'১৯৭১' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
উত্তর: '১৯৭১' উপন্যাসটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। নীলগঞ্জ নামক একটি ছোটো গ্রামের বাসিন্দা মীর আলির বৃদ্ধ বয়সের যন্ত্রণাময় জীবনের বর্ণনা দিয়ে এই উপন্যাসটি শুরু করেছেন লেখক। মীর আলি অন্ধ হলেও তার অনুভূতিশক্তি প্রবল। উপন্যাসের প্রারম্ভেই মীর আলি কারও উপস্থিতি টের পান। তার কিছুক্ষণ পরই পঞ্চাশজন সেনার ছোটো একটি দলকে গ্রামে ঢুকতে দেখা যায়। নীলগঞ্জের মতো জনবিচ্ছিন্ন নিভৃত একটি গ্রামকে লেখক যুদ্ধের ময়দান হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। পেশোয়ারের এক অখ্যাত গ্রাম থেকে আগত মেজর এজাজ নীলগঞ্জে আসে পাকিস্তানি মিলিটারির প্রতিনিধি হিসেবে। তার নির্দেশে অনেক হত্যা নিপীড়ন সংঘটিত হতে দেখা যায়। উপন্যাসে সহজ-সরল মানুষজনের প্রতি পাকিস্তানি সেনারা চরম আগ্রাসন চালায়। ইমাম সাহেব, আজিজ মাস্টার, মতি মিয়া, জয়নাল মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে ডেকে মুক্তিবাহিনী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের উপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের নির্মম চিত্র অনুমান করা যায় ইমাম সাহেবের রক্তাক্ত অবস্থা থেকে। তার নাক-মুখ, ঠোঁট কেটে যায়। কাঁটা ঠোঁট থেকে হলুদ রঙের রস বের হয়। পাঞ্জাবিতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগসহ রক্তাক্ত ইমাম সাহেবকে আজিজ মাস্টার দেখতে পান। এছাড়া মনা ও বিরুকে তাদের সামনেই হত্যা করে সেনারা। এছাড়া গ্রামের সম্পদশালী নিলু সেনকে ঘুম থেকে তুলে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। আজিজ মাস্টারকে চরম অপমানজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন করে। এমনকি গ্রামের সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকাকে তারা ধর্ষণ করে। উপন্যাসের অত্যাচারিত চরিত্রগুলো একটা সময় বিদ্রোহী হতে থাকে। সফদরউল্লাহ্, আজিজ মাস্টার, রফিক এরা সবাই একেকটা প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের প্রতীক। ঔপন্যাসিক কিছু চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ের অন্যতম দলিল এই উপন্যাসটি। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত '১৯৭১' উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ কালীন বাংলাদেশেরই প্রতিচ্ছবি।
SSC বাংলা ১ম পত্র ১৯৭১ (উপন্যাস) CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · ১৯৭১ (উপন্যাস) · সৃজনশীল
'১৯৭১' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
উত্তর