প্রীতিদের গ্রামে প্রতিবছর যে ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তার কোনো প্রভাব আছে কী? পাঠ্যের আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর: হ্যাঁ, প্রীতিদের গ্রামে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত দোলযাত্রা ধর্মানুষ্ঠানের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন রাধা-কৃষ্ণকে দোলায় রেখে আবির, কুমকুমে রাঙিয়ে পূজা করা হয়। তাঁদের পূজা দিয়ে পরস্পর পরস্পরকে রং বা আবির মাখিয়ে আনন্দ করে। এ পূজার আগের দিন অর্থাৎ ফাল্গুনী শুক্লা চতুর্দশীর দিন 'বুড়ির ঘর' বা 'মেড়া' পুড়িয়ে অমঙ্গলকে দূর করার বা ধ্বংস করার প্রতীকী অনুষ্ঠান করা হয়। অনেক জায়গায় এ সময় সমস্বরে বলা হয়- 'আজ আমাদের নেড়া পোড়া, কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে বলো সবাই, বলো হরিবোল'। ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবীর নিয়ে রাধিকা ও অন্য গোপীদের সাথে রং খেলায় মেতেছিলেন। সে ঘটনা থেকেই এ দোল খেলার প্রবর্তন। দোলপূর্ণিমার দিন দোলযাত্রা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে গান, মেলা প্রভৃতির আয়োজন করা হয়। এ উৎসবের দিন সকাল থেকেই শত্রু-মিত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়। জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে একে অপরকে রাঙিয়ে দেয়। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এ উৎসবে অংশগ্রহণ করে। ফলে তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববন্ধনের সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজে সুখ-শান্তি বিরাজ করে। এ পাঠটি পালনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক ভেদাভেদ এবং বৈষম্য হ্রাস পায়। সবাই সবাইকে আপন করে নেয়। বর্তমানে এ উৎসবটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, মানবজীবনে দোলযাত্রা ধর্মানুষ্ঠানের প্রভাব সুদূ রপ্রসারী।
SSC হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পাঠ্যসূচি বহির্ভূত CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা · পাঠ্যসূচি বহির্ভূত · সৃজনশীল
প্রীতিদের গ্রামে প্রতিবছর যে ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তার কোনো প…
উদ্দীপক
Mymensingh · 2023
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর