উদ্দীপকের ক ও খ চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলো হলো যথাক্রমে উদ্যান ফসল ও গবাদিপশু। নিচে ক্ষেত্রগুলো ব্যাখ্যা করা হলো- উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত কৃষির ক্ষেত্রটি হচ্ছে উদ্যান ফসল। সাধারণত বাগানে, সীমিত জমিতে, বন্যামুক্ত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে যেসব গাছকে বিশেষ যত্নসহকারে চাষ করা হয়, সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস, টমেটো, পেঁপে, কলা, আম, রজনীগন্ধা ইত্যাদি। আমাদের দেশে কৃষির আওতায় ১২৪ ধরনের ফসল চাষ করা হয় যার প্রায় ৭০ ভাগই উদ্যান ফসলের অন্তর্গত। উদ্যান ফসল বিস্তৃত মাঠে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বা অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও শখের বসে চাষ করা হয়। ঘরের বারান্দায়, ছাদে বা টবে বিভিন্ন প্রকার ফুল বা সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালা উদ্যান ফসল হিসেবে চাষ করা যায়। এতে লাভ বেশি, কম জমিতে বেশি উৎপাদন, স্বল্প সময়ে ও কম ঝুঁকিতে উৎপাদন করা যায়। এতে নিবিড় কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং রপ্তানির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, 'খ' চিহ্নিত কৃষির ক্ষেত্রটি হচ্ছে গবাদিপশু। পৃথিবীতে থাকা বহু পশুর মধ্যে অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে মানুষ যেগুলোকে গৃহে স্থায়ীভাবে লালন-পালন করে এবং বংশবৃদ্ধি ঘটায় তাদেরকে গৃহপালিত গবাদিপশু বলে। বাংলাদেশে গৃহপালিত গবাদিপশুর মধ্যে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গৃহপালিত পশুর অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিশেষ দিক হলো এদের প্রতিপালনের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ করা। কৃষিকাজে খাদ্য নিরাপত্তায়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায়, পুষ্টি নিরাপত্তায়, উপজাত দ্বারা সার উৎপাদনে, জ্বালানি সরবরাহ ইত্যাদিতে এদের গুরুত্ব অনেক।