উদ্দীপকে মিরাজের সাফল্যের প্রেষণা এবং মিসেস জামানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট প্রেষণা যথাক্রমে কৃতি প্রেষণা ও নিরাপত্তা প্রেষণা। এ দুটি প্রেষণা ভিন্ন হলেও মূলত তা একই শ্রেণির সামাজিক প্রেষণা। নিচে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
কৃতি প্রেষণা : সফলতা প্রতিষ্ঠা লাভের প্রাথমিক সোপান। প্রতিটি মানুষই চায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে। সফলতা অর্জন বা প্রতিষ্ঠা লাভের ইচ্ছাই হলো কৃতি প্রেষণা। এ কৃতি প্রেষণা এমন একটি অভ্যন্তরীণ শক্তি যা প্রাণীকে কর্মসম্পাদনে উচ্চমানের তাগিদে দেয়। যে ব্যক্তির মধ্যে কৃতি প্রেষণা অধিক বর্তমান সে খুব পরিশ্রমী হবে এবং সাফল্যের দ্বার তার জন্য উন্মুক্ত। যে সমাজের জনগণের মধ্যে এ প্রেষণার আধিক্য রয়েছে, সে সমাজ তত উন্নত ।
হেনরী মারে (১৯৩৮) কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষা প্রণয়ন করেন এবং কৃতি প্রেষণা পরিমাপে প্রয়াসী হন। পরবর্তীতে কৃতি প্রেষণা পরিমাপের জন্য ম্যাকক্লিল্যাণ্ড, এটকিনসন, ক্লার্ক ও লওয়েল (১৯৫৩) কাহিনী সংপ্রত্যক্ষণ অভীক্ষার পরিমার্জন করে তা গবেষণার হাতিয়ার (Research tool) হিসেবে ব্যবহার করেন।
নিরাপত্তা : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সকলেই কামনা করে। এর মূলে রয়েছে নিরাপত্তা বোধ। আমরা সকলেই নিরাপদে বসবাস করতে চাই। এ নিরাপত্তা ব্যক্তির জীবন রক্ষার জন্য হতে পারে, সম্পদ রক্ষার জন্য হতে পারে, অথবা গোষ্ঠী ঐক্য বজায় রাখার জন্যও হতে পারে । নিরাপত্তার অভাব একটি ভয়জনিত সামাজিক প্রেষণা। ব্যক্তির জীবন, তার ধনসম্পদ, মান-মর্যাদা, ক্ষমতা, যশ প্রভৃতি হারিয়ে যাওয়ার ভয় থেকেই জন্ম নেয় নিরাপত্তার অভাববোধ ।
বর্তমান যুগে আমরা সর্বদাই নিরাপত্তার অভাব অনুভব করছি। চোর- ডাকাতের ভয়ে ধনিকে সব সময় দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকতে হয় ৷ রাস্তায় বেরুলেই হাইজাকার ও ছিনতাইকারীর ভয় পেয়ে বসে। সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। শ্লোগান উঠেছে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ চাই। এ সকল ঘটনা ব্যক্তিকে সব সময় উদ্বিগ্ন করে তোলে। ফলে ব্যক্তিগত জীবনে যেমন সুখ শান্তি বিনষ্ট হয়, তেমনি সামাজিক জীবনে দেখা দেয় অস্থিরতা। আর এসবের মূলে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব । তাই বলা যায় যে, নিরাপত্তার অভাব একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রেষণা ৷
উপরোক্ত প্রেষণা দুটিতে মিরাজ এর সাফল্য এবং সন্তানকে নিয়ে মিসেস জামানের নিরাপত্তার বিষয়টি সমাজেরই অংশ এবং সামাজিক প্রেষণার অন্তর্ভুক্ত । তাই বলা যায় যে, মিরাজের সাফল্যের প্রেষণা এবং মিসেস জামানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট প্রেষণা ভিন্ন হলেও মূলত তা একই শ্রেণির। যা যৌক্তিক ও সঠিক।