'১৯৭১' উপন্যাসে বর্ণিত মীর আলি চরিত্রের জীবনসত্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: '১৯৭১' উপন্যাসের মীর আলি একজন অন্ধ বৃদ্ধ। যুদ্ধ তার কাছে দৃশ্যমান কোনো ঘটনা নয়, বরং শব্দ ও অন্ধকারের এক জগৎ। যুদ্ধের ভয়াবহতা বা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। নিজের শারীরিক কষ্টই তার কাছে মুখ্য। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধ একা নিজের কাজকর্ম করতে পারে না। তাই সব কাজে সে পরনির্ভরশীল। ছেলে বদিউজ্জামান, পুত্রবধূ অনুফা ও এক নাতনিকে নিয়ে তাদের সংসার। মীর আলির বৃদ্ধ বয়সটা খুব যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যায়। ছেলে বা ছেলের বউয়ের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না সে। এমনকি তার সবচেয়ে বড়ো যন্ত্রণা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রাতদুপুরে বাইরে যাওয়া। বারবার রাতদুপুরে বের হতে হয় বলে ছেলে ও ছেলের বউ বিরক্ত হয় তার উপর। মীর আলি অন্ধ হলেও তার অনুভূতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর। এক রাতে প্রস্রাব করতে বাইরে গেলে কীসের যেন শব্দ শুনতে পায় সে। ছেলেকে শব্দের কথা বললে সে একথার পাত্তাই দেয় না। কিছুক্ষণ পর পঞ্চাশজন সেনার একটি দল গ্রামে ঢোকে। তাদের একজন মীর আলির চোখে টর্চের আলো ফেলে। মীর আলি এতে কিছুই বুঝতে পারে না। কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনে বুঝতে পারে হয়তো বাড়ির সামনে দিয়ে কেউ যাচ্ছে। ছেলে বদিকে জিজ্ঞেস করলে সে বাবাকে বিরক্ত হয়ে চুপ থাকতে বলে। পরদিন সবাই জানতে পারে, গ্রামে মিলিটারি এসে স্কুলে ক্যাম্প বসিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ কালীন নানা সংকটের প্রকাশ ঘটেছে উপন্যাসে। যুদ্ধকালীন বৃদ্ধ ও শিশুরা চরম পরিস্থিতির শিকার হয়। এই অমোঘ সত্যটি মীর আলি চরিত্রের মাধ্যমে উঠে এসেছে। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গ্রামের সবাই যখন আতঙ্কগ্রস্ত তখন মীর আলির প্রধান চিন্তা পেটের ক্ষুধা। মিলিটারির উপস্থিতিতে ও তাকে নিজ জগতে আত্মমগ্ন থাকতে দেখা যায়। যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতির চেয়ে তার কাছে ব্যক্তিগত বেঁচে থাকা বড়ো হিসেবে বিবেচিত। সর্বোপরি বলা যায় যে, '১৯৭১' উপন্যাসে বর্ণিত মীর আলি চরিত্রের জীবনসত্য গভীরতর ব্যঞ্জনায় উন্মোচিত হয়েছে।
SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল
'১৯৭১' উপন্যাসে বর্ণিত মীর আলি চরিত্রের জীবনসত্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর