শেয়ারFacebookWhatsApp

"বাঙালিদের মান-অপমান বলে কিছুই নেই।"- কথাটির মাধ্যমে বক্তার কোন ধরনের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এই মনোভাব কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

উত্তর: '১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধের আখ্যান। এই উপন্যাসে লেখক হানাদার বাহিনীর আক্রমণে নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের জীবনের বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। নীলগঞ্জ প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল। সেই গ্রামে সহজ-সরল সব মানুষের বসবাস। হানাদার বাহিনীর মেজর এজাজ তার সেনাবাহিনী নিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে আসে। তার ধারণা, নীলগঞ্জ গ্রামের পাশে কৈবর্তপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল আশ্রয় নিয়েছে। সেই মুক্তিবাহিনীর ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার জন্য মেজর এজাজ গ্রামের বিভিন্ন মানুষের প্রতি অমানবিক অত্যাচার চালায়। উপন্যাসে দেখে যায়, মেজর এজাজ নীলগঞ্জ মসজিদের ইমাম সাহেব এবং নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে হেডমাস্টার আজিজুর রহমান মল্লিককে স্কুলঘরে আটকে রাখে। মেজর এজাজ সন্দেহ করে যে, ইমাম অথবা মাস্টার মুক্তিবাহিনীর বিষয়ে তথ্য জানে। এজন্য সে ওদের দুজনের উপর নানাভাবে অত্যাচার করে। মেজর এজাজ ঘটনাক্রমে জানতে পারে যে, আজিজ মাস্টার জয়নালের মেয়ে মালাকে পছন্দ করে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে সে আজিজ মাস্টারকে ভীষণভাবে অপমান করে। মেজর এজাজ আসলে বাঙালিদের প্রতি নির্যাতন করে পৈশাচিক আনন্দ পেত। সে এমনসব অত্যাচারের কৌশল উদ্ভাবন করে যা মানুষের মৃত্যুর সমান। একপর্যায়ে মেজর এজাজ তার সঙ্গী রফিককে বলে বাঙালিদের মান-অপমান নেই। তারা বেঁচে থাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে। এরপর সে আজিজ মাস্টারকে বলে বেঁচে থাকতে চাইলে উলঙ্গ হতে হবে। ভয়ে তটস্থ আজিজ মাস্টার বেঁচে থাকার জন্য প্রথমত বিষয়টিতে সম্মতি জানায়। ঠিক এ কারণেই মেজর এজাজ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করে। কিন্তু তার এ মন্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আজিজ মাস্টারের অপমান যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন সে মৃত্যুকে বেছে নেয়। আর কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই সে পুকুরে নামে এবং মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। বাঙালির চরিত্র আসলে এমনই। তারা নিজের মান রাখার জন্য হয় লড়বে, না হয় মরবে। মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে কেন্দ্র করেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল। আর সেই আজিজ মাস্টারই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কথাটি মিথ্যা প্রমাণিত করল। তাই বলা যায়, “বাঙালিদের মান-অপমান বলে কিছুই নেই”- এজাজের এই উক্তি ভিত্তিহীন।

SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল

"বাঙালিদের মান-অপমান বলে কিছুই নেই।"- কথাটির মাধ্যমে বক্তার কোন ধরনের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এই মনোভাব কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

উত্তর

'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধের আখ্যান। এই উপন্যাসে লেখক হানাদার বাহিনীর আক্রমণে নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষের জীবনের বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। নীলগঞ্জ প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল। সেই গ্রামে সহজ-সরল সব মানুষের বসবাস। হানাদার বাহিনীর মেজর এজাজ তার সেনাবাহিনী নিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে আসে। তার ধারণা, নীলগঞ্জ গ্রামের পাশে কৈবর্তপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল আশ্রয় নিয়েছে। সেই মুক্তিবাহিনীর ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার জন্য মেজর এজাজ গ্রামের বিভিন্ন মানুষের প্রতি অমানবিক অত্যাচার চালায়। উপন্যাসে দেখে যায়, মেজর এজাজ নীলগঞ্জ মসজিদের ইমাম সাহেব এবং নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে হেডমাস্টার আজিজুর রহমান মল্লিককে স্কুলঘরে আটকে রাখে। মেজর এজাজ সন্দেহ করে যে, ইমাম অথবা মাস্টার মুক্তিবাহিনীর বিষয়ে তথ্য জানে। এজন্য সে ওদের দুজনের উপর নানাভাবে অত্যাচার করে। মেজর এজাজ ঘটনাক্রমে জানতে পারে যে, আজিজ মাস্টার জয়নালের মেয়ে মালাকে পছন্দ করে। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে সে আজিজ মাস্টারকে ভীষণভাবে অপমান করে। মেজর এজাজ আসলে বাঙালিদের প্রতি নির্যাতন করে পৈশাচিক আনন্দ পেত। সে এমনসব অত্যাচারের কৌশল উদ্ভাবন করে যা মানুষের মৃত্যুর সমান। একপর্যায়ে মেজর এজাজ তার সঙ্গী রফিককে বলে বাঙালিদের মান-অপমান নেই। তারা বেঁচে থাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে পারে। এরপর সে আজিজ মাস্টারকে বলে বেঁচে থাকতে চাইলে উলঙ্গ হতে হবে। ভয়ে তটস্থ আজিজ মাস্টার বেঁচে থাকার জন্য প্রথমত বিষয়টিতে সম্মতি জানায়। ঠিক এ কারণেই মেজর এজাজ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করে। কিন্তু তার এ মন্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আজিজ মাস্টারের অপমান যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন সে মৃত্যুকে বেছে নেয়। আর কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই সে পুকুরে নামে এবং মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। বাঙালির চরিত্র আসলে এমনই। তারা নিজের মান রাখার জন্য হয় লড়বে, না হয় মরবে। মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে কেন্দ্র করেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল। আর সেই আজিজ মাস্টারই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কথাটি মিথ্যা প্রমাণিত করল। তাই বলা যায়, “বাঙালিদের মান-অপমান বলে কিছুই নেই”- এজাজের এই উক্তি ভিত্তিহীন।
SSCবাংলা ১ম পত্র১৯৭১ (উপন্যাস)
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1."অনুফা এ সংসারে ভাগ্য নিয়ে এসেছে"- উক্তিটি পর্যালোচনা করো।

"অনুফা এ সংসারে ভাগ্য নিয়ে এসেছে"- উক্তিটি পর্যালোচনা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.মীর আলী অত্যন্ত বিচলিত বোধ করে কেন?

মীর আলী অত্যন্ত বিচলিত বোধ করে কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.রফিক চরিত্রটিকে প্রতীকী চরিত্র হিসেবে পড়ার নিগূঢ় আমন্ত্রণ রয়েছে '১৯৭১' উপন্যাসে- এ প্রসঙ্গে মতামত দাও।

রফিক চরিত্রটিকে প্রতীকী চরিত্র হিসেবে পড়ার নিগূঢ় আমন্ত্রণ রয়েছে '১৯৭১' উপন্যাসে- এ প্রসঙ্গে মতামত দাও।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.জয়নাল মিয়া দলবল নিয়ে ছাতিম গাছের নিচে অপেক্ষা করে কেন?

জয়নাল মিয়া দলবল নিয়ে ছাতিম গাছের নিচে অপেক্ষা করে কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিপীড়িত বাঙালির প্রতীক। – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিপীড়িত বাঙালির প্রতীক। – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.'দাদা, বড়ো ভয় লাগে।' উক্তিটি প্রসঙ্গসহ ব্যাখ্যা করো।

'দাদা, বড়ো ভয় লাগে।' উক্তিটি প্রসঙ্গসহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7."তোমরা মাত্র ২৫ ভাগ মুসলিম, বাকি ৭৫ ভাগ হিন্দু।"-বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গি উপন্যাসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

"তোমরা মাত্র ২৫ ভাগ মুসলিম, বাকি ৭৫ ভাগ হিন্দু।"-বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের দৃষ্টিভঙ্গি উপন্যাসের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.'পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এরকম।”- উক্তিটি দ্বারা রফিক কী বোঝাতে চেয়েছিল?

'পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এরকম।”- উক্তিটি দ্বারা রফিক কী বোঝাতে চেয়েছিল?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.“এটা যুদ্ধ নয়, অন্যায় যুদ্ধ মাত্র”- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে কথাটির সত্যতা যাচাই করো।

“এটা যুদ্ধ নয়, অন্যায় যুদ্ধ মাত্র”- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে কথাটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.চিত্রা বুড়ি রাতে একনাগাড়ে কখনো ঘুমায় না কেন?

চিত্রা বুড়ি রাতে একনাগাড়ে কখনো ঘুমায় না কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.'দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অনায়াসেই নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়।'- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

'দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অনায়াসেই নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়।'- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.মীর আলির অনুফার প্রতি মমতাবোধ জাগ্রত হলো কেন?

মীর আলির অনুফার প্রতি মমতাবোধ জাগ্রত হলো কেন?

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

"অনুফা এ সংসারে ভাগ্য নিয়ে এসেছে"- উক্তিটি পর্যালোচনা করো।মীর আলী অত্যন্ত বিচলিত বোধ করে কেন?রফিক চরিত্রটিকে প্রতীকী চরিত্র হিসেবে পড়ার নিগূঢ় আমন্ত্রণ রয়েছে '১৯৭১' উপন্যাসে-জয়নাল মিয়া দলবল নিয়ে ছাতিম গাছের নিচে অপেক্ষা করে কেন?'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিপীড়িত বাঙালির প্রতীক। – মন্তব্যটি'দাদা, বড়ো ভয় লাগে।' উক্তিটি প্রসঙ্গসহ ব্যাখ্যা করো।"তোমরা মাত্র ২৫ ভাগ মুসলিম, বাকি ৭৫ ভাগ হিন্দু।"-বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের দ'পৃথিবীর সব জায়গার মানুষই আসলে এরকম।”- উক্তিটি দ্বারা রফিক কী বোঝাতে চেয়েছিল?“এটা যুদ্ধ নয়, অন্যায় যুদ্ধ মাত্র”- '১৯৭১' উপন্যাস অবলম্বনে কথাটির সত্যতা যাচাই চিত্রা বুড়ি রাতে একনাগাড়ে কখনো ঘুমায় না কেন?'দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অনায়াসেই নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়।'- '১৯৭১' উপন্যাস মীর আলির অনুফার প্রতি মমতাবোধ জাগ্রত হলো কেন?

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।