উদ্দীপকে উল্লেখিত কৃষি কর্মকর্তা আরমান আলীকে অন্যান্য জমির মাটির বুনট দেখে ফসল নির্বাচনের পরামর্শ দেন। নিম্নে তার দেওয়া পরামর্শটি মূল্যায়ন করা হলো—
মাটির বুনটের ধরনের উপর ভিত্তি করে ফসল জন্মানোর প্রকৃতিতেও ভিন্নতা দেখা যায়। মাটির বুনট পরিবর্তনের সাথে সাথে ফসলের ধরনের তারতম্য হয়। কারণ সব ফসল সব ধরনের মাটিতে ভালো জন্মায় না। যেমন—
১. বেলে বুনটের মাটি কৃষি কাজের জন্য উপযোগী নয়। তবে বালির কণা সুক্ষ্ম হলে এবং মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ করলে চীনা, কাউন, তরমুজ, আলু ইত্যাদি ফসল চাষ করা যায়।
২. বেলে দোআঁশ মাটিতে মুলা, তামাক, মরিচ ইত্যাদি ফসল ভালো
জন্মে ।
৩. মাটির বুনট পলি দোআঁশ প্রকৃতির হলে সেখানে ধান, পাট, গম, আম, আলু ও শাকসবজি ভালো জন্মে।
৪. এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ধান, তুলা, গম, ডাল, তেলজাতীয় ফসল
ভালো জন্মে ।
৫. এঁটেল বুনটের মাটিতে ধান, পাট, আখ ও শাকসবজি ভালো জন্মে। উপরের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে যে, মাটির বুনটের ভিত্তিতে ফসলের ধরনেও পার্থক্য হয় এ কারণে মাটির বুনট পরিবর্তনের সাথে সাথে ফসলের পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই কৃষি কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শটি যথার্থ ও যুক্তিপূর্ণ ছিল। তাই ফসল চাষ করে লাভবান হতে হলে অবশ্যই মাটির বুনট দেখে ফসল নির্বাচন করতে হবে।