ড. আশরাফ-এর পদ্ধতি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং । পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় এটির গুরুত্ব অপরিসীম ।
কোনো জীবকোষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জিন নিয়ে অন্যকোনো জীবকোষে স্থাপন ও কর্মক্ষম করা বা নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের DNA-তে পরিবর্তন ঘটানোকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জিন প্রকৌশল বলা হয়। যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশকে উন্নত করা যায়, পরিবেশ দূষণকারী উপাদানসমূহকে নিয়ন্ত্রণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করা যায় তাকে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বলে।
পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্বন্ধে নিচে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হলো।
(ক) কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য : কলকারখানা ও খনি থেকে নির্গত বর্জ্য পরিবেশ দূষণ ঘটায়। কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যে বিভিন্ন অণুজীব জন্মায় এবং বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে। অণুজীবের সহায়তায় দুধের কারখানা হতে নির্গত বর্জ্য থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করা হয়। কাগজ ও কাগজের মণ্ড থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থে Torula নামক ঈস্ট জন্মায় যার মধ্যে প্রচুর আমিষ থাকে।
কাগজ শিল্পের কাঁচামাল ব্লিচ করতে ক্লোরিন ব্যবহৃত হয়। এ ক্লোরিনজনিত দূষণ থেকে পরিবেশকে বিভিন্ন ছত্রাক ব্যবহার করে সহজেই মুক্ত করা যায়। পাট, বস্ত্র ও চিনি শিল্পের সেলুলোজ জাতীয় বর্জ্যকেও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের মাধ্যমে উপকারী দ্রব্যে রূপান্তর করা যায়, ফলে একদিকে পরিবেশ দূষণমুক্ত হয় এবং অপরদিকে প্রয়োজনীয় লাভজনক দ্রব্য পাওয়া যায়, যেমন- ল্যাকটিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, ইথানল, প্রোটিন, ভিটামিন, রিন ইত্যাদি।
(খ) সমুদ্রে নির্গত তেল পরিশোধন:বিভিন্ন উপায়ে সমুদ্রে তেল-এর মাধ্যমে দূষণ ঘটতে পারে। তেল পানি অপেক্ষা হালকা এবং অদ্রবণীয় বলে তা পানির উপর ভাসতে থাকে এবং স্তরের সৃষ্টি করে। তেলের এ স্তর সমুদ্রে বসবাসকারী বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর অনেক ক্ষতি করে। কিন্তু সমুদ্রে যে সমস্ত হাইড্রোকার্বন অক্সিডাইজিং অণুজীব বাস করে তারা অদ্রবণীয় তেল দানার সাথে লেগে থেকে সংখ্যায় বৃদ্ধি করে এবং অক্সিজেনের উপস্থিতিতে তেলকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে এবং তেল দূষণ থেকে মুক্ত করে। Pseudomonas, Mycobacteria, বিশেষ ধরনের ঈস্ট ও মোল্ড জাতীয় ছত্রাক হাইড্রোকার্বন অক্সিডাইজিং অণুজীব হিসেবে কাজ করে থাকে।
(গ) পয়ঃবর্জ্য বা সিউয়েজ আত্তীকরণ : ঘরবাড়ি, মহল্লা বা কৃষিখামার হতে নির্গত মলমূত্র ও জঞ্জালকে সিউয়েজ নর্দমার ময়লা বলে। অনেক সময় ঝড়বৃষ্টির পরিত্যক্ত পানিও ভূগর্ভস্থ নর্দমা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সিউয়েজে পরিণত হয়। সিউয়েজ পানি যাতে খাবার বা ব্যবহার্য পানির সাথে মিশতে না পারে সেজন্য উন্নত দেশে জৈবিক উপায়ে পরিশোধন করা হয়। বায়বীয় বা অবায়বীয় ব্যাকটেরিয়াসহ শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এরা জৈব পদার্থকে ভেঙে CO2 ও CH4 -এ পরিণত করে। CH জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং CO2 গ্যাসীয় অবস্থায় বায়ুমণ্ডলে ছাড়া পায়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জীবপ্রযুক্তির ব্যাবহার অনস্বীকার্য।