উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদগোষ্ঠী দুটি হলো শৈবাল ও ছত্রাক। রেণুস্থলী অথবা যৌনাঙ্গ গঠন ব্যতীত যে জনন প্রক্রিয়াসম্পন্ন হয় তাকে অঙ্গজ জনন বলে। শৈবাল এবং ছত্রাক উভয় উদ্ভিদ গোষ্ঠীতেই অঙ্গজ জনন পরিলক্ষিত হয়।
দেহের অংশবিশেষ থেকে সরাসরি নতুন বংশধর উৎপাদনের মাধ্যমে শৈবাল তার অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে থাকে। এক্ষেত্রে এককোষী শৈবাল দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য শৈবাল উৎপন্ন করে। যেমন- Chlorella। অন্যদিকে ঈস্ট জাতীয় এককোষী ছত্রাক অনুকূল পরিবেশে দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার ঘটায়। আবার, যান্ত্রিক আঘাত বা ভৌত কারণে বহুকোষী শৈবালের কলোনি বা ফিলামেন্ট খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড হতে একটি নতুন শৈবাল উৎপন্ন হয়। যেমন- Ulothrix। ছত্রাকের ক্ষেত্রেও যান্ত্রিক আঘাত বা পরিবেশের কারণে মাইসেলিয়াম খণ্ডিত হলে প্রতি খণ্ড থেকে নতুন মাইসেলিয়াম গঠিত হয়। যেমন- Penicillium। কতিপয় এককোষী প্রজাতিতে কোষ থেকে উপবৃদ্ধি আকারে বাড উৎপন্ন হয় যা মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল উৎপন্ন করে। যেমন- Protosiphon অনেক এককোষী ছত্রাকে অনুকূল পরিবেশে মাতৃকোষের প্রাচীর যেকোনো স্থানে স্ফীত হয়ে উপবৃদ্ধি আকারে বাড বা কুঁড়ি উৎপন্ন করে যা পরবর্তীতে প্রাচীর সৃষ্টির মাধ্যমে মাতৃকোষ থেকে পৃথক হয়ে নতুন ছত্রাক উৎপন্ন করে। যেমন- Sacchromyces ।
আবার, সূত্রাকার নীলাভ সবুজ শৈবালের ট্রাইকোম খণ্ডিত হলে প্রতিটি খন্ড পরবর্তীতে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন সূত্র গঠন করে। যেমন- Nostoc, Chara জাতীয় শৈবালে রাইজয়েডের উপরে ও নিচের পর্বে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে টিউবার উৎপন্ন হয়। মাতৃদেহ থেকে টিউবার বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন শৈবাল তৈরি হয়। কিন্তু ছত্রাক শৈবালের মতো এরূপ টিউবার কিংবা হরমোগোনিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে না।