“দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্দীপকের এলাকা দুটির বনায়ন পরিকল্পনার কৌশলগত ভিন্নতা রাখা অপরিহার্য" -বক্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর: উদ্দীপকে সমতলভূমি ও উপকূলীয় তথা ভাসানচর এলাকায় বনায়নের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, টাঙ্গাইল, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চলের বনকে সমতলভূমির বন বলে। এ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ শাল। এছাড়া কড়ই, রেইনট্রি, জারুল ইত্যাদি বৃক্ষও এ বনে জন্মে থাকে। এ এলাকার মাটিতে তেমন কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গাছ লাগানো হয় না। কারণ মাঝে মাঝে প্রাকৃকি দুর্যোগ ছাড়া তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। এ বনের শাল কাঠ খুবই উন্নতমানের। গৃহ নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি ও অন্যান্য নির্মাণ কাজে শাল কাঠের ব্যবহার করা হয়। সরকারিভাবে এসব এলাকায় বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে উপকূলীয় এলাকা সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে সমতলভূমি এলাকার বনায়ন থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়। উপকূলীয় তথা ভাসানচর এলাকার বনায়ন পরিকল্পনাও ভিন্নতর হবে। শিকড় বিস্তৃত করতে পারে এমন গাছ উপকূলীয় বনে লাগানো যেতে পারে। যেমন- নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি। মরুজ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মোকাবেলা করে টিকে থাকেত পারে এমন উদ্ভিদ নির্বাচন করতে হবে। যেমন- নারিকেল, গজারি, খেজুর। উপকূলীয় বাঁধসমূহ দূর্যোগের সময় গরু-ছাগলের আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়া গাছ লাগানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন তা গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সেসব উদ্ভিদ জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে সেসব উদ্ভিদও লাগানো যেতে পারে। তাছাড়া উপকূলীয় বনায়নে শক্ত ও লম্বা কান্ড এবং ছোট পাতা ও ডালপালা কর্তন সহনীয় গাছ নির্বাচন করতে হবে। যেমন- শিশু, বাবলা, কড়ই ইত্যাদি। সুতরাং, এলাকা দুইটি ভিন্ন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে সেখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশগত পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে। তাই দুটি ভিন্ন এলাকায় বনায়ন পরিকল্পনা কৌশলগত ভিন্নতা রাখা অপরিহার্য। অর্থাৎ বক্তব্যটি যথার্থ ছিল।
SSC কৃষিশিক্ষা অধ্যায়-৫: বনায়ন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · কৃষিশিক্ষা · অধ্যায়-৫: বনায়ন · সৃজনশীল
“দুর্যোগ মোকাবেলায় উদ্দীপকের এলাকা দুটির বনায়ন পরিকল্পনার কৌশলগত ভি…
উদ্দীপক
Mymensingh · 2020
উত্তর
উত্তর