উদ্দীপকে যে সকল বস্ত্র রং করার পদ্ধতির উল্লেখ আছে-সেগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকের আইরিন ও রেবা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে বস্ত্রের উপর নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন। আইরিনের ব্যবহৃত পদ্ধতি দুটি হলো ব্লক ও টাই ডাই এবং রেবার ব্যবহৃত পদ্ধতিটি হলো বাটিক। এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: i. কৌশলের ভিন্নতা: আইরিনের ব্যবহৃত ব্লক প্রিন্ট হলো সরাসরি ছাপ দেওয়া পদ্ধতি। অন্যদিকে, আইরনের টাইডাই এবং রেবার ব্যবহৃত বাটিক পদ্ধতি হলো 'রং প্রতিরোধক' প্রক্রিয়া। টাইডাইয়ে সুতা দিয়ে বেঁধে রং আটকানো হয়, আর রেবার বাটিক পদ্ধতিতে মোম ব্যবহার করে রং প্রতিরোধ করা হয়। ii. উপকরণের বৈচিত্র্য: আইরিনের ব্লক প্রিন্টের জন্য নকশা করা কাঠের ব্লক, সুতা ও সুঁই প্রয়োজন হয়। আর, টাই ডাই এর জন্য লবণ, সুতা ও রঙের প্রয়োজন। কিন্তু রেবার বাটিক পদ্ধতির জন্য প্যারাফিন মোম, মৌচাকের মোম, ব্রাশ এবং চুলা অপরিহার্য। বাটিকে মোমের পরিমাণ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। iii.নকশা শৈল্পিক রূপ: আইরিনের ব্লক প্রিন্টে নকশাগুলো খুব সুষম ও নিখুঁত হয়। টাইডাইয়ের ক্ষেত্রে জ্যামিতিক নকশা বা ডাইমেনশনাল ইফেক্ট পাওয়া যায়। কিন্তু রেবার বাটিকের বিশেষত্ব হলো 'ব্র্যাক' বা ফাটল ধরা নকশা। মোম শুকিয়ে যাওয়ার পর তা সামান্য ভেঙে দিলে রঙের ভেতরে সূক্ষ্ম জালের মতো নকশা তৈরি হয়, যা অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাওয়া সম্ভব নয়। iv. সময় ও শ্রম: আইরিনের পদ্ধতিগুলো অর্থাৎ, টাই ডাই ও ব্লক তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন করা যায় এবং এতে ঝুঁকি কম থাকে। তবে রেবার বাটিক পদ্ধতিটি বেশ সময়সাপেক্ষ। মোম গলানো, সাবধানে নকশায় বসানো এবং শেষে গরম পানিতে ফুটিয়ে মোম ছাড়ানোর মতো জটিল ধাপগুলো পার করতে হয়। পরিশেষে বলা যায়, আইরিন তাঁর সংগ্রহে ব্লক ও টাইডাই ব্যবহারের মাধ্যমে বৈচিত্র্য এনেছেন, যা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে খুব জনপ্রিয়। অন্যদিকে, রেবা বাটিক ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর পোশাকে অনন্য শৈল্পিক ছোঁয়া দিয়েছেন। দেশীয় বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে এবং ফ্যাশন সৃষ্টিতে এই পদ্ধতিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
HSC Home Science 1st Paper Chapter 13 : বস্ত্রে রং ও ছাপা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Home Science 1st Paper · Chapter 13 : বস্ত্রে রং ও ছাপা · সৃজনশীল
উদ্দীপকে যে সকল বস্ত্র রং করার পদ্ধতির উল্লেখ আছে-সেগুলোর তুলনামূলক…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর