উদ্দীপকে বর্ণিত হাসেম মিয়া কৃত্রিম প্রজনন বা সংকরায়নের মাধ্যমে তার দেশি গাভী থেকে এক উন্নত জাতের বাছুর পান এবং তার এ কার্যক্রম দেখে গ্রামবাসীরাও উদ্বুদ্ধ হয়। নিচে তার এ কর্মকাণ্ডটি মূল্যায়ন করা হলো-
হাসেম মিয়া তার ডাকে আসা দেশি গাভীকে কৃত্রিমভাবে প্রজনন ঘটান এবং তার থেকে বাছুরটিকে বড় হলে একইভাবে কৃত্রিমভাবে প্রজনন ঘটিয়ে একটি উন্নত জাতের বাছুর পান। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে অনুন্নত গবাদিপশুর জাতের উন্নয়ন করা যায়। এ প্রজননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রজননের দ্বারা সৃষ্ট যৌন ব্যাধির হাত থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গাভীর গর্ভধারণের হার বেশি হয় । দেশি গাভী দৈনিক ১ – ২ লিটার দুধ দেয়। তাকে উন্নত পরিবেশে এবং সুষম খাদ্য দিলেও এ উপাদান ৩ লিটারের বেশি আশা করা যায় না। তবে দেশি গাভী উন্নতজাতের ষাঁড়ের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত বাচ্চা থেকে দৈনিক ১০ – ১৫ লিটার দুধ পাওয়া সম্ভব। আবার, আমাদের দেশি গরু আকারে ছোট, মাংস উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গরুর ওজন গড়ে ১৫০ কেজি মাত্র। তবে এ গাভীর উন্নত জাতের ষাঁড়ের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে যে বাচ্চা হবে, সেটি প্রাপ্তবয়স্ক হলে ওজন হবে ৩০০ – ৪০০ কেজি । ফলে গরুর আকার বড় হবে, মাংস বেশি হবে এমনকি চামড়াও বড় হবে যা আর্থিক সচ্ছলতার পথকে সুগম করবে । সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকের হাসেম মিয়ার কর্মকাণ্ডটি সঠিক ও যথার্থ ছিল।