ঘউদ্দীপকে ডাক্তার রোগীকে যে ভেষজ উদ্ভিদটি খেতে বললেন সেটি হলো 'মাশরুম'। এটি এক ধরনের ছত্রাক। যার বৈজ্ঞানিক নাম- Agaricus campestris। Agaricus বিভিন্ন শিল্পে, খাদ্যে, ওষুধে এমনকি জেনেটিক মেটেরিয়াল হিসেবে গবেষণায় স্থান দখল করে নিয়েছে। ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক। এতে আঁশ বেশি এবং শর্করা ও চর্বি কম। এতে শর্করা, প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ এমন সমন্বয়ে আছে যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। যার ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুরা নিয়মিত খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। এতে প্রচুর উৎসেচক আছে যা হজমে সহায়ক, খাবারে রুচি বাড়ায় এবং পেটের পীড়া নিরাময় করে। এতে লোভাস্টালিন, এনটাডেনিন ও ইরিটাভেনিন থাকে যা শরীরের কোলেস্টেরল কমানোর জন্য অন্যতম উপাদান। মাশরুম নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রিত থাকে। ওষুধের পাশাপাশি মাশরুম সুপ্রিয় খাদ্য হিসেবে বহুদেশে পরিচিত। বাংলাদেশের বড় বড় হোটেলগুলোতে খাদ্য হিসেবে বিশেষ করে স্যুপ তৈরিতে মাশরুম ব্যবহৃত হয়। মাশরুম এর চাষ বেশ লাভজনক কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে। মাশরুম যেহেতু মৃতজীবী তাই বিভিন্ন ধরনের জটিল দ্রব্যকে ভেঙে মৃত্তিকার পুষ্টি বৃদ্ধি করে থাকে। বিশ্বের অনেক দেশে মাশরুম অত্যন্ত দামি খাবার। ব্যাপকভাবে মাশরুম চাষ ও রপ্তানির মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত উদ্ভিদটি মানবকল্যাণে সহায়ক।