তোমার কলেজের জুবিলি উৎসব উদ্যাপন সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেশ করো।
উত্তর: ৯ মার্চ ২০২৫ অধ্যক্ষ নটর ডেম কলেজ ঢাকা বিষয়: নটর ডেম কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রতিবেদন। সূত্র: ন.ড.ক/১৩৯ (০৩)২৫, ০৯/০৩/২০২৫ জনাব উপর্যুক্ত সূত্র ও বিষয়ের আলোকে নটর ডেম কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি সরেজমিন জরিপ করে এর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কিত তথ্যাবলি আপনার অবগতির জন্য প্রতিবেদন হিসেবে পেশ করছি। নটর ডেম কলেজ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যার প্রথম নাম ছিল 'সেন্ট গ্রেগরি কলেজ' যেটি ক্যাথলিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৫০ সালে ৬১/১ সুভাষবোষ এভিনিউ'র একটি ভবনে কলেজটি স্থানান্তরিত হয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ হিসেবে কাজ শুরু করে। ১৯৫৪ সালে এটি মতিঝিলের বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং মা মেরির নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় নটর ডেম কলেজ। এই তো সেদিনের কথা এখনো বেশ মনে আছে। মাধ্যমিকের ফল বেরিয়েছে। জানতে পারি, পরের দিনই কলেজে ভর্তির সময় শেষ। আমি, হাসান, আকাশ বাসে করে ঢাকা রওনা হই কলেজে ভর্তির উদ্দেশ্যে। আমাদের মধ্যে কাজ করছে কলেজে ভর্তির উত্তেজনা। যা হোক, পরের দিন কলেজে ফরম পূরণ করে ভর্তি হয়ে যাই। প্রথম বর্ষে ক্লাস শুরু হতো সকাল আটটায়। কই চলে গেল সেইসব দিন। কলেজ পেরিয়ে আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ হয়েছিল। জানি, প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে তুলনা চলে না। তবু কেন জানি না, নটর ডেম কলেজ অন্যদের থেকে একেবারে আলাদা। অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভরপুর, যা ঠিক লিখে বোঝানো যাবে না। আজ ক্যাম্পাসজুড়ে প্যান্ডেল, স্টল বুথ, নানা রঙের পোস্টার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জার মনোহরী সাজ। আজ প্রায় ২৪ বছর পর কলেজে পা দিয়েছি। অধিকাংশ ব্যাচই বাহারি টি-শার্ট পরেছে। ছবি তুলছে। সবার মুখে হাসি, শরীর মনজুড়ে উচ্ছলতা। কোনো একটি ব্যাচ গান গাইছে 'পুরোনো সেই দিনের কথা ভুলবি কী করে হায়। ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কী ভোলা যায়।' এই গানের কথা যেন সবার মর্মে গিয়ে আঘাত হানছে। তিন দিন ধরে চলবে এই হীরকজয়ন্তীর প্রোগ্রাম। দ্বিতীয় দিনে (২৬ জানুয়ারি) দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় সাত হাজার অ্যালাইনাই জড়ো হয়েছে কলেজ প্রাঙ্গণে। নিজেরা নিজেদের চেনার জন্য ব্যাচওয়ারি টি-শার্ট পরেছে। আমাদের ব্যাচের মেরুন রং। স্টেজের সামনে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সময়ের অধিকাংশই আজ চাকরিতে বহাল নেই। শিক্ষক নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে হলে প্রথমে যে নামটি আসে, তিনি ফাদার পিশেতো। তাঁর মতো এত অমায়িক, ভালো মানুষ জীবনে কম দেখেছি। সন্ধ্যা হয়ে এলো। অদ্ভুত রকম আলোকসজ্জায় সেজেছে প্রিয় ক্যাম্পাস। সেই মায়াময় পরিবেশটা সবাই ঘুরে ঘুরে দেখে নিচ্ছে। এবারের হীরকজয়ন্তী উদযাপনের একটি বিষয় উল্লেখ করার মতো। অনুষ্ঠানে অধিকাংশই স্পন্সর করেছেন নটরডেমিয়ানরা। অনুষ্ঠানের উসিলায় সবার সাথে দেখা হয়ে আবেগে আপ্লুত সবাই। দেখতে দেখতে দিনটা ফুরিয়ে গেল। বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। ওই সময় স্টেজ থেকে ভেসে আসে গানের সুর। গানের নাম নষ্ট অতীত। শুধু মনে হচ্ছে সব অতীত নষ্ট হয় না। কিছু অতীত হয় স্মৃতিগন্ধা। সেই অতীতের কথা মনে পড়লে মধুময় স্মৃতির সুভাস ছড়িয়ে পড়ে। যে স্মৃতিতে অনায়াসে নিজের বর্তমানকে ডুবিয়ে রাখা যায়। নিবেদক মো. সুমন মিয়া প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ নটর ডেম কলেজ, ঢাকা
HSC Bangla 2nd Paper দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Bangla 2nd Paper · দিনলিপি লিখন/অভিজ্ঞতা বর্ণন এবং ভাষণ/প্রতিবেদন · সৃজনশীল
তোমার কলেজের জুবিলি উৎসব উদ্যাপন সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেশ করো।
উত্তর