জহিরের ভূমিকায় আখলাকে যামিমাত্র যে বিষয়টি ফুটে ওঠে তা চিহ্নিতপূর্বক ইমাম সাহেবের উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর: জহিরের ভূমিকায় আখলাকে যামিমার 'ঘুষ' বিষয়টি ফুটে উঠে। আর এ কাজের পরিণতি সম্পর্কে ইমাম সাহেবের বক্তব্য যথার্থ। উদ্দীপকে 'খ' পত্রিকার একজন সাংবাদিক 'ক' কারখানার প্রতারণার বিষয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করলো। সে রিপোর্ট যাতে প্রকাশ করা না হয়, সেজন্য কারখানার ম্যানেজার জহির তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করে। তার এ কাজে ঘুষের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। জহিরের এ কাজের কথা জেনে ইমাম সাহেব বললেন, এটি জাহান্নামের পথ প্রশস্ত করবে। কারণ ঘুষ অত্যন্ত জঘন্য অর্থনৈতিক অপরাধ। এর কুফল ও অপকারিতা অত্যন্ত ভয়াবহ। সুদ মানবসমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্ম দেয়। ধনী আরও ধনী হয়। গরিব আরও গরিব হয়। ফলে সমাজের মধ্যে শ্রেণিভেদ গড়ে উঠে। পারস্পরিক মায়া-মমতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সুদের কারণে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নতি ব্যাহত হয়। লোকেরা বিনিয়োগে উৎসাহী হয় না; বরং সম্পদ অনুৎপাদনশীলভাবে সুদি কারবারে লাগায়। ফলে দেশের বিনিয়োগ কমে যায়, জাতীয় উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে সুদ ও ঘুষের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। ধর্মীয় দিক থেকেও এর কুফল অত্যন্ত ব্যাপক। সুদ-ঘুষের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ হারাম বা অবৈধ। আর হারাম কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। যার শরীর হারাম খাদ্যে গঠিত, যার পোশাক পরিচ্ছদ হারাম টাকায় অর্জিত এরূপ ব্যক্তির কোনো ইবাদত কবুল হয় না, এমনকি তার কোনো দোয়াও আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন না। সুদ ও ঘুষের লেনদেনকারী যেমন মানুষের নিকট ঘৃণিত তেমনি সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নিকটও ঘৃণিত। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) সুদ ও ঘুষের লেনদেনকারীকে অভিসম্পাত করেন, লানত দেন। সুতরাং বলা যায়, সুদ ও ঘুষ উভয়ই জঘন্যতম সামাজিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ এবং এটি আল্লাহর কাছে অমার্জনীয়। তাই সকলের এগুলো থেকে বেঁচে থাকা উচিত। অতএব ইমাম সাহেবের উক্তি যথার্থ।
SSC ইসলাম শিক্ষা অধ্যায়-৪ : আখলাক CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · ইসলাম শিক্ষা · অধ্যায়-৪ : আখলাক · সৃজনশীল
জহিরের ভূমিকায় আখলাকে যামিমাত্র যে বিষয়টি ফুটে ওঠে তা চিহ্নিতপূর্বক…
উদ্দীপক
Sylhet · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর