প্রদত্ত উদ্দীপকের করিম ও রহিমের মধ্যে যথাক্রমে সামাজিক ও জৈবিক প্রেষণার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, যার মধ্যে সুস্পষ্ট উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
যে প্রেষণা মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য নয় এবং সমাজ জীবন থেকে যে প্রেষণার উদ্ভব হয় তাকে সামাজিক প্রেষণা বলে। তবে জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য না হলেও সামাজিক প্রেষণা ব্যক্তির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে থাকে। যুথচারিতা, নিরাপত্তা লাভের অধিকার, খ্যাতি অর্জন, কৃতি প্রেষণা, স্বীকৃতির চাহিদা, ক্ষমতার লিপ্সা, পদমর্যাদার চাহিদা প্রভৃতি সামাজিক প্রেষণার অন্যতম উদাহরণ। প্রতিটি মানুষই চায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে। সফলতা অর্জন বা প্রতিষ্ঠা লাভ করার ইচ্ছাই হলো কৃতি • প্রেষণা। এই প্রেষণা এমন একটি অভ্যন্তরীণ শক্তি যা প্রাণীকে কর্মসম্পাদনে উচ্চমানের তাগিদ দেয়। যে ব্যক্তির মধ্যে কৃতি প্রেষণা অধিক বর্তমান সে খুব পরিশ্রমী হয় এবং সাফল্যের দ্বার তার জন্য উন্মুক্ত। উদ্দীপকের রহমানও অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমে সঠিকভাবে কাজ করে পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। তাহলে দেখা যায়, রহমান এর মাঝে সামাজিক প্রেষণা বিদ্যমান রয়েছে।
প্রদত্ত দৃশ্যকল্প-২ এর শেষাংশের বর্ণনায় দেখা যায়, করিম ও রহিম ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর করিম অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকলেও রহিম খাবার খেয়ে হোটেলে বিশ্রাম নেন। এক্ষেত্রে দেখা যায় রহিমের প্রেষণাটি জৈবিক প্রেষণার অন্তর্ভুক্ত। কেননা ক্ষুধা, নিদ্রা তথা বিশ্রাম, মাতৃত্ব, তৃষ্ণা, যৌন কামনা প্রভৃতি জৈবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। ক্ষুধা একটি মৌলিক জৈবিক চাহিদা। যখন আমাদের পাকস্থলি শূন্য হয়ে পড়ে, এর পেশিগুলো সংকুচিত ' হতে থাকে, তখন আমরা ক্ষুধার তাড়না অনুভব করি। প্রতিটি মানুষ বা প্রাণীর জন্যই ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাদ্যগ্রহণ অপরিহার্য। খাদ্যগ্রহণ ব্যতীত কোনো প্রাণীই বেশি দিন জীবনধারণ করে থাকতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব করিম ও রহিমের প্রেষণা ভিন্ন প্রকৃতির এবং উভয় প্রেষণাই প্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।