শেয়ারFacebookWhatsApp

সংবাদপত্র

উত্তর: ভূমিকা: পৃথিবীতে ঘটে চলা প্রতিদিনের বিচিত্র ঘটনাবলি সম্পর্কে জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে সংবাদপত্র। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, সংবাদপত্র আধুনিক সভ্যতার এক অপরিহার্য অঙ্গ, বস্তুনিষ্ঠ ঘটনাবলির প্রমাণস্বরূপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাপট, যেমন- সামাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সংবাদপত্রের মাধ্যমেই জানা যায়। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সর্বগ্রাসী যুগেও সংবাদপত্র শিক্ষিত মানুষের কাছে একটি অনন্য যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তবে সংবাদপত্রের পরিধি কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জ্ঞানচর্চা, জনমত গঠন, রাজনীতি এমনকি সরকার ব্যবস্থায়ও সংবাদপত্রের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। সংবাদপত্রের গুরুত্বের কারণেই একে বলা হয়ে থাকে সমাজের দর্পণ। বস্তুত, সংবাদপত্র আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। উৎপত্তি ও বিকাশ: চীনে সংবাদপত্রের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একাদশ শতাব্দীতে চীনে এক ধরনের সংবাদপত্র মুদ্রিত হতো। উপমহাদেশে মোগল আমলে রাজকর্মচারীদের মধ্যে হাতে লেখা এক ধরনের সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ইউরোপে ইতালির ভেনিস শহরে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৭২১ সালে ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথের শাসনকালে 'লন্ডন গেজেট' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে ১৮১৮ সালে জেসি মার্শম্যান সর্বপ্রথম 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও বাঙালি সম্পাদক গঙ্গাধর ভট্টাচার্য 'সাপ্তাহিক বেঙ্গল গেজেট' নামে একটি পত্রিকা কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সংবাদপত্র ছিল 'দৈনিক আজাদী'। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের ফলে দ্রুত সংবাদপত্রের প্রসার ঘটতে থাকে এবং সূচনা হয় মানব সভ্যতার এক নতুন অধ্যায়ের। ভারতবর্ষে সংবাদপত্র: অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে মুদ্রণশিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতবর্ষে সংবাদপত্রের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৮০ সালে জেমস অগাস্টাস হিকির সম্পাদনায় প্রথম ইংরেজি সংবাদপত্র 'বেঙ্গল গেজেট' প্রকাশিত হয়। পরে ধীরে ধীরে ইন্ডিয়া গেজেট, ক্যালকাটা গেজেট প্রভৃতি ইংরেজি সংবাদপত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন'। একই বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র বলে বিবেচিত 'সমাচার দর্পণ'। তারপর ১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'সংবাদ প্রভাকর'। এভাবে সংবাদপত্রের আগমনের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়। সংবাদপত্রের শ্রেণিভেদ: সংবাদপত্র বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। প্রকাশের কালপরিধি বিবেচনায় সংবাদপত্র দৈনিক, অর্ধসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক হয়ে থাকে। এছাড়াও অনেক পত্রিকা দ্বিমাসিক ও বার্ষিক রূপেও প্রকাশ হয়ে থাকে। প্রতিদিন প্রকাশিত সংবাদপত্রকে দৈনিক বলা হয়ে থাকে। দৈনিক পত্রিকায় সংবাদকে প্রাধান্য দিলেও বর্তমানে পত্র-পত্রিকাগুলোয় প্রতিদিনের খবরাখবর প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ খুলে সাহিত্যচর্চা, শিক্ষা, অর্থনীতি ও ক্রীড়া সংবাদ সংবলিত লেখাও ছাপা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র: স্বাধীনতা উত্তরকালে গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে শ্রদেশে সংবাদ মাধ্যমের বিকাশ ঘটতে থাকে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য জাতীয় দৈনিকগুলো হলো- প্রথম আলো, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, মানবজমিন, সমকাল, আমাদের-সময়, জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ, সংবাদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রভৃতি। এছাড়াও অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা রয়েছে। ইংরেজি পত্রিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দি ডেইলি স্টার, ডেইলি সান, নিউ এজ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলাদেশ টুডে, নিউজ টুডে, ঢাকা ট্রিবিউন প্রভৃতি। এছাড়াও অনলাইনভিত্তিক বেশকিছু পত্রিকা রয়েছে যেমন- বিডি নিউজ ২৪, নিউজ ২৪, বাংলাট্রিবিউন, পরিবর্তন, রাইজিংবিডি ইত্যাদি। বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থা: বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থার নাম হলো বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস। পাকিস্তান আমলে সংস্থাটির নাম ছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি)। এছাড়াও ইউএনবি, বিএনএ, মিডিয়া সিন্ডিকেট, নিউজ মিডিয়া, আবাস প্রভৃতি। সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: প্রাত্যহিক জীবনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সংবাদপত্র আধুনিক সভ্যতার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। নিচে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও -প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- জনমত গঠনে সংবাদপত্র: বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে সংবাদপত্রের অবাধ বিচরণ। সংবাদপত্রের মাধ্যমেই আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারি, বৃহত্তর সমাজ ও জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারি। তাছাড়া সংবাদপত্র যথাযথ তথ্য ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা প্রকাশ করে পাঠকের নিজস্ব অভিমত গঠনে ভূমিকা রাখে। সরকারের জনকল্যাণকর পদক্ষেপকে সমর্থন ও গণবিরোধী নীতির সমালোচনার মাধ্যমে এটি জনমত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্ঞানচর্চায় সংবাদপত্র: কথিত আছে 'Newspaper is the store-house of knowledge [গণিত] , বর্তমান বাস্তবতায় সংবাদপত্র জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সকল ক্ষেত্রকেই তার আওতায় নিয়ে এসেছে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক আলোচনা, গবেষণা এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়। শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জন্য সংবাদপত্রে থাকে আলাদা বিভাগ। কাজেই নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে বহুমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি ভাষাগত জ্ঞান ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। অতএব জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে সংবাদপত্র পাঠের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সংবাদপত্র যেহেতু একটি সমাজের সামগ্রিক পরিচয়ের প্রাত্যহিক দলিল, তাই এর নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা থাকা উচিত। সংবাদপত্রকে হতে হবে অকপট ও নির্ভীক। আর এর জন্য দরকার পূর্ণ স্বাধীনতা। কিন্তু আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলো এখনো আশানুরূপ স্বাধীনতা লাভকরেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সর্বদা নিজেদের স্বার্থে সংবাদপত্রকে ব্যবহার করার হীন প্রবণতা লক্ষ করা যায়। তাদের আধিপত্য বিস্তারের এই অপচেষ্টা প্রায়শই সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। সংবাপত্রের ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা: সংবাদপত্রের ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির মালিকানায় সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। এ কারণে অনেকসময় সংশ্লিষ্ট মহল সংবাদপত্রের ওপর অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং -- ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবাদকে ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। তাছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ সংবাদপত্রই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। আবার কিছু কিছু সংবাদপত্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হীনস্বার্থে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। এইসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। সংবাদপত্রের আদর্শ: সংবাদপত্রের প্রধান কাজ হলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। তাই সংবাদপত্রকে একটি আদর্শ শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সংবাদপত্র অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, পাশাপাশি ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রকে হতে হবে নির্ভীক ও অকপট। এছাড়া ক্ষুদ্র স্বার্থ বিবেচনা না করে দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করে যথাযথ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার মাধ্যমে সংবাদপত্রকে পাঠকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে সমান্য একটি ভুল সংবাদ গোটা দেশের মানুষের কাছে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। আর তাই আদর্শ সংবাদপত্রকে সবসময় সত্যপ্রিয় ও নিরপেক্ষ হতে হবে। উপসংহার: বর্তমান সভ্য সমাজে সংবাদপত্রের অনুপস্থিতি কল্পনা করা যায় না। নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের মঙ্গল সাধন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় সংবাদপত্র বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। দলীয় স্বার্থ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারলে সমাজজীবনে আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও বিজ্ঞানমুখী চেতনার বিকাশে সংবাদপত্রের ভূমিকা হবে আরও কল্যাণমুখী।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

সংবাদপত্র

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Rajshahi · 2019

উত্তর

ভূমিকা: অপরূপ রূপময়ী দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। ঋতুতে ঋতুতে তার দিগন্তজুড়ে রূপের মেলা বসে। আহ্নিক ও বার্ষিক গতির প্রেরণায় পৃথিবী তার সূর্য পরিক্রমার পথে অগ্রসর হয়ে চলে। তার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে চলে ঋতুর পর ঋতুর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঋতুবৈচিত্র্যের এমন অপরূপ প্রকাশ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও তেমন দেখা যায় না। তাই জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে বলেছেন- 'রূপসি বাংলা'। প্রতিটি ঋতু এখানে প্রকৃতিকে সাজায় তার অনুপম রূপসজ্জায়; তারপর তার সেই রূপ আবার মুছে দিয়ে বিদায় নেয়। এক ঋতু যায়, আসে অন্য ঋতু। গ্রীষ্ম: বাংলাদেশের প্রকৃতির রঙ্গশালার প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম। ধুধু রুক্ষ দুই চোখে প্রখর অগ্নিদাহ নিয়ে আবির্ভাব ঘটে এ রুদ্র তাপসের। সর্বত্রই যেন বিস্তৃত মরুভূমির তপ্ত প্রান্তর। সমগ্র জীবজগৎ ও উদ্ভিদ জগতে নেমে আসে এক প্রাণহীন, রসহীন বিবর্ণতার পান্ডুর ছায়া। এ সময়েই প্রকৃতিকে তোলপাড় করে দিয়ে যায় কালবৈশাখীর ভয়াল ছোবল। তার সেই রুদ্রমূর্তি, সেই ভীষণ রূপ দেখা যায় শুধু বাংলাদেশের আকাশেই। এ সময় দুপুরটা দারুণ গরমে মাঝে মাঝে দুঃসহ হয়ে ওঠে, তবে রাত্রিটা ভারি মনোরম। পাকা আমের বৈভব আছে গ্রীষ্মকালে। আছে কালো জামের নিবিড় প্রাচুর্য। বর্ষা: বাংলাদেশে বর্ষা আসে মহাসমারোহে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিকাশ ও গুরুগম্ভীর বজ্রধ্বনির 'অতি ভৈরব হরষে'র মধ্যে সূচিত হয় তার শুভাগমন। আকাশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘন কালো পুঞ্জীভূত মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। দিগন্তের ওপার হতে বন্ধনহীন বায়ুপ্রবাহ দুরন্ত বেগে ছুটে আসে, শুরু হয় শীতল ধারাবর্ষণ। শুষ্ক প্রান্তর, মাঠ-জলাশয়, নদীনালা, খালবিলে অনেকদিন পরে জাগে প্রাণের প্রবল উচ্ছ্বাস। প্রকৃতির সব অঙ্গ হতে গ্রীষ্মের ধূসর ক্লান্তি মুছে যায়, উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে সজল বর্ষার নয়ন-রঞ্জন রূপশ্রী। পুষ্প সৌরভের ঐশ্বর্যে চারদিক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রিমঝিম বর্ষা দিনরাত আমাদের কানে যেন সেতার বাজিয়ে চলে। আমাদের মন এসময় হয়ে ওঠে মেঘের সঙ্গী। বর্ষার সংগীত রিমঝিম বাজে, আর দেখতে দেখতে সবুজ হয়ে ওঠে ধরিত্রী। তারপর শেষ বর্ষণের পালাগান গেয়ে পথে পথে কদম্ব কেশরের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলে, বাংলার পল্লি-প্রকৃতিকে হাসিয়ে-কাঁদিয়ে সুন্দরী বর্ষা বিদায় নেয়। শরৎ: বর্ষার বিদায়ের পর আবার বঙ্গ প্রকৃতির রূপের রঙ্গমঞ্চে ঘটে পট পরিবর্তন। বর্ষণ ক্ষান্ত লঘুভার মেঘ অলস-মন্থর ছন্দে নিরুদ্দেশে ভেসে চলে। বর্ষণ-ধৌত, মেঘমুক্ত আকাশের সুনীল রূপ-কান্তি, আলো-ছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন-উদাস করা গন্ধ, নদী তীরে কাশফুলের অপূর্ব সমারোহ, এ অনুপম রূপশ্রী নিয়ে ঘটে শারদ লক্ষ্মীর আনন্দময় আবির্ভাব। রূপালি জোছনার অপরূপ রথে চড়ে যেন শারদ লক্ষ্মীর ঘটে মর্ত্যাগমন। চারদিকে সৌন্দর্যের দরজা খুলে যায়, বাংলাদেশের রূপ-লাবণ্য যেন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সোনার রং ধরে শরতের রোদ্দুরে। আসে শারদীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে ওঠে। হেমন্ত: শরতের পরেই আসে হেমন্ত। কিন্তু হেমন্তের নেই শরতের মতো বর্ণ-বাহার, আছে সুদূর ব্যাপ্ত বৈরাগ্যের গভীর বিষণ্ণতা। হেমন্ত যেন ধবল কুয়াশার আবরণে মুখ ঢেকে এক নিঃসঙ্গ সাধনায় মগ্ন থাকে। আর সেই সাধনা তার ফসল ফলাবার সাধনা। মাঠে মাঠে ধান পাকে। খেতে-খামারে হেমন্তের রাশি রাশি, ভারা ভারা সোনার ধান উঠতে থাকে। কৃষকের সময় কাটে এক অন্তহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যে। হেমন্তের ভূষণ নেই। তার ফুলের বাহার নেই, সৌন্দর্যের জৌলুস নেই, রূপসজ্জারও নেই অফুরন্ত প্রাচুর্য; কিন্তু আছে মমতাময়ী নারীর এক অনির্বচনীয় কল্যাণী রূপশ্রী। নিশির শিশিরে সিক্ত হয় সবুজ ঘাস, গুল্মলতা ও বৃক্ষরাজি। রূপালি হেমন্ত মানবমনে বয়ে নিয়ে আসে আনন্দ, তারপর শিশিরের নিঃশব্দ চরণে সেও একদিন নেয় বিদায়। শীত: হেমন্তের প্রৌঢ়ত্বের পর আসে জড়তাগ্রস্ত শীতের নির্মম রুক্ষতা। শুষ্ক কাঠিন্য ও রিক্ততার বিষাদময় প্রতিমূর্তিরূপে শীতের আবির্ভাব ঘটে। তার হিমশীতল রূপমূর্তির মধ্যে প্রচ্ছন্ন রয়েছে তপস্যার কঠোর আত্মপীড়ন এবং বৈরাগ্যের ধূসর মহিমা। এ সময়ে ধান কাটা মাঠে কী সীমাহীন শূন্যতা, কী বিশাল কারুণ্য। তারপরও ঘরে ঘরে আনন্দ। কনকনে শীতের তীব্রতায় খেজুর রসের মিষ্টি মধুর আবেশে শিশিরভেজা ভোরের উদীয়মান রবির কিরণ বাড়ির উঠোনকে যখন আলোকিত করে, তখন রোদে পিঠ পেতে বাড়ির আঙিনায় পিঠা-পায়েস ও মুড়কি-মোয়ার আনন্দে সবাই আস্বাদন করে শীতের রূপবৈচিত্র্যকে। সর্বত্যাগী শীত তার সর্বস্ব ত্যাগ করে আমাদের পূর্ণ করে দিয়ে নীরবে চলে যায়। ত্যাগের কী অপরূপ মহিমা! এ ত্যাগের অপরূপ মহিমায় তার সর্বাঙ্গ ভাস্বর। বসন্ত: বসন্তের আবির্ভাবকে সম্ভব করে তুলবার জন্যই মৌন-তাপস শীতের যেন কঠোর তপস্যা। আসে ঋতুরাজ বসন্ত, আসে পুষ্পমালা বিরচনের লগ্ন। দক্ষিণের মৃদুমন্দ বাতাসের জাদুস্পর্শে শীতের জরাগ্রস্ত পৃথিবীর সর্বাঙ্গে লাগে অপূর্ব শিহরন। বাতাসের মর্মর ধ্বনির এবং দূর বনান্তরাল থেকে ভেসে আসা কোকিলের কুহু গীতি পৃথিবীতে অনুরাগের প্লাবন ছোটায়। শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম উচ্ছ্বাসে, মধুমালতী ও মাধবী মঞ্জুরির গন্ধ ও বর্ণের তুমুল কোলাহলে লেগে যায় এক আশ্চর্য মাতামাতি। তার উজ্জ্বল বর্ণ ও গন্ধের আবির্ভাবে শূন্যতার অবসান হয়। অফুরন্ত প্রাণ-বন্যায় মেতে ওঠে মানুষ ও প্রকৃতি। আবার শেষ-বসন্তে তার এ বর্ণবিলাস, প্রাণ-প্রাচুর্যের জোয়ারে আসে ভাটা। গ্রীষ্মের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে ঋতুরাজ বসন্ত নেয় বিদায়। উপসংহার: রূপসি বাংলার এ রকম বিচিত্র ঋতুচক্র নানা বর্ণ-গন্ধ গানের সমারোহ নিয়ে নিত্য আবর্তিত হচ্ছে। এক ঋতু যায়, আসে আরেক ঋতু। বাংলাদেশের রূপসাগরে লাগে ঢেউ। কিন্তু শহরবাসী ও শহরমুখী বাঙালি আজ আর অন্তরে তার, নিমন্ত্রণ অনুভব করে না। আজ আমরা প্রকৃতিকে নির্বাসিত করে বরণ করে নিচ্ছি উগ্র নাগরিকতার তপ্ত নিশ্বাস। কিন্তু উপেক্ষিত প্রকৃতি একদিন না একদিন হয়তো এর প্রতিশোধ নিতে চায়বে।

উত্তর

ভূমিকা: মানবসভ্যতার সকল সৃষ্টির মূলেই রয়েছে শ্রম। আজকের সভ্যতা যুগ-যুগান্তরের অগণিত মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। জীবনধারণের তাগিদেই মানুষ কর্মব্যস্ত। গুহাবাসী মানুষ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই বর্তমানের এ উন্নত সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। কৃষকের ফসল উৎপাদন, শিল্পীর শিল্পকর্ম, জ্ঞানীর জ্ঞানার্জন, বিজ্ঞানীর নব নব আবিষ্কার সবই শ্রমলব্ধ * ফসল। মানবজীবনের সবক্ষেত্রেই যা কিছু দৃশ্যমান তার সবই পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। শ্রমের কার্যকারিতা: জন্মগতভাবেই মানুষ কিছু না কিছু সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী। আর এ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই সম্ভব। মানুষ নিজেই তার ভাগ্যনির্মাতা। পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে। ইতিহাসলব্ধ জ্ঞান থেকে আমরা দেখতে পাই, যে সকল মানুষ পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় তাঁদের সাধনাই ছিল পরিশ্রম। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাফল্যেই মানবসভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের উন্নতি পরিশ্রমেরই অবদান। যে জাতি শ্রমকে মূল্য দিতে পেরেছে, সে জাতিই জগতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কঠোর পরিশ্রমই তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মহিমা দিয়েছে। নতুন নতুন আবিষ্কারে শ্রম: বিজ্ঞানীরা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আবিষ্কার করে জীবনকে করেছেন সহজ ও গতিশীল। দুর্গমকে করেছেন সুগম। অজানাকে সবার কাছে করেছেন পরিচিত। অজয়কে করেছেন জয়। আর এগুলোর সবকিছুই শ্রমের ফলাফল। শ্রম ব্যতীত কোনো কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানী নিউটন, আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিংস দিনরাত নিরলস শ্রমের ফলেই এত গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু আবিষ্কার করতে পেরেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই তাঁর সাহিত্যসম্ভারকে জগদ্বিখ্যাত করেছেন। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই। তাই নতুন কিছু আবিষ্কারে শ্রমের বিকল্প নেই। উন্নত জাতি গঠনে শ্রমের গুরুত্ব: পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। ১৯৪৫ সালে জাপানে প্রথম পারমাণবিক বোমা আঘাত হানার পর বিশ্ব মনে করেছিল- জাপান আর বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে জাপান আবার উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছিল। অর্থনীতিতে দ্রুত সক্ষম হতে পেরেছিল, যার বাস্তব উদাহরণ- ৬০-এর দশকে অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হওয়া। আর এমন দেশ হতে পেরেছিল জাপানিদের নিরলস শ্রমের কারণে। পৃথিবীতে অলস জাতি কখনো উন্নত হতে পারেনি। আজ্ব ইউরোপ, আমেরিকা-উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে শুধু নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই। মানসিক ও শারীরিক শ্রম: সকল কাজের সাফল্য প্রাপ্তির জন্য মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানসিক পরিশ্রম মানসিক উন্নতি দান করে এবং নবসৃষ্টির নবচিন্তার জন্ম দেয়। আর মানসিক শ্রম যে কাজের চিন্তা করে, শারীরিক শ্রম তা সম্পাদন করে। কিন্তু কার্যত আমরা দেখি, মানসিক পরিশ্রমের মর্যাদা মানুষ স্বীকার করলেও শারীরিক পরিশ্রমকে অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখে। ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ প্রমুখ পেশাজীবী মানুষের অবস্থান সমাজের উপরতলায়। অন্যদিকে, কুলি-মজুর-কৃষক-শ্রমিক এদের অবস্থান সমাজের নীচুতলায়। অন্নহীন, বস্ত্রহীন, শিক্ষাহীন মানবেতর জীবনই তাদের নিত্যসঙ্গী। যদিও শারীরিক শ্রম সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের উপায়, আত্মসম্মানের পরিপন্থী নয়। প্রতিটি মানুষই দেশ ও জাতির কল্যাণ করার উদ্দেশ্যে নিজ যোগ্যতা অনুসারে মানসিক কিংবা শারীরিক শ্রমকে অবলম্বন করছে। এদের অবদান স্বীকার করে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- 'গাহি তাহাদের গান- ধরণীর হাতে দিল যারা আনি' ফসলের ফরমান। শ্রমকিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে এস্তা ধরণী নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফুলে।' ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব: সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শারীরিক ও মানসিক শ্রমকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। অন্যথায়, জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সমষ্টিগত জীবনকে সুন্দর ও মহিমাময় করতে শ্রমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব আরও গভীর ও ব্যাপক। কেননা, শ্রমবিমুখ ব্যক্তি সাফল্যের ছোঁয়া থেকে চিরকালই বঞ্চিত। ইতিহাসবিখ্যাত ব্যক্তি জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, আলবার্ট আইনস্টাইন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাক্সিম গোর্কি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্যক্তির জীবন থেকেও আমরা একই শিক্ষা গ্রহণ করি। শ্রমবিমুখতা ব্যক্তিকে ব্যর্থতার গ্লানিতে পর্যবসিত করে, তার অগ্রগতির পথকে করে রুদ্ধ। তাই ব্যক্তিজীবনের সাফল্য শ্রমেরই সাফল্য। সভ্যতা বিকাশে শ্রম: মানবসভ্যতার বুনিয়াদ তৈরি করেছে শ্রম। মানুষ যদি নিষ্কর্মা হয়ে ভাগ্যের হাতে আত্মসম্পর্ণ করে বসে থাকত তাহলে আমাদের সামনে এ সমুন্নত সভ্যতার বিকাশ হতো না। শ্রমের শক্তিতেই মানুষ নতুন নতুন সাম্রাজ্যের পত্তন করেছে, করেছে সভ্যতার ক্রমবিস্তার। শ্রম ব্যক্তিজীবনকে সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যশালী করে তারই প্রভাব পড়ে সমাজজীবনের ওপর। তাই শুধু ব্যক্তিজীবনের বিকাশ নয়, সভ্যতার বিকাশেও শ্রমই হাতিয়ার। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, জার্মানি, জাপান প্রভৃতি দেশ শ্রমের প্রক্রিয়াতেই এত বেশি উন্নত। যুগ যুগ ধরে মানুষের কঠোর শ্রমই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছে, সভ্যতাকে করেছে সমৃদ্ধ। একবিংশ শতাব্দীর উন্নত ও প্রগতিশীল সভ্যতাও মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। উপসংহার: পৃথিবী সৃষ্টি থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমের অবদান অপরিসীম। ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য একমাত্র শ্রমশক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তাই দেশের জন্য, সমাজের জন্য অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী যে পরিশ্রমই করা হোক না কেন তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব. শ্রেণির শ্রমকে যদি সমান মর্যাদা দেওয়া হয় তবেই দেশ ও জাতির যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে শ্রমের এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা স্বীকৃত। আমাদের দেশের উন্নতিও এ মূল্যবোধের মাধ্যমে সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা: পৃথিবীতে ঘটে চলা প্রতিদিনের বিচিত্র ঘটনাবলি সম্পর্কে জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে সংবাদপত্র। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, সংবাদপত্র আধুনিক সভ্যতার এক অপরিহার্য অঙ্গ, বস্তুনিষ্ঠ ঘটনাবলির প্রমাণস্বরূপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাপট, যেমন- সামাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সংবাদপত্রের মাধ্যমেই জানা যায়। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সর্বগ্রাসী যুগেও সংবাদপত্র শিক্ষিত মানুষের কাছে একটি অনন্য যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তবে সংবাদপত্রের পরিধি কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জ্ঞানচর্চা, জনমত গঠন, রাজনীতি এমনকি সরকার ব্যবস্থায়ও সংবাদপত্রের ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। সংবাদপত্রের গুরুত্বের কারণেই একে বলা হয়ে থাকে সমাজের দর্পণ। বস্তুত, সংবাদপত্র আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। উৎপত্তি ও বিকাশ: চীনে সংবাদপত্রের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একাদশ শতাব্দীতে চীনে এক ধরনের সংবাদপত্র মুদ্রিত হতো। উপমহাদেশে মোগল আমলে রাজকর্মচারীদের মধ্যে হাতে লেখা এক ধরনের সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ইউরোপে ইতালির ভেনিস শহরে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৭২১ সালে ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথের শাসনকালে 'লন্ডন গেজেট' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে ১৮১৮ সালে জেসি মার্শম্যান সর্বপ্রথম 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও বাঙালি সম্পাদক গঙ্গাধর ভট্টাচার্য 'সাপ্তাহিক বেঙ্গল গেজেট' নামে একটি পত্রিকা কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সংবাদপত্র ছিল 'দৈনিক আজাদী'। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের ফলে দ্রুত সংবাদপত্রের প্রসার ঘটতে থাকে এবং সূচনা হয় মানব সভ্যতার এক নতুন অধ্যায়ের। ভারতবর্ষে সংবাদপত্র: অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে মুদ্রণশিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতবর্ষে সংবাদপত্রের যাত্রা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৮০ সালে জেমস অগাস্টাস হিকির সম্পাদনায় প্রথম ইংরেজি সংবাদপত্র 'বেঙ্গল গেজেট' প্রকাশিত হয়। পরে ধীরে ধীরে ইন্ডিয়া গেজেট, ক্যালকাটা গেজেট প্রভৃতি ইংরেজি সংবাদপত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন'। একই বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র বলে বিবেচিত 'সমাচার দর্পণ'। তারপর ১৮৩১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'সংবাদ প্রভাকর'। এভাবে সংবাদপত্রের আগমনের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়। সংবাদপত্রের শ্রেণিভেদ: সংবাদপত্র বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। প্রকাশের কালপরিধি বিবেচনায় সংবাদপত্র দৈনিক, অর্ধসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক হয়ে থাকে। এছাড়াও অনেক পত্রিকা দ্বিমাসিক ও বার্ষিক রূপেও প্রকাশ হয়ে থাকে। প্রতিদিন প্রকাশিত সংবাদপত্রকে দৈনিক বলা হয়ে থাকে। দৈনিক পত্রিকায় সংবাদকে প্রাধান্য দিলেও বর্তমানে পত্র-পত্রিকাগুলোয় প্রতিদিনের খবরাখবর প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ খুলে সাহিত্যচর্চা, শিক্ষা, অর্থনীতি ও ক্রীড়া সংবাদ সংবলিত লেখাও ছাপা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র: স্বাধীনতা উত্তরকালে গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে সাথে শ্রদেশে সংবাদ মাধ্যমের বিকাশ ঘটতে থাকে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য জাতীয় দৈনিকগুলো হলো- প্রথম আলো, ইত্তেফাক, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, মানবজমিন, সমকাল, আমাদের-সময়, জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ, সংবাদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রভৃতি। এছাড়াও অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা রয়েছে। ইংরেজি পত্রিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দি ডেইলি স্টার, ডেইলি সান, নিউ এজ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, বাংলাদেশ টুডে, নিউজ টুডে, ঢাকা ট্রিবিউন প্রভৃতি। এছাড়াও অনলাইনভিত্তিক বেশকিছু পত্রিকা রয়েছে যেমন- বিডি নিউজ ২৪, নিউজ ২৪, বাংলাট্রিবিউন, পরিবর্তন, রাইজিংবিডি ইত্যাদি। বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থা: বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থার নাম হলো বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস। পাকিস্তান আমলে সংস্থাটির নাম ছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি)। এছাড়াও ইউএনবি, বিএনএ, মিডিয়া সিন্ডিকেট, নিউজ মিডিয়া, আবাস প্রভৃতি। সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: প্রাত্যহিক জীবনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সংবাদপত্র আধুনিক সভ্যতার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। নিচে সংবাদপত্রের গুরুত্ব ও -প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- জনমত গঠনে সংবাদপত্র: বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে সংবাদপত্রের অবাধ বিচরণ। সংবাদপত্রের মাধ্যমেই আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারি, বৃহত্তর সমাজ ও জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারি। তাছাড়া সংবাদপত্র যথাযথ তথ্য ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা প্রকাশ করে পাঠকের নিজস্ব অভিমত গঠনে ভূমিকা রাখে। সরকারের জনকল্যাণকর পদক্ষেপকে সমর্থন ও গণবিরোধী নীতির সমালোচনার মাধ্যমে এটি জনমত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্ঞানচর্চায় সংবাদপত্র: কথিত আছে 'Newspaper is the store-house of knowledge′,knowledge^{\prime}, বর্তমান বাস্তবতায় সংবাদপত্র জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায় সকল ক্ষেত্রকেই তার আওতায় নিয়ে এসেছে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক আলোচনা, গবেষণা এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়। শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জন্য সংবাদপত্রে থাকে আলাদা বিভাগ। কাজেই নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে বহুমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি ভাষাগত জ্ঞান ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। অতএব জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে সংবাদপত্র পাঠের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সংবাদপত্র যেহেতু একটি সমাজের সামগ্রিক পরিচয়ের প্রাত্যহিক দলিল, তাই এর নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা থাকা উচিত। সংবাদপত্রকে হতে হবে অকপট ও নির্ভীক। আর এর জন্য দরকার পূর্ণ স্বাধীনতা। কিন্তু আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলো এখনো আশানুরূপ স্বাধীনতা লাভকরেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সর্বদা নিজেদের স্বার্থে সংবাদপত্রকে ব্যবহার করার হীন প্রবণতা লক্ষ করা যায়। তাদের আধিপত্য বিস্তারের এই অপচেষ্টা প্রায়শই সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। সংবাপত্রের ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা: সংবাদপত্রের ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির মালিকানায় সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। এ কারণে অনেকসময় সংশ্লিষ্ট মহল সংবাদপত্রের ওপর অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে এবং -- ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবাদকে ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। তাছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ সংবাদপত্রই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। আবার কিছু কিছু সংবাদপত্র উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হীনস্বার্থে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টির মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। এইসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। সংবাদপত্রের আদর্শ: সংবাদপত্রের প্রধান কাজ হলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। তাই সংবাদপত্রকে একটি আদর্শ শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সংবাদপত্র অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, পাশাপাশি ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রকে হতে হবে নির্ভীক ও অকপট। এছাড়া ক্ষুদ্র স্বার্থ বিবেচনা না করে দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করে যথাযথ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করার মাধ্যমে সংবাদপত্রকে পাঠকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মনে রাখতে হবে সমান্য একটি ভুল সংবাদ গোটা দেশের মানুষের কাছে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। আর তাই আদর্শ সংবাদপত্রকে সবসময় সত্যপ্রিয় ও নিরপেক্ষ হতে হবে। উপসংহার: বর্তমান সভ্য সমাজে সংবাদপত্রের অনুপস্থিতি কল্পনা করা যায় না। নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের মঙ্গল সাধন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় সংবাদপত্র বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। দলীয় স্বার্থ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারলে সমাজজীবনে আধুনিক ধ্যান-ধারণা ও বিজ্ঞানমুখী চেতনার বিকাশে সংবাদপত্রের ভূমিকা হবে আরও কল্যাণমুখী।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।