উদ্দীপকের নিলা ও আলো ৮ ঘণ্টা ভ্রমণ করে এসে কক্সবাজারে পৌঁছাল। একদিকে নিলা ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে গেলেন যা একটি জৈবিক প্রেষণা। অপরদিকে আলো খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লো। তার ক্ষুধা ছিলনা, কিন্তু বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল যা এটিও জৈবিক চাহিদার উদাহরণ। আমার মতে দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতে সৃষ্টি প্রেষণা একই ধরনের যা নিচে বর্ণনা করা হলো-
মানুষের জৈবিক প্রয়োজনের অন্যতম হলো ক্ষুধা। দীর্ঘ সময় ধরে যদি প্রাণীকে খাদ্য থেকে বঞ্চিত রাখা হয় তাহলে তার পাকস্থলীর সংকোচনের জন্য সে ক্ষুধার তাড়না অনুভব করে। পাকস্থলীর সংকোচনের সাথে ক্ষুধার অনুভূতির যে সম্পর্ক আছে তা পরীক্ষণের সাহায্যে প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য পাকস্থলী কেটে বাদ দিয়েও দেখা গেছে, পাকস্থলীবিহীন মানুষও ক্ষুধার তাড়না অনুভব করতে পারে। শরীরে শর্করাজাতীয় উপাদানের ঘাটতি হলে মস্তিষ্কের feeding region নামের একটি বিশেষ স্থানে স্নায়বিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা প্রাণীকে ক্ষুধার অনুভূতি দেয়। এধরনের জৈবিক প্রেষণার কারণেই নিলা খাবার খেতে গেলেন। অপরদিকে, আলো দীর্ঘ ভ্রমণ করার ফলে ক্ষুধার থেকেও বেশি ক্লান্তি অনুভব করছিল। সেক্ষেত্রে তার বিশ্রাম প্রয়োজন ছিল। এটিও এক ধরনের জৈবিক চাহিদা যা প্রেষণা হিসেবে কাজ করেছে । তাই সে ঘুমিয়ে পড়েছে ।
তাই উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, নিলা ও আলোর সৃষ্টি প্রেষণা একই ধরনের।