উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা প্রাণিজগতের অনেক সদস্যে পরিলক্ষিত হয়। যেমন-
মৌমাছি সামাজিক জীব এরা কলোনি বা মৌচাক তৈরি করে বসবাস করে। প্রতিটি মৌচাকে তিন ধরনের মৌমাছি থাকে তারা সবাই রানী মৌমাছির সংকেত মোতাবেক কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে কর্মী মৌমাছিরা প্রজননে অক্ষম। এরা স্ত্রী মৌমাছির যত্ন, কলোনীর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করে। এদের স্বাধীনসত্ত্বা বলে কিছু নেই। জন্মের পর থেকে এরা কলোনির জন্য পরিশ্রম করে যায় এমনকি তারা বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে কলোনির সদস্যদের বাঁচাতে নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। রানী মৌমাছি মাতৃতান্ত্রিক সমাজের মধ্যমনি হিসেবে কলোনি পরিচালনা ও প্রজননে অংশগ্রহণ করে। অপরপক্ষে, পুরুষ মৌমাছির একমাত্র কাজ রানী মৌমাছির সাথে সঙ্গমে মিলিত হওয়া। এক্ষেত্রে এক একটিজাত নির্দিষ্ট কর্মে নিয়োজিত থেকে পারস্পরিক কাজে একে অপরকে সাহায্য করে। ফলে এদের মধ্যে যেমন কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায় তেমনি সফলতার সাথে এরা টিকে থাকতে সক্ষম হয়।
মৌমাছির মতো উইপোকা, পিঁপড়া ইত্যাদি প্রাণীও সমাজবদ্ধভাবে বাস করে। এদের সমাজবদ্ধ প্রাণীদের জীবনপ্রণালির মধ্যে রয়েছে ভিন্নতা এবং কলোনির সদস্যদের মধ্যেও রয়েছে দৈহিক ও কার্যিক বৈচিত্র্য। যেমন মৌচাকের সদস্যরা রানী, পুরুষ ও কর্মী এই তিনজাত; উইপোকার ঢিবিতে কর্মী, সৈনিক, রানী ও পুরুষ বা রাজা এই চার জাতে এবং পিঁপড়া কলোনিতে কর্মী, সৈনিক, স্ত্রী ও পুরুষ এই চার জাতে বিভক্ত। কলোনির তথ্য সমাজে কার কী ভূমিকা তার ভিত্তিতেই জাত বিভাজন করা হয়। প্রত্যেক জাত সুনির্দিষ্ট কাজে নিয়োজিত থাকে এবং একে অপরকে সাহায্য করে। একে শ্রম বিভাজনও বলা হয়। এক্ষেত্রে এরা জীবনের ঝুঁকি নিতে ও দ্বিধা করে না।