উদ্দীপকে উল্লেখিত দীপুর আবেগীয় প্রকাশ এবং হিমুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ কৌশল তুলে ধরা হলো-
আপনজনের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এমন কিছু আবেগ আছে যে আৰেগুলোকে মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু- বান্ধব বা নির্ভরযোগ্য কোনো আপনজনের কাছে বলা যেতে পারে, এতে অনেক অদমনীয় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মনোযোগ বা স্বীয় বিচ্যুতির মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা পরিশীলিত করা সম্ভব। আবেগীয় পরিবেশ বা পরিস্থিতি থেকে মনোযোগকে সরিয়ে নিলে অথবা নিজেই অন্যত্র সরে গেলে, অনেকাংশে অদমনীয় হিংসা, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ ও অবরুদ্ধ বা নিরুদ্ধ আবেগের বিমুক্তি ঘটে। মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে আবেগ তথা আনন্দ, ভয়, ক্রোধ, হিংসা নিয়ন্ত্রণ বা পরিশীলিত করা সম্ভব। অনেক অবদমনীয় আবেগের নিয়ন্ত্রণ ও অবরুদ্ধ বা নিরুদ্ধ আবেগের বিমুক্ত করা এবং আবেগীয় আচরণকে ও পরিশীলিত করার লক্ষ্যে, পরিশীলিতর ধর্মীয় জ্ঞান ও মূল্যবোধ চর্চার পাশাপাশি শখের কাজসহ স্বীয় প্রবণতা অনুযায়ী, পরিশীলিত শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের মধ্যে অবগাহন করা।
সমাজ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে ভয়, ক্রোধ, হিংসা নিয়ন্ত্রণ বা পরিশীলিত করা সম্ভব। সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক ও সহযোগিতামূলক কাজ, যেমন— আর্তমানবতার সেবা, ঝড়-বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা ও সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখলে, সমাজ সমর্থিত বা পরিশীলিত আবেগীয় আচরণ অর্জন করা সম্ভব হয়, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি অনন্য রূপ।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সামাজিক উপায়ে আবেগকে প্রকাশ করতে হবে। অসংযত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে গঠনমূলক আবেগে পরিণত করতে হবে।