“মাহমুদ শাহ” – এর ধর্মীয় দর্শন এবং তার রাজনীতি ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: মাহমুদ শাহের সাদৃশ্যপূর্ণ সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি বা ধর্মীয় দর্শন তার রাজনীতি ভারতের সাম্প্রদায়িক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ধর্মীয় দর্শন 'ধর্ম হিসেবে দীন-ই-ইলাহির সফলতা বা ব্যর্থতা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মঙ্গলজনক ফলাফল এনেছিল'। মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর তার ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্যই নতুন ধর্মমতের প্রবর্তন করেন। যদিও আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তনের নেপথ্যে বংশীয় ও পারিবারিক প্রভাব, গৃহশিক্ষকের প্রভাব, সুফিবাদের প্রভাব, রাজপুত স্ত্রীদের প্রভাব, জৈনধর্মের প্রভাব, যুগ ধর্মের প্রভাব, মাহদি ও রাসনি মতের প্রভাব বিদ্যমান। তবুও একথা বলতে হয় যে, আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত রাজনৈতিক, ধর্মীয় নয়। ভারতে মুঘল শক্তির স্থায়িত্ব বিধানের স্বার্থে হিন্দু-মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে একটি ঐক্য ও প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই সম্রাট ধর্মীয় ক্ষেত্রে উদার নীতি ও দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি নিজে নিষ্ঠাবান মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও অন্য ধর্মমতের প্রতি সহিষ্ণু ছিলেন। তার রাজ্যে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণের অনুষ্ঠান ভিত্তিক ধর্মীয় আচরণের মত পার্থক্য, দূর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেন। শাসন পরিচালনায় অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যেই সার্বজীন ধর্মমত দ্বীন-ই-ইলাহির প্রবর্তন করেন। সুতরাং বলতে পারি তার এই আন্তঃধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসকের মর্যাদা অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, আকবরের ধর্মীয় দর্শন দ্বীন-ই-ইলাহি ব্যর্থ হলেও রাজনেতিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব মঙ্গলজনক ছিল।
HSC Islamic History 2nd paper Chapter 3 : ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · Chapter 3 : ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন · সৃজনশীল
“মাহমুদ শাহ” – এর ধর্মীয় দর্শন এবং তার রাজনীতি ভারতের সাম্প্রদায়িক …
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর