উদ্দীপকের B হলো অ্যাজোলা অণুজীব সার। নিম্নে এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
অ্যাজোলা একটি ভাসমান ক্ষুদ্র পানা যা পৃথিবীর উষ্ণ অঞ্চলে পাওয়া যায়। অ্যাজোলা দিয়ে তৈরি অ্যাজোলা সার একটি উৎকৃষ্টমানের অণুজীব সার। অ্যাজোলা মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে মাটির উর্বরতা এবং গুণাগুণ বৃদ্ধি করে। ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে অ্যাজোলা চাষের গুরুত্ব উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করা হলো-
অ্যাজোলা অতি দ্রুত বর্ধনশীল, প্রতি ৫ দিনে এর দৈহিক ওজন প্রায় দ্বিগুণ হয়। অ্যাজোলা মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায়। প্রতি হেক্টর জমিতে ২৫০ – ৫০০ কেজি নাইট্রোজেন মাটিতে যোগ করতে পারে যা ৫৫০ - ১১০০ কেজি ইউরিয়ার সমান। এছাড়াও প্রতি হেক্টরে মাত্র ৮ - ১০ দিনে ১ – ৩ টন অ্যাজোলা হতে ৭ – ১৫ টন জৈব সার উৎপন্ন হয়। এসব জৈব পদার্থের শুষ্ক ওজনে ৪ – ৬% নাইট্রোজেন, ০.৫ – ১.০% ফসফরাস, ২ ৬% পটাশ, ০.৫% ম্যাগনেসিয়াম, ০.৪ -১.০% ক্যালসিয়াম, ০.১১ - ০.১৩% ম্যাঙ্গানিজ ও ০.০৬ – ০.১৬% লৌহ থাকে। অ্যাজোলা অধিক ঘন করে চাষ করলে জমিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে জমিতে রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রয়োগের প্রয়োজন কমে যায়। পরিবেশ দূষণ রোধ করে মাটির বুনটের অবস্থার উন্নয়ন সাধন করে। রাসায়নিক সার প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ায় উৎপদন খরচ কমে যায় এবং কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। ফসলের জমিতে অ্যাজোলা জন্মানোর কারণে অন্যান্য ক্ষতিকর আগাছা জন্মাতে পারে না বলে উদ্ভিদ পুষ্টির অপচয় কম হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উৎপাদন খরচ কমিয়ে অধিক ফলন প্রাপ্তিতে অ্যাজোলা চাষ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।