শেয়ারFacebookWhatsApp

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না- যুক্তি দিয়ে বিচার কর।

উত্তর: কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না- উক্তিটি যৌক্তিক। ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বড় ভূমিকা ছিল। কংগ্রেস সর্বধর্মীয় দল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে, মুসলিম লীগ মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তুলে ধরেছিল, যা দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে। এই ধর্মভিত্তিক বিভাজন সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে এবং জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তোলে। ব্রিটিশরা বিভাজন-নীতির মাধ্যমে এই বিভাজনকে আরও উসকে দেয়, যা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে কার্যকর হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ কর শাসন কর নীতি ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘায়িত করেছিল ভারতবর্ষে। তবে এর পেছনে তাদের কাজকে সহজ করে দেয় মুসলিম লীগ ও জাতীয় কংগ্রেস। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সহিংসতা স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মীয় ভেদাভেদকে পেছনে ফেলে একটি অভিন্ন জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনা করত, তবে স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হতে পারত এবং রক্তপাতের মাত্রা কমে আসত। কিন্তু তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মীয় পরিচিতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল না। ফলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুধুমাত্র স্বাধীনতার সময়কাল দীর্ঘায়িত করেনি, বরং তা ভারতীয় উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাই এই উক্তিটি বাস্তবতাকে চিহ্নিত করে, যেখানে ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে জটিল ও বিভাজিত করেছিল। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন এত বিলম্ব হতো না। মন্তব্যটি যথার্থ।

HSC Civics 2nd Paper Chapter 1 : ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Civics 2nd Paper · Chapter 1 : ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ · সৃজনশীল

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তা…

উদ্দীপক

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা ভাগকর-শাসনকর নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্ম ভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ করতে এতো দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না।

উত্তর

মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তর

ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকরা ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে শাসনকার্য পরিচালনা করার যে নীতি গ্রহণ করেছিল তাকেই 'ভাগ কর শান কর' নীতি বলে। এ নীতির আওতায় ব্রিটিশরা বাংলাকে বিভক্ত করে একটি সাম্প্রদায়কে নিজেদের অনুকূলে রেখে অপর সাম্প্রদায়কে শাসন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। মূলত তাদের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘায়িত করা।

উত্তর

ভাগ কর, শাসন কর নীতি প্রয়োগ করেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে- মন্তব্যটি যথার্থ। 'ভাগ কর, শাসন কর' নীতি ব্রিটিশ শাসকদের একটি কুটকৌশল। যা ভারতীয় উপমহাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রিটিশরা সামাজিক, ধর্মীয় এবং জাতিগত বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। তারা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও বৈরিতা বৃদ্ধি করে এবং এক সম্প্রদায়কে অপর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে নিজেদের শাসন মজবুত করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা ভাগ কর-শাসনকর নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে। এ কথাটি যথার্থ কারণ, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ এই নীতির একটি উদাহরণ, যা বাংলার হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরায়। এই নীতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যেই বিভক্তি ঘটায়নি, বরং সাধারণ জনগণের মধ্যেও সন্দেহ এবং অসহযোগিতার বীজ বপন করে। ব্রিটিশরা স্থানীয় শাসকদের মধ্যে স্বার্থপরতা জাগিয়ে তুলে তাদেরকে নিজেদের পক্ষে টেনে নেয় এবং একতাবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠতে বাধা দেয়। তবে, এই নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেতিবাচক ছিল, কারণ এটি জাতিগত এবং সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের মূলে আরও জটিলতা সৃষ্টি করে, যার প্রভাব স্বাধীনতার পরও রয়ে গেছে। অতএব, এই নীতি ব্রিটিশ শাসনের টিকে থাকার হাতিয়ার হলেও, এটি ভারতীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

উত্তর

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না- উক্তিটি যৌক্তিক। ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বড় ভূমিকা ছিল। কংগ্রেস সর্বধর্মীয় দল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে, মুসলিম লীগ মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তুলে ধরেছিল, যা দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে। এই ধর্মভিত্তিক বিভাজন সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে এবং জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তোলে। ব্রিটিশরা বিভাজন-নীতির মাধ্যমে এই বিভাজনকে আরও উসকে দেয়, যা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে কার্যকর হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ কর শাসন কর নীতি ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘায়িত করেছিল ভারতবর্ষে। তবে এর পেছনে তাদের কাজকে সহজ করে দেয় মুসলিম লীগ ও জাতীয় কংগ্রেস। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সহিংসতা স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মীয় ভেদাভেদকে পেছনে ফেলে একটি অভিন্ন জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনা করত, তবে স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হতে পারত এবং রক্তপাতের মাত্রা কমে আসত। কিন্তু তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মীয় পরিচিতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল না। ফলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুধুমাত্র স্বাধীনতার সময়কাল দীর্ঘায়িত করেনি, বরং তা ভারতীয় উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাই এই উক্তিটি বাস্তবতাকে চিহ্নিত করে, যেখানে ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে জটিল ও বিভাজিত করেছিল। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন এত বিলম্ব হতো না। মন্তব্যটি যথার্থ।
HSCCivics 2nd PaperChapter 1 : ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ বহলো-

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো-

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.বঙ্গভঙ্গ- i. ১৯০৫ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়? ii. ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম নিয়ে একটি প্রদেশ গঠিত হয় iii. রাজশাহী হয় এই প্রদেশের রাজধানী নিচের কোনটি সঠিক?

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.বাংলার প্রাচীন নাম 'বঙ্গ' ছিল কার মতে?

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.“ভারতে মাত্র দুটি জাতি বাস করে"-উক্তিটি কার?

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়?

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো হবে-

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন দল সর্বোচ্চ আসন লাভ করে?

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.১৯৩৫ সারের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক ক্ষমতার তালিকায় ছিল—

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.এই আইনের দ্বারা ভারতবর্ষে কতটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়?

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২৩ ও ২৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও: ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে একটি আইন প্রণীত হয় যার প্রেক্ষিতে খুব দ্রুত অনেকগুলি ঘটনা ঘটে যায়। আইনটি যে নামে পরিচিত— i. ভারত স্বাধীনতা আইন ii. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা iii. ক্রিমেন্ট এটলি পরিকল্পনা নিচের কোনটি সঠিক?

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ · 2024

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ বহলো-মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো-বঙ্গভঙ্গ- i. ১৯০৫ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়? ii. ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাবাংলার প্রাচীন নাম 'বঙ্গ' ছিল কার মতে?“ভারতে মাত্র দুটি জাতি বাস করে"-উক্তিটি কার?ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়?লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী অঙ্গরাজ্যগুলো হবে-১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন দল সর্বোচ্চ আসন লাভ করে?১৯৩৫ সারের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক ক্ষমতার তালিকায় ছিল—এই আইনের দ্বারা ভারতবর্ষে কতটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়?নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২৩ ও ২৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও: ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে একটি অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তা… | Prosthuti