শেয়ারFacebookWhatsApp

উদ্দীপকের আলোকে মিস ফাতিমা তুজ-যোহরার শেষের বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর: সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্দিষ্ট সংবিধান দ্বারা পরিচালিত। কেননা সংবিধান হলো রাষ্ট্রের জীবন পদ্ধতি; যা রাষ্ট্র নিজেই বেছে নিয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংবিধান নির্ধারণ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সংবিধান শুধু একটি বিধিবদ্ধ আইন নয়, বরং তা একটি জনসমষ্টির প্রগতির নিদর্শন। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ একজন মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। কেননা, মৌলিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একজন মানুষের মানবসত্তা বিকশিত হয়। অন্যদিকে মৌলিক অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা যখন কারো দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৌলিক অধিকার সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমত 'অধিকার ও মানবাধিকার' সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান জরুরি। সাধারণ অর্থে অধিকার হলো, 'মানুষের আত্মবিকাশের জন্য কতিপয় সুযোগ-সুবিধার দাবি, যে দাবির হয় নৈতিক, না হয় আইনগত ভিত্তি রয়েছে।' অন্যদিকে মানব পরিবারের সব সদস্যের জন্য সার্বজনীন, সহজাত অধিকারই হলো মানবাধিকার। মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের এমন অধিকার যেটা তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। আর যখন কতিপয় মানবাধিকারকে কোনো দেশের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাদের মৌলিক অধিকার বলে। সাধারণত মৌলিক অধিকারগুলোর সবই মানবাধিকার। অর্থাৎ সব মৌলিক অধিকার মানবাধিকার, কিন্তু সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়। বস্তুত মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রের ওপর বাধানিষেধ আরোপ করে এবং রাষ্ট্রের কাজের পরিধি বা সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিধান তৃতীয় ভাগে আলোচিত হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়েছে। মৌলিক অধিকারগুলো সাধারণত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে পরিগণিত হয়। আর এরূপ অধিকার পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন অযোগ্য। অর্থাৎ রাষ্ট্র চাইলে এ অধিকারগুলো সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে না। পৃথিবীর যেকোনো সংবিধানে মৌলিক অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মৌলিক অধিকারের আকার-আকৃতি বা ধরন বিভিন্ন রাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির। তবে বিশেষ কিছু অধিকারকে প্রত্যেক রাষ্ট্রই মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেমন চলাফেরার স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার ইত্যাদি। ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ১২ থেকে ৩৫ এরমধ্যে মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত কতিপয় মৌলিক অধিকার হলো সাম্যের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকার ইত্যাদি। পাকিস্তানের সংবিধান নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা, মেলামেশার স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার সংবিধানে বিনামূল্যে শিক্ষা পাওয়ার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেও বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিষ্ঠুর দন্ড প্রদান নিষিদ্ধকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা বা বলবৎ করার উপায় বাংলাদেশ সংবিধানে মৌলিক অধিকার রক্ষা বা বলবৎ করার উপায়ও নির্দেশিত রয়েছে। এগুলো হলো: ১. বাংলাদেশ সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। মৌলিক অধিকারের সাথে সামঞ্জস্যহীন কোনো আইন প্রণীত হলে তা যতটুকু সামঞ্জস্যহীন ততটুকু বাতিল বলে গণ্য হবে। ২. আইনানুযায়ী ব্যতীত বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সংবিধানের ৩২নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কেউ জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি ভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যে কোনো পদক্ষেপকে বাতিল ঘোষণা করতে পারবে। ৩. বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে। ৪. মৌলিক অধিকার রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ক্ষমতা। জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন যদি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্ট তা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল ঘোষণা করতে পারবে।

HSC Civics 2nd Paper Chapter 4 : বাংলাদেশের সংবিধান CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

HSC · Civics 2nd Paper · Chapter 4 : বাংলাদেশের সংবিধান · সৃজনশীল

উদ্দীপকের আলোকে মিস ফাতিমা তুজ-যোহরার শেষের বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উদ্দীপক

মিস ফাতিমা তুজ-যোহরা শ্রেণিকক্ষে পাটুল মিনি কক্সবাজার” রাষ্ট্রের সমাধানের মৌলিক অধিকার বিষয়ে পাঠদানকালে বলেন যে, এই সংবিবধানে "আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমতা, সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের অধিকার, জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ, আইনের আশ্রয়লাভের অধিকারসহ একাধিক মৌলিক অধিকার রয়েছে।" তিনি শেষের বক্তব্যে বলেন যে, মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা বা বলবৎ করার উপায় এই সংবিধানেই, সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

উত্তর

১৯০৯ সালের ভারতীয় পরিষদ আইন ' মর্লে মিন্টো সংস্কার ভারতীয় কাউন্সিল আইন 1909' নামেও পরিচিত।

উত্তর

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের হস্তান্তরিত দুটি ক্ষমতার নাম নিম্ন উল্লেখ করা হলো: ১। কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন: এ আইনে প্রদেশে দ্বৈতশাসন রহিত করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় বিষয়সমূহকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত'-এ দু ভাগে বিভক্ত করা হয়। 'হস্তান্তরিত বিষয়সমূহ' নির্বাচিত মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত করা হয়। মন্ত্রিসভা এসব দায়িত্ব পালনে আইনসভার নিকট দায়ী ছিলেন। 'সংরক্ষিত বিষয়সমূহ' পরিচালনার ভার গভর্নর জেনারেল ও তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীর হাতে ন্যস্ত করা হয়। উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যগণ আইনসভার নিকট দায়ী ছিলেন না। ২। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন: এ আইনে প্রদেশসমূহে দ্বৈতশাসন রহিত করা হয় এবং স্বায়ত্তশাসন ও দায়িত্বশীল সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়। প্রাদেশিক বিষয়সমূহের উপর প্রদেশের কর্তৃত্ব স্বীকার করা হয়। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে আইনসভার নিকট দায়ী বা জবাবদিহি করার বিধান করা হয়।

উত্তর

উদ্দীপকে যে বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে তা হলো বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ। নিম্নে বর্ণনা দেওয়া হলো: মৌলিক অধিকার হচ্ছে রাষ্ট্র প্রদত্ত সেসব সুযোগ-সুবিধা যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য। নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিভার বিকাশের জন্য মৌলিক অধিকার একান্ত প্রয়োজনীয়। সংবিধানের সংশোধন কিংবা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা যায় না। মৌলিক অধিকার সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকায় এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হয়। সুতরাং মৌলিক অধিকার হচ্ছে নাগরিক জীবনের ও ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বিকাশের জন্য সেসব অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম সংবিধানে সন্নিবেশিত এবং স্বরকারের পক্ষে অলঙ্ঘনীয়। বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ : ১. আইনের দৃষ্টিতে সমতা: সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ২. ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্যহীনতা: কেবল ধর্ম, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। জনগণের কোনো বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে কোনোরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না। তবে রাষ্ট্র নারী, শিশু বা অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারবে। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। ৩. সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা: প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে নাগরিকদের প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের সুযোগের সমতার ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না। ৪. উপাধি, সম্মান ও ভূষণের বিলোপসাধন: রাষ্ট্রপতির পূর্ব-অনুমোদন ব্যতীত কোনো নাগরিক বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট থেকে কোনো খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহণ করবে না। তবে সাহসিকতার জন্য পুরস্কার বা একাডেমিক পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। ৫. আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার: আইনের আশ্রয় লাভ করার অধিকার বাংলাদেশের সকল নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার। এজনা আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে এরূপ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। ৬. জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার: রক্ষণ আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। ৭. গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ: গ্রেপ্তারকৃত কোনো ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না। কোনো ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শ ও তার দ্বারা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যাবে না। গ্রেপ্তারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে হাজির করা হবে এবং আদালতের আদেশ ব্যতীত তাকে উক্ত সময়ের অধিককাল আটক রাখা যাবে না। তবে কোনো বিদেশি শত্রুর ক্ষেত্রে এবং নিবর্তনমূলক আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপরোক্ত কোনো কিছুই প্রযোজ্য হবে না। ৮. জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ: সকল প্রকার জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ এবং এ বিধান কোনোভাবে লঙ্ঘিত হলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। তবে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। ইত্যাদি।

উত্তর

সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্দিষ্ট সংবিধান দ্বারা পরিচালিত। কেননা সংবিধান হলো রাষ্ট্রের জীবন পদ্ধতি; যা রাষ্ট্র নিজেই বেছে নিয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংবিধান নির্ধারণ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের সংবিধান শুধু একটি বিধিবদ্ধ আইন নয়, বরং তা একটি জনসমষ্টির প্রগতির নিদর্শন। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহ একজন মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। কেননা, মৌলিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একজন মানুষের মানবসত্তা বিকশিত হয়। অন্যদিকে মৌলিক অধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা যখন কারো দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মৌলিক অধিকার সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমত 'অধিকার ও মানবাধিকার' সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান জরুরি। সাধারণ অর্থে অধিকার হলো, 'মানুষের আত্মবিকাশের জন্য কতিপয় সুযোগ-সুবিধার দাবি, যে দাবির হয় নৈতিক, না হয় আইনগত ভিত্তি রয়েছে।' অন্যদিকে মানব পরিবারের সব সদস্যের জন্য সার্বজনীন, সহজাত অধিকারই হলো মানবাধিকার। মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের এমন অধিকার যেটা তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। আর যখন কতিপয় মানবাধিকারকে কোনো দেশের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাদের মৌলিক অধিকার বলে। সাধারণত মৌলিক অধিকারগুলোর সবই মানবাধিকার। অর্থাৎ সব মৌলিক অধিকার মানবাধিকার, কিন্তু সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়। বস্তুত মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রের ওপর বাধানিষেধ আরোপ করে এবং রাষ্ট্রের কাজের পরিধি বা সীমানা নির্দিষ্ট করে দেয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি ভাগ রয়েছে। মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট বিধান তৃতীয় ভাগে আলোচিত হয়েছে। অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সংবিধানে সন্নিবেশিত হয়েছে। মৌলিক অধিকারগুলো সাধারণত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে পরিগণিত হয়। আর এরূপ অধিকার পরিবর্তন, সংযোজন বা বিয়োজন অযোগ্য। অর্থাৎ রাষ্ট্র চাইলে এ অধিকারগুলো সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে না। পৃথিবীর যেকোনো সংবিধানে মৌলিক অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মৌলিক অধিকারের আকার-আকৃতি বা ধরন বিভিন্ন রাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির। তবে বিশেষ কিছু অধিকারকে প্রত্যেক রাষ্ট্রই মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেমন চলাফেরার স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার ইত্যাদি। ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ ১২ থেকে ৩৫ এরমধ্যে মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত কতিপয় মৌলিক অধিকার হলো সাম্যের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক অধিকার ইত্যাদি। পাকিস্তানের সংবিধান নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা, মেলামেশার স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার সংবিধানে বিনামূল্যে শিক্ষা পাওয়ার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেও বাক স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিষ্ঠুর দন্ড প্রদান নিষিদ্ধকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা বা বলবৎ করার উপায় বাংলাদেশ সংবিধানে মৌলিক অধিকার রক্ষা বা বলবৎ করার উপায়ও নির্দেশিত রয়েছে। এগুলো হলো: ১. বাংলাদেশ সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। মৌলিক অধিকারের সাথে সামঞ্জস্যহীন কোনো আইন প্রণীত হলে তা যতটুকু সামঞ্জস্যহীন ততটুকু বাতিল বলে গণ্য হবে। ২. আইনানুযায়ী ব্যতীত বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সংবিধানের ৩২নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, আইনের কর্তৃত্ব ব্যতীত কেউ জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তি ভোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী যে কোনো পদক্ষেপকে বাতিল ঘোষণা করতে পারবে। ৩. বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে। ৪. মৌলিক অধিকার রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ হলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ক্ষমতা। জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন যদি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হয় তাহলে সুপ্রিম কোর্ট তা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল ঘোষণা করতে পারবে।
HSCCivics 2nd PaperChapter 4 : বাংলাদেশের সংবিধান
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

question image

Chittagong · 2017

ক
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কাকে বলে?
খ
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন?
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত '?' চিহ্নিত স্থানে রাষ্ট্র পরিচালনার কোন বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

question image

Chittagong · 2017

ক
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কাকে বলে?
খ
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন?
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত '?' চিহ্নিত স্থানে রাষ্ট্র পরিচালনার কোন বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন?

স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কাকে বলে?

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কাকে বলে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

Barisal · 2017

ক
মৌলিক অধিকার কী?
খ
দুম্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে কী বোঝায়?
গ
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো সংবিধানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

Barisal · 2017

ক
মৌলিক অধিকার কী?
খ
দুম্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে কী বোঝায়?
গ
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো সংবিধানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.দুম্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে কী বোঝায়?

দুম্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে কী বোঝায়?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.মৌলিক অধিকার কী?

মৌলিক অধিকার কী?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

জনাব রশিদ একটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। দায়িত্ব নেবার পর তিনি সংগঠনটি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করেন। সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও অন্যান্য সংগঠনের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়। নীতিমালায় সদস্যদের অধিকার ও কর্তব্য, সংগঠন পরিচালনার মূলনীতি লিপিবদ্ধ করা হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে নীতিমালাটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে।

Sylhet · 2017

ক
স্থানীয় শাসন কাকে বলে?
খ
মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিমালার সাথে বাংলাদেশ সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিগত মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
"উক্ত নীতিমালাটির সংশোধন সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক"- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক

জনাব রশিদ একটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। দায়িত্ব নেবার পর তিনি সংগঠনটি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করেন। সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও অন্যান্য সংগঠনের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়। নীতিমালায় সদস্যদের অধিকার ও কর্তব্য, সংগঠন পরিচালনার মূলনীতি লিপিবদ্ধ করা হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে নীতিমালাটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে।

Sylhet · 2017

ক
স্থানীয় শাসন কাকে বলে?
খ
মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিমালার সাথে বাংলাদেশ সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিগত মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ
"উক্ত নীতিমালাটির সংশোধন সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক"- বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?

মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.স্থানীয় শাসন কাকে বলে?

স্থানীয় শাসন কাকে বলে?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

উদ্দীপকে উল্লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।উদ্দীপকে উল্লিখিত '?' চিহ্নিত স্থানে রাষ্ট্র পরিচালনার কোন বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েস্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন প্রয়োজন?প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কাকে বলে?উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান- বিশ্লেষণ করোউদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো সংবিধানের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।দুম্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে কী বোঝায়?মৌলিক অধিকার কী?"উক্ত নীতিমালাটির সংশোধন সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক"- বিশ্লেষণ করো।উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিমালার সাথে বাংলাদেশ সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিগত মিল কোথায়?মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?স্থানীয় শাসন কাকে বলে?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।