মনে করো, তুমি রাকিব। তুমি খুলনা জিলা স্কুলের একজন শিক্ষার্থী। তোমার বিদ্যালয়ে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" উদ্যাপনের অনুষ্ঠানমালার বর্ণনা দিয়ে প্রধানশিক্ষক বরাবর একখানা প্রতিবেদন লেখো।
উত্তর: বিষয়: 'খুলনা জিলা স্কুলে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন প্রসঙ্গে'। মৌসুমি মৌ । রংপুর। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩৷ গতকাল ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রংপুর জিলা স্কুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় 'শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' উদ্যাপিত হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সাংস্কৃতিক কমিটি এই অনুষ্ঠানের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। বিপুল সংখ্যক ছাত্র ও শিক্ষকের অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অনুপম দৃষ্টান্ত। মধ্যরাতে ১২টা ১মিনিটে শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেও স্কুল প্রাঙ্গণের নিজস্ব অনুষ্ঠান শুরু হয় একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রভাতফেরি ভোর ৬টার সময় খালিপায়ে স্কুলের শহিদ মিনারে এসে উপস্থিত হয়। এর পূর্বেই শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় 'শিশু, তরুণ-তরুণী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা হাতে ফুল নিয়ে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। সর্বপ্রথম, শহিদ মিনারের পাদদেশে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তারপর একে একে শহিদ মিনারের বেদিতে সকলেই পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এ সময় শ্রদ্ধাভরে সবাই গেয়ে উঠেছিল 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।' তারপর শহিদ মিনারের পাদদেশে নির্মিত মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মাননীয় প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে প্রথমে শুরু হয় আলোচনা সভা। স্কুলের প্রবীণ ও নবীন শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের জ্ঞানগর্ভ ভাষণ প্রদান করেন। সবশেষে প্রধান শিক্ষক তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন। একুশের মহান আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের পথ ধরেই পরবর্তীকালে সব রাজনৈতিক আন্দোলন ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৭-তে সংঘটিত হয় এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও উদ্দীপ্ত হয়েই পরিচালিত হয়। পরিশেষে ১৯৯৯ সালে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের মহান আত্মত্যাগের চেতনাকেই স্বীকৃতি দেয় বিশ্ব। আমাদের দেশের একুশে ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এর চেয়ে বড়ো অর্জন বাঙালির জীবনে আর কিছু হতে পারে না। আজ তাই আমাদের শপথ গ্রহণের দিন। সকল প্রকার শোষণ, অন্যায়, অবিচার ও অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন এই একুশে ফেব্রুয়ারি।" আলোচনা সভার পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণ করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ভাষার গান, দেশাত্মবোধক গান, গণসংগীত, একুশের কবিতা আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে একুশের অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল অনবদ্য প্রেরণার উৎস। একুশের চেতনা বাঙালির জীবনে এবং জাতীয় পর্যায়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির অন্তহীন অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠার মাহেন্দ্রক্ষণরূপে বারবার ফিরে আসুক এই কামনায় অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটে।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৮ : সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৮ : সংবাদ প্রতিবেদন প্রণয়ন · সৃজনশীল
মনে করো, তুমি রাকিব। তুমি খুলনা জিলা স্কুলের একজন শিক্ষার্থী। তোমার বিদ্যালয়ে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" উদ্যাপনের অনুষ্ঠানমালার বর্ণনা দিয়ে প্রধানশিক্ষক বরাবর একখানা প্রতিবেদন লেখো।
উত্তর