সফদরউল্লাহর মানসিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: হুমায়ূন আহমেদ রচিত '১৯৭১' উপন্যাসে (মাধ্যমিক স্তরের সহপাঠ) সফদরউল্লাহ চরিত্রটির মানসিক পরিবর্তন মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী। একজন নিরীহ, ভীতু ও ধর্মভীরু মানুষ থেকে কীভাবে সে এক প্রতিশোধস্পৃহ ও সাহসী মানুষে পরিণত হয়, তার পেছনের কারণগুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হলো: প্রাথমিক বিশ্বাস ও সরলতা: উপন্যাসের শুরুতে সফদরউল্লাহকে একজন অত্যন্ত সহজ-সরল ও ভীতু প্রকৃতির মানুষ হিসেবে দেখা যায়। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, পাকিস্তানি সেনারা যেহেতু মুসলমান, তাই তারা কোনো নিরীহ বাঙালি মুসলমানের, বিশেষ করে নারীদের কোনো ক্ষতি করবে না। ধর্মভীরু হওয়ার কারণে এই সরল বিশ্বাস তার ভেতরে গভীরভাবে গেঁথে ছিল। নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও মোহভঙ্গ: তার এই অন্ধ বিশ্বাসের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে এক কালবৈশাখি ঝড়ের রাতে। তার অনুপস্থিতিতে মিলিটারির এক সুবাদার ও তিনজন রাজাকার তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তার স্ত্রী ও মাত্র বারো বছর বয়সী শ্যালিকাকে পাশবিকভাবে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এই অমানবিক ও ভয়াবহ ঘটনাটি সফদরউল্লাহর দীর্ঘদিনের ভ্রান্ত বিশ্বাসকে এক নিমিষেই ভেঙে চুরমার করে দেয়। প্রতিশোধস্পৃহা ও মানসিক রূপান্তর: নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের ওপর হওয়া এই পৈশাচিক নির্যাতন তার ভেতরের সমস্ত ভয়কে দূর করে দেয়। যে সফদরউল্লাহ একসময় মিলিটারির ভয়ে তটস্থ থাকত, তার মনে জন্ম নেয় চরম ঘৃণা, ক্ষোভ এবং তীব্র প্রতিশোধস্পৃহা। সে উপলব্ধি করতে পারে, এই হানাদারদের কোনো ধর্ম নেই; এরা কেবলই অমানুষ ও অত্যাচারী। চূড়ান্ত পরিণতি: এই নির্মম আঘাত তাকে এক লড়াকু সত্তায় রূপান্তরিত করে। নিজের ভেতরে থাকা নিরীহ মানুষটিকে বিসর্জন দিয়ে সে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠে এবং দা হাতে নিয়ে সেই ঘাতকদের হত্যা করতে বেরিয়ে পড়ে। সারসংক্ষেপ: সফদরউল্লাহর এই মানসিক পরিবর্তন মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপামর সাধারণ ও নিরীহ বাঙালির মোহভঙ্গ এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে তাদের জেগে ওঠা ও রুখে দাঁড়ানোরই এক কালজয়ী প্রতীক।
SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল
সফদরউল্লাহর মানসিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর