উদ্দীপকের শাসকের সাথে ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের শাসকের সাথে ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের শাসক শেরশাহের সাদৃশ্য রয়েছে। ভারতে শুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা শেরশাহের বাল্যজীবন সুখের ছিল না। তার পিতা হাসান খান শুর বিহারের অন্তর্গত সাসারামের জায়গিরদার ছিলেন। বিমাতার দুর্ব্যবহার এবং পিতার অবহেলায় অতিষ্ঠ হয়ে ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গৃহত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে শেরশাহ ভারতে শুর বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকেও এরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে বিমাতার দূরভিসন্ধির ফলে পিতৃরাজ্য হারিয়ে হাদীদ ভাগ্যান্বেষণে বের হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এক পর্যায়ে একটি প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করে ঐ সাম্রাজ্যের অধিপতি হন। অল্প কয়েক বছরের রাজত্বকালে হাদীদ রাজস্ব ব্যবস্থা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে যে সংস্কার করেন, তা ছিল পরবর্তী শাসকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অনুরূপভাবে ছেলে বেলায় গৃহত্যাগ করলেও শেরশাহ তার যোগ্যতার কারণে ১৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সাসারামে পিতার জায়গিরের দায়িত্ব লাভ করেছিলেন। তবে বিমাতা এবং বৈমাত্রেয় ভাইদের শত্রুতার কারণে তিনি সাসারাম ত্যাগ করেন এবং ১৫২২ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের শাসক বাহার খান লোহানীর অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন। ১৫২৮ খ্রিষ্টাব্দে বাহারখান লোহানীর মৃত্যুর পর তিনি তার পুত্র জালাল খানের অভিভাবক নিযুক্ত হন। ১৫৩০ সালে শের খান চুনার দুর্গের অধিপতি বিধবা লাদ মালিকাকে বিয়ে করে ঐ দুর্গটির কর্তৃত্ব লাভ করেন। তার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ হয়ে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন চুনার দুর্গ অবরোধ করলে শেরশাহ মৌখিকভাবে তার আনুগত্য স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে শেরশাহ সম্রাট হুমায়ুনকে ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে এবং ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে বিলগ্রাম বা কনৌজের যুদ্ধে পরাজিত করে দিল্লির মসনদ দখল করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের শাসকের সাথে শেরশাহের সাদৃশ্য রয়েছে।
HSC Islamic History 2nd paper Chapter 3 : ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · Chapter 3 : ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের শাসকের সাথে ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়ে…
উদ্দীপক
Dhaka · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর