বীজ হলো যেকোনো ফসল উৎপাদনের মাতৃ উপাদান। বীজ ভালো না হলে যতো পরিচর্যাই করা হোক না কেন তাতে ফসল ভালো হয় না। এজন্য বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজ উৎপাদনের কৌশলগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা খুবই জরুরি। বীজ উপাদানের বিভিন্ন কৌশল যেমন— উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, পৃথকীকরণ দূরত্ব, বীজ শোধন, আগাছা নির্মূলকরণ, রোগিং ইত্যাদি যথাসময়ে ও সঠিক উপায়ে সম্পাদন না করলে বীজের মান খারাপ হবে যা পরবর্তীতে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন প্রাপ্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। যেমন— বীজ উৎপাদনের জন্য সমতল জায়গা নিতে হবে এমনকি সে স্থান মাটিবাহিত রোগজীবাণু ও পোকামাকড় মুক্ত হতে হবে। বীজ উৎপাদনের জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় না রাখা হয় তাহলে কাঙ্ক্ষিত জাতের ফসলের সাথে অন্য জাতের পরাগায়নের মাধ্যমে কৌলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। আবার, বীজ উৎপাদন কৌশলের মধ্যে অন্যতম হলো বীজ শোধন। বীজ বপনের পূর্বে যদি বীজ শোধন না করা হয় তাহলে বীজমধ্যস্থ জীবাণু ও পোকামাকড় দ্বারা বীজ আক্রান্ত হবে যা ফসলের পুরিপুষ্টতা ও গুণগত মানকে কমিয়ে দিবে। রোগিং -এর মাধ্যমে উন্নত গুণসম্পন্ন বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় ।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজ উৎপাদন কৌশল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যদি কৃষকরা সেই কৌশলগুলো সুচারুভাবে পালন করে তাহলে উৎপাদিত বীজ উন্নত গুণ ও মানসম্পন্ন হবে যা পরবর্তীতে ফসলের ভালো ফলন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করবে। তাই বলা যায়, বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন কৌশল বেশি গ্রহণযোগ্য।