উদ্দীপকের চিত্র "খ" হলো মৌমাছি। মৌমাছি কর্ম পরার্থপরতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নিচে তা আলোচনা করা হলো:
মৌমাছির জীবনচর্চায় কলনির বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে শ্রমের দায়িত্ব বন্টন এক বিশেষ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এদের কর্মতৎপরতার কোনো গফিলতি হয় না, প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে। খাদ্যের সরবরাহন নিশ্চিত করার সকল সামাজিক পতঙ্গদের প্রথম ও সর্বপ্রধান কাজ। মৌচাকের নির্দিষ্ট কুঠুরিতে ভবিষ্যৎ বংশধর ও নিজেদের জন্য খাদ্য মজুদ করে রাখে। এরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করতে অভ্যস্ত। রোগাক্রান্ত বা মৃত লার্ভা কে যথাশীঘ্র চাকের বাইরে ফেলে দিয়ে কলনিকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। শীতের দিনে গুচ্ছাকারে অবস্থান করে মৌচাকের ভেতর তাপ সংরক্ষণ করে। এরা পরস্পরের মধ্যে বিশেষ গন্ধ ছড়িয়ে, অঙ্গভঙ্গি বা নৃত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান প্রদান করে। কষ্ট অর্জিত মধু ভান্ডার বা খাদ্য ভান্ডারের শত্রু বা লুরেটার আক্রমণ হলো শত্রুকে বিষাক্ত হুল ফুটিয়ে প্রতিহত করে। রানী মৃত্যুবরণ করলে অল্প দিনের মধ্যে যাতে রানীর অভাব পূরণ হয়, সেজন্য নির্বাচিত লার্ভাকে রানী হিসেবে গড়ে তোলে। রনি যদি অযথা নির্যাতন বা অত্যাচার চালায় তবে অন্য সদস্যরা বিদ্রোহ করে রানীকে তাড়িয়ে দেয় বা মেরে ফেলে। কখনো কলোনির মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সদস্যরা চাক অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। অন্য চাকের মৌমাছিরা এমন চাক সন্ধান পেলে এ চাকের মধু লুটপাট করে নিয়ে যেতে চায়।
সুতরাং বলা যায় যে মৌমাছির, সামাজিক জীবনযাত্রার একদিকে যেমন শ্রমবিভাগ বর্তমান, তেমনি অপরদিকে কাজের বিচিত্র ধরণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ বসবাস, দায়িত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।