“দেশপ্রেমের চেতনা লুকিয়ে রাখা যায় না, তা প্রকাশ পায়”– '১৯৭১' উপন্যাসের রফিক চরিত্র প্রসঙ্গে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর: '১৯৭১' উপন্যাসে রফিকের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে বলা যায় যে, “দেশপ্রেমের চেতনা লুকিয়ে রাখা যায় না, তা প্রকাশ পায়” মন্তব্যটি যথার্থ। '১৯৭১' উপন্যাসে রফিক চরিত্রটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর এজাজ আহমেদের বাঙালি সহকারী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি মিলিটারির কমান্ডিং অফিসার মেজর এজাজ তার সেনাদল নিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করে প্রাইমারি স্কুলে সেনাক্যাম্প স্থাপন করে গ্রামের মানুষের প্রতি নৃশংস নিপীড়ন শুরু করেন। রফিক মেজর এজাজের সহকারী হলেও বাঙালিদের প্রতি তার সহানুভূতি ছিল। গ্রামের সাধারণ মানুষ যেমন- ইমাম, আজিজ মাস্টার, জয়নালসহ অন্যান্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মেজরের দোভাষীর ভূমিকা পালন করেছে সে। উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে রফিকের ব্যক্তিজীবনের তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। সে একজন শিক্ষিত যুবক অথচ তার পরিবার, বাড়ি কিংবা পেশার বিষয়টিও রহস্যময় করে উপস্থাপন করেছেন ঔপন্যাসিক। আপাতদৃষ্টিতে নিতান্ত সাধারণ চরিত্র হলেও বাঙালিদের প্রতি তার সহানুভূতি এবং নীলগঞ্জ গ্রামটিকে পাকবাহিনীর আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার প্রচ্ছন্ন ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। নীলগঞ্জ গ্রামের মানুষদের সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সে গোপন করেছে মেজর এজাজ আহমেদের কাছে। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের নেতিবাচক মনোভাব, জাতিগত বিদ্বেষ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্তিত্বের সংকটের প্রশ্নে মেজর এজাজ আহমেদের সঙ্গে রীতিমতো বিতর্কে অবতীর্ণ হয়েছে রফিক। উপন্যাসের ক্লাইম্যাক্সের দিকে তার চরিত্রটি হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটিয়ে রফিক চরিত্রটি অসীম সাহসী হয়ে ওঠে। গ্রামের জঙ্গলে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, রসদ সরবরাহের বিষয়টি জানত রফিক। এমনকি কৈবর্তপাড়ায় তল্লাশি চালাতে নিরুৎসাহিত করেছে মেজরকে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দিয়ে সে মেজরকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। ঝড়ের সময় একটা পাগলের বনের ভেতরে ছুটে যাওয়া দেখে রফিকের উল্লসিত হয়ে ওঠা তার চরিত্রকে রহস্যময় করে তুলেছে। রফিকের প্রতি মেজরের সন্দেহজনক মনোভাব থাকলেও তার প্রতি নির্ভরশীলতা ছিল। উপন্যাসের শেষ পর্যায়ে রফিক নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। রফিক প্রবল আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী সত্তায় পরিণত হয়েছে। একজন বাঙালি হয়ে সে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মেজরকে এ দেশ থেকে জীবিত ফিরে যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা উচ্চারণ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। লেখক রফিক চরিত্রটিকে সাধারণ চরিত্র থেকে সংবেদনশীল, দেশপ্রেমিক ও বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বনকারী সত্তায় বিবর্তিত করেছেন। রফিক চরিত্রের এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, দেশপ্রেমের চেতনা লুকিয়ে রাখা যায় না, তা প্রকাশ পায়।
SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল
“দেশপ্রেমের চেতনা লুকিয়ে রাখা যায় না, তা প্রকাশ পায়”– '১৯৭১' উপন্যাসের রফিক চরিত্র প্রসঙ্গে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর