শেয়ারFacebookWhatsApp

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য।

উত্তর: ভূমিকা: অপরূপ রূপময়ী দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। ঋতুতে ঋতুতে তার দিগন্তজুড়ে রূপের মেলা বসে। আহ্নিক ও বার্ষিক গতির প্রেরণায় পৃথিবী তার সূর্য পরিক্রমার পথে অগ্রসর হয়ে চলে। তার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে চলে ঋতুর পর ঋতুর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঋতুবৈচিত্র্যের এমন অপরূপ প্রকাশ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও তেমন দেখা যায় না। তাই জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে বলেছেন- 'রূপসি বাংলা'। প্রতিটি ঋতু এখানে প্রকৃতিকে সাজায় তার অনুপম রূপসজ্জায়; তারপর তার সেই রূপ আবার মুছে দিয়ে বিদায় নেয়। এক ঋতু যায়, আসে অন্য ঋতু। গ্রীষ্ম: বাংলাদেশের প্রকৃতির রঙ্গশালার প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম। ধুধু রুক্ষ দুই চোখে প্রখর অগ্নিদাহ নিয়ে আবির্ভাব ঘটে এ রুদ্র তাপসের। সর্বত্রই যেন বিস্তৃত মরুভূমির তপ্ত প্রান্তর। সমগ্র জীবজগৎ ও উদ্ভিদ জগতে নেমে আসে এক প্রাণহীন, রসহীন বিবর্ণতার পান্ডুর ছায়া। এ সময়েই প্রকৃতিকে তোলপাড় করে দিয়ে যায় কালবৈশাখীর ভয়াল ছোবল। তার সেই রুদ্রমূর্তি, সেই ভীষণ রূপ দেখা যায় শুধু বাংলাদেশের আকাশেই। এ সময় দুপুরটা দারুণ গরমে মাঝে মাঝে দুঃসহ হয়ে ওঠে, তবে রাত্রিটা ভারি মনোরম। পাকা আমের বৈভব আছে গ্রীষ্মকালে। আছে কালো জামের নিবিড় প্রাচুর্য। বর্ষা: বাংলাদেশে বর্ষা আসে মহাসমারোহে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিকাশ ও গুরুগম্ভীর বজ্রধ্বনির 'অতি ভৈরব হরষে'র মধ্যে সূচিত হয় তার শুভাগমন। আকাশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘন কালো পুঞ্জীভূত মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। দিগন্তের ওপার হতে বন্ধনহীন বায়ুপ্রবাহ দুরন্ত বেগে ছুটে আসে, শুরু হয় শীতল ধারাবর্ষণ। শুষ্ক প্রান্তর, মাঠ-জলাশয়, নদীনালা, খালবিলে অনেকদিন পরে জাগে প্রাণের প্রবল উচ্ছ্বাস। প্রকৃতির সব অঙ্গ হতে গ্রীষ্মের ধূসর ক্লান্তি মুছে যায়, উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে সজল বর্ষার নয়ন-রঞ্জন রূপশ্রী। পুষ্প সৌরভের ঐশ্বর্যে চারদিক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রিমঝিম বর্ষা দিনরাত আমাদের কানে যেন সেতার বাজিয়ে চলে। আমাদের মন এসময় হয়ে ওঠে মেঘের সঙ্গী। বর্ষার সংগীত রিমঝিম বাজে, আর দেখতে দেখতে সবুজ হয়ে ওঠে ধরিত্রী। তারপর শেষ বর্ষণের পালাগান গেয়ে পথে পথে কদম্ব কেশরের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলে, বাংলার পল্লি-প্রকৃতিকে হাসিয়ে-কাঁদিয়ে সুন্দরী বর্ষা বিদায় নেয়। শরৎ: বর্ষার বিদায়ের পর আবার বঙ্গ প্রকৃতির রূপের রঙ্গমঞ্চে ঘটে পট পরিবর্তন। বর্ষণ ক্ষান্ত লঘুভার মেঘ অলস-মন্থর ছন্দে নিরুদ্দেশে ভেসে চলে। বর্ষণ-ধৌত, মেঘমুক্ত আকাশের সুনীল রূপ-কান্তি, আলো-ছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন-উদাস করা গন্ধ, নদী তীরে কাশফুলের অপূর্ব সমারোহ, এ অনুপম রূপশ্রী নিয়ে ঘটে শারদ লক্ষ্মীর আনন্দময় আবির্ভাব। রূপালি জোছনার অপরূপ রথে চড়ে যেন শারদ লক্ষ্মীর ঘটে মর্ত্যাগমন। চারদিকে সৌন্দর্যের দরজা খুলে যায়, বাংলাদেশের রূপ-লাবণ্য যেন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সোনার রং ধরে শরতের রোদ্দুরে। আসে শারদীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে ওঠে। হেমন্ত: শরতের পরেই আসে হেমন্ত। কিন্তু হেমন্তের নেই শরতের মতো বর্ণ-বাহার, আছে সুদূর ব্যাপ্ত বৈরাগ্যের গভীর বিষণ্ণতা। হেমন্ত যেন ধবল কুয়াশার আবরণে মুখ ঢেকে এক নিঃসঙ্গ সাধনায় মগ্ন থাকে। আর সেই সাধনা তার ফসল ফলাবার সাধনা। মাঠে মাঠে ধান পাকে। খেতে-খামারে হেমন্তের রাশি রাশি, ভারা ভারা সোনার ধান উঠতে থাকে। কৃষকের সময় কাটে এক অন্তহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যে। হেমন্তের ভূষণ নেই। তার ফুলের বাহার নেই, সৌন্দর্যের জৌলুস নেই, রূপসজ্জারও নেই অফুরন্ত প্রাচুর্য; কিন্তু আছে মমতাময়ী নারীর এক অনির্বচনীয় কল্যাণী রূপশ্রী। নিশির শিশিরে সিক্ত হয় সবুজ ঘাস, গুল্মলতা ও বৃক্ষরাজি। রুপালি হেমন্ত মানবমনে বয়ে নিয়ে আসে আনন্দ, তারপর শিশিরের নিঃশব্দ চরণে সেও একদিন নেয় বিদায়। শীত: হেমন্তের প্রৌঢ়ত্বের পর আসে জড়তাগ্রস্ত শীতের নির্মম বুক্ষতা। শুষ্ক কাঠিন্য ও রিক্ততার বিষাদময় প্রতিমূর্তিরূপে শীতের আবির্ভাব ঘটে। তার হিমশীতল রূপমূর্তির মধ্যে প্রচ্ছন্ন রয়েছে তপস্যার কঠোর আত্মপীড়ন এবং বৈরাগ্যের ধূসর মহিমা। এ সময়ে ধান কাটা মাঠে কী সীমাহীন শূন্যতা, কী বিশাল কারুণ্য! তারপরও ঘরে ঘরে আনন্দ। কনকনে শীতের তীব্রতায় খেজুর রসের মিষ্টি মধুর আবেশে শিশিরভেজা ভোরের উদীয়মান রবির কিরণ বাড়ির উঠোনকে যখন আলোকিত করে, তখন রোদে পিঠ পেতে বাড়ির আঙিনায় পিঠা-পায়েস ও মুড়কি-মোয়ার আনন্দে সবাই আস্বাদন করে শীতের রূপবৈচিত্র্যকে। সর্বত্যাগী শীত তার সর্বস্ব ত্যাগ করে আমাদের পূর্ণ করে দিয়ে নীরবে চলে যায়। ত্যাগের কী অপরূপ মহিমা! এ ত্যাগের অপরূপ মহিমায় তার সর্বাঙ্গ ভাস্বর। বসন্ত: বসন্তের আবির্ভাবকে সম্ভব করে তুলবার জন্যই মৌন-তাপস শীতের যেন কঠোর তপস্যা। আসে ঋতুরাজ বসন্ত, আসে পুষ্পমালা বিরচনের লগ্ন। দক্ষিণের মৃদুমন্দ বাতাসের জাদুস্পর্শে শীতের জরাগ্রস্ত পৃথিবীর সর্বাঙ্গে লাগে অপূর্ব শিহরন। বাতাসের মর্মর ধ্বনির এবং দূর বনান্তরাল থেকে ভেসে আসা কোকিলের কুহু গীতি পৃথিবীতে অনুরাগের প্লাবন ছোটায়। শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম উচ্ছ্বাসে, মধুমালতী ও মাধবী মঞ্জুরির গন্ধ ও বর্ণের তুমুল কোলাহলে লেগে যায় এক আশ্চর্য মাতামাতি। তার উজ্জ্বল বর্ণ ও গন্ধের আবির্ভাবে শূন্যতার অবসান হয়। অফুরন্ত প্রাণ-বন্যায় মেতে ওঠে মানুষ ও প্রকৃতি। আবার শেষ-বসন্তে তার এ বর্ণবিলাস, প্রাণ-প্রাচুর্যের জোয়ারে আসে ভাটা। গ্রীষ্মের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে ঋতুরাজ বসন্ত নেয় বিদায়। উপসংহার: রূপসি বাংলার এ রকম বিচিত্র ঋতুচক্র নানা বর্ণ-গন্ধ গানের সমারোহ নিয়ে নিত্য আবর্তিত হচ্ছে। এক ঋতু যায়, আসে আরেক ঋতু। বাংলাদেশের রূপসাগরে লাগে ঢেউ। কিন্তু শহরবাসী ও শহরমুখী বাঙালি আজ আর অন্তরে তার, নিমন্ত্রণ অনুভব করে না। আজ আমরা প্রকৃতিকে নির্বাসিত করে বরণ করে নিচ্ছি উগ্র নাগরিকতার তপ্ত নিশ্বাস। কিন্তু উপেক্ষিত প্রকৃতি একদিন না একদিন হয়তো এর প্রতিশোধ নিতে চায়বে।

SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা · সৃজনশীল

বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্য।

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Chittagong · 2020

উত্তর

ভূমিকা: মানবসভ্যতার সকল সৃষ্টির মূলেই রয়েছে শ্রম। আজকের সভ্যতা যুগ-যুগান্তরের অগণিত মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। জীবনধারণের তাগিদেই মানুষ কর্মব্যস্ত। গুহাবাসী মানুষ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই বর্তমানের এ উন্নত সভ্যতার জন্ম দিয়েছে। কৃষকের ফসল উৎপাদন, শিল্পীর শিল্পকর্ম, জ্ঞানীর জ্ঞানার্জন, বিজ্ঞানীর নব নব আবিষ্কার সবই শ্রমলব্ধ ফসল। মানবজীবনের সবক্ষেত্রেই যা কিছু দৃশ্যমান তার সবই পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। শ্রমের কার্যকারিতা: জন্মগতভাবেই মানুষ কিছু না কিছু সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী। আর এ সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ একমাত্র শ্রমের মাধ্যমেই সম্ভব। মানুষ নিজেই তার ভাগ্যনির্মাতা। পরিশ্রমের মাধ্যমেই মানুষ নিজের ভাগ্য গড়ে তোলে। ইতিহাসলব্ধ জ্ঞান থেকে আমরা দেখতে পাই, যে সকল মানুষ পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় তাঁদের সাধনাই ছিল পরিশ্রম। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাফল্যেই মানবসভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের উন্নতি পরিশ্রমেরই অবদান। যে জাতি শ্রমকে মূল্য দিতে পেরেছে, সে জাতিই জগতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কঠোর পরিশ্রমই তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মহিমা দিয়েছে। শ্রমের গুরুত্ব: মানবজীবন ও মানবসভ্যতার উন্নতির জন্য শ্রম অপরিহার্য উপাদান। মানুষের জন্ম তার নিজের অধীন নয়, কিন্তু কর্ম নিজের অধীন। কারণ কর্মই পারে মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে দিতে। শ্রমের মাধ্যমেই মানুষ জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারে। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে মানুষকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। এসব ক্ষেত্রে পরিশ্রমই তার একমাত্র হাতিয়ার। তাই ব্যক্তিজীবনে এবং সমাজে শ্রমের যথাযথ মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিতে হবে। সামাজিক প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী প্রতিটি স্তরের শ্রমই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক, মজুর, শিক্ষক, ডাক্তার, শিল্পী, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রনায়ক প্রত্যেকের যথাযথ পরিশ্রমই সমাজ ও দেশের অগ্রগতি সাধন করে। শ্রমই মানুষকে সৃজনশীল করে। নব নব সৃজনের মাধ্যমে মানুষ নতুন অগ্রগতি সাধন করে। আজকের দিনের মানুষের শ্রমসাধিত কর্ম আগামী দিনের মানুষকে নতুন কর্মে উজ্জীবিত করে। এককথায়, মানুষকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা এবং কাল-থেকে কালান্তরে অমর করে রাখার একমাত্র উপায় শ্রম। শ্রমবিমুখ ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে সাথেই পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যায়। অন্যথায় শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ ইতিহাসের পাতায় বেঁচে থাকে চিরদিন। নতুন নতুন আবিষ্কারে শ্রম: বিজ্ঞানীরা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আবিষ্কার করে জীবনকে করেছেন সহজ ও গতিশীল। দুর্গমকে করেছেন সুগম। অজানাকে সবার কাছে করেছেন পরিচিত। অজয়কে করেছেন জয়। আর এগুলোর সবকিছুই শ্রমের ফলাফল। শ্রম ব্যতীত কোনো কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞানী নিউটন, আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিংস দিনরাত নিরলস শ্রমের ফলেই এত গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু আবিষ্কার করতে পেরেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই তাঁর সাহিত্যসম্ভারকে জগদ্বিখ্যাত করেছেন। কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই। তাই নতুন কিছু আবিষ্কারে শ্রমের বিকল্প নেই। উন্নত জাতি গঠনে শ্রমের গুরুত্ব: পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। ১৯৪৫ সালে জাপানে প্রথম পারমাণবিক বোমা আঘাত হানার পর বিশ্ব মনে করেছিল- জাপান আর বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে জাপান আবার উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছিল। অর্থনীতিতে দ্রুত সক্ষম হতে পেরেছিল, যার বাস্তব উদাহরণ- ৬০-এর দশকে অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ হওয়া। আর এমন দেশ হতে পেরেছিল জাপানিদের নিরলস শ্রমের কারণে। পৃথিবীতে অলস জাতি কখনো উন্নত হতে পারেনি। আজ্ব ইউরোপ, আমেরিকা-উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে শুধু নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই। মানসিক ও শারীরিক শ্রম: সকল কাজের সাফল্য প্রাপ্তির জন্য মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানসিক পরিশ্রম মানসিক উন্নতি দান করে এবং নবসৃষ্টির নবচিন্তার জন্ম দেয়। আর মানসিক শ্রম যে কাজের চিন্তা করে, শারীরিক শ্রম তা সম্পাদন করে। কিন্তু কার্যত আমরা দেখি, মানসিক পরিশ্রমের মর্যাদা মানুষ স্বীকার করলেও শারীরিক পরিশ্রমকে অনেকেই অবজ্ঞার চোখে দেখে। ফলে সামাজিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ প্রমুখ পেশাজীবী মানুষের অবস্থান সমাজের উপরতলায়। অন্যদিকে, কুলি-মজুর-কৃষক-শ্রমিক এদের অবস্থান সমাজের নীচুতলায়। অন্নহীন, বস্ত্রহীন, শিক্ষাহীন মানবেতর জীবনই তাদের নিত্যসঙ্গী। যদিও শারীরিক শ্রম সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের উপায়, আত্মসম্মানের পরিপন্থী নয়। প্রতিটি মানুষই দেশ ও জাতির কল্যাণ করার উদ্দেশ্যে নিজ যোগ্যতা অনুসারে মানসিক কিংবা শারীরিক শ্রমকে অবলম্বন করছে। এদের অবদান স্বীকার করে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- 'গাহি তাহাদের গান- ধরণীর হাতে দিল যারা আনি' ফসলের ফরমান। শ্রমকিণাঙ্ক-কঠিন যাদের নির্দয় মুঠি-তলে এস্তা ধরণী নজরানা দেয় ডালি ভরে ফুলে ফুলে।' ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব: সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শারীরিক ও মানসিক শ্রমকে সমান মূল্য দেওয়া উচিত। অন্যথায়, জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। সমষ্টিগত জীবনকে সুন্দর ও মহিমাময় করতে শ্রমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে শ্রমের গুরুত্ব আরও গভীর ও ব্যাপক। কেননা, শ্রমবিমুখ ব্যক্তি সাফল্যের ছোঁয়া থেকে চিরকালই বঞ্চিত। ইতিহাসবিখ্যাত ব্যক্তি জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, আলবার্ট আইনস্টাইন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাক্সিম গোর্কি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ ব্যক্তির জীবন থেকেও আমরা একই শিক্ষা গ্রহণ করি। শ্রমবিমুখতা ব্যক্তিকে ব্যর্থতার গ্লানিতে পর্যবসিত করে, তার অগ্রগতির পথকে করে রুদ্ধ। তাই ব্যক্তিজীবনের সাফল্য শ্রমেরই সাফল্য। সভ্যতা বিকাশে শ্রম: মানবসভ্যতার বুনিয়াদ তৈরি করেছে শ্রম। মানুষ যদি নিষ্কর্মা হয়ে ভাগ্যের হাতে আত্মসম্পর্ণ করে বসে থাকত তাহলে আমাদের সামনে এ সমুন্নত সভ্যতার বিকাশ হতো না। শ্রমের শক্তিতেই মানুষ নতুন নতুন সাম্রাজ্যের পত্তন করেছে, করেছে সভ্যতার ক্রমবিস্তার। শ্রম ব্যক্তিজীবনকে সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যশালী করে তারই প্রভাব পড়ে সমাজজীবনের ওপর। তাই শুধু ব্যক্তিজীবনের বিকাশ নয়, সভ্যতার বিকাশেও শ্রমই হাতিয়ার। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত বেশি উন্নত। রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, জার্মানি, জাপান প্রভৃতি দেশ শ্রমের প্রক্রিয়াতেই এত বেশি উন্নত। যুগ যুগ ধরে মানুষের কঠোর শ্রমই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছে, সভ্যতাকে করেছে সমৃদ্ধ। একবিংশ শতাব্দীর উন্নত ও প্রগতিশীল সভ্যতাও মানুষের নিরলস শ্রমের ফসল। উপসংহার: পৃথিবী সৃষ্টি থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমের অবদান অপরিসীম। ব্যক্তিজীবন থেকে জাতীয় জীবনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য একমাত্র শ্রমশক্তির মাধ্যমেই সম্ভব। তাই দেশের জন্য, সমাজের জন্য অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী যে পরিশ্রমই করা হোক না কেন তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সব, শ্রেণির শ্রমকে যদি সমান মর্যাদা দেওয়া হয় তবেই দেশ ও জাতির যথার্থ কল্যাণ সাধিত হবে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে শ্রমের এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা স্বীকৃত। আমাদের দেশের উন্নতিও এ মূল্যবোধের মাধ্যমে সম্ভব।

উত্তর

ভূমিকা: সভ্যতার উষালগ্নে মানুষ যেদিন মাটিতে বীজ বুনে ফল ও ফসল ফলাতে শুরু করল, সেদিন থেকেই ফসল ফলানোর কাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছিল। উন্নত দেশসহ উন্নয়নশীল প্রতিটি দেশে কৃষি অন্যতম প্রধান শিল্প। উন্নত দেশের বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা বিশ্বের সব দেশেই কম-বেশি প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশও তার থেকে ভিন্ন নয়। বাংলাদেশ মানেই গ্রাম-বাংলা, পল্লিবাংলা, মাটি ও মানুষের বাংলা। সেই অর্থেই গোটা বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্র। বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটাই কৃষিনির্ভর। কৃষি আমাদের প্রাণ, কৃষি আমাদের ধ্যান-জ্ঞান ও সাধনা। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে সুপরিচিত। কৃষিকাজের গুরুত্ব: মানবজীবনে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। এ পৃথিবীতে কৃষিকাজ দিয়েই মানুষ তার কর্মজীবনের সূত্রপাত করেছিল। কৃষির ওপর নির্ভর করেই মানবজীবনের ধারা এখনো বয়ে চলেছে এবং চলবে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষি এবং তাদের জাতীয় উন্নয়নও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। মানবজাতির জন্য তাই কৃষির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা অনবরত গবেষণার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করছেন। আমাদের দেশের কৃষক ও কৃষি: আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। দেশের শতকরা প্রায় ৭৯ ভাগ লোকই কৃষিজীবী। কিন্তু দুঃখের বিষয় - এই যে, উন্নত দেশগুলোতে কৃষিকাজের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠলেও আমাদের দেশে এ ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি - সাধিত হয়নি। এখনো প্রাচীন আমলের মতো কৃষকেরা কৃষিকাজের জন্য জীর্ণ-শীর্ণ গরু আর লাঙল ব্যবহার করছে। কৃষকদের অবস্থাও শোচনীয়। কৃষিকাজের জন্য তারা প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাতে পারে না। তারা নিরক্ষর তাই উন্নত ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তনের উপযোগী জ্ঞান ও অর্থ তাদের নেই। ফলে আমাদের কৃষিব্যরস্থা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সংগতি রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিবর্তনের সিঁড়ি বেয়ে গোটা বিশ্ব আজ অপ্রতিহত গতিতে ধেয়ে চলেছে উন্নয়নের স্বর্ণ-শিখরের পানে। দিনবদলের পালায় বাংলার কৃষক আর কৃষি আজও সেই তিমিরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। যুগ-তরঙ্গ তাদের মাঝে কোনো আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি। তাই আজও রাংলার কৃষক প্রকৃতির খেয়াল-খুশির খেলনা হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এদেশের হতভাগ্য অসহায় কৃষকের ইতিবৃত্তে বলেছেন, 'ওই যে দাঁড়ায়ে নত শির মূক সবে-ম্লান মুখে লেখা শুধু শত শতাব্দীর বেদনার করুণ কাহিনি, স্কন্ধে যত চাপে তার বহি চলে মন্দগতি, যতক্ষণ থাকে প্রাণ তার। কৃষিকাজে বিজ্ঞান: আজ একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব ও বিশ্ববাসীর কোনো কাজেই বিজ্ঞানের অনুপস্থিতি নেই। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আজ সর্বত্র অব্যাহত। বিজ্ঞানের বদৌলতে অন্ধকার ধরণী আজ আলোকাভায় প্রোজ্জ্বল। বিজ্ঞানের বদৌলতেই আজ ঊষর মরু হয়েছে সরস ও উর্বর, দুর্গম পাহাড়ের উপত্যকা ও অধিত্যকা এসেছে চাষের আওতায়। নদী পেয়েছে নতুন গতি, শুকনো ক্ষেতে চলছে জল-সিঞ্চন। জগৎ ও জীবনের কর্মপ্রবাহের প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞান তার অবদানের সাক্ষর রেখে চলেছে। কৃষিবিজ্ঞানীরা বর্তমান শতাব্দীতে কৃষিকাজে বিজ্ঞানের ব্যবহারকে সাফল্যজনক পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের প্রয়াসে নিবিড় চাষের জন্য যান্ত্রিক সরঞ্জামের আবিষ্কার কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লবের সূচনা করেছে। ট্রাক্টর ও পাওয়ার-টিলারের সঙ্গে আরও নানা ধরনের যান্ত্রিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির আবিষ্কার মানুষ ও পশুশ্রমকে মুক্তি দিয়েছে। গোবর সার, কম্পোস্ট সার ও সবুজ সারের স্থলে রাসায়নিক সার; যেমন- ইউরিয়া, টিএসপি, এসএসপি ইত্যাদির আবিষ্কারের ফলে একরপ্রতি উৎপাদন দ্বিগুণের ওপরে চলে গেছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা যায়, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল বীজ আবিষ্কারের কথা। ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্রে ব্রি ধান আবিষ্কৃত হয়। এরপর বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি-৮ নামক উচ্চ ফলনশীল ধান আবিষ্কার করে এদেশের কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা আবশ্যক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নোবেল পুরস্কার 'বিজয়ী বিজ্ঞানী নর্মান বেরলগের মাক্সিপাক ও অন্যান্য জাতের উচ্চফলনশীল গম আবিষ্কার করে কৃষিতে বিজ্ঞানের এক মহতী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়োগজনিত সাফল্য শুধু ধান ও গমের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানের এ সাফল্য প্রায় সকল ধরনের ফল-ফলারি ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেই সাধিত হয়েছে। কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে পোকা-মাকড় দমন ও নির্মূল করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগ ঘটেছে অন্য সকল ক্ষেত্রের মতোই। নানা ধরনের পোকার আক্রমণ থেকে শস্যকে রক্ষার জন্য ইনসেকটিসাইড বা পোকা দমনকারী বহু রাসায়নিক দ্রব্য আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে এন্ড্রিন, ডায়াজিন, ক্লোর ছাড়াও রয়েছে অনেক পোকা ধ্বংসকারী ওষুধ। বিভিন্ন দেশের কৃষিকাজে বিজ্ঞান: বর্তমানে উন্নত দেশগুলোতে কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞান ও-প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। জমি কর্ষণ থেকে শুরু করে বীজ বপন, ফসলের আগাছা পরিষ্কার, সেচকার্য, ফসল কাটা, মাড়াই করা ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই তারা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি তাদের কৃষিকাজে এখন আর অন্তরায় হয় না। শীতপ্রধান দেশে শীত নিয়ন্ত্রিত ঘর অর্থাৎ গ্রিন হাউজ তৈরি করে সেখানে শাক-সবজি, ফল-মূল উৎপন্ন করা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় মরুভূমির মতো জায়গাতেও সেচের ব্যবস্থা করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ফসল ফলানো হচ্ছে। ফলে দেখা যায়, কৃষিকার্যে বিজ্ঞান এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনে দিয়েছে। আমাদের দেশে কৃষিকাজে বিজ্ঞান: উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে কৃষিকাজে বিজ্ঞানের ব্যাপক ব্যবহার আমাদের দেশে সম্ভব হচ্ছে না। তবে সীমিত আকারে আমাদের কৃষিতে বিজ্ঞানের ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে এবং কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম। জমির খণ্ড-বিখণ্ডতার কারণে জমি কর্ষণে এখনও অনেক জায়গায় ট্রাক্টর ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। সেচকাজের জন্য গভীর নলকূপ ও মেশিন চালিত পাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে। বীজ সংরক্ষণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও উৎপাদনের মাত্রা বাড়াতে সার ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশে ইতোমধ্যে স্বল্পমাত্রায় হলেও কৃষির উন্নতি সাধিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। দৃষ্টান্ত: বিস্ফোরণোন্মুখ জনসংখ্যার ভারে বাংলাদেশ আজ ন্যুজ। জনসংখ্যার গুরুভার সৃষ্টি করেছে খাদ্য সমস্যা শঙ্কা। আমাদের কৃষির প্রচলিত প্রাচীন পদ্ধতি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সমতা বজায় রেখে কৃষিক্ষেত্রে ফসল উৎপাদন করতে পারছে না। আমাদের মাটির তুলনায় জাপানের মাটির স্বাভাবিক উৎপাদনক্ষমতা এক-চতুর্থাংশ। অথচ তারা কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের চেয়ে অধিক ফসল ফলিয়ে খাদ্য সমস্যার, সমাধান করতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কৃষিকে আমরা এক্ষেত্রে অনুসরণ করতে পারি। আমাদের কৃষক এবং আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তি: আমাদের কৃষক সম্প্রদায় এখনো অনেক জায়গায় জমি চাষের জন্য গবাদিপশু চালিত লাঙল ব্যবহার করে। এ ব্যবস্থা যেমন কষ্টকর তেমনি সময়সাধ্য। এ কাজে আমরা ট্রাক্টর ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক জমিতে চাষাবাদ করতে পারি। কৃষিজমির মান অনুযায়ী রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যেতে পারে। উন্নত, দেশসমূহের মতো আমরাও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অধিক উৎপাদন করে আমাদের খাদ্য সমস্যার সমাধান করতে পারি। বলতে গেলে মানুষের মৌলিক চাহিদার সবটাই জোগান দেয় কৃষি। তাই কৃষিকে অবহেলা করে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণসাধনও অসম্ভব। আশার কথা, এদিকে লক্ষ রেখেই সরকার কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতন হয়ে উঠছে। কৃষিব্যবস্থার সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থে এদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কৃষিকে মাধ্যমিক স্তর থেকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি সম্প্রসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উপসংহার: পর্যাপ্ত মূলধন, কাঁচামাল ও খনিজ সম্পদের অভাবহেতু বাংলাদেশের শিল্পায়নের সম্ভাবনা সুদূরপরাহত। তাই আমাদের জাতীয় উন্নয়ন বহুলাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আর একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমেই কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে আমরা পরনির্ভরশীলতার অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।

উত্তর

ভূমিকা: অপরূপ রূপময়ী দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। ঋতুতে ঋতুতে তার দিগন্তজুড়ে রূপের মেলা বসে। আহ্নিক ও বার্ষিক গতির প্রেরণায় পৃথিবী তার সূর্য পরিক্রমার পথে অগ্রসর হয়ে চলে। তার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে চলে ঋতুর পর ঋতুর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঋতুবৈচিত্র্যের এমন অপরূপ প্রকাশ বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও তেমন দেখা যায় না। তাই জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশকে বলেছেন- 'রূপসি বাংলা'। প্রতিটি ঋতু এখানে প্রকৃতিকে সাজায় তার অনুপম রূপসজ্জায়; তারপর তার সেই রূপ আবার মুছে দিয়ে বিদায় নেয়। এক ঋতু যায়, আসে অন্য ঋতু। গ্রীষ্ম: বাংলাদেশের প্রকৃতির রঙ্গশালার প্রথম ঋতু গ্রীষ্ম। ধুধু রুক্ষ দুই চোখে প্রখর অগ্নিদাহ নিয়ে আবির্ভাব ঘটে এ রুদ্র তাপসের। সর্বত্রই যেন বিস্তৃত মরুভূমির তপ্ত প্রান্তর। সমগ্র জীবজগৎ ও উদ্ভিদ জগতে নেমে আসে এক প্রাণহীন, রসহীন বিবর্ণতার পান্ডুর ছায়া। এ সময়েই প্রকৃতিকে তোলপাড় করে দিয়ে যায় কালবৈশাখীর ভয়াল ছোবল। তার সেই রুদ্রমূর্তি, সেই ভীষণ রূপ দেখা যায় শুধু বাংলাদেশের আকাশেই। এ সময় দুপুরটা দারুণ গরমে মাঝে মাঝে দুঃসহ হয়ে ওঠে, তবে রাত্রিটা ভারি মনোরম। পাকা আমের বৈভব আছে গ্রীষ্মকালে। আছে কালো জামের নিবিড় প্রাচুর্য। বর্ষা: বাংলাদেশে বর্ষা আসে মহাসমারোহে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিকাশ ও গুরুগম্ভীর বজ্রধ্বনির 'অতি ভৈরব হরষে'র মধ্যে সূচিত হয় তার শুভাগমন। আকাশের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ঘন কালো পুঞ্জীভূত মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। দিগন্তের ওপার হতে বন্ধনহীন বায়ুপ্রবাহ দুরন্ত বেগে ছুটে আসে, শুরু হয় শীতল ধারাবর্ষণ। শুষ্ক প্রান্তর, মাঠ-জলাশয়, নদীনালা, খালবিলে অনেকদিন পরে জাগে প্রাণের প্রবল উচ্ছ্বাস। প্রকৃতির সব অঙ্গ হতে গ্রীষ্মের ধূসর ক্লান্তি মুছে যায়, উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে সজল বর্ষার নয়ন-রঞ্জন রূপশ্রী। পুষ্প সৌরভের ঐশ্বর্যে চারদিক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। রিমঝিম বর্ষা দিনরাত আমাদের কানে যেন সেতার বাজিয়ে চলে। আমাদের মন এসময় হয়ে ওঠে মেঘের সঙ্গী। বর্ষার সংগীত রিমঝিম বাজে, আর দেখতে দেখতে সবুজ হয়ে ওঠে ধরিত্রী। তারপর শেষ বর্ষণের পালাগান গেয়ে পথে পথে কদম্ব কেশরের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলে, বাংলার পল্লি-প্রকৃতিকে হাসিয়ে-কাঁদিয়ে সুন্দরী বর্ষা বিদায় নেয়। শরৎ: বর্ষার বিদায়ের পর আবার বঙ্গ প্রকৃতির রূপের রঙ্গমঞ্চে ঘটে পট পরিবর্তন। বর্ষণ ক্ষান্ত লঘুভার মেঘ অলস-মন্থর ছন্দে নিরুদ্দেশে ভেসে চলে। বর্ষণ-ধৌত, মেঘমুক্ত আকাশের সুনীল রূপ-কান্তি, আলো-ছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন-উদাস করা গন্ধ, নদী তীরে কাশফুলের অপূর্ব সমারোহ, এ অনুপম রূপশ্রী নিয়ে ঘটে শারদ লক্ষ্মীর আনন্দময় আবির্ভাব। রূপালি জোছনার অপরূপ রথে চড়ে যেন শারদ লক্ষ্মীর ঘটে মর্ত্যাগমন। চারদিকে সৌন্দর্যের দরজা খুলে যায়, বাংলাদেশের রূপ-লাবণ্য যেন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সোনার রং ধরে শরতের রোদ্দুরে। আসে শারদীয় উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে ওঠে। হেমন্ত: শরতের পরেই আসে হেমন্ত। কিন্তু হেমন্তের নেই শরতের মতো বর্ণ-বাহার, আছে সুদূর ব্যাপ্ত বৈরাগ্যের গভীর বিষণ্ণতা। হেমন্ত যেন ধবল কুয়াশার আবরণে মুখ ঢেকে এক নিঃসঙ্গ সাধনায় মগ্ন থাকে। আর সেই সাধনা তার ফসল ফলাবার সাধনা। মাঠে মাঠে ধান পাকে। খেতে-খামারে হেমন্তের রাশি রাশি, ভারা ভারা সোনার ধান উঠতে থাকে। কৃষকের সময় কাটে এক অন্তহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যে। হেমন্তের ভূষণ নেই। তার ফুলের বাহার নেই, সৌন্দর্যের জৌলুস নেই, রূপসজ্জারও নেই অফুরন্ত প্রাচুর্য; কিন্তু আছে মমতাময়ী নারীর এক অনির্বচনীয় কল্যাণী রূপশ্রী। নিশির শিশিরে সিক্ত হয় সবুজ ঘাস, গুল্মলতা ও বৃক্ষরাজি। রুপালি হেমন্ত মানবমনে বয়ে নিয়ে আসে আনন্দ, তারপর শিশিরের নিঃশব্দ চরণে সেও একদিন নেয় বিদায়। শীত: হেমন্তের প্রৌঢ়ত্বের পর আসে জড়তাগ্রস্ত শীতের নির্মম বুক্ষতা। শুষ্ক কাঠিন্য ও রিক্ততার বিষাদময় প্রতিমূর্তিরূপে শীতের আবির্ভাব ঘটে। তার হিমশীতল রূপমূর্তির মধ্যে প্রচ্ছন্ন রয়েছে তপস্যার কঠোর আত্মপীড়ন এবং বৈরাগ্যের ধূসর মহিমা। এ সময়ে ধান কাটা মাঠে কী সীমাহীন শূন্যতা, কী বিশাল কারুণ্য! তারপরও ঘরে ঘরে আনন্দ। কনকনে শীতের তীব্রতায় খেজুর রসের মিষ্টি মধুর আবেশে শিশিরভেজা ভোরের উদীয়মান রবির কিরণ বাড়ির উঠোনকে যখন আলোকিত করে, তখন রোদে পিঠ পেতে বাড়ির আঙিনায় পিঠা-পায়েস ও মুড়কি-মোয়ার আনন্দে সবাই আস্বাদন করে শীতের রূপবৈচিত্র্যকে। সর্বত্যাগী শীত তার সর্বস্ব ত্যাগ করে আমাদের পূর্ণ করে দিয়ে নীরবে চলে যায়। ত্যাগের কী অপরূপ মহিমা! এ ত্যাগের অপরূপ মহিমায় তার সর্বাঙ্গ ভাস্বর। বসন্ত: বসন্তের আবির্ভাবকে সম্ভব করে তুলবার জন্যই মৌন-তাপস শীতের যেন কঠোর তপস্যা। আসে ঋতুরাজ বসন্ত, আসে পুষ্পমালা বিরচনের লগ্ন। দক্ষিণের মৃদুমন্দ বাতাসের জাদুস্পর্শে শীতের জরাগ্রস্ত পৃথিবীর সর্বাঙ্গে লাগে অপূর্ব শিহরন। বাতাসের মর্মর ধ্বনির এবং দূর বনান্তরাল থেকে ভেসে আসা কোকিলের কুহু গীতি পৃথিবীতে অনুরাগের প্লাবন ছোটায়। শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম উচ্ছ্বাসে, মধুমালতী ও মাধবী মঞ্জুরির গন্ধ ও বর্ণের তুমুল কোলাহলে লেগে যায় এক আশ্চর্য মাতামাতি। তার উজ্জ্বল বর্ণ ও গন্ধের আবির্ভাবে শূন্যতার অবসান হয়। অফুরন্ত প্রাণ-বন্যায় মেতে ওঠে মানুষ ও প্রকৃতি। আবার শেষ-বসন্তে তার এ বর্ণবিলাস, প্রাণ-প্রাচুর্যের জোয়ারে আসে ভাটা। গ্রীষ্মের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে ঋতুরাজ বসন্ত নেয় বিদায়। উপসংহার: রূপসি বাংলার এ রকম বিচিত্র ঋতুচক্র নানা বর্ণ-গন্ধ গানের সমারোহ নিয়ে নিত্য আবর্তিত হচ্ছে। এক ঋতু যায়, আসে আরেক ঋতু। বাংলাদেশের রূপসাগরে লাগে ঢেউ। কিন্তু শহরবাসী ও শহরমুখী বাঙালি আজ আর অন্তরে তার, নিমন্ত্রণ অনুভব করে না। আজ আমরা প্রকৃতিকে নির্বাসিত করে বরণ করে নিচ্ছি উগ্র নাগরিকতার তপ্ত নিশ্বাস। কিন্তু উপেক্ষিত প্রকৃতি একদিন না একদিন হয়তো এর প্রতিশোধ নিতে চায়বে।
SSCবাংলা ২য় পত্রপরিচ্ছেদ ৪৯ : প্রবন্ধ রচনা
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (গ) স্বদেশপ্রেম।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝড়ের রাত; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) একটি ঝড়ের রাত।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিকার; (গ) বিজ্ঞান ও আধুনিক জীবন।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প; (গ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার; (গ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Barisal · 2019

ক
জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা
গ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

জাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

Jessore · 2019

ক
স্বদেশপ্রেম
খ
মানবকল্যাণে বিজ্ঞান
গ
পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) জগদীশচন্দ্র বসু; (খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষি উদ্যোক্তা; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্রতযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ; (খ) একটি ঝযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) বাংলাদেশের উৎসব; (খ) লঞ্চ ভ্রমণের অভিজ্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) স্বদেশপ্রেম; (খ) মাদকাসক্তি ও তার প্রতিযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো : (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) বাংলাদেশের পর্যটনযেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো: (ক) কৃষিকাজে বিজ্ঞান; (খ) মাদকাসক্তি ও এর প্মানবকল্যাণে বিজ্ঞানবৃক্ষরোপণ অভিযানজাতি গঠনে নারীসমাজের ভূমিকাপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।