উদ্দীপকের বিষয়-২ এ জনি ও সোহাগের প্রেষণার প্রকারভেদ জৈবিক ও সামাজিক প্রেষণাকে নির্দেশ করে ।
মনোবিজ্ঞানীগণ প্রেষণাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করেছেন। যথা: জৈবিক বা শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা এবং সামাজিক প্রেরষণা। জৈবিক প্রেষণার শারীরিক ভিত্তি আছে এবং জীবনধারণে জন্য অপরিহার্য। জৈবিক প্রেষণা জন্মগত এবং সব প্রাণীতে বিদ্যমান। জৈবিক প্রেষণা বিপাক ক্রিয়ার ফলে উদ্ভূত হয় এবং পরিতৃপ্তি সাধনে বিলম্ব হলে শরীরের ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, সামাজিক প্রেষণার সাথে বিপাক ক্রিয়া কিংবা শারীরিক ক্ষতির কোনো সম্পর্ক নেই ।
জৈবিক প্রেষণা ও সামাজিক প্রেষণা উভয় প্রেষণাকে ব্যক্তি বা প্রাণীর সামনে একটি উদ্দেশ্য থাকে এবং উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য সে সুনির্দিষ্ট আচরণ করে। জৈবিক ও সামাজিক প্রেষণার আচরণ সৰ্বাদাই গন্তব্য স্থলাভিমুখী এবং উদ্দেশ্যমূলক। জৈবিক ও সামাজিক প্রেষণা যত বেশি তীব্র হবে, ব্যক্তির কর্মচাঞ্চল্য তত বেশি হবে এবং উদ্দেশ্য লাভের চেষ্টাও তত বেশি স্থায়ী হবে। উদ্দীপকে বিষয়-২ এ দেখা যায়, জনি ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বাসায় ফিরে খাবার খেতে চায়। জনির মধ্যে জৈবিক প্রেষণা ক্ষুধা বিদ্যমান। অপরদিকে, সোহাগ ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় । তার মধ্যে সামাজিক প্রেষণা বিদ্যমান ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়-২ এ জনি এবং সোহাগের প্রেষণাদ্বয় ভিন্ন। জনির প্রেষণা জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য কিন্তু সোহাগের প্রেষণা জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য নয় ।