল থেকে শুরু করে অপরাধী শনাক্তকরণের সব কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের নকশা তৈরি, বহুতল ভবনের ডিজাইন, শিশুদের অঙ্কন শিক্ষাসহ বিনোদনমূলক নানা শিক্ষা, জটিল রোগ নির্ণয় প্রভৃতি কাজে কম্পিউটারের সাফল্য ঈর্ষণীয়। মোটকথা, বর্তমানে জীবনের প্রায় সব কাজ কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল। কম্পিউটার ও বেকারত্ব: বেকারত্ব নিরসনে কম্পিউটার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এদেশের বাস্তবতায় সবার পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। সে কারণে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পর অনেকেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের জীবনে বেকারত্বের অবসান করেছে। কেউ সফটওয়্যারের নানা ধরনের ট্রাবলশুটিং করছে, কেউ আবার হার্ডওয়্যার সমস্যার সমাধান করছে। তাছাড়া প্রতিটি অফিসেই কম্পিউটার অপারেটর পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে যার প্রধানতম যোগ্যতা কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষতা। কাজেই বলা যায় এদেশের বেকারত্ব নিরসনে কম্পিউটার আশীর্বাদ হয়েই দেখা দিয়েছে। কম্পিউটার ও শিক্ষা: বর্তমান সময়ের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সবস্থানেই কম্পিউটার বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় কম্পিউটার বিষয় হিসেবে যেমন পড়ানো হচ্ছে, তেমনি উচ্চশিক্ষায় কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া 'কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ে দেশে কম্পিউটার বিষয়ের প্রকৌশলী সৃষ্টি হচ্ছে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে কম্পিউটার বিষয়ে উচ্চতর দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশেই সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের কম্পিউটার ফার্ম যারা কম্পিউটারের মানোন্নয়ন ও এর ব্যবহারকে আরও প্রসারিত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কম্পিউটার ও শিল্পবাণিজ্য: শিল্প ও বাণিজ্যে কম্পিউটার ব্যবহার বহু কর্মঘণ্টা ও পরিশ্রমকে সাশ্রয় করেছে। অটোমেশনের ফলে ভারী অনেক কাজও সহজ হয়ে গেছে। বন্দরগুলোতে ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে পণ্য খালাসেও নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। পোশাক কারখানা ও দেশীয় ইলেকট্রনিকস কারখানায় কম্পিউটারের ব্যবহার কাজে নতুন গতি এনেছে। শিল্পের সমস্ত পর্যায়ে কম্পিউটার দিয়েছে নতুন গতি, নতুন প্রাণ। বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্প ও বাণিজ্যের কোনো সেক্টরই কম্পিউটারের বাইরে নয়। কম্পিউটার ও কৃষি: বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর; তাই কৃষিতে কম্পিউটারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর পরীক্ষা ছাড়া কৃষক মাটিতে সার ও কীটনাশক দেয় না। জমির উর্বরতাও এখন কম্পিউটার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। তাছাড়া কম্পিউটারের সাহায্যে আবহাওয়ার। পূর্বাভাষ জানা সম্ভব হয় বলেই কৃষক তার ফসলকে রক্ষা করার সুযোগ পায়। গবেষণাগারে কম্পিউটারের মাধ্যমে গবেষণা করেই নতুন নতুন উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হচ্ছে। আর সেগুলো মাটিতে বপন করেই কৃষক ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করছে। উপসংহার: তৃতীয় বিশ্বের মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশে আজ প্রযুক্তির বহুমুখী উৎকর্ষ সাধন খুবই জরুরি। আর সে কাজটি সম্ভব হতে পারে কম্পিউটার নামক যন্ত্রের হাত ধরে। কম্পিউটার এখনো সব মানুষের কাছে সহজসাধ্য হয়নি। যেহেতু আমরা কম্পিউটারের প্রায় সকল যন্ত্রাংশই আমদানি করি, তাই এক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া আবশ্যক। তাছাড়া সম্ভব হলে কম্পিউটার ক্রয়-বিক্রয়ে সব রকম ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। যাতে মানুষ খুব সহজেই কম্পিউটারের সান্নিধ্যে আসতে পারে এবং তার জীবনকে উন্নত ও আধুনিক করে.. তুলতে পারে।

উত্তর

ভূমিকা: ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। বিভিন্ন ঋতুর আগমনে এখানে অতুলনীয় প্রাকৃতিক লীলাবৈচিত্র্যের সমারোহ ঘটে। কদম্ব, কেতকী, যুথিকা, গন্ধরাজ, হাসনাহেনার গন্ধবাহার বর্ষা প্রকৃতির অনির্বচনীয় প্রকাশ। তাই বসন্তকে ঋতুরাজ বললেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বর্ষাই বাংলার প্রিয় ঋতু। বর্ষার সময়: আষাঢ় ও শ্রাবণ এ দুইমাস বর্ষাকাল। কিন্তু আমাদের দেশে বর্ষার আগমন আগেই ঘটে যায় এবং বর্ষা শেষও হয় দেরিতে। এদেশে সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে বর্ষা আরম্ভ হয়ে আশ্বিন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বর্ষার আগমন: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহের পর 'অতি ভৈরব হরষে' সজল গুরুগম্ভীর বর্ষার নব আবির্ভাব। বর্ষা বাংলাদেশের আকাশে ও মাটিতে আনে রং ও রসের অফুরন্ত উপহার। সে রূপকথার রাজপুত্রের মতো ছুটে আসে। তার রথের মর্মর ধ্বনি শোনা যায়, তার বাঁকা তলোয়ার ঝলসে ওঠে। এ সময়ে মাঠঘাট, পথপ্রান্তর, নদীনালা, খালবিল, জলপূর্ণ হয়ে ওঠে। পৃথিবীর খরতপ্ত দিনের হয় অবসান, মাটির কঠিন বাধা ছিন্ন করে শস্য শিশুর দল আবির্ভূত হয়। তাদের হাতে থাকে নব-অঙ্কুরের জয় পতাকা। আসে পুষ্প বিকাশের লগ্ন। রূপ-রস-বর্ণ-শব্দ-গন্ধ গীতে বর্ষার সমারোহ-উৎসবে বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে। কবি রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন- 'ঐ আসে ঐ অতি ভৈরব হরষে জলসিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ রভসে ঘন গৌরবে নব যৌবনা বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা।' বর্ষার রূপ: দূরে শ্যামল গ্রাম, আদিগন্ত জল বিস্তারে শস্য-শিশুর নৃত্য, আকাশে কৃষ্ণ ধূসর মেঘবিন্যাস, দিগন্ত বিলাসী বক-পক্ষীর নিরুদ্দেশ যাত্রা। শস্য-বিচিত্রা পৃথিবীর বিস্তৃত প্রান্তরে কৃষকদের সংগীত মুখরতা। আকাশের বুক ফেটে বৃষ্টি নেমে আসে। এমন দিনে ঘরে বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই কবি গেয়েছেন- 'নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' বর্ষাকালে নৌকা, ডিঙি, ভেলা প্রভৃতি চলাফেরা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কৃষকরা বৃষ্টিতে ভিজে ফসল তোলার কাজে ব্যস্ত থাকে। কারণ বর্ষাকাল পাট কাটার ও ধান চাষের উপযুক্ত সময়। বর্ষার বৈশিষ্ট্য: বর্ষার আকাশ সারাদিন মেঘাচ্ছন্ন থাকে, সূর্যের দেখা মেলে না। নদীনালা, খালবিল, মাঠঘাট সব পানিতে টইটম্বুর থাকে। সারাদিনই অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ে। কবির ভাষায়- 'বাদলের ধারা ঝরে ঝর-ঝর আউশের ক্ষেত জলে ভর-ভর। কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ চাহি রে।' গ্রীষ্মকালের শুষ্ক নদী নিমেষেই ভরে যায়। দুকূল ছাপিয়ে ছলছল করে বয়ে চলে পানি। নদনদী সব নবযৌবনের রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পল্লির অবস্থা: গ্রামের নদীনালা, ডোবা, পুকুর, খালবিল সব পানিতে থৈ থৈ করে। নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায় না। রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। ফলে মানুষের চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মধ্যেই কৃষকরা মাঠে যায়, গৃহিণীরা গৃহের কাজকর্ম করে। নদীতে মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। খালবিলে শাপলা ফুলের সমারোহ দেখা যায়। শহরে বর্ষার অবস্থা: বর্ষায় শহরের নিম্নাঞ্চলগুলো ডুবে যায়। উন্নত পয়ঃপ্রণালির অভাবে বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ডুবে যায়। বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে মানুষকে বাইরে যেতে হয়। এ সুযোগে রিক্সা, স্কুটার চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে কাঁচা তরকারির দাম বাড়ে। ফলে মধ্যবিত্ত ও বস্তিবাসীদের কষ্ট বেড়ে যায়। বর্ষার উপকারিতা: বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে সমস্ত ময়লা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এ সময়ে তরুলতা, গাছ-পালা খুব সতেজ হয়ে ওঠে। প্রকৃতিতে দেখা যায় রকমারি ফলের আয়োজন, বিচিত্র ফুলের সম্ভার। নদীপথের যাতায়াত এবং পরিবহন হয় সহজ, সরল ও প্রশস্ত। বাঙালির অর্থনৈতিক জীবনে বর্ষা: বাংলার কৃষক এ ঋতুতে বীজ বোনে, চারাগাছ তোলে এবং রোপণ করে। বর্ষাই বাংলাকে করেছে শস্য-শ্যামল। বাংলার অন্নবস্তু, তার সমস্ত ঐশ্বর্য বর্ষার দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা বাঙালির মনোভূমিকেও করেছে সরস ও কাব্যময়। অর্থনৈতিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য বিধান করে সে তার সাংস্কৃতিক জীবনও গঠন করে দিয়েছে। রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী, বর্ষামঙ্গল, বৃক্ষরোপণ বর্ষার অবদান। বর্ষার অপকারিতা: বর্ষার গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি বর্ষার অপকারিতাও কম নয়। বৃষ্টির পানিতে পল্লির রাস্তাঘাট কাদায় ভরে ওঠে এবং কোনো কোনো জায়গা পানিতে ডুবে যায়, চলাচলের অসুবিধা হয়। দিনমজুররা হয় ঘরে আবদ্ধ; তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। গরিবের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে ঘর ভেসে যায়। মরুবিজয়ের কেতন উড়িয়ে মেঘের গুরু-গুরু মাদল বাজিয়ে দক্ষিণ দিক থেকে ঝরে পড়ে বর্ষা। উত্তর দিক থেকে নেমে আসে মরণঢালা ভয়ংকরী বন্যা। এসময় দূষিত পানি পানের ফলে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় প্রভৃতি রোগ মহামারি আকার ধারণ করে। মানবমনে বর্ষার প্রভাব: বর্ষার মেঘাচ্ছন্ন আকাশের ছায়ায় বনভূমি শ্যামল হয়ে ওঠে। বর্ষা মনকে সহজ-সরল ও সৃষ্টিশীল করে তোলে। মন হয় উদাস। এমন দিনে মন যেন কারো নিবিড় সান্নিধ্য লাভ করতে চায়। তাই কবি জসীমউদ্দীন বলেছেন- 'আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন ছল ছল জলধারে বেনু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে।' উপসংহার: অপূর্ব রূপশ্রী নিয়ে বর্ষা এদেশে আগমন করে। বর্ষার অপকারের চেয়ে উপকার অনেক বেশি। বর্ষা না হলে আমাদের দেশ মরুভূমিতে পরিণত হতো। শুধু বর্ষার কারণেই এদেশ সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা অনিন্দ্যসুন্দর হয়েছে।

উত্তর

ভূমিকা: মাদকাসক্তি আমাদের সমাজের ভয়াবহ একটি সমস্যা। অবশ্য সমস্যা না বলে এক সংকট বলাই শ্রেয়; কারণ কিছু কিছু পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একজন মানুষ নিজেকে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে। আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। তবে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ করা যায়। একটি জাতির উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করে তরুণ সমাজ। কিন্তু মাদক তরুণ সমাজের সেই অদম্য কর্মপ্রেরণাকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে সে নিজেকে যেমন ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়, তেমনি দেশকেও মহাবিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দেয়। এই তরুণরাই তখন হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে বিপথগামী সম্প্রদায়। মাদকের আদি উৎস: মাদক ও এর নেশার ইতিহাস বেশ প্রাচীন হলেও তার একটা সীমারেখা ছিল। মদ, গাঁজা, আফিম, চরস বা তামাকের কথা বহু' আগে থেকেই মানবসমাজে প্রচলিত ছিল। উনিশ শতকের মধ্যভাগে বেদনানাশক ওষুধ হিসেবে মাদকের ব্যবহার শুরু হয়- যাকে ইংরেজিতে ড্রাগ বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে সৈনিকদের ব্যথার উপশম হিসেবে ড্রাগের ব্যবহার হলেও হতাশা কাটাতেও তারা ড্রাগ ব্যবহার করত। এরপর থেকেই কলম্বিয়া, বলিভিয়া, ব্রাজিল,, ইকুয়েডর ইত্যাদি দেশে নেশার দ্রব্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ড্রাগের ব্যবহার শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মাদকদ্রব্যের প্রকারভেদ: বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। প্রাচীনকালের মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি আধুনিক সময়ে নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের উদ্ভাবন ও ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। হেরোইন, প্যাথেডিন, এলএসডি, মারিজুয়ানা, কোকেন, হাশিশ, প্রভৃতি আধুনিককালের মাদকদ্রব্য; তবে এর মধ্যে হেরোইন ও কোকেন বেশ দামি। আমাদের দেশের যুব সমাজ সচরাচর যে মাদকদ্রব্যগুলো ব্যবহার করে সেগুলো হলো- সিডাকসিন, ইনকটিন, প্যাথেডিন, ফেনসিডিল, ডেক্সপোটেন, গাঁজা ইত্যাদি। তবে এ সবকিছুর ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে অত্যাধুনিক এক মাদক- 'ইয়াবা'। মাদক চোরাচালান: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাভাবে মাদক চোরাচালান হয়। সীমান্তে স্থল বা জলপথে এবং আকাশপথে বিশ্বব্যাপী এক বৃহৎ চোরাচালান নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে যার পেছনে রয়েছে বিরাট এক সিন্ডিকেট। কিছুকাল আগেও মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম নিয়ে গড়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের 'স্বর্ণভূমি' বা 'গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল'। তবে ভিয়েতনামে সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই নেটওয়ার্ক ভেঙে যায়। এর কিছুদিন পরেই চোরাচালানকারীরা ইরান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে গড়ে তোলে ড্রাগ পাচারের নতুন ভিত্তিভূমি 'গোল্ডেন ক্রিসেন্ট'। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার: মানুষ নিজেকে অপ্রকৃতিস্থ করতে মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে। মাদকের ব্যবহার করে সে কল্পনার এক জগতে কিছুসময়ের জন্য বিচরণ করে। এক্ষেত্রে মাদক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের 'পদ্ধতি অনুসরণ করে যেমন ধুমপান, ইনহেল বা শ্বাসের মাধ্যমে, জিহ্বার নিচে গ্রহণের মাধ্যমে, সরাসরি সেবনের মাধ্যমে, স্কিন পপিং ও মেইন লাইনিং-এর মাধ্যমে। তবে যেভাবেই গ্রহণ করুক না কেন তাদের উদ্দেশ্য একটাই- নেশায় উন্মত্ত হওয়া। প্রথমে কৌতূহলের বশে অনেকেই নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে। কিন্তু আস্তে আস্তে তাতে অভ্যস্থ হয়ে ভয়াবহ এক সর্বনাশের পথে এগিয়ে যায়। মাদকাসক্তির কারণ: মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ ব্যক্তিজীবনের হতাশা। মানুষ যখন জীবন সম্পর্কে অনেক বেশি হতাশ হয়ে পড়ে, তখন সে মাদকদ্রব্যের আশ্রয় নেয়। হতাশা সাধারণ তরুণদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়, তাই তাদের মাদক গ্রহণের হারও অনেক বেশি। তাছাড়া অসৎ সঙ্গে লিপ্ত হয়েও অনেকেই মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। যেসব পরিবারে পারিবারিক অশান্তি অনেক বেশি সে পরিবারের ছেলেমেয়েদের জীবন বিশৃঙ্খল হতে থাকে। তারা এই বিশৃঙ্খলা থেকে ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পরিণামে অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটায়। আমরা প্রতিদিনের পত্র-পত্রিকায় এ ধরনের অনেক ঘটনাই লক্ষ করি। বেশির ভাগ ঘটনায় হয় বন্ধু-বান্ধব বা সহপাঠী কিংবা পারিবারিক অশান্তিই মূল কারণ হিসেবে দেখা যায়। বাংলাদেশে মাদকের আগ্রাসন: আমাদের দেশে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা এই মাদক আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে অবাধে এ দেশে প্রবেশ করছে ইয়াবা-যাতে আক্রান্ত হয়েছে বহু তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতী। দর্শনার 'কেরু অ্যান্ড কোম্পানি', এদেশের একমাত্র লাইসেন্সধারী মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তার বাইরে বহু বিদেশি কোম্পানির মদ অবৈধভাবে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাঁজা ও আফিমের মতো মাদকদ্রব্য, প্রায় উন্মুক্ত ভাবে দেশের সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে এবং মাদকসেবীরা তা অবাধে ক্রয়ও করছে। মাদকাসক্তির ভয়াবহতা: মাদকের রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ ও আগ্রাসী। একে অনেকটা অপ্রতিরোধ্য রোগ এইডসের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির মতোই মাদকাসক্তি মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। ইয়াবা ও হেরোইনের মতো মাদকদ্রব্য মানুষের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। এর আসক্তিতে মানুষ এক অস্বাভাবিক জীবনযাপন করে। নেশায় আক্রান্ত 'ব্যক্তির সুস্থ জীবনে ফিরে আসাও খুব সহজ হয় না। মাদক বন্ধ করা মাত্রই 'উইথড্রয়াল সিম্পটম' শুরু হয়। তখন মাদক না পেলে শুরু হয় 'টার্কি পিরিয়ড'; হাত-পা কাঁপতে থাকে; অসম্ভব শারীরিক যন্ত্রণা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হৃদপিন্ডে আঘাত করে। এই সময় সুচিকিৎসা না পেলে খুব অল্প সময়ে মাদকাসক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। মাদকাসক্তির প্রতিকার: পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সচেতনতার মাধ্যমে একজন মানুষকে মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব। পারিবারিকভাবে একজন নারী বা পুরুষের জীবন যদি সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে তাহলে তার মাদকের সংস্পর্শে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে তারা নানাভাবে মাদকদ্রব্যবিরোধী প্রচারণা চালাতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও এর সঙ্গে নিয়োজিত চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সার্বিকভাবে একজন মানুষকে যদি তার নিকটাত্মীয়রা খুব ভালোভাবে পরিচর্যা করে এবং রাষ্ট্র যদি তাকে সুস্থভাবে বাঁচার পরিবেশ করে দেয় তবে খুব সহজেই মাদকাসক্তির প্রতিকার করা সম্ভব। উপসংহার: একটি দেশের গতিশীলতাকে অব্যাহত রাখে তরুণ সমাজ। তারাই যদি মাদকের কবলে পড়ে নিজেদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয় তবে দেশের সার্বিক অগ্রগতি চরমভাবে বিনষ্ট হবে। তাই তরুণ সমাজকে মাদক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং এর কারবারিদের বয়কট করতে হবে। তাদের ঐক্য ও সুস্থ জীবনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদকমুক্ত হয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।