উদ্দীপকে মাযহারুলের চাষকৃত পোকাটি হলো রেশম পোকা। নিম্নে রেশম পোকা চাষের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করা হলো-
রেশম পোকা হতে রেশমি সুতা ও মূল্যবান রেশমি বস্ত্র পাওয়া যায়। রেশম সুতা দ্বারা উন্নতমানের রেশমি কাপড় হয়। এ কাপড় অতি মূল্যবান ও আরামদায়ক। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ৬ লক্ষ লোক এ রেশম চাষের সাথে জড়িত।বাংলাদেশে বেকারত্ব দূর করার জন্য রেশম পোকার চাষ সবচেয়ে সহজ ও স্বল্প পুঁজির একটি ব্যবসা। এতে মাঠে ও ঘরে গোটা পরিবারের সকল লোকের কর্মসংস্থান হয়। রেশম গুটি সিদ্ধ করে তন্তু ছাড়িয়ে নেওয়ার পর মৃত পশুগুলোকে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবে এবং পশুর মল জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। শুধু তাই নয় সাবান তৈরিতেও রেশম কীট থেকে আহরিত তৈল ব্যবহৃত হয়। রেশম সুতা অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত হয় এবং তুঁত গাছের ডালপালা জ্বালানি, ফল থেকে জ্যাম, জেলি, ছাল থেকে কাগজ তৈরি করা যায়। এছাড়াও, তন্তু আহরণের পর উচ্ছিষ্ট ছোবড়া থেকে সার্টিন তৈরি হয়। এরপরও বিশেষ বুনন প্রক্রিয়ায় কুর্সি কাটা দ্বারা গুটি থেকে কাপড় তৈরি করা যায়। বয়নকালের বিভিন্ন বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করে কাপড় ও কার্পেট তৈরি করা যায়।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য মাযহাবুলের চাষকৃত পোকাটির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।