জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণে অর্জিত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।
উত্তর: জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো। স্কুল জীবন থেকেই বইয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সম্পর্কে অনেক জেনেছি। কিন্তু সে সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান আমার ছিল না। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে নিবেদিত একটি স্থাপনা। সাভারে অবস্থিত এই সৌধটির নকশা প্রণয়ন করেছেন স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। এই স্মৃতিসৌধ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের স্মৃতির উজ্জ্বল নিদর্শন। তাই জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখার প্রবল আগ্রহ ছিল আমার। সেই সুযোগটা এলো গত বছর ঢাকায় মামার বাসায় বেড়াতে যাওয়ায়। মামা একদিন আমাকে নিয়ে গেলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখাতে। আমরা ঢাকা থেকে বাসে করে সাভারের নবীনগরে যাই স্মৃতিসৌধ দেখতে। বাস থেকে নেমে যখন স্মৃতিসৌধ এলাকার ভিতরে প্রবেশ করি তখন আমি অবাক হই এত বিশাল সবুজে ঘেরা প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভটি দেখে। আমি মামার কাছে জানতে পারলাম এই স্মৃতিস্তম্ভ এবং তার প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। আমি দেখলাম স্মৃতিসৌধে মোট সাতটি স্তম্ভ রয়েছে। আমি ঘুরে ঘুরে সবগুলো স্তম্ভ ভালো করে দেখলাম। জানতে পারলাম এই সাতটি স্তম্ভ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস তুলে ধরে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ; এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসেবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত। মামার সঙ্গে সারাদিন স্মৃতিসৌধের আশপাশে ঘোরাঘুরি করলাম। মনে হতে থাকল মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের মহান আত্মত্যাগের কথা। স্মৃতিসৌধের প্রতিটি ইট যেন সেই কালজয়ী ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। আমি এই অমর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে বাসায় ফিরলাম।
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভ্রমণে অর্জিত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করো।
উত্তর