উদ্দীপকের মাযহারুলের চাষকৃত পোকাটি হলো রেশম পোকা।
বাড়ির আনাচে-কানাচে, জমির আইল, রাস্তা ও বাঁধের পাশে এবং পতিত জমিতে তুঁত গাছ লাগিয়ে রেশম পোকা চাষ করা যায়। একবার রোপণকৃত গাছ ২০-২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। অতি সহজে বছরে ৪/৫ বার রেশম পালন করে অর্থ আয় করা যায়। জটিল যন্ত্রপাতি ছাড়াই স্থানীয় যন্ত্রপাতি ও সাধারণ পদ্ধতিতে রেশম গুটি থেকে সুতা তৈরি করা যায়। অল্প পুঁজি, স্বল্প জায়গা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে রেশম চাষ শুরু করা যায়। এতে ঝুঁকি কম থাকে, অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দাম কম হওয়া অথবা অন্য কোনো ব্যাপারে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এর মাধ্যমে বাড়ির মহিলা, বেকার সবাই ঘরে বসে উপার্জন করতে পারে। রেশম চাষের মাধ্যমে জ্বালানি, জৈব সার, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্য পাওয়া যায়। রেশম পোকার মূককীটের তেল গাছ ও হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে এবং মূককীট সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের একটি বড় খাত হচ্ছে পোশাক শিল্প। যেখানে রেশমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রেশম সুতা থেকে উন্নত মানের ও অধিক মূল্যের পোশাক তৈরি হয়। আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যের রেশমি পোশাক ও দ্রব্যাদি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া রেশম সুতা অন্যান্য কৃত্রিম সুতার সাথে মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাপড় তৈরি করা হয় যেমন- টেরিলিনের সাথে টেরিসিল্ক, তুলার সুতার সাথে কটসিল্ক ইত্যাদি। শৈল্য চিকিৎসায় সেলাই করার জন্য বিশেষ ধরনের রেশম সুতা ব্যবহার করা হয়। সর্বপ্রথম সিজারিয়ান অপারেশনের পর সেলাই করতে এ সুতা-ব্যবহার করা হয়। রেশম সুতা তাপ অপরিবাহী বলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির অপরিবাহী আবরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টেলিফোন, ওয়ারলেস, বেতার সেট এর কয়েল ইনসুলেশন করতে ব্যবহৃত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে রেশম চাষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, মাযহারুলের রেশম পোকা চাষের সিদ্ধান্তটি যথার্থ ছিল।