উদ্দীপকের আলোকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে কামালের গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন কমা-বাড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা যে কারণগুলোর কথা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও সঠিক। একটি গাভীর দুধ উৎপাদন সবসময় একই পরিমাণে হয় না; এটি বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। নিচে কারণগুলো মূল্যায়ন করা হলো: ১. খাদ্য ও পানির তারতম্য: গাভীকে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস এবং চাহিদামতো বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না করলে দুগ্ধ উৎপাদন দ্রুত কমে যায়। খাদ্যের উপাদানে সামান্য তারতম্য হলেও এর প্রভাব সরাসরি দুধের পরিমাণের ওপর পড়ে। ২. দোহন পদ্ধতি ও সময়: প্রতিদিন নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়ে দুধ দোহন না করলে এবং বাঁটে সব দুধ অবমুক্ত না হলে গাভী পরবর্তীতে কম দুধ দেয়। ৩. স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও রোগবালাই: গাভী যদি ওলান ফোলা রোগ (Mastitis) বা অন্য কোনো লুকায়িত রোগে আক্রান্ত হয়, কিংবা কৃমির উপদ্রব ঘটে, তবে দুগ্ধ উৎপাদন হঠাৎ করে অনেক কমে যায়। ৪. আবহাওয়ার পরিবর্তন: অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় গাভী হিট স্ট্রেস বা মানসিক চাপের শিকার হয়, যার ফলে তার খাওয়ার রুচি কমে যায় এবং দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায়। ৫. দুগ্ধকাল : বাচ্চা প্রসবের পর থেকে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত দুধের উৎপাদন বেশি থাকে এবং দিন যত এগোতে থাকে, স্বাভাবিক নিয়মেই দুধের পরিমাণ কমতে শুরু করে। পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক উপায়ে সুষম খাদ্য সরবরাহ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে গাভীর দুগ্ধ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। তাই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
HSC Agriculture 2nd Paper Chapter 3 : পশু পালন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Agriculture 2nd Paper · Chapter 3 : পশু পালন · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
Combined · 2026
উত্তর
উত্তর