বুদ্ধিজীবী হত্যা।
উত্তর: বুদ্ধিজীবীরা হচ্ছেন একটি দেশ বা জাতির মস্তিষ্ক। দেশের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড, নীতিনির্ধারণ সবকিছুতেই বুদ্ধিজীবীরা পালন করেন প্রধান ভূমিকা। তাঁরাই ঠিক করে দেন একটি দেশ কোন পথে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে এদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের এক নির্মম, পাশবিক ঘটনা জড়িত রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসজুড়ে, বিশেষত বিজয়ের দুই দিন আগে ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী কর্তৃক এদেশের জ্ঞানী-গুণী, শিক্ষাবিদ-চিন্তাবিদদের হত্যাই বুদ্ধিজীবী হত্যা নামে পরিচিত। বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের চিন্তাশক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ সৃষ্টির পক্ষে বিভিন্ন উপায়ে কাজ করে যাচ্ছিলেন। ফলে তাঁরা সহজেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এবং এদেশীয় দালালদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েন। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পাক হানাদার বাহিনীর এই জিঘাংসাবৃত্তির প্রথম ও বাস্তব প্রতিফলন ২৫শে মার্চের কালরাত্রি। পাকিস্তানি বাহিনী ঐ এক রাতেই অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেবসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। যুদ্ধে আসন্ন পরাজয় ঠাহর করতে পেরে তারা চরম ও চূড়ান্ত আঘাত হানে এদেশকে মেধা ও নেতৃত্বশূন্য করার জন্য। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, স্বাধীনতা লাভ করলেও বাংলাদেশ যেন কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে এবং শীঘ্রই একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পর্যবসিত হয়। পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের সহায়তায় এদেশের বুদ্ধিজীবীদের '১৪ই ডিসেম্বর রাতে নিজ নিজ গৃহ থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে। অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, সেলিনা পারভীনসহ অসংখ্য বুদ্ধিজীবী এই গণহত্যার শিকার হন। পরবর্তীসময়ে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে তাঁদের বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ই ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস।
SSC বাংলা ২য় পত্র পরিচ্ছেদ ৪৪ : অনুচ্ছেদ রচনা ও বাংলায় অনুবাদ CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · পরিচ্ছেদ ৪৪ : অনুচ্ছেদ রচনা ও বাংলায় অনুবাদ · সৃজনশীল
বুদ্ধিজীবী হত্যা।
উত্তর