আরিফের মধ্যে 'কৃতি প্রেষণা' ও তার বাবার মধ্যে 'ক্ষমতার লিঙ্গা' প্রেষণা দেখা যায়। এই দুটি প্রেষণাই 'সামাজিক প্রেষণার' অন্তর্ভুক্ত।
মনোবিজ্ঞানীরা প্রেষণাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-জৈবিক প্রেষণা ও সামাজিক প্রেষণা।
সামাজিক প্রেষণা তৈরি হয় মানুষের সমাজ জীবন থেকে যেখানে একজন ব্যক্তি সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। সমাজ জীবন থেকে শিক্ষার মাধ্যমে এই প্রেষণা অর্জন করা হয় বলে একে শিলালব্ধ বা অর্জিত প্রেষণা বলা হয়ে থাকে। খ্যাতি, যশ, সুনাম, অর্থ লাভের আশা, কৃতি প্রেষণা, ক্ষমতার লিপ্সা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক প্রেষণার উদাহরণ।
উদ্দীপকে আরিফের মধ্যে কৃতি প্রেষণা দেখা যায়। সফলতা প্রতিষ্ঠা লাভের প্রাথমিক সোপান। প্রতিটি মানুষই চায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে। সফলতা অর্জন বা প্রতিষ্ঠা লাভের ইচ্ছাই হলো কৃতি প্রেষণা। যে ব্যক্তির মধ্যে কৃতি প্রেষণা অধিক বর্তমান, সে খুব পরিশ্রমী হবে এবং সাফল্যের দ্বার তার জন্য উন্মুক্ত।
অন্যদিকে আরিফের বাবার মধ্যে ক্ষমতার লিপ্সা দেখা যায়। ক্ষমতা লাভের ইচ্ছা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রেষণা। এই ইচ্ছা যাদের মধ্যে একবার জন্মে, ইচ্ছাটি তাদের মধ্যে উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। কোনো ছাত্র শ্রেণি প্রতিনিধি নির্বাচিত হবার পর, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চিন্তা করবে।
অর্থাৎ বলা যায়, আরিফ ও তার বাবার মধ্যে প্রকাশিত প্রেষণা ভিন্ন হলেও তা মূলত একই শ্রেণির।