কৃষিবিদের দেখা অপুষ্পক উদ্ভিদটি Agaricus বা মাশরুম। এটির গঠনে বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। একটি পূর্ণাঙ্গ Agaricus- এর দেহ দু'টি অংশে বিভক্ত। একটি দৈহিক অংশ তথা মাইসেলিয়াম • এবং অপরটি জনন অংশ তথা ফ্রুটবডি।
মাইসেলিয়াম অত্যন্ত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট, সূত্রাকার, দানাদার সাইটোপ্লাজম, প্রতিকোষে একাধিক নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং প্রচুর গহ্বর এর সমন্বয়ে গঠিত। মাইসেলিয়াম-এ সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে তৈলবিন্দু থাকে। মাইসেলিয়ামে দড়ির মতো হাইফাল অংশ থাকে, এ অংশকে রাইজোমর্ফ বলা হয়। একটি মাশরুম একদিনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ হাইফি তৈরি করে। পূর্ণাঙ্গ ফুটবডি দেখতে ছাতার মতো এবং এটি মাটির উপরে বাড়তে থাকে। পরিণত অবস্থায় ফুটবডির দু'টি অংশ থাকে। গোড়ার দিকে কাণ্ড বা বৃন্তের ন্যায় অংশকে স্টাইপ এবং উপরের দিকে ছাতার ন্যায় অংশকে পাইলিয়াস বলা হয়। স্টাইপের ঊর্ধ্বাংশে আংটির ন্যায় একটি পর্দা থাকে যাকে অ্যানুলাস বলে। এছাড়াও পাইলিয়াসের অঙ্কীয় তলে পর্দার মতো অসংখ্য গিল অরীয়ভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। গিল বা ল্যামিলীতে অসংখ্য ব্যাসিডিয়া সৃষ্টি হয়। প্রতিটি ব্যাসিডিয়ামের শীর্ষে আঙ্গুলের ন্যায় চারটি অংশের মাথায় একটি করে ব্যাসিডিওস্পোর উৎপন্ন হয়। স্পোরগুলো অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন মাইসেলিয়াম তৈরি করে।